ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫ ।। ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬
তোমার বাস্তবতা তোমারই উদ্ভাবন
বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব
সাক্ষাৎকারগ্রাহক: সবসময়ই শুনে এসেছি সৃষ্টিতে মানবজাতির একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু তোমার গ্রন্থগুলি পড়ার পর থেকে ভাবছি সেটা আদৌ সত্য কিনা।
ইউ.জী: তুমিই ওই প্রশ্নের উত্তর দেবে। এ নিয়ে কে কী বলেছে আমরা তার একবিন্দু পরোয়া করি না। তাদের কথা সত্য কি সত্য নয় তাতে কী এসে যায়? সেই আবিস্কারটা তোমার ওপরেই নির্ভর করে। আমি বলতে পারি কোনো উদ্দেশ্য নেই, এবং যদি কোনো উদ্দেশ্য থেকেই থাকে, সেটা আমাদের জানার কোনো উপায় নেই। আমাদের যা বলা হয়েছে আমরা শুধু সেটাই আওড়াতে থাকি। আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে যে একটা উদ্দেশ্য আছে, এবং ঐ বিশ্বাসটাই মানবজাতির আজকের দুর্গতির জন্যে দায়ী। আমাদের এও বিশ্বাস করানো হয়েছে যে এই গ্রহের অন্য সকল প্রজাতির থেকে মহত্তর, শ্রেষ্ঠতর উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের বলা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে সৃষ্ট: সেইজন্যেই আমরা এইসমস্ত সমস্যা─প্রতিবেশগত সমস্যা, দূষণের সমস্যা সৃষ্টি করেছি। এখন আমরা প্রায় এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমরা নিজেদেরকেই উড়িয়ে দিতে চলেছি। গ্রহ কোনো বিপদে নেই, বিপদে রয়েছি আমরা। তুমি এই গ্রহটাকে দূষিত করতে পারো, সবই করতে পারো; কিন্তু এই গ্রহ সবকিছুই শোষণ করে নিতে সক্ষম, এমনকি এইসমস্ত মনুষ্যদেহও। আমরা যদি ধ্বংস হয়ে যাই, এই মনুষ্যদেহ নিয়ে কী করতে হবে সেটা প্রকৃতি জানে। মহাবিশ্বের শক্তি সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে সে-সবই সে রিসাইকেল করে নেবে। সেখানেই তার একমাত্র আগ্রহ। কাজেই এই গ্রহের কোনো কিছুর থেকে বেশি উদ্দেশ্যপূর্ণ বা অর্থপূর্ণ আমরা নই। ঐ পিঁপড়াটা বা তোমার চারপাশে চক্কর-দেওয়া মাছিটা, বা যে মশাটা তোমার রক্ত শুষে নিচ্ছে, তার থেকে কোনো মহত্তর উদ্দেশ্যে আমরা সৃষ্ট হই নাই। আমি এইসব বলতেই পারি কিন্তু তোমার কী বলার আছে? আমি যা বলবো তার থেকে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলেই কিছু জানি না। আমাদের কোনো কিছুই জানার উপায় নেই। বিজ্ঞানীরাও তাঁদের যা-খুশি বলতে পারেন। তাতে আমাদের কী এসে যায়? কীভাবে এই সমগ্র মহাবিশ্বটা সৃষ্টি হয়েছিল─ঈশ্বরই এটা সৃষ্টি করেছিলেন, নাকি কোনো ধুলোবালি বা হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে সমস্ত জিনিসটা বেরিয়ে এলো সেটা সত্যিই কোনো ব্যাপার নয়। এইসমস্ত জিনিস নিয়ে কথা বলার দায়িত্বটা বিজ্ঞানীদের এবং তাঁরা হরদম নতুন নতুন সব তত্ত্ব দিতে থাকবেন। তাঁদেরকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত করা হবে, নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু তত্ত্বগুলি কোনো কিছুই বুঝতে আমাদের সহায়ক হবে না। তো আমি সত্যিই জানি না কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা। আমার মনে হয় না কোনো উদ্দেশ্য আছে। আমি জীবনের কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ দেখি না। একটা জীবন্ত জিনিস, একটা জীবন্ত প্রাণী, ‘‘জীবনের উদ্দেশ্য কী?’’ ‘‘জীবনের অর্থ কী?’’ এইসব প্রশ্ন করায় আগ্রহী নয়।
সম্পূর্ণ…»