Monthly Archive: জুন 2012

জুল
16

দারা মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

দারা মাহমুদ

 

প্রেম

মানুষ নিজের থুতু নিজে খায়
পেটের ভেতর তা আবার
জারক রসের কাজ করে
তবে থুতু একবার মুখ থেকে
বেরিয়ে গেলেই তা আর
খাওয়া যায় না

 

পুরুষ পাথর

পুরুষ পাথর বালি দিয়ে তৈরি
নারীর টোকায় ভেঙে যায়
একথা অভিললনা মৌনি
যেমন জানে
বস্তির বিন্দুও সেরকম

 

সম্পূর্ণ…»

জুল
13

ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৭

ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫ ।। ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬

 

তোমার বাস্তবতা তোমারই উদ্ভাবন

বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব

 

 

 

সাক্ষাৎকারগ্রাহক: সবসময়ই শুনে এসেছি সৃষ্টিতে মানবজাতির একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু তোমার গ্রন্থগুলি পড়ার পর থেকে ভাবছি সেটা আদৌ সত্য কিনা।

ইউ.জী: তুমিই ওই প্রশ্নের উত্তর দেবে। এ নিয়ে কে কী বলেছে  আমরা তার একবিন্দু পরোয়া করি না। তাদের কথা সত্য কি সত্য নয় তাতে কী এসে যায়? সেই আবিস্কারটা তোমার ওপরেই নির্ভর করে। আমি বলতে পারি কোনো উদ্দেশ্য নেই, এবং যদি কোনো উদ্দেশ্য থেকেই থাকে, সেটা আমাদের জানার কোনো উপায় নেই। আমাদের যা বলা হয়েছে আমরা শুধু সেটাই আওড়াতে থাকি। আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে যে একটা উদ্দেশ্য আছে, এবং ঐ বিশ্বাসটাই মানবজাতির আজকের দুর্গতির জন্যে দায়ী। আমাদের এও বিশ্বাস করানো হয়েছে যে এই গ্রহের অন্য সকল প্রজাতির থেকে মহত্তর, শ্রেষ্ঠতর উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের বলা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে সৃষ্ট: সেইজন্যেই আমরা এইসমস্ত সমস্যা─প্রতিবেশগত সমস্যা, দূষণের সমস্যা সৃষ্টি করেছি। এখন আমরা প্রায় এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমরা নিজেদেরকেই উড়িয়ে দিতে চলেছি। গ্রহ কোনো বিপদে নেই, বিপদে রয়েছি আমরা। তুমি এই গ্রহটাকে দূষিত করতে পারো, সবই করতে পারো; কিন্তু এই গ্রহ সবকিছুই শোষণ করে নিতে সক্ষম, এমনকি এইসমস্ত মনুষ্যদেহও। আমরা যদি ধ্বংস হয়ে যাই, এই মনুষ্যদেহ নিয়ে কী করতে হবে সেটা প্রকৃতি জানে। মহাবিশ্বের শক্তি সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে সে-সবই সে রিসাইকেল করে নেবে। সেখানেই তার একমাত্র আগ্রহ। কাজেই এই গ্রহের কোনো কিছুর থেকে বেশি উদ্দেশ্যপূর্ণ বা অর্থপূর্ণ আমরা নই। ঐ পিঁপড়াটা বা তোমার চারপাশে চক্কর-দেওয়া মাছিটা, বা যে মশাটা তোমার রক্ত শুষে নিচ্ছে, তার থেকে কোনো মহত্তর উদ্দেশ্যে আমরা সৃষ্ট হই নাই। আমি এইসব বলতেই পারি কিন্তু তোমার কী বলার আছে? আমি যা বলবো তার থেকে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলেই কিছু জানি না। আমাদের কোনো কিছুই জানার উপায় নেই। বিজ্ঞানীরাও তাঁদের যা-খুশি বলতে পারেন। তাতে আমাদের কী এসে যায়? কীভাবে এই সমগ্র মহাবিশ্বটা সৃষ্টি হয়েছিল─ঈশ্বরই এটা সৃষ্টি করেছিলেন, নাকি কোনো ধুলোবালি বা হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে সমস্ত জিনিসটা বেরিয়ে এলো সেটা সত্যিই কোনো ব্যাপার নয়। এইসমস্ত জিনিস নিয়ে কথা বলার দায়িত্বটা বিজ্ঞানীদের এবং তাঁরা হরদম নতুন নতুন সব তত্ত্ব দিতে থাকবেন। তাঁদেরকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত করা হবে, নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু তত্ত্বগুলি কোনো কিছুই বুঝতে আমাদের সহায়ক হবে না। তো আমি সত্যিই জানি না কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা। আমার মনে হয় না কোনো উদ্দেশ্য আছে। আমি জীবনের কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ দেখি না। একটা জীবন্ত জিনিস, একটা জীবন্ত প্রাণী, ‘‘জীবনের উদ্দেশ্য কী?’’ ‘‘জীবনের অর্থ কী?’’ এইসব প্রশ্ন করায় আগ্রহী নয়।

সম্পূর্ণ…»

জুল
09

পাঁচটি কবিতা

সুবীর সরকার

ঘুঙুর

যে কোনো রাস্তায় যাও দেখবে
মরণপণ লড়াই। নদীর ধারে কুড়িয়ে
পাওয়া পাথর নদীতেই ছুঁড়ে দিচ্ছি
রাত জাগি,টোকা মেরে শীত সরাই
সেতুতে ওঠার আগে অবস্থান বদল
আর ভ্রু-সন্ধির ঘাম ঘুমের ভিতর
আর ঘুঙুরের মতো বাজছে বিদ্রুপের
সিটি। কিছু কলঙ্ক লেপে দাও, নিচু হয়ে
কুড়োই।

 

গৌরচন্দ্রিকা

রক্ত ডানা মেলে উড়ছে। ডানা জেটপ্লেন। ডানা
ছায়া ফেলে জেলা হাসপাতালের ওপর। আর
ফাটাফাটি রাস্তা। গ্রন্থাগার আগলে রাখে
বাঁশবাগান। আর সেনাঘাঁটি ডিঙোলেই বাতিঘর।
জলকলস।
বরং রে রে করে তেড়ে আসুক রোদ
বরং গৌরচন্দ্রিকা শেষ এবার ঘটনায় ঢুকি
আর পাখিপ্রকল্পের মুখোমুখি বধূবরণের গেট

 

সম্পূর্ণ…»

জুল
08

সাহিত্য সংবাদ: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট বিশ্ববাসীর গৌরব

অনাদি নিমগ্ন, কানাডা থেকে: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট বিশ্ববাসীর গৌরব। কারণ শুধু ভাষা সংরক্ষণের জন্য নয়, এই ইন্সটিটিউট নৃত্বাত্তিক ভাবেও গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গত ২ জুন টরন্টোর ড্যানফোর্থস্থ বাঙালিপাড়া অন্যমেলা কার্যালয়ে শিক্ষা সচিব কবি কামাল চৌধুরী এ কথা বলেন। কানাডায় শিক্ষা বিষয়ক সফরের ফাঁকে তিনি স্থানীয় লেখক-সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় কালে বাংলাদেশের শিক্ষা-সংকৃতি-সাহিত্যর চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব কবি শাহজাদী আঞ্জুমান আরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কথাশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কবি মাসুদ খান, কবি মেহরাব রহমান, সাদী আহমেদ, ড. জহির, ড. বাদশাহ আলম প্রমুখ। এ বছর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরষ্কার পাওয়ার জন্য কবি কামাল চৌধুরীকে অভিনন্দন জানানো হয়। পরিশেষে কাব্যসন্ধ্যায় সফররত দুই কবি তাঁদের স্বরচিত কবিতা পড়ে শোনান।

সম্পূর্ণ…»

জুল
02

কবিতা:গরম জামা

শামীম আজাদ

নদী ও নক্ষত্র পেঁচিয়ে
পাথর কাঠিতে উন্মাদের মতো উল বুনে চলেছি
নখ থেকে নকশা উঠে আসছে নতুন নতুন
স্তবকে স্তবকে পড়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার, মনপোড়া নদী,
টিপাইমুখ, শৈশবের ফেনী ও ফণিকাকা,
জয়দা জামালপুর, পাড়ভাঙা মনু নদীর মাটি ও সজিনার ঘ্রাণ।

উগল মাছের মতো ঘাই মেরে উঠছে ফ্যাশন হাউস,
মেকাপ ও মসজিদ, হাই রাইজ এপার্টমেন্ট সহ
বাতিলযোগ্য বর্জ্যময় ঢাকা।

আমি ঘর তুলছি তুলাদণ্ডে মেপে
আমি ঘর ফেলছি ফুটো আর ফাঙ্গাস দেখে
নীট এ্যান্ড পার্ল… নীট এ্যান্ড পার্ল…

উলের গোলার সাথে গড়িয়ে যাচ্ছে
বেড়িবাঁধ থেকে জলের মঞ্চে লাফিয়ে পড়া
নগ্ন কালো শিশু কিলবিল
আমার আঙুলের আহম্মক টানে পড়ে যাচ্ছে এ্যাসিড দগ্ধ নারীরা
আর উঠে আসছে বিদ্যুতসংকট, অসহ্য সাংসদ,

সম্পূর্ণ…»

জুল
02

পাচটি কবিতা

স্নেহাশিস পাল

গুপ্ত

 

মধুভ্রমরের তুলিতে পদ্মদিঘি কেঁপে-কেঁপে ওঠে।

কোনও এক আরব-নর্তকীর নেশাতুর মুদ্রার মতো -

কিঞ্চিত ঘাসে ঢাকা – ভাঙা পাড়ের সরু রাস্তাটা
রূপকথা-রঙা ভোরের পেটে ঢুকে গেছে …

তাল-বট-কৃষ্ণচূড়া-ছাতিম-শিরীষ-অর্জুন : মোহমুগ্ধ দর্শক;

থ হয়ে দাঁড়িয়ে,

চোখে রাত-জাগার অমৃতক্লান্তি

একটু দূরেই মীরার মন্দির, তার নিবিড় চূড়ায় পড়েছে

তোমার অভিমান মেশানো সোনা-ঝরা অশ্রুর মতো

               আলতো রোদ …

  সম্পূর্ণ…»