Monthly Archive: নভেম্বর 2011

নভে
29

আরব্য উপনিবেশে

খালেদ হামিদী

জবান আরবি না, অথচ মুসলিম!
কেন!! এ প্রশ্নেই উপনিবেশিতের
অমোচনীয় গ্লানি এখনো স্মৃতি থেকে
স্বদেশে বয়ে আনি। আরব মনিবের
চকিত গর্জন অবিস্মরণীয়
হলেও গে এরাব ক্লাবের নানামুখ
শিশ্ন-নিতম্বপ্রধান হাসি ছুঁড়ে
খুলেই ওয়ালেট রিয়াল দেখাতেই
আমার রিরংসা পেরোয় প্রভুত্ব।
তাতেও লাভ কই? জেব্রা ক্রসিংয়েও
কখনো শকটের আলতো ধাক্কায়
বাঙালি পুরুষের মূল্য কমাতেই
সফেদ পোশাকের নরের দঙ্গল
সচল বিলকুল, ট্রাফিক সিগন্যাল
না মেনে, দাম্মাম কি আল খোবারে।
এর চে’ ঢের ভালো মিনারহীন এক
বেহাত মন্দিরে, স্মৃতির কল্পিত
চিত্রপটে আজো, নানান দেবপূজা
কি নমঃশূদ্রের সীমিত অর্চনা।

সম্পূর্ণ…»

নভে
28

নৌকা বিষয়ক একগুচ্ছ কবিতা

শিবলি সাদিক

নৌকা-১

তারার আলোর নিচে নৌকার ছইয়ে শুয়ে মনে হল এই সন্ধ্যা ততটা নিকটবর্তী নয়, যেমন নিকটবর্তী নয় নরম তারকারা। নদীজলে তারকাদের ভাষা নেচে ঢেউয়ে ঢেউয়ে উপচায়, আর ক্রমে গ্রাস করে লোকালয়। ভাবি, এই আক্রমণে, এই নাচঘরে রাতভর বসে আমি দেখতে পাব কি অমাজল, যা থেকেই উৎসারিত নদী ও নৌকার গান?

*
কার নৌকা দোলে জলের ওপরে, তার রেখা দেখা যায় কি যায় না দিগন্তের পারে। কাত হয়ে শুয়ে আছি ভাবসমাধির কাছাকাছি, নৌকার ছইয়ে রাতের তারারা শ্বাস ফেলে, নম্রজলে বিলুপ্ত আমার বোধ। স্বাতী, চিত্রা, রেবতী ও অন্য অনেক তারার লেহন জলজ দেহে টের পাই। সে-লেহনে নদীর শরীরে জাগে রূপালি মাছের খেলা। তারার দোহাই গুরু, এই অলৌকিক সমাধির দিকে চোখ রাখ— আমি ক্রমশ তারার নক্সার ভিতরে চলে যাচ্ছি আর জলে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কারো গান শুনে আরো ঘুমিয়ে পড়ছি।

**
ছলছল শব্দ তুলে কত দূরে যায় তরী, কোনোদিকে সীমানা যে নাই! কিছু আগে দিবসে বিভক্ত ছিলাম কত-না আকারে-প্রকারে, বিরোধে, তুলকালাম শোরগোলে। আর এই অন্ধকারের নৌকায় আমরা নদীর জলে ঠিকানাবিহীন ভেসে যাচ্ছি স্রোত ধরে-আসা সব চিহ্ন মুছে দিয়ে। জগতের যত উপাধি-খেতাব, অসহ বিভক্তিরেখা নিভে গিয়ে নৌকা ও জল, সময় ও স্থান এক তারাস্রোতে মিশে কোথায় চলেছে!

সম্পূর্ণ…»

নভে
27

বালিঘড়ি

মিতুল দত্ত

এক.
পরিত্রাণহীন ট্রেনে আমাদের ছোট্ট জানাশোনা
শেষ হয়ে এল দ্রুত, রুক্ষতাসর্বস্ব দেশ
মেলে ধরলো জবুথবু নদী

হাওয়া উড়ে গেল মৃদু
উড়ে গেল রঙিন কাঁচুলি

ছোট স্টেশনের নাম, যাতায়াতে পড়ে রইল শুধু

দুই.
কোথাও মাজার নেই, দু’পাশে ছড়ানো শুধু বালি

তবু যেন ছায়া কেউ শুয়ে আছে এখানে পরম

রেখেছে আজান তার কুয়াশাস্তিমিত চরাচরে

কালো বুনো-মহিষের পিঠের মতন দিন
মসৃণ গড়িয়ে চলে এল

আমাদেরও এসে গেল প্রিয় জল, অবগাহনের

সম্পূর্ণ…»

নভে
26

গল্প: কয়েদি

কামাল রাহমান

ওখানে পৌঁছে, যা হয়ে এসেছে সব সময় আমার, একটা শব্দের ভেতর আটকে যাই। তোরণ অথবা ফটক শব্দটা ঐ কারাগারের দরোজার জন্য অনেক ভারী ও বেমানান মনে হতে থাকে, ওটার বিশালত্ব ও ভাবগম্ভীরতার জন্য দরোজা শব্দটাকেও হালকা মনে হয়। বড় বড় পাথরের চাঁইয়ে গাঁথা এক জোড়া স্তম্ভের উপর পুরানো খিলানটা কি দিয়ে বানানো হয়েছিল অনুমান করা যায় না এখন, বিশাল কালো ইস্পাতের পাতের উপর পিতলের হরফে লেখা ‘উইল্টশায়ার কারাগার’, নিচে লেখা, ১৯১১ সনে স্থাপিত। ঐ বছর আমার এক পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ থেকে অতিথি হয়ে এসেছিলেন এখানে, আমাদের পরিবার-বৃক্ষে ওঁর নাম আছে, ইতিহাসটা নেই, পরে জেনেছি গবেষণা করে। ক্ষণিকের জন্য বিষয়টা আবেগ বয়ে আনে, কিছুটা আপ্লুত হই, খুব সামান্য সময়ের জন্য অবশ্য। ঐ তোরণ বা দরোজা বা ফটক পেরোনোর পর আমাকে অভ্যর্থনা জানায় কারাগারের প্রধান কর্মকর্তা, করমর্দন করে ও জিজ্ঞেস করে কেমন আছি, একটু অবাক হই, পরিদর্শনে আসি নি তো, সাধারণ এক কয়েদি আমি!

হয়তো আমার বয়স, সাতষট্টি পেরিয়েছি গেলো মাসে, ও সামান্য খ্যাতি, দেশের সব-সেরা সাহিত্য পুরষ্কার সহ এ ক্ষেত্রে দেয়া প্রায় সব কটা পুরষ্কার, অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরষ্কার, এসব, কারা-কর্তৃপক্ষের কাছে এতটুকু অনুগ্রহ দেখানো কর্তব্য মনে হয়েছে।

এমন এক অপরাধে কারাগারে পাঠানো হয়েছে আমাকে, যে-সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই আমার। রাইটার্স ব্লকে পড়েছি জীবনের অনেক সময়, অনেকভাবে কাটিয়েছি সে-সব, কিন্তু এবার ইচ্ছে হয়েছে, হোক না, দুএকটা প্রজাপতির ওড়াউড়ি দেখি, লিখেছি তো অনেক!

সম্পূর্ণ…»

নভে
25

গল্প: কুমুদ ও ঢেউয়ের সংহরণ

পাপড়ি রহমান

তখনো বানের জল এসে ভাসিয়ে দেয় নাই নদীর ডানা। অথচ তুরাগের এই শাখাতে সারিনা ক্রুজ দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। শীত কি গ্রীষ্ম কি বর্ষা নড়নচড়নহীন তার দাঁড়িয়ে থাকা। কোথাও আসা বা যাওয়া নাই। আষাঢ়-শ্রাবণে জল ফেঁপে উঠলে তুরাগ যখন বিস্তীর্ণ জমি, জমিনের আইল বা সামান্য নিচুভূমিকেও প্রায় নদী বানিয়ে ফেলে, সারিনা ক্রুজ তখনো স্থির। এই বান আসার মরশুমে প্রতিদিন অন্ততঃ ত্রিশ থেকে চল্লিশখানা নৌকা তুরাগে ভাসে। কলার মোচার মতো ভাসমান নৌকাগুলোর লগি বা বৈঠা ঠেলা দেয় চিন বা অচিন নানা কিসিমের মাঝি। এই চিন-অচিনের দলে চান্দুমাঝিও আছে। যদিও তুরাগে বৈঠা বা লগি ঠেলার আগে তাকে কেউ মাঝি নামে ডাকে নাই। আর সেও মাঝি হতে চায় নাই। কিন্তু এখন তার এই বৈঠা বা লগি ঠেলার বাইরে আর কিছুতেই মন নাই।

দাঁতমাজরে থাকাকালীনও চান্দু নদীর নিকটবর্তী ছিল। ফলে নদীতে তার ভয় নাই। ডর-ভয় না করেই সে জলে ঝাপ্পুর-ঝুপ্পুর লাফাতে শিখেছিল। লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে একসময় ডাঙর হয়েও গিয়েছিল। চান্দুমাঝির গ্রামের নাম দাঁতমাজর। নদীর নাম ধলেশ্বরী। ধলেশ্বরীতে শাওনে-ভাদ্দরে তুখা স্রোত। এন্তার ইচা-পুঁটি-চেলা। চার ফেলে ছিপ দিলে বোয়াল বা আইড়ও তোলা যেত। ধলেশ্বরীতে সাঁতার কেটে, মাছ মেরে কাদাপানিতে পায়ের আঙুলে ঘা ধরিয়েও সে কখনো মাঝি হতে পারে নাই। অথচ এই তুরাগে নাও ভাসিয়ে, দুই-একদিন লগি বৈঠা টেনেই সে কিনা মাঝি বনে গেল! চান্দুমাঝি। বৈঠা হাতে সাবধানে কুচুরির দঙ্গল পাশ কাটিয়ে নাও ঠেলা দিয়ে রাগে সে দাঁত কিড়মিড় করে–
‘হালার ঢাকার শহর। চোদ্দ পুস্তানে কেউ মাঝি নাম কামায় নাই আর আমি হইলাম মাঝি! এই মাঝি কামে আমি সাত সেলাম দিয়া থুইছিলাম। এহন কিনা এক সেলামেই ভাইসা বেড়াই হাঁসের লাহান।’
তা এখন তার সত্যিই সাত সেলামের দরকার পড়ে না। এক সেলামেই সে মাঝির খেপ মারতে পারে। এই লগি-বৈঠাই তার রুজি-রোজগারের নসীব হয়ে উঠেছে। শাওন-ভাদ্দরে বাদলা নামলো কি তুরাগও ঘেরে বাড়তে শুরু করে। আর বাড়ে মানুষের আনা-গোনা। সেই সাথে বদলাতে থাকে নসীব। তুরাগমাঝিদের নসীব। পকেট ভারি কাস্টমারের এক খেপ মারলেই বড়নোটের লালচে চেহারা। দাঁতমাজরে থাকাকালীন চান্দুমাঝি এই বড় নোট প্রায় দেখেই নাই বলতে গেলে।
তখন টাকাকড়ি ও তামান চিন্তায় তার কপালে তিন-চারখানা ভাঁজ প্রায় স্থায়ী হয়ে গেছে। ওই ভাঁজের ওপর রোদ-বর্ষা-কি শীত সমান তালে দৌড়ে দৌড়ে পাকা তেঁতুলের রঙ বসিয়ে দিয়ে গেছে। চান্দুমাঝির এখন অবশ্য এই রঙচঙ দেখার সময় নাই। সে নিজের চেহারার সামনে আয়না ধরে থাকবে না কাস্টমার সামলাবে। কাস্টমারের কাছ থেকে দূরে থাকার কোনো পন্থাও তার আর জানা নাই। কারণ কাস্টমারের টাকায় কেনা মোবাইলটা যখন তখন টুনটুনিয়ে বেজে ওঠে। চান্দুমাঝি তখন হাতে লগি ঠেলায় ব্যস্ত বা পর্দা দিতে ব্যস্ত। সব সামলে টুনটুনানে বন্ধ করে দিয়ে বলে ওঠে—
‘মামা আইজ কি আসবেন?’
অন্য প্রান্ত থেকে কি বলে নাকি কিছুই বলে না। সেসব শোনা বা বোঝার উপায় নাই। ফলে চান্দুমাঝির কথাই এক তরফা শুনে যেতে হয়। এই নিয়ে বউ মরিয়ম বেগমের গোস্যার অন্ত নাই। তুরাগে বানের জল ঢুকলো কি চান্দু মাঝির আর ফুরসত নাই। সে ঘরে থাকলেই কি আর বাইরে থাকলেই কি, মোবাইল ফোনটা টুনটুনিয়ে বার্তা জানান দেয়। মরিয়ম বেগম প্রায়শ ক্ষেপে ওঠে। কথা দিয়েই গতরের ছাল তুলে নেবার মতো করে বলে—
‘হারাদিনই খালি ফুন ট্যাপেন আর ফুন ট্যাপেন। এত কি প্যাঁচাল পারে কাস্টমার আপনের লগে?’
মেজাজ-মর্জি ভালো থাকলে চান্দুমাঝিও সরস উত্তর দেয়—
‘ক্যান তর কি সন্দ অয় কাস্টমার না হেরা অন্য কেউ?’
মরিয়ম বেগমও ছেড়ে কথা কয় না। পুরু ঠোঁট ভেংচিয়ে বলে—
‘আপনেরে ফির ফুন কেডায় করবো? অ্যামা— এমুন হাউলা চাষার লগে পিরীত করবো কেড়ায়?’
‘আমি কি চাষা আছি রে মইরম? দাঁতমাজরের বেবাক জমির গোয়া মাইরা আইছি! লাঙল দিতে চাইলেও জমি আর পামু কেমতে?’
মরিয়ম বেগম চান্দুমাঝির বেদনা ধরতে পারে। ফলে সে কথা ঘুরিয়ে দিয়ে বলে—
‘আরে ধুর তামশা করলাম। এইবার কন পানি কদ্দুর আইছে? তুরাগের নিশান কি অচিন হইয়া গেছে গা?’
মরিয়ম বেগম তুরাগ বলে আর চান্দুমাঝি কিনা ধলেশ্বরীতে ঢুকে পড়ে।

সম্পূর্ণ…»

নভে
24

মাছরাঙা পাখির সফর

সেলিম রেজা নিউটন

সুস্মিতা চক্রবর্তী: ওগো চক্রযান, তোমার চাকায় মম প্রাণ

 

এক। দূরের থেকে দূরের দিকে

এখনো তুই কোথায় বটে
বেঁচে আছিস দু-এক ফালি-
এখনো তাই কামিনী ফোটে,
গন্ধে ভরে তোমার ডালি।

এখনো চাঁদ নিখোঁজ হলে
হারায়ে তারে মেঘের রঙে
খুঁজতে থাকো বিরহানলে
তৃষ্ণাবারি আকাশগাঙে।

ছায়াপথের আলোকস্নাতা
দূরের থেকে দূরের দিকে
আকাশী নীল অপরাজিতা
আকাশ খোঁজে নির্নিমিখে।

আকাশও তার চন্দ্রচোখে
তাহার দিন তাহার যামী
খোঁজে শ্যামল মেঘলীনাকে-
কোথায় তার পরাণস্বামী?

সম্পূর্ণ…»

নভে
20

সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি (শেষপর্ব)

ফেরদৌস নাহার

শেষপর্ব                 চতুর্থ পর্ব ।। তৃতীয় পর্ব ।।  দ্বিতীয়  পর্ব ।। প্রথম পর্ব

ক.
এই শিল্পীর আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হলো, সালভাদর দালি তার বিশাল সব ভাস্কর্যগুলোর মিনিয়েচার সংস্করণও তৈরি করে গেছেন নিজ হাতে। বলতে গেলে প্রায় সবগুলো লাইফ সাইজ কাজেরই অসংখ্য ছোট ছোট সংস্করণ রয়েছে। হয়তো এক্ষেত্রে কোনো কোনো কাজের মাধ্যম ভিন্ন। যেমন ব্রোঞ্জের তৈরি The Nobility of time-এর মিনিয়েচার ফর্মের কাজটিও দেখলাম, যা কিনা পাথর দিয়ে তৈরি করেছেন। এক সুইডিশ দম্পতি কৌতূহল বশত ছোটটির দাম জিজ্ঞেস করলেন, উত্তর এলো: বিক্রির জন্য নয়। কারণ— বহু বছর আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে ষোল হাজার পাউন্ডে। বাংলাদেশের টাকায় কতো হতে পারে ভাবতে গিয়ে আমার মতো অংকে কাঁচা মানুষের পক্ষে সাহস করে আর এগুনো সম্ভব হলো না। চমকে ওঠার আগেই থেমে গেলাম। তৃতীয় বিশ্বের এক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ দেশের শিল্পভূক পর্যটক আমি। শিল্পী সালভাদর দালির অরিজিনাল শিল্পকর্ম দেখতে পাচ্ছি এইতো পরম সৌভাগ্য! আর এই সৌভাগ্য নিয়েই সরে পড়লাম সেখান থেকে। তারচে’ বরং আরো কিছুক্ষণ কাটাই গিয়ে দালির অমর সব সৃষ্টিগুলোর সঙ্গে। দেখে নেই প্রাণভরে ওগুলোর আঁক-বাঁক, ভঙ্গি-রহস্য। অনুভব করি- স্যুরিয়ালিস্টিক শিল্পবোধের চূড়ান্ত সৃষ্টিশৈলী।

ঘড়ির কাঁটা প্রায় সাতটা ছুঁতে চলেছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যই এখান থেকে বেড়িয়ে পড়তে হবে। যেতে হবে রয়েল ফেস্টিভেল হলে। সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওপেন এয়ার ড্যান্স কন্সার্ট। এতদিন শুনে এসেছি ওপেন এয়ার মিউজিক কন্সার্টের কথা। কিন্তু নাচের উপর ওপেন এয়ার— এই প্রথম শুনলাম। আর আমি আশ্চর্য হলেও একথাও সত্যি যে, এধরনের নাচের প্রোগ্রাম খোদ লন্ডনেও আজই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবু এসে গেল এই কারণে যে, লন্ডন শহরের রঙ্গ মেলায় কত কিছু যে নিত্য নতুন ঘটে চলছে তার হিসাব আমার মতো দু’দিনের অতিথির পক্ষে রাখা সম্ভব নয়। তাই বা বলি কী করে, যারা এখানে অনেক কাল ধরে আছেন তাদের অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি— তারাও যে সব খবর রাখেন বা রাখতে পারেন তাও নয়। কসমোপলিটন নগরের এটাই বৈশিষ্ট্য।

সম্পূর্ণ…»

নভে
19

জাদুঘর

মীজান রহমান

লোকে হাসবে জেনেও না বলে পারছি না। এপ্রিল এলে প্রতিবার একই ঘটনা ঘটে—আমি যেন কৈশোরে ফিরে যাই। অকারণে মন খারাপ হয়, অকারণে উদাস হই। মন প্রজাপতি হতে চায়। রাতের বেলা দক্ষিণের আর্দ্র বাতাস যখন শিস দিয়ে যায় জানালায়, আচমকা মনে হয়, কারো পদধ্বনি শুনছি দরজায়। জানি ওটা কেউ নয়—শুধু আমারই প্রাচীন স্মৃতিদের জেগে ওঠার শব্দ। তারা সরব হচ্ছে। এপ্রিল আমার পুরনো স্মৃতির পুনর্জাগরণের মাস— ক্যানাডার গাছেদের মতো।

প্রতিবছর এই সময় আমি গাড়ি নিয়ে বের হই। কার্পের গোরস্থান এখান থেকে ৩৫ কিলোমিটার। এপ্রিল চলে আসামাত্র মনে হয় সে যেন অভিযোগের সুরে বলছে: কইগো তুমি আসছ না কেন এখনো? আমি কখন থেকে বসে আছি তোমার অপেক্ষায়। দারুণ অভিমানী মেয়ে ছিল সে জীবনকালে। একটুতেই গাল ফুলিয়ে বসে থাকত। লোকে বলে স্বভাব যায় না ম’লে। আমার বেলায় কথাটি অক্ষরে অক্ষরে সত্য। প্রায় নয় বছর হতে চলল, এখনো যেন তার মান ভাঙানো গেল না। এমনই আশ্চর্য জেদী ছিল মেয়েটা।

ওর কথা সবসময় মনে পড়ে তা নয়। সময়ের সঙ্গে স্মৃতির বড় দ্বন্দ্বটা তো সেখানেই। সময় বলে, এগিয়ে চল। স্মৃতি চায় বিরতি। একটু থেমে থেমে চলা, একটু রোমন্থন, প্রিয়জনের নিষ্প্রাণ শরীরের পাশে দুটি নিবিড় মুহূর্ত। স্মৃতি চায় বোধকে জাগিয়ে রাখতে, সময় তাতে ঘুমের শিশির ছড়ায়। ওর কথা আগে অনেক ভাবতাম,  নিজেকে খুব অপরাধী মনে হত যদি কখনও ভুল করে ভুলে যেতাম ভাবতে। কিন্তু এখন দিনের পর দিন, কখনও মাসের পর মাস কেটে যায়, একবারও সে উঁকি দেয় না মনে। অথচ কি আশ্চর্য, আগের মতো নিজের কাছে অপরাধী বোধ করছি না— অর্থাৎ সেই অপরাধ বোধটিও ভোঁতা হয়ে গেছে। অবশেষে বুঝি সত্যি সত্যি ওকে পথের পাশে একা ফেলে আমি চলতে শুরু করেছি। অবশেষে বুঝি আমরা সবাই এমনি করে পথের পাশে পড়ে থাকব, আর আমাদের পাশ দিয়ে নীরব কাফেলা এগিয়ে যাবে অন্য কোনোখানে।

সম্পূর্ণ…»

নভে
17

সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি (চতুর্থ পর্ব)

ফেরদৌস নাহার

চতুর্থ পর্ব                                                                                                      তৃতীয় পর্ব ।।  দ্বিতীয়  পর্ব ।। প্রথম পর্ব

ক.
১৯৩৪-৩৬ এ প্যারিসের বিখ্যাত ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর এবং ডিজাইনার জেন মিশাল ফ্রাঙ্কের সঙ্গে দালির পরিচয় হলো। জেন মিশাল বিংশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশ দশকের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত  ও বুদ্ধিদীপ্ত ইন্টেরিয়র ডিজাইন লিজেন্ড হিসাবে খ্যাতিমান। যার সুস্পষ্ট প্রভাব এখন পর্যন্ত আসবাব ও গৃহসজ্জা শিল্পে প্রবলভাবে উপস্থিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে লেখা বিখ্যাত ডাইরি ‘The Diary of Anne Frank’-এর লেখিকা অ্যানা ফ্রাঙ্কের নিকট আত্মীয়। দালি এই প্রতিভাবান ডিজাইনারের কাজ দেখে এতটাই উদ্বুদ্ধ হলেন যে, গৃহসজ্জার আসবাবপত্রের নানা উদ্ভাবনী ডিজাইন তৈরি করতে শুরু করেন। সে-সময়কার হলিউডের বিখ্যাত ও লাস্যময়ী অভিনেত্রী মায়ে ওয়েস্টের ঠোঁট অবলম্বনে তৈরি করেন Mae west lips sofa । ১৯৩৬ সালে তৈরি এই টকটকে লালরঙ লিপিস্টিকমাখা একজোড়া ঠোঁটের আকৃতিতে নির্মিত সোফাটি প্রবল আলোড়ন তুলেছিল। যা-কিনা স্যুরিয়ালিস্টিক আসবাব হিসাবে অন্যতম উল্লেখযোগ্য, এবং আসবাব ডিজাইনের ইতিহাসে এক অভিনব ও অনন্য সংযোজন। এ-ধরনের কাজ করতে সালভাদর দালি দিনরাত্রি কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন। নিখুঁতভাবে ঠোঁটের ড্রইং ফুটিয়ে তুলতে সতর্ক থেকেছেন সবসময়। এই সোফাটির সামনে দাঁড়িয়ে অনুভব করতে চেষ্টা করেছি স্যুরিয়ালিস্টিক দ্যোতনার অনুকম্পন কী করে ব্যবহারিক জিনিসপত্রকেও অন্য এক রূপ দিতে পারে।

সম্পূর্ণ…»

নভে
16

ও মাইয়া মোঁরে…

শামসেত তাবরেজী

লে হালুয়া, তকদির আমার
গণতন্ত্রময় আর বটে লোহার গরমে
অভিজ্ঞান বসন্ত হয়েছে

ছেঁড়া স্ট্র্যাপস চপ্পলের
তবু হাঁটা হল ৮-১০কিমি
যেখানে ধনচের ফুল
ইয়ে মাখছিল
সংগঠনের মুখে
এবং আমরাও একবার…,
যেহেতু শিক্ষা হয় দেখে,
ভালবেসে

লে হালুয়া, কত ভোট এলোগেলো
কত মস্তানির বারুদ উড়ল
আহা, দুধ
ঝরিয়ে ঘুমাতে গেল
হিংচে শাকের দেশে

সম্পূর্ণ…»

নভে
16

প্রার্থনা: মুখতার মাইএর জন্যে

অংকুর সাহা

তোমার ছিল দুখের সংসার
সূর্য-রাগী, আগুনভরা তেজ;
তোমার পায়ে পাথুরে রুখো মাটি
কান্না, ঘাম, খিদের সংশ্লেষ।

সমাজ তোমার আদতে পুরুষালি,
রমণী হীন, দ্বিতীয় শ্রেণী, পণ্য;
হেঁসেল, আঁতুড়, প্রহার, সহবাস
সমতা কবে আসবে তোমার জন্যে।

গ্রামের উঠোন, গেরস্থালি, ঘর
কৃষিকর্ম দুপর বেলায় মাঠে;
তালাক দিল হৃদয়হীন খশম
একা শয্যায় বিনিদ্র রাত কাটে।

মিরওয়ালা গ্রাম, জাতোই তহসিল,
পুব পাঞ্জাব, মুজাফর গড় জেলা;
মাসতোই আর তাতলা উপজাতি
বিবাদ করে সকাল সন্ধেবেলা।

সম্পূর্ণ…»

নভে
15

সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি (তৃতীয় পর্ব)

ফেরদৌস নাহার                                

তৃতীয় পর্ব                                                     দ্বিতীয়  পর্ব ।। প্রথম পর্ব

ক.
১৯২৯ সালে প্যারিসে দেখা হলো গালা এ্যালুয়ারের সঙ্গে। বিখ্যাত ফরাসি স্যুরিয়ালিস্ট কবি পল এ্যালুয়ারের স্ত্রী। খুব দ্রুত দালির সঙ্গে তৈরি হলো তার সম্পর্ক। গালা এ্যালুয়ার হয়ে উঠলেন দালির প্রেম-প্রেরণা। এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণে সালভাদর দালি গালা এ্যালুয়ারের প্রতি চরমভাবে আকর্ষিত হলেন। জন্মগতভাবে রাশিয়ার নাগরিক গালার আসল নাম এলেনা ইভানোভনা  ডিয়াকোনোভা। বয়সে দালির চাইতে দশ বছরের বড়ো। দালির জীবনে গালার ভূমিকা বিশাল। সারাজীবনে নানা সময়ে দালিকে প্রবল মানসিক বিপর্যয় হাত থেকে আগলে রেখেছেন তিনি। দালিকে তার সকল পাগলামি ও অপরিণত মৃত্যুর হাত থেকে আড়াল করে গেছেন। ১৯২৯-এ পরিচয়ের পর থেকে একসঙ্গে বসবাস করলেও ১৯৩৪-এ সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। ধর্মীয়ভাবে ১৯৫৮ সালে আবারো বিয়ে করেন তারা। সালভাদর দালির জীবনে গালার ভূমিকা স্ত্রী ছাড়াও প্রধান নিয়ন্ত্রক ও মেন্টর হিসাবে উল্লেখ্য। তার আর্থিক, শৈল্পিক ও যৌন জীবনে গালা ছিলেন সার্বক্ষণিক সঙ্গী। এছাড়া দালির অসংখ্য ছবি ও ভাস্কর্যের মডেল হিসাবে তার অভাবনীয় উপস্থিতি ছিল প্রশ্নাতীত। গালা স্পষ্টই দেখতে পেয়েছিলেন সালভাদর দালির মাঝে বিরাজমান এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিভাবান শিল্পীকে। যে শিল্প সৃষ্টির সম্রাজ্যে আর সবার চাইতে প্রবল ও পৃথক। এমন কী তিনি  প্যারিসে শিল্পী হিসাবে দালির আসন গড়ে তোলার প্রথম পর্যায়েও তাকে অকৃত্তিমভাবে সহযোগিতা করে গেছেন, যা-কিনা আজীবন অব্যহত ছিল।

সম্পূর্ণ…»

নভে
14

‘কবিতা কল্পনালতা’-য় আমি বিশ্বাস করি না’

সাক্ষাত্কার:  নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ________________

গত সাত দশক ধরে বাংলা কবিতায় অনন্য আভিজাত্যে বিরাজ করছেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী । অষ্টআশিতে পা রেখে প্রবীণতম এই কবি কবিতাজগতে আজ অভিভাবকপ্রতিম। তবু, বয়সকে উপেক্ষা করে আজও সৃজনশীল এবং দেশ-কাল-সমাজ সম্পর্কে সমান সচেতন। সাহিত্য আকাদেমী-সহ  বহু পুরস্কারে ভুষিত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট উপাধিতে সম্মানীত কবি তাঁর দীর্ঘ কবিজীবনের উপলব্ধি বিষয়ে কথা বলেছেন সৈয়দ হাসমত জালালের সঙ্গে।
__________________

রবিবারের সকালবেলা: নীরেনদা, আপনার কবিতায় শব্দ, ছন্দ, ব্যঞ্জনা এবং তার নির্মিতির ভিতরে সুসংহত গদ্যের অভিঘাত লক্ষ্য করেছি আমরা। অথচ আপনারই এক বিখ্যাত কবিতায় আপনি বলেছেন, ‘কবি, তুমি গদ্যের সভায় যেতে চাও?/ যাও।/ পা যেন টলে না…’ ইত্যাদি এবং শেষে বলেছেন, ‘সভাস্থলে/ আসবার ছিল না কথা, তবু সম্রাট এসেছেন।’ এটা কেন? কবিতার সাথে গদ্যের সম্পর্ক কীরকম বলে আপনি মনে করেন?

সম্পূর্ণ…»

নভে
13

সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি (দ্বিতীয় পর্ব)

ফেরদৌস নাহার      

দ্বিতীয় পর্ব                                                                প্রথম পর্ব

ক.
Intelligent artists are those who are
Capable of expressing the most wild and
Chaotic experiments in classical form.
I have done all kind of experiments. I have
Even painted with a gun! — Salvador Dali.

ফ্রান্স ও স্পেনের বর্ডার থেকে মাত্র ষোল কিলমিটার দূরে পাহাড়ের পাদদেশে উর্বর শস্যভূমি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক রিজন্স ক্যাটালোনিয়া’র ফিগুয়েরেস শহরে ১৯০৪ সালের ১১ মে সালভাদর দালির জন্ম। পুরো নাম, সালভাদর ডোমিঙ্গ ফিলিপে জাসিন্টো দালি ই ডোমেনেচ। তার প্রয়াত বড়ো ভাইয়ের নামও ছিল দালি। দালির জন্মের নয়মাস আগেই বড়ো ভাইটি মারা যায়। দালির পরিবার এবং দালি নিজেও মনে করতেন, তিনি তার মৃত ভাইয়ের ছায়া। ছেলেবেলা থেকেই মৃতের ছায়া হয়ে বেড়ে ওঠার বিষয়টি অবচেতন ভাবে তাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে, সারাজীবন এই ভয়ঙ্কর অনুভব তার সঙ্গী হয়ে ছিল। আর তাই খুব অল্প বয়স থেকেই হয়ে উঠেছিলেন অন্যধরনের মানুষ। আর দশজন সাধারণ মানুষ এবং তাদের চিন্তা-ভাবনা থেকে দালি হয়ে উঠলেন ভিন্ন একজন। পারিবারিক আচার, সামাজিক রীতি-নীতি ভাঙার এক নিয়মিত প্রবণতা তার মধ্যে দেখা দেয়,

Take me, I am the drug
Take me; I am the hallucinogenic

সম্পূর্ণ…»

নভে
10

সুদূর অর্কেস্ট্রা: সালভাদর দালি (প্রথম পর্ব)

ফেরদৌস নাহার

প্রথম পর্ব

ক.
হিথ্রো এয়ারপোর্টের ডিসপ্লে কাউন্টারে সাজানো রয়েছে নানা রকমের লিফলেট। ট্রেন, বাস, টিউবের (পাতালরেল) ম্যাপ, দর্শনীয় স্থান বা পণ্য সামগ্রীর তথ্যচিত্র, সপিং সেন্টারের সেল, প্যাকেজ ট্যুরের বিবরণ– কী নেই! হাজারো বিষয়ে কত না রঙিন লিফলেট, বুকলেট, ফ্লায়ার তার ইয়ত্তা নেই। যেহেতু এসব পয়সা দিয়ে কিনতে হয় না, এক্কেবারে ফ্রি! তাই দেরি না করে ঝটপট তুলে নিলাম একগাদা রঙিন প্রচারপত্র। আগ্রহ নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতেই, হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো পেয়ে গেলাম জগৎ খ্যাত শিল্পী সালভাদর দালির একক প্রদর্শনীর খবর।

ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্রিজের পাড়ে, টেমস নদীর দক্ষিণ তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত কাউন্টি হলের রিভার সাইড বিল্ডিং-এ শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী। পাঁচশোরও বেশি শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে শিল্পী সালভাদর দালির একক প্রদর্শনীটি। জলরঙ ও তেলরঙ, পেন্সিল স্কেচ, ভাস্কর্য, কাঠ ও লোহা দিয়ে নির্মিত আসবাব, নানা বর্ণের ধাতু ও কাচের গহনা, শিল্পে কোনো মাধ্যমেই বাদ নেই যেন। সালভাদর দালিকে নিয়ে এমন জোরদার ও বৃহৎ প্রদর্শনী গ্রেট বৃটেনে এই-ই প্রথম। নাম: দি দালি ইউনিভার্স । চলবে পাঁচ বছর ধরে, প্রয়োজনে আরো সময় বাড়ানো হবে। তার মানে ২০০৪ পর্যন্ত তো চলবে, বলে কী! খুশিতে দম আটকে যাবার মতো অবস্থা। যে করেই হোক যেতেই হবে এই প্রদর্শনী দেখতে, তানা হলে যে এবারের এই ভ্রমণের ষোলকলাই পূর্ণ হবে না। এভাবে সালভাদর দালিকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করব?  মাত্র এসেছি বিলেতে। তখনও জানি না কাউন্টি হলইবা কোথায়, কোথায়বা তার রিভার সাইড বিল্ডিং? তবু সেখানে যেতে হবে– এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

সম্পূর্ণ…»

নভে
09

দুটি কবিতা

তালাশ তালুকদার

তরমুজের কর্মকাণ্ড

ঐ টাট্টুঘোড়ারা এমনই সৃষ্টিছাড়া শ্লেটে রসাত্মক বাক্য লেখে। অবসরে হাবিলদারের মতো অনাত্মীয় গন্ধ পেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে বেড়ায়! তবুও কেমন সুখী ওরা বেডরুমে কাঁচা কাপড় সরিয়ে ষ্পষ্ট জবাফুল; পাকা পেঁপের মতন দু’পায়ের ফাঁকে ভর করে থাকে। যেন অনায়াস ঝর্ণা; নিম্নমুখী হলেই ও নেচে ওঠে, জল বাঁকা হয়ে ঝুঁকে পড়ে জলের ভিতর। যাই, চক্ষুষ্মান দেখি ঐ আত্মার মাঝে কার ভুরু কাঁপে, কাকেই বা উহ্যে রাখে ফ্রেন্ড -খবরাখবর পূর্বাপর ন্যায় চোখরাঙানী কি এই বয়সেও চলে!

ভৃত্য

সে প্রত্যহ খুঁটে খায় নৈশভোজের ঢাঁড়া, সব্জি, হাঁড়— ফড়িংয়ের। আসে কান খাড়া করে কিছুটা সতর্কভাবে হেন ব্যত্যয় ঘটলেই ওঁনার স্বামী লাঠি তেড়ে দৌড়ে আসেন, ঐ ছাদের রেলিংয়ে দাঁড়ানো বাড়ির ছোট্ট মেয়েটির আবদার রক্ষা করতে দুয়েকটা চড়থাপ্পড়ের মতো পিঠেও লাঠি পড়ে, ওঁনার বুক ফেটে যায়, তবু ওই আবাসিকে আর দশজনের সামনে আঙুল তুলে কাউকে দেখাক্, এই হলো ভৃত্য, প্রভুর সুবাসে মন উথলে তোলে, ল্যাজ নাড়ে, নিকট পৃথিবীর কেউ হলে কী আশ্চর্য! আপনি! আপনি আমাদের দোড়গোড়ায়! আসুন আসুন! দূর পৃথিবীর কেউ দেখে দাঁতে দাঁত কাটে, পাঁচিল টপকে যায়, সে হারামী’র হেন ব্যত্যয় ঘটে।

নভে
09

ফকির ইলিয়াস- এর কবিতা

গল্পের শিল্পকথা

আমার গল্প নিয়ে তুমি যে শিল্পচিত্র আঁকতে চেয়েছিলে
তাতে চন্দ্রের কোনো ছবি থাকবে না
সেকথা আমি তোমাকে জানিয়েছিলাম।
বলেছিলাম, এ আকাশ আমার নয় – তাই তার
সমস্ত বৈভব আর আলোর তালুক, আমাদের দূরত্বের
ছায়া হয়েই থেকে যাক। প্রদর্শিত ভোরের দক্ষিণে
প্রেমের সেতুবন্ধন হোক নদী আর তার বিধ্বস্থ স্রোত।

জানি, স্রোতের রাগিণী তুমি এর আগেও সেরেছো
তোমার বেশ কিছু শ্রেষ্ঠ বিনির্মাণ। জলের বিদ্যুত থেকে
আলো সঞ্চয় করে, সাজিয়েছো পাতার ডিজিটাল প্রিন্ট।
বৃক্ষের একাকী বিস্তারে তোমার প্রসারিত হাত
ছড়িয়েছে বীজের বিন্যাস। প্রজাপতির ডানায় তুমিই
এঁকে রেখেছো, গৌরবের বনবৃত্তান্ত।

আমি জানি, আমার গল্পগুলোও একদা সমান্তরাল
ছিল সবুজের গৌরবময় ইতিহাসের। মুক্তি ভাস্কর্যের
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে মা নিবেদন করেছিলেন
তার জীবনের সর্বস্ব, আমার বিচূর্ণ গল্পগুলো
ছিল তার সন্তান। এই মাটির সাথে আমার
গল্পের নায়ক-নায়িকারা প্রাসঙ্গিকভাবেই ছিল
যুক্ত। আর লিখিত নদীধ্যান পাঠ করে সঙ্গত
কারণেই হয়ে উঠেছিল জয়নুল-সুলতানের
সুবিশাল উত্তরবাহু। উদগত ভূমির কাছে
তারা ছিল বর্ষার অবনত কুসুম।

সম্পূর্ণ…»

নভে
08

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়-এর দুটি কবিতা

কফিশপ

তোমার চুমুর পাশে আমার চুমুক
অসম্ভব ঠাণ্ডা লাগে,লাগবেই।
এক্সট্রা ক্রিমের ছাদে বরফের কুচিগুলি
পাখনা উঁচিয়ে দেয়
ঠোঁট পাবে বলে।
এখানে যৌবন বাঁধা পড়ে আছে।
এইখান থেকে যদি এক-পা বাড়াই,
আবার বাইফোকাল,
আবার বলিরেখাসব,
বাসরাস্তার ভিড়ে লাট খেতে-খেতে
আবার ঘামের মধ্যে ঘাম, মিশে যাই।
তোমার নাকের পাশে নাকছাবি আমার,
ফেনা ছলকায়,তাই
দুলে ওঠে, উঠবেই!
জাগে জিভ, ভাগ্যলিপি
চেটে খাবে বলে

 

সম্পূর্ণ…»

Older posts «