Monthly Archive: মে 2012

মে
26

হারুকি মুরাকামির গল্প ‘দা ইয়ার অফ স্প্যাগেটি’

অনুবাদ: রিয়াদ চৌধুরী

[হারুকি মুরাকামির জন্ম ১২ জানুয়ারি, ১৯৪৯, জাপানের কিয়েটো শহরে। এপর্যন্ত ১২টি উপন্যাস ও তিনটি ছোট গল্পের বই লিখেছেন। এই গল্পটি তাঁর ‘ব্লাইন্ড উইলো, স্লিপিং উইমেন’ বই থেকে নেওয়া। গল্পটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ফিলিপ গ্যাব্রিয়েল।]

 

১৯৭১ ছিল স্প্যাগেটি রান্নার বছর।
ঊনিশ’শো একাত্তর সালে আমি বেঁচে থাকার জন্যে স্প্যাগেটি রান্না করতাম, এবং স্প্যাগেটি রান্নার জন্যেই বেঁচে ছিলাম। অ্যালুমিনিয়ামের কড়াই থেকে উঠে আসা স্প্যাগেটির ধোঁয়া ছিল আমার গর্ব ও আনন্দ, আর সসপেনে ফুটতে থাকা টমেটো সস ছিল তখন আমার জীবনের একমাত্র আশা।

আমি একদিন রান্নার জিনিসপত্র বিক্রির বড় একটা দোকানে গেলাম, সেখান থেকে আমার রান্নাঘরের জন্য একটা টাইমার আর পুরো একটা এ্যালসেশিয়ান কুকুর ধরে যায় এমন সাইজের একটা অ্যালুমিনিয়ামের কড়াই কিনলাম, তারপর সেখান থেকে গেলাম বিদেশীদের মশলার বাজারে, যতরকম মশলা পারি যোগাড় করলাম, বইয়ের দোকানে গিয়ে কিনলাম একটা পাস্তা রান্নার বই, এরপর কিনলাম কয়েক ডজন টমেটো। বাজারে যত ব্র্যান্ডের স্প্যাগেটি পাওয়া যায় সব কিনলাম, যোগাড় করলাম সব রকমের সস, যত ধরনের সসের নাম মানুষের জানা আছে। এরপর একদিন রসুন, পেঁয়াজ আর অলিভ অয়েলের গন্ধ বাতাসে গানের মত ছড়িয়ে পড়লো, ঢুকে পড়লো আমার এ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটা কোণায়, ফ্লোরে, সিলিঙয়ে আর দেয়ালে, কাপড়-চোপড়ের ভাঁজে ভাঁজে, বই-পত্রের র‍্যাকে, রেকর্ড শেলফে, আমার টেনিস র‍্যাকেটটায়, পুরনো চিঠিপত্রের বান্ডেলে। এমন এক গন্ধ যা হয়তো পাওয়া যেতো প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের রান্নাঘরে।

সম্পূর্ণ…»

মে
18

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান

জলাতঙ্ক

নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না
নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি
অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে
দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি
জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর…
আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে
বেরুতে ভয় পাই। ভয় পাই শিমুল ফুলের পাশ ফিরে শোয়া
বিবেকের কথা যদি বলো—তবে বড়জোর—
রক্তের বোতল নিয়ে ওটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাটাকে
মনে হয় বায়েজিদ বোস্তামি
হে শহরশিশু, বলো—শেষ কবে বর্ষা নিয়ে দাঁড়িয়েছি শিওরে তোমার?
কবে বলেছি—ভোক্কাট্টা? কোথা থেকে—পুষ্পরাগ?
তবু রেণুসুর, কয়েলকাব্য ছিড়ে—গেল রবিবার—বৃষ্টির মুখে
চুমু খেতে গিয়ে আঁতকে উঠেছি…

সম্পূর্ণ…»

মে
18

কবিতার গ্রাফগদ্য

ফকির ইলিয়াস

নৃত্যবান্ধব নদী ও নামগুলোর এক্সিট

নৃত্যবান্ধব নদীর মুখ দেখে শুরু হয় আমার যাত্রা। এর আগে যারা চিনেছে দূরের পথ, তাদের ধূসর ছবি দেখে আমি থামিয়ে দিই প্লটযুদ্ধ। মাটির প্রয়োজন কমে যাবার পর আমারও মন ছুঁতে চেয়েছে কেবলই শূন্য আকাশের ভিত। আর খোপের জীবন ভালোবেসে নিজেকে বার বার সাজিয়েছি চিলেকোঠার সেপাই। পাই পাই করে জমানো পুঁজি দিয়ে কিনে নিয়েছি কৃত্রিম আঁধার। দিনের বেলায় ঝাড়বাতি জ্বালিয়ে মুখ দেখার গরল সংস্কৃতি! এভাবে হাঁটা যায় জানি, তবে পথ অতিক্রম করা যায় না। ‘সহজ’ নাকি ‘সঠিক’ এক্সিট চেয়ে নেবো– এমন প্রশ্নের মুখোমুখি সমর্পণ করেছি ভাঙা পাঁজর। কিভাবে জন্মজয়ন্তীর রাতে জমা রাখতে হয় অব্যাহত শপথ, তাও ভুলে গেছি খুব দ্রুত। মাঝে মাঝে অনেক কিছুই ভুলে যেতে হয়। ক্ষতের নিয়তি, ঝরা শ্রাবণের মন, আর পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার প্রস্থানদৃশ্য। এমনকি সেই শহরের নামও, যে শহরে প্রাক্তন স্মৃতিরা থাকে পেখম মেলে।

মাছির চোখ ও মানুষের স্কেচ

মাছগুলো তাকিয়ে থাকে মাছির চোখের দিকে। ভনভন আওয়াজে ঘুরতে থাকে রিকশার প্যাডেল। কে চালায় তা বুঝা যায় না। তবে নেপথ্যে কেউ নিয়ন্ত্রণ করে হাতের আঙুল, সে বিষয়ে আমরা সম্মত হই। এ পর্যন্ত আমরা আরো বেশ কিছু বিষয়ে পৌঁছে গেছি ঐক্যমতে। যত্রতত্র প্রয়োগ না করলেও আমরা সবাই মিথ্যা কথা বলতে জানি, কিংবা আষাঢ়ে নদীর চোখে রাখতে পারি নিজেদের চোখ– এমন বেশ কিছু সত্যকে মেনে নিয়েছি আমরা বেশ আগেই। আরো সম্মত হয়েছি, এখন থেকে বৃষ্টিতে নামতে গেলে বাদ দেবো ছাতার ব্যবহার। কারণ প্রকৃতির মাঝে ভিজে যাওয়ার যে আনন্দ তা পুকুর কিংবা বাথটাবে নেই।

সম্পূর্ণ…»

মে
12

ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬

ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫

 

ধর্মভাবনাই মানুষের ট্র্যাজেডির জন্যে দায়ী

বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব

 

১.
সাক্ষাৎকারগ্রাহক: তোমার এমন একটা বিষাদময় জগৎদৃষ্টি হলো কীভাবে?

ইউ জী: সব ধরনের ধর্মীয় লোকজন দিয়ে আমি পরিবেষ্টিত ছিলাম। মনে হতো তাঁদের আচরণে হাস্যকর কিছু আছে। তাঁদের বিশ্বাস আর তাঁদের জীবনযাপনে বিশাল ফারাক ছিলো। তাতে আমি সবসময়ই বিরক্ত হতাম। তবে তাঁরা সবাই-ই যে কপট ছিলেন সেকথা বলবো না। আমি মনে মনে ভাবলাম, ‘‘তাঁদের বিশ্বাসেই কোনো সমস্যা আছে। গলদটা হয়তো গোড়াতেই।’’ মানবজাতির সকল গুরু, বিশেষ করে ধর্মীয় গুরুরা, নিজেদেরকে প্রবঞ্চনা করেছেন আর প্রবঞ্চনা করেছেন সমগ্র মানবজাতিকে। সুতরাং আমার নিজেকেই সেটা খুঁজে বার করতে হবে আর─যতক্ষণ পর্যন্ত আমি কারো ওপর নির্ভর করছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমার কিছুই খুঁজে বার করার উপায় নেই।

সম্পূর্ণ…»

মে
07

দিবাগত

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

 

ভেসে যাই, পরিণামসিন্ধুজলে

আমার কেন যাচ্ছেতাই সব জিনিস অসময়ে মনে পড়ে সেটা কে বলবে?

ফেইসবুকে অন্যে লেখে মাশাল্লা হ্যাপি ফ্যামিলি, ছবিতে প্রজননক্লান্ত মা আর হাসির চকমকি ঠোকা বাপের কোলে নবজাতক, আমার কেন মাশাল্লা হ্যাপি ফ্যামিলি মনে হয় না, কেন মনে হয় ‘কেউ মরে বিল সেঁচে/ কেউ খায় কই’

যশুয়া আমাকে একটা রোমানেস্ক গীর্জা দেখাতে নিয়ে গেছে। আগের রাতে ওর সাথে বসে দেখেছি ‘ক্যাসাব্লাংকা’। গীর্জার ভিতর থমথম করছে বরফকলে জমানো নিস্তব্ধতা। সারি সারি উপাসক-উপাসিকা। রঙিন কাঁচের জানালা আর মোমবাতি। উপাসনাগীত শুরু হলো। আমি যশুয়াকে বল্লাম এই এই, এরা কি গাইছে? আমার কানে কেবল ক্যাসাব্লাংকার স্যামের ‘উই আর ইন ট্রাবল’ বাজছে…আমি কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে গেয়ে ফেলব…

যশুয়া বিপর্যস্ত মুখে আমাকে টেনে বের করে আনে, প্লিজ, উই উইল বি ইন রিয়াল ট্রাবল যদি এখন এই প্রার্থনাসংগীত ভেঙে তুমি গেয়ে ফেল এটা…

যশুয়া আমাকে পাড়ার লাইব্রেরিতে বাচ্চাদের রাইমটাইম দেখাতে নিয়ে গেছে। আমাদেরও যেন বাচ্চা আছে, আমরাও যেন অনেক সুখী হ্যাঁ এইরকম ভাব করে আমরা আর সব মা-বাবাদের পাশে পা গুটিয়ে মেঝেয় বসি। রাইমস শুরু হয়। একসময় ‘ও দ্য গ্রান্ড ওল্ড ডিউক অফ ইয়র্ক’ শুরু হয়…

সম্পূর্ণ…»

মে
06

পাঁচটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

 

ছুটি ১

রোদে শুকানো পাজামা
গলে পড়ছে প্রজাপতি
গন্ধমুকুরের কাচ আরো পয়দা আরো এলাহী।
হলুদ গোলাপি মিলে আরো রঙধনু
তীর তীর
শিকারপাখি শীতব্রিজ করে কুয়াশা
কেয়াকাহিনী ঝুলছে বনের ভেতরে বনশা।

স্কুল থেকে গোগুলে শাদানীল বাদামি পায়রা
মেয়েরা গোপনে মঙ্গল রাখছে পালকের নিচে
তাই দেখে মা করার ছেলেরা
কুল ফেরানির মায়া মাখে এই নিম্নপলি বালিশায়
তরমুজ খুলছে লাল রঙের খাবারগুলি।

ঘন্টা পড়ছে কুলি করে কোলে তুলছে
শেষ মালবাহী ট্রেন।
গুলি ফোটাতে বাংকার থেকে বাংকারে
হাড় দিয়ে চিঠি লিখছে সৈনিক।
আর আমার কৈ তলার কৈ সাঁতরাতে সাঁতরাতে
স্টেশনে সকাল আটটা!
যেদিকে তাকাই সেদিকেই দালির মাননীয় ঘড়ি।

  সম্পূর্ণ…»

মে
06

দুটি কবিতা

মুগ্ধ চন্দ্রিকা

প্রহর

ভোরের দিকে তাকালে দেখি
তার উষ্ণ সুরে
আর, ধারালো কিরণে
নেচে ওঠে এক অজানা পাথর

দুপুরের মায়াবী মুখ থেকে
ঝরতে থাকে হলদে বৃষ্টি
ভেজা চাঞ্চল্যে অস্থির সে প্রহর, ক্লান্ত আমি

মনে দাগ নিয়ে বসে থাকা বিকেলের
আয়নাহীন চেহারায়
খুঁজে পাওয়া যায়
নীল গোলাপি স্মৃতি-
রৌদ্রের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার…

সাঁঝের ঘ্রাত অভিমানে, চিন্তিত আমি
একলা ঘুরে বেড়ায় সে মেঘের নৌকায়
তৃষ্ণার্ত তার দৃষ্টি
কেঁপে ওঠে তার নিরাকার উপস্থিতি

নেই রাতের সাথে কোনো কথা
পেলাম না তার চিঠির উত্তর
ওপরে তাকিয়ে দেখলাম–
কালো দেহ বেয়ে পড়ছে
রঙিন অশ্রু !

  সম্পূর্ণ…»