আমি আমার নিজের মন্তাজ

সেলিম রেজা নিউটন আমার কোনো বিপদ নাই, আমার কোনো বাঁচা ও মরা নাই। শৈশবেই মারা গেছেন আমার বোন, আমার সখা-ভাই। আমার বালা-মুসিবতও নাই। আকাশ জুড়ে যে-চাঁদ ছিল ঝকমকানো, ধাঁধালো, জমকালো চুকিয়ে সব লেন ও দেন গিয়েছে চলে, তবু সে চাঁদ ভালো। অন্ধকারও আমার চোখে আলো। ভালো-খারাপ ক্যাটেগরির ছাঁচ বানানো সব— …

সম্পুর্ন​

গাছ আর ফল ধর্ম হোক – ১

শিবলী সাদিক নদীর কিনারে নদীর কিনারে এসে চেতনা হারিয়ে যায়— তীরদেশে ইতিহাস আর নিচে নিসর্গ বহতা, চাইলেই বুঝি আমি সীমা পার হয়ে যেতে পারি। তবে স্রোত কি আমাকে নেবে, আর আমি পাব কোথা সার্কাসের তাঁবু, জানোয়ার, শহরের পার্ক, যার গাছে চুলা জ্বলে, ক্ষুধার্ত উন্মাদ কিছু ঘিরে থাকে? বাজারে ফলের রং …

সম্পুর্ন​

রবার্ট ফ্রস্ট, হাইনরিশ হাইনে, পাবলো নেরুদা ও আদুনিসের কবিতা

অনুবাদ: জুয়েল মাজহার রবার্ট ফ্রস্ট (২৬ মার্চ ১৮৭৪-২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৩)  তুষার-সন্ধ্যায় বনের কিনারে থেমে কার এই বনভূমি, মনে হয়, আমি চিনি তারে। বুঝিবা বাড়িটি তার কাছেপিঠে গাঁয়ের ভেতরে; পড়বে না চোখে তার আমি যে এখানে থামলাম দেখতে তার বনভূমি ঢেকে যেতে তুষারে তুষারে। ছোট্ট আমার ঘোড়া হয়তো বা অবাক হয়েছে …

সম্পুর্ন​

সুস্মিতা চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

এ বসন্তে দোলের বাতাসে দোলপূর্ণিমার এই নির্মল ফাগুনে আমি পরকীয়া করি বন্ধু বিহনে এ কীয়া পাতার সাথে ঝলোমলো দিনে এ কীয়া গন্ধের সাথে আমের মুকুলে এ কীয়া গায়েতে মাখি দোলের বাতাসে এ কীয়ায় ছুঁয়ে যাই পথপার্শ্ব চিনে এ কীয়া ছড়িয়ে যায় শরীরে মননে এ কীয়ায় অপেক্ষা নয়নে নয়নে এ কীয়ায় …

সম্পুর্ন​

হাইকু:কোবাইয়াশি ইসসার আরও এক গুচ্ছ

অনুবাদ: নান্নু মাহবুব * লণ্ঠনে আলোকিত লণ্ঠনে আলোকিত অপরূপ এক রাত… ডাকে ব্যাঙ * যখন প্রজাপতি যখন প্রজাপতি ফিকে নীল, ফিকে নীল চেরিফুলও [চেরিফুল হলো ফিকে গোলাপি। ইসসা বলছেন, হালকা নীল প্রজাপতির উপস্থিতিতে তার সেই রঙ পাল্টে গেছে। এই অসাধারণ কবিতাটি পলকা পতঙ্গ আর ফুলের মধ্যেকার সম্বন্ধকে ইঙ্গিত করে।] * …

সম্পুর্ন​

শিবলি সাদিক-এর কবিতাগুচ্ছ

ঘাট চারুলতাদের ঘাটে মাঝে মাঝে বসি, যদিও দেখি নি তাকে বাড়ির জানালা দিয়ে তার গয়নার মৃদু গন্ধ ভেসে আসে, তার গান জলে ভাসে, চারুকে না দেখে ভালবাসি তার জলে-ভাসা হাঁস ভালবাসি রৌদ্রে তার সম্প্রচার, কচুরিপানার ফুলে রক্তসম্প্রপাত তার কখনো দেখি নি তাকে, তবু রংকাহিনী ফুটছে জলে কলমির নীল ফুলে জলে …

সম্পুর্ন​

দারা মাহমুদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

বিড়াল কাব্য বিড়ালও কবিতা লেখে এই কথা মানুষ জানেনা, জানে বিড়ালের প্রেমিকারা যখন রাত্তির ঘন হয়ে আসে ঘুমিয়ে পড়ে ঘরবাড়ি বিড়াল তার কবিতার খাতা মেলে ধরে তার কাব্য কান্নার সুর হয়ে বেজে ওঠে জানালা কার্নিশে এই ছোট্ট তুলতুলে নরম প্রাণীটির এতোই দুঃখ,এতোই বেদনা সে কথা সে জানে, যে বোঝে বিড়ালের …

সম্পুর্ন​

মতিন বৈরাগীর কবিতা

নানারকম গল্প ১১. ওখানটায় যারা বসে ছিল তারা চলে গেছে যারা বসে আছে তারা থাকবে না; যার আসার কথা সে এখনও আসেনি আমি বসে আছি অপেক্ষায়-সন্ধ্যা নামছে আবছায়া অন্ধকার এক নারী হেঁটে যাচ্ছে আর তার খোলা চুল থেকে জোনাক পোকারা ছড়িয়ে যাচ্ছে মিষ্টি আলোর আনন্দ একপাশ থেকে দেখছি; সুঢৌল বাহু, …

সম্পুর্ন​

তাপস গায়েনের কবিতা

    সময়বূহ্যে অভিমন্যু [১৩]    চলে তো যেতেই হবে । সময় সে তো সন্ত্রাস ! কেন যে এসেছিলাম এই পৃথিবীতে তার কোনো কারণ খুঁজে পাই নি ;  এবং চলে যাবার পক্ষেও দেখি নি তেমন কোনো চিন্তা, কিন্তু  অনুভবে জেনেছি চলে যাবার পক্ষের ব্যাপ্তি । গভীর কুয়াশার মাঝে মাতা এবং …

সম্পুর্ন​

কাচবাড়ি, কাচঘর

শহীদুল রিপন সেই কবে কৈশোরে নির্জন মধ্যন্দিনে ভাতঘুম টুঁটেছিল অতিশয় বিবিৎসা-হেতু সুর সেধে ডেকেছিল লোকাতীত কোনো ভায়োলিনে মেদিনীতে নেমেছিল ক্রমায়াত হিমান্ত ঋতু। ইশারায় ডেকেছিল কুরঙ্গী— বিজুবনে, দূরে অনিমিখ আঁখিপাতে টেনেছিল সেই চঞ্চলা অটবির ঝরে পড়া পত্রালি শরভের খুরে গুণ্ডিত— হেন পথে হেঁটে বিসমিলা পথচলা। বনপথে নেমে দেখি নেই শুরু-শেষ, নিগমের, …

সম্পুর্ন​

দারা মাহমুদ-এর পাঁচটি কবিতা

সাঁতার ও স্নান সব নদী এক সময় ফুরিয়ে যাবে বন্ধু হে সব নদী এক সময় ফুরিয়ে যায় এটাই নিয়ম নদী ফুরুলে পারদের নদীতেই স্নান করতে হবে নদী ফুরুলে পারদের নদীতেই সাঁতার কাটতে হবে যে ভাবে দান্তে বিয়াত্রিস নদীতে সাঁতার কেটেছে সেভাবেই না হয় কাটো অথবা নদী ভাগ করো তবুও তোমাকে সন্তরণ …

সম্পুর্ন​

অব্যয় অনিন্দ্য’র পাঁচটি কবিতা

লাসভেগাসের প্লেন জ্যান্ত ক্যাসিনো বুকে লাসভেগাসের যুবতী রাত মাত্র কয়েক পলক দূরে – পাইলটের কাঁধে স্মার্ট ঝাঁকুনিতে কথাটা ইউনিফর্ম পরে হাসছিল। অথচ মেঘের মনিটরে দেখি – পাঁচ বছরের ছোট্ট আমি কাগজের প্লেনে পায়রার সাথে পাল্লা দিচ্ছি রায়পুর গ্রামের চাতালে; পাশে দাদু আমার শৈশব নিয়ে খেলছে দুহাতে, খেলতে খেলতে সমস্ত শৈশব …

সম্পুর্ন​

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়-এর একটি কবিতা

শোক একটু জ্বর একটা বই হোক না-হোক মানানসই! একটু লোভ একটা মই লালবাতি দেখছে কই! এক মেয়ে সঙ্গে সই হাতবদল হচ্ছে ওই! এক দেহ অঢেল কাম বীর্যপাত অবিশ্রাম! সব পাড়া এক নিশীথ ঝুলছে ভয় অনিশ্চিত! তিলেক ভোগ এক নরক ছিন্ন বুক ঠোঁট– অন– রক! একটু জ্বর একটা বই ছি! আজ নয় মানানসই

আলতাফ হোসেন-এর চারটি কবিতা

রিমোট পোলার ভালুক দেখলাম কীভাবে যে বাঁচতে চেয়েছিল মেঘে ঢাকা তারার সুপ্রিয়াকে মনে পড়ল তো আবার যখন পরে দৃশ্যপটে বাচ্চাকে নিয়ে মা হাতি যাচ্ছিল অল্পবয়সী নিরুপায় সিংহগুলি চেষ্টা করছিল কেড়ে নিয়ে কামড়ে-ছিঁড়ে খাবে মা ঘুরে এসে রুখে দিচ্ছিল আহা রে বাচ্চা তো—শূন্যে হাত ছুঁড়ছি, না, কিছুতে না শত্রুরা জিতে যায় …

সম্পুর্ন​

টি. এস. এলিঅট-এর কবিতা

জে. আলফ্রেড প্রুফ্রকের প্রেমগান ভূমিকা ও অনুবাদ : জুয়েল মাজহার [টি. এস. এলিঅট-র সম্বন্ধে গৌরচন্দ্রিকা অনাবশ্যক। বিশ শতকের কবিতায় সবচেয়ে আলোচিত কবি তিনি; খ্যাতি তাঁর চূড়াস্পর্শী। তাঁর প্রথম দিককার কবিতা সংকলন “প্রুফ্রক অ্যান্ড আদার অবজারভেশন্‌জ ” আধুনিক ইংরেজি কবিতার ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক। ‘জে. আলফ্রেড প্রুফ্রকের প্রেমগান’ তার প্রথম দিককার …

সম্পুর্ন​

নানারকম গল্প-১

মতিন বৈরাগী রাত্রির ভিতরে যে চিৎকার যেমন আমরা শুনতে পাই সে ছিলো কারো মৃত্যুর পরোয়ানা একমাত্র অন্ধকার নিরাপত্তা হয়ে সতর্ক করে আমাদের এবং বলে এই চিৎকার আর শেষ আর্তধ্বনি যা মানুষের, বলে দেয় পৃথিবীতে খুন আরো বাড়লো তারপর যদি আগুনের লেলিহান ভেদ করে জানালার কাচ এবং এক হিংস্র আলো ছিটকে …

সম্পুর্ন​

দুটি কবিতা

পলিন কাউসার জড়বদ্ধতা নির্জীব আমিও জীব সেজে দৌড়াই অনাহত থেকেও অনাহূত হবার যোগ্যতা আমার আছে জেনেই আলতো ঢঙে, একলা আঙুলের ছাপ রাখেনি কেউ আমার বাহুতে, কখনোই ধারালো নখের প্রান্ত সীমায় আমার যে শৈবালের চাষ ছিলো পর্যবেক্ষণে নামেনি কেউ ওখানটায় আক্রমণের অপেক্ষায় থেকে থেকে কাকতাড়ুয়াও ক্লান্ত হয় সুকৃষ্ণ দাঁতের অমসৃণ বিলাপে …

সম্পুর্ন​

পাবলো নেরুদার ১০০ টি প্রেমের সনেট থেকে

অনুবাদ: আনন্দময়ী মজুমদার (৮) তোমার চোখে যদি চাঁদের রঙ থাকত না লেগে, কাদা-মাখা দিন, শ্রমের ঝলক, লালচে আগুন, এই সব আঁচ, আভা থাকত না যদি, যদি এতটা জড়ানো থেকেও না হতে তুমি বাতাসের মত ফুরফুরে, শিল্পময়, যদি না হতে হলুদাভ বাদামী পাথর, হরিত লহমার মতন যে লহমায় হেমন্ত আঙুরের লতা বেয়ে …

সম্পুর্ন​

শুভকামনা

সুস্মিতা চক্রবর্তী আর কিচ্ছু জানতে চাই না, শুধু দেখতে চাই যে তুমি ভালো আছো। যে রকম ভালো থাকা অধরা চাঁদের রাতে, ধুলো ওড়া পথে পাওয়া বোষ্টমীর সহজ মানুষ। যে রকম হাসিহাসি ঠোঁট আর বিনয়ের কাব্য হাতে; চশমা-পড়া তুমি সে কানাই মাস্টার! নিত্যানন্দ বেশে তবু এলোমেলো চেতন-পুরুষ! প্রেমের তৃষ্ণার মতো তোমার …

সম্পুর্ন​

মেরী অলিভারের কবিতা

অনুবাদ: কল্যাণী রমা মেরী অলিভার এ সময়ের প্রধান আমেরিকান কবি। জন্ম ১৯৩৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। কবিতার জন্য পুলিৎ‌জার পুরস্কার, ন্যাশনাল বুক এওয়ার্ড, শেলী মেমরিয়্যাল এওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মেরী অলিভারের কবিতায় বারবারই মানুষ এবং প্রকৃতি একে অপরের  শরীর জড়িয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপর সে মানুষ জীবন-মৃত্যু-অস্তিত্বের সব প্রশ্নের …

সম্পুর্ন​

সত্তর দশক

অংকুর সাহা ।।১।। ধুলি ওড়ে, ছাই ওড়ে,  ভবিষ্যত গাঢ় অন্ধকার তীর্থের কাকের মত খোঁচর পাহারা দেয় চকে; ধর্ম শান্তি রক্ষা ছেড়ে একশো বারো মাইনের পুলিশ- লক আপে জাঁকিয়ে আসে, তলপেটে বুটের লাথি কষে। মা-বাবা হাপুস কাঁদে, কোথায় সোনার টুকরো ছেলে? সে চলে গিয়েছে বনে, গড়বে লাল বিন্দু, মুক্তাঞ্চল; দুচোখে গভীর …

সম্পুর্ন​

এলোমেলো মনের কবিতা

সেলিম রেজা নিউটন ইনসোমনিয়া অনিদ্রার অভিধানে কী কী নাই ঘাঁটতে ঘাঁটতে চলে যাওয়া। ঘুম আর কী? এ দিক সে দিক করে পড়ে থাকা। এই করে রাত পার। দিন অতিক্রম। কাকে যেন পষ্ট করে দেখতে না পাওয়া। বিছানা বা চেয়ারের পেছনেই কেউ থেকে গেছে। ভালো করে তাকানো যাচ্ছে না। কী দেখতে …

সম্পুর্ন​

বকুলতলার পদ্য

সেলিম রেজা নিউটন কাঠের কবিতা অতীত চলে গেছে, অতীত নাই কোনোখানে। কিন্তু রংপুরে খাবার টেবিলেরা জানে: কাঠের কোষে কোষে রয়েছে কথা-রূপকথা, সোনারূপার কাঠি, স্বপ্ন-ভেঙে-যাওয়া ঘুম। অন্ধকার-গূঢ় আলোর ঝালরের নিচে অনড় নাচে একা অচিন পুরাণের প্রেত, শিউরে ওঠে রোম, শিহরণের নীল স্মৃতি ছিল না যার, আজ সে কাঁপে আঁধারের আঁচে। অথচ …

সম্পুর্ন​

আব্দুল ওয়াব আল-বয়াতির কবিতা:ফরিদ আল-দিন আল-আত্তারের কষ্টের বিবিধ ভাষ্য

অনুবাদ: তাপস গায়েন  [কবি আব্দুল ওয়াব আল-বয়াতি (১৯২৬-১৯৯৯)-র জন্ম ইরাকের বাগদাদে, দ্বাদশ শতাব্দীর সুফী সাধক আব্দেল কাদির আল-জিলানির দরগাহের কাছে।আরব বিশ্বের কবিতা যা পনের শতাব্দি ধরে আবর্তিত হয়েছে চিরায়ত আঙ্গিকের ভিতরে, অর্থাৎ, মিল এবং ছন্দের স্বাভাবিক বৃত্তে। সেই বৃত্তকে ভেঙ্গে তিনি বিষয়-ভাবনা এবং গঠনকাঠামোর দিক থেকে নির্মাণ করেছেন নতুন কবিতা …

সম্পুর্ন​

কবিতা:শীত-সকালের সূর্য

সুস্মিতা চক্রবর্তী   ১ শীত-সকালের সূর্যকেই শুধু ভালোবেসে পিঠ দেয়া যায়! শেষ অঘ্রাণের এই শীতার্ত বেলায়, প্রিয়তম− বহূদূরে তবু এভাবেই থেকো নীলিমায়। ঢেকে দিও পৃথিবীর সবটুকু আঁধারের দিন, তোমার আভার রাশি চির অমলিন; গাছের পাতার সাথে অদৃশ্যের মাঝে বুঝি বাজিয়েছো বিণ! ২ যখন কুয়াশার কুহকেরা ক্লান্তিতে জুবুথুবু গাছের ছায়ায়, তোমার …

সম্পুর্ন​

সেলিম রেজা নিউটন-এর তিনটি কবিতা

নীল কোকিলের গান ইস্ক্রা রহমানের জন্য … অস্তিত্বের খানিক নিচেই জ্বলতেছে লাল আলো– জ্বালো তোমার আওয়াজ, মানুষ, ফুলকিনিচয় জাগে; ডাক দিয়ে যায় সত্তা তোমার – যদিও সময় কালো – অন্ধকারের ঘোর অমাতেও আত্মা-আগুন থাকে। আগস্টের এই ছয় তারিখে কোনখানে ডিম পাড়ে আকাশ থেকে মিথ্যাকারের ইস্পাত-ঈগল পাখি; কে জানে ফের কোন …

সম্পুর্ন​

একদিন প্রতিদিন

মিতুল দত্ত   ২/৪/১৩ ৯:২৯, সকাল জানলার সামনে বসে আছি। আমার চায়ের কাপে রোদ্দুর। ভিটামিন ডি। আমি অনেকটা রোদ্দুর একসঙ্গে খেতে চাইছি। আমার গলা দিয়ে নামছে না। আমার গলায় কান্না, রোদ্দুরকে আমার ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ৯:৫০, সকাল আমার আত্মাকে আমি বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখছি। ওর অসুখ করেছে। অবিশ্বাসের অসুখ। …

সম্পুর্ন​

মধ্যবিত্তের বাঁশি

কচি রেজা মধ্যবিত্তের বাঁশি তাই অসুস্থ তর্জনীর কোনো সম্বোধন নেই প্রতিবর্ণ শামুকের সরল আঙুলও ঘোরতর নিস্তব্ধ সমুদ্র উল্টে পড়েছে বালু কী আত্মাময়ী? মাড়িয়ে যাচ্ছে  কৌটা পুনর্বার জন্ম নিতে চাই যে কোনো ডে অফের দিন ধলেশ্বরীতে ঝাঁপখেলা পূর্বদেশীয় মাছ আমি বেরিয়ে এসেছি খোলা নগ্ন কুমারি সমুদ্রে

সুর্পনখা-বাল্মীকি সংবাদ

মলয় রায়চৌধুরী   সুর্পনখা ।। খুবই জঘন্য কাজ হয়েছে তোমার আদি কবি এভাবে আমাকে পাঁকের মৃণ্ময়ীরূপে মহাকাব্যে হেয় করা। তাই অনুরোধ করি আমাকে পাঠিয়ে দাও, মহাভারতের গল্পে। ব্যাস আমাকে নিশ্চিত আমার মনের মত সুপুরুষ পাইয়ে দেবেন। বাল্মীকি ।। কী যে বলছিস তুই স্পষ্ট করে বল সুর্পনখা; মহাভারতের গল্পে পাঠালে আমার …

সম্পুর্ন​

মাঠে, মেহগনি বন থেকে কুয়াশারে দেখা

জহির হাসান কনে যাব এইসব পাখির গায়ের গন্ধবহ ডুমুর পাতার ঘর উল্টো করে কার কাছে থুয়ে! ঐ শীত আসে যদি বলি হালকা মউত আসে তা’লে কেন আগে আসে সেইসব ছেঁড়া কাঁথা ফুটা মনে! বাতাসের হামাগুড়ি কেন মেকুরের থাবা-তারা হচ্ছে শীতের রাত্রিতে… কী কচ্ছো আমাগের না-ঝরা পাতারা– আমি অসহায় মেহগনিটারে ধরে …

সম্পুর্ন​

সুস্মিতা চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

ভোল অপচয় কী অপচয় কী যে অপচয় হৃদয়ের! কোন সে ক্ষরণ কার খেসারত হিসেবের। অথচ, জীবন সদা বেগবান– এই ধুলা-মাটি-গাছ মহীয়ান, এই জলরাশি চাঁদ আর আলো সকলের। ভালবাসাবাসি বেঁচে থাকা সব মানুষের। এই স্বপ্নের নীল চাঁদোয়ার নিচে যে, কত আদরের-প্রণয়ের মনপাখি সে– ডেকে ডেকে আজ ক্লান্ত বৃথাই বেলা যে; অথচ, …

সম্পুর্ন​

গোলাম কিবরিয়া পিনু

ও বৃষ্টিধারা ও বারিপাত ১ রজনীজল এসে ভিজিয়ে তোলে অঙ্কুরও গাছ হবার স্ফূর্তি পায় প্রভাহীন আলোহীন অবস্থায় তৈরি হতে থাকে বাঁশঝাড়ের ভেতর অশথ। ২ পর্বতের গায়েও আজ বৃষ্টি এতদিন পর্বত ধুলোবালিকণা নিয়ে রুক্ষ ছিল পর্বতচূড়া ভিজে ভিজে আজ কান্তিময় সৌম্যদর্শনে নয়নশোভন। ৩ উদ্যানরক্ষক জানে জলের মাহাত্ম্য মালিনীও জানে কুঞ্জবনে তাই …

সম্পুর্ন​

নয়ন তালুকদারের ৪টি কবিতা

নারীর কাসুন্দি নারীর কাসুন্দি ঘাটতে কার না ভালো লাগে নারী তো ততোধিক মধুর মানব– নারী দেহের চাতুর্য বা চাতুরীপনা অস্বীকার করতে করতে ফকির লালন বড়ই একা হয়ে গিয়েছিলেন। নাজিম হিকমতের ‘জেলখানার চিঠি’ যে নারীকে লিখিত এমন কোটি নারীতে কাঁধেকাঁধ মিছিলে নামুক এ-বিশ্বের সকল পাড়ায়। নমিতা আমাকে পাবলো নেরুদা হতে বলেছিলো …

সম্পুর্ন​

মতিন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

অতীতমুখি একটা গাছ সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে থেকে একটা গাছ আকাশ মুখি কাণ্ড আর পাতারা সব গাছ হয়ে গেছে বিকেলের ক্লান্তির রোদ সারাটা গাছে ছলকে পড়ে তবু গজিয়ে ওঠা পাতারা নিস্তেজ নিস্পন্দ পিঁপড়েরা ছিড়ে কেটে নেয় ঢের দু’একটা নচ্ছার পাখি ঠোক্কর মারে, গাছ তবু দাঁড়িয়ে থাকে– বহু আগে এক তক্ষক বাসা …

সম্পুর্ন​

নর্তক

সৈয়দ তারিক পাথর, তোমার ভেতরেও উদ্বৃত্ত রয়েছে আর এক নৃত্য। পাথরেও নৃত্য? নাচ তো রয়েছেই। পরাবাস্তব দৃশ্যপটে আছে। দৃশ্যাতীত বাস্তবতায়ও আছে। নাচে নাচে রম্য তালে। নাচে নটরাজ। নাচে শ্মশানকালী। ইলেকট্রন। প্রোটন। নিউট্রন। কোয়ার্ক। কোনো স্থিতি নেই। আবার আছেও। নটরাজ পরম যোগী। পাথরের মতো স্থির। মা কালীর পায়ের নিচে শবাসনে মগ্ন। …

সম্পুর্ন​

সুস্মিতা চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

নীলাভিলাষ নীলের দরদী আমি তুমি বঁধু নীলের প্রতিমা জগতের সব নীল তোমা মাঝে ফুটিয়াছে গাঢ়। অনড়-অলস আমি নীল-নাথবতী নীলময় ব্রহ্ম দেখি নীলের তাপসী ও নীল লাগিয়া আমি ডাকাতিয়া বাঁশি! ও নীল কখনো তুমি নীলাভ্র-আকাশ ও নীল কখনো তুমি তুমুল হুতাশ ও নীল কখনো চাঁদ নীলিম-চন্দ্রিমা ও নীল কখনো রুদ্র প্রলয়-গরিমা …

সম্পুর্ন​

সেলিম রেজা নিউটনের তিনটি কবিতা

শুভ  বিরহ বিরহ শুভ হোক। আমাদেরকে নবজন্ম দিক। নতুন পাতার মতো কোমলসবুজ হোক বিরহের ব্যথা। যেমন ব্যথাকে জানি, না জেনে যা উপায় থাকে না, সে রকম করে যেন বিরহকে জানি। তার  চেয়ে বেশি নয়। বুদ্ধি দিয়ে নয়। বিরহ সহজ হোক শিশুর প্রশ্নের মতো। বিরহ স্বাভাবিক হোক পাখির ওড়ার মতো। বিরহ অবাধ হোক আগুনের মতো। দহনের আলো নিয়ে …

সম্পুর্ন​

কবিতা: ফটোগ্রাফার

জহির হাসান পার হয়ে তৃষ্ণা ও তাপের শাসন আর যত ওড়াউড়ি অমল বৃষ্টির লোভে লোভে এতদূর এসে কাক ও কোকিল, কাঠগোলাপে, হয়েছে হাঁপানি উহাদের ঘেয়ো প্রাণে। বিকেল আকাশে নেই মেঘের হুঙ্কার ও বৃষ্টিগাছের শুকনো খয়েরি ফলের নৈঃশব্দের ঝুলে থাকা সহ্য হয়নি কাহার– ফটোগ্রাফার মেয়েটি তুলছে ছবি! ওর পিছু পিছু দূর …

সম্পুর্ন​

আজফার হোসেন-এর গদ্যকবিতা

পোয়েটিকস্ অব দ্য সাইন   এক চোখ ফেরাতেই দেখি পৃথিবী ঝুলে আছে গাঢ় অষ্টকের মতো। ধরতেই আটটি পংক্তি তরমুজের মতো ফেটে যায়। প্রথম পংক্তিতে লেখা আছে: এখানে সূর্য সূঁচের মতো চিকন রশ্মিতে গেঁথে ফেলেছে ঘাস, মাটি, নীলচোখ গাঙের শরীর। দ্বিতীয় পংক্তি: উপমাবিদ্ধ চাঁদ, পিঠে তার ভাঁজ-করা চিহ্নের মতো পিছলে-যাওয়া শ্যাওলা। …

সম্পুর্ন​

তুমি আর আমি

গৌতম চৌধুরী   ০১. ধীরে ধীরে একটা আদল কি গড়ে উঠছে লুপ্ত সভ্যতার এমন প্রশ্নের জবাব কোনও দিনই দিলে না তুমি বৃষ্টির দেশ থেকে তাই কেবলই চলে গেছি কাঁকরের দেশে চলে গেছি জাদুঘরে, যেখানে পুস্তকের ভস্ম রাখা আছে সমস্ত লিপিই হাস্যকর, গম্ভীর, বিপরীতমুখী তুমি জানালা খুলে দিলে, বললে, তাকিয়ে দেখো …

সম্পুর্ন​

কামাল মাহমুদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

নিদ্রাস্তুতি   আমার একটা চোখ নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে অন্য চোখটা নেহাৎ অনিচ্ছায় জেগে আছে ঘুমিয়ে পড়া চোখটা সুখে স্বপ্ন দেখছে– সবুজ মাঠের মধ্যে একজোড়া শাদা খরগোশ ছুটছে কোনো রাক্ষুসে শিয়াল-কুকুর তাদের তাড়া করছে না সবুজে-শিশিরে মহানন্দে খেলা করছে ওরা বৃক্ষেরা ছায়া দিচ্ছে, পাখিরা সাঁতার কাটছে ডুব সাঁতার, চিৎ সাঁতার …

সম্পুর্ন​

সা-রে-গায়ে ব্রেল

বারীন ঘোষাল   বেলুন      গলা        সিল্ক       চোখে  সুদূর স্বচরিতের গুহায় এই কমনরুমটা ছিল আমাদের এই নৌকো পাতা বিছানা     ব্রেনলেস    সারেগায়ে ব্রেল সারাগায়ে                                                    যা তা মস্তি বিহান   জলের ছাঁদে                স্মৃতিফলক আঙুলাঙ্গুলের  দোলছবি প্রণববাবু ছবি তুলছেন দেখে ফ্রেস্কো থেকে বেরিয়ে এলো স্ট্যাচুগণ ব্রেলচাদর গায়ে শুধু অন্ধরা উগরে এসেছে পায়ে পায়ে …

সম্পুর্ন​

স্তেফান মালার্মের দুইটি গদ্যকবিতা

অনুবাদ: আজফার হোসেন   প্রতিষঙ্গের প্রেতাত্মা তোমার ঠোঁটে গেয়েছিল গান নাম-না-জানা শব্দরা? এক অসম্ভব বাকধারার অভিশপ্ত টুকরো? ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে আসি, কোন এক বাদ্যযন্ত্রের তারের ওপর পিছলে-পড়া পালকের মতো অনুভব সঙ্গে নিয়ে, বিনম্র ও বহতা, যার স্থান করে নেয় একটি কণ্ঠস্বর, ধীরে ধীরে নেমে-যাওয়া ধ্বনিতরঙ্গায়িত শব্দের উচ্চারণে: “লা পেনালতিয়েম এ …

সম্পুর্ন​

ভিসেন্তে আলেইহান্দ্রে’র পাঁচটি কবিতা

অনুবাদ: আজফার হোসেন   বন্ধ উদোম পৃথিবী। নিরাপত্তাহীন রাত নিরিবিলি। বাতাস তার ঝালরের বিপরীতে ইঙ্গিত দেয় কানহীন ধুকধুক ধুকধুক। সিসা ছায়া ঢালে, হিম, ভারি সিল্কে জড়িয়ে রাখে তোমার বুক, কালো, রুদ্ধ। অতএব সবকিছু চাপে থাকে রাত্রির ধাতবে। প্রসিদ্ধ, শান্ত, রাতের স্বচ্ছ পুরনো সমতলের ওপর। দেউলিয়া নক্ষত্রেরা থাকে। ঘষামাজায় মসৃণ কবজা। বরফ …

সম্পুর্ন​

মতিন বৈরাগীর একগুচ্ছ কবিতা

একটা পাখির মুক্তি সংগ্রাম পাখিটা সারা দিন উড়িবার আকাঙ্খায় খাঁচার ভেতরে পাখা ঝাপটায় বাহির দেখে খাঁচা দেখে এবং আমাকেও দেখে জানালার এপাশে এইভাবে নিত্য তার অভিজ্ঞতায় শানিত করে প্রয়োগ আবার দেখে চারিপাশ, ফোকর-ফাঁক যতোটুকু উদোম আকাশ আমিও দেখি শুয়ে শুয়ে বই পড়ি তার ফাঁকে কখনো নিবিড় ভাবি আমার ভেতরেও কী …

সম্পুর্ন​

তরমুজ, মিনাবাজার ও অটো হাতবোমা

আবু সাঈদ  ওবায়দুল্লাহ   তরমুজ লালের ভেতর কোথাও একটা স্বরগম কোথাও একটা রিফিউজি গ্রাম কেঁপে কেঁপে লম্বা একটা বাস ধুলিনাশকতার ভেতর আস্তে আস্তে ধীর প্যাসেঞ্জারের স্মৃতিবল্লম তার খালি চক্ষু-চিমনি কবরস্থানের পাশে পেঁপে গাছ হওয়া টেলিগ্রাম । ওড়ে মৌন চিঠিলেখা সবুজ রঙের খাম পৌঁছায় ২৬ মনেশ্বর লেন হাজারিবাগে। সেখানে একটা দাঁত …

সম্পুর্ন​

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার   ছায়া ছায়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি মজা করে কথা বলছো লাজুক মুখ,পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হেসে ওঠে কাঠের হাতি   প্রচ্ছদ যেমন জন্মদিন, পাকা কাঁঠাল একঝলকে চড়ুই পাখি মঞ্চের দখল নিচ্ছি সহবাস বস্তুতই বহুচর্চিত প্রচ্ছদ   মুখোশ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেই হয় না;নিঃশ্বাস ঘন হবার মূহুর্তে জলপ্রবাহ।খোলস ছাড়বার

ব্লেডলিখিত সত্তাচিহ্নের শেষ ধাপ

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ক আস্থা বা সহজাত ছিঁড়ে এসেছি মাকড়সার জালে রোদ ও ভিজে শিউলি কুড়োতে গিয়ে হাতে লেগে যাওয়া কয়লার গোলার দাগ কোনওভাবে ফিরবেনা জেনে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি বাক্যে            নির্ভার            দাঁতে দাঁত কল্পনাবিহীন দিন সামান্য স্টিলের নখ           বেঁধানোর কথা ভেবে দিন যায় নিজেরই পুরনো রক্ত           সামাজিক মানুষের সাদা টিসু …

সম্পুর্ন​

অজিত দাশের কবিতা

চৌকাঠ প্রকাশ্যে উড়ছে যাবতীয় ব্যথার অগ্রন্থিত অক্ষর তোমাকে জানা আর না জানা অকথিত ভঙ্গিমা মাত্র অথচ কোন গোপন দরজা খুলে গেলে আশ্চর্য কী সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেখি যারা এঘরে ওঘরে জমিয়ে রাখে অভাবের ছিটেফোঁটা তারাও আজকাল দিব্যি কিনে নিতে পারে প্রকাশের শালীনতা যেদিকে দুর্লভ প্রতিভা মেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি বিপন্ন …

সম্পুর্ন​

সৈয়দ তারিকের ৭টি কবিতা

প্রেমিক যার হৃদয়ে তিনি প্রতিষ্ঠিত তার হৃদয়ে আর কেউ থাকে না; আমার হৃদয়ে শুধু তুমি আছ– তবে কি তুমিই তিনি? তোমাকে ভালোবাসি বলে যে কেউ অনায়াসে তাঁর আসনেই বসে পড়ে– তাঁর বান্দারা এতে খুবই অসন্তুষ্ট।   প্রতিপক্ষ তোমাকে দেখে তাঁর কথা মনে পড়ে তাঁর কথা ভাবতে ভাবতে তোমাকেই ভেবে যাই; …

সম্পুর্ন​