গদ্য: অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্রের অগ্নিকন্যা মায়া ডেরেন


ফেরদৌস নাহার

বিংশ শতাব্দী। যুদ্ধ- মহাযুদ্ধ, বিগ্রহ- বিপ্লব, বাদ- প্রতিবাদ সবকিছু নিয়ে পুরো শতাব্দী ধরে ঘটে যাওয়া এক একটি ঘটনা মানব সভ্যতার ইতিহাসকে উলট-পালট করে দিয়ে গেছে। তারই মাঝে মানুষ বেঁচে থেকেছে, জেগে উঠেছে বার বার। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, সৃষ্ট-নির্মাণ কোনো কিছুই থেমে থাকেনি। আমি যখন মুগ্ধ বিস্ময়ে অবলোকন করি- দেখি, এরই মাঝে জন্ম নিয়েছে এক একটি জীবন্ত কিংবদন্তির তুল্য চরিত্র ও ঘটনা। তখন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি,ভাবি- কী করে সম্ভব এই অসম্ভবকে অর্জন  করে নিজের মতো ইতিহাস রচনা করা? এইসব ভাবনায় যারা আমাকে দোলায় তাদেরই একজন মায়া ডেরেন।

স্বাধীন সার্বভৌম মৌলিক অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র নির্মাতা মায়া ডেরেন। অ্যাভেন-গার্ড শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ গতানুগতিক ভিড় থেকে এগিয়ে থাকা, মানে— নিজের সময় থেকে এগিয়ে থাকা। অ্যাভেন-গার্ড ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতারা নিরীক্ষামূলক নতুন চিন্তা, ধারা, টেকনিক ও ভাব নিয়ে নির্মাণ করেন তাদের চলচ্চিত্র। সেই বিকল্প ধারার নিরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে লিজেন্ড এবং প্রতীক ব্যক্তিত্ব হিসাবে প্রমাণ করে গিয়েছেন।  জীবদ্দশায় সাতটি পূর্ণাঙ্গ ও পাঁচটি অসমাপ্ত অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে হয়ে আছেন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রের অন্যতম অগ্রদূত। মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পরও এই একবিংশ শতকে এসে মায়া ডেরেন সমানভাবে আলোচিত হন এক্সপেরিমেন্টাল চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল ও সাহসী কণ্ঠস্বর হিসাবে।

বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ ও পঞ্চাশ দশকে আমেরিকার ‘নিউ আমেরিকান সিনেমা’র প্রচার ও প্রসারে অন্যতম প্রাণ-প্রতিম মায়া ডেরেন কেবল চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না, ছিলেন এই বিষয়ে তাত্ত্বিক-চিন্তাবিদ ও প্রচারক। এছাড়া একাধারে ছিলেন কোরিওগ্রাফার, নৃত্যশিল্পী, কবি, লেখক, অভিনেত্রী ও আলোকচিত্রী। বিশাল প্রতিভার ভারে প্রভাবিত সৃষ্টিশীল এই নারীর অন্তর্জগৎ যে আর দশজন থেকে ব্যতিক্রম হবে এতো অবিসংবাদিত সত্য। আর তাই ব্যক্তিগতভাবে তার জীবনকেও মনে হয় অ্যাভেন-গার্ড অর্থাৎ তার সময় থেকে এগিয়ে থাকা প্রথাবিরোধী এক নারীর জীবন-গাথা।

মায়া ডেরেন জন্ম নিয়ে ছিলেন রাশিয়া বিপ্লবের বছর ১৯১৭-র ২৯ এপ্রিল, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। জন্মের পর নাম রাখা হলো সেসময়ের ইতালির প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী এলিয়ানোরা ডুসের নামে নাম মিলিয়ে- এলিয়ানোরা ডেরেনকোস্কি। মা মারিয়া ডেরেনকোস্কি ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী, বাবা সোলমোন ডেরেনকোস্কি একজন মনঃচিকিৎসক। রাশিয়া বিপ্লবের পরে, ১৯২২-এ ডেরেনকোস্কি পরিবার ইহুদি বিরোধী হুমকি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর নানাবিধ রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক অনিশ্চয়তার কারণ শুরু হয়ে যাওয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ানের ইউক্রেনের কিয়েভ শহর ত্যাগ করে একেবারে আমেরিকার নিউইয়র্কে চলে যান। আমেরিকায় এসে ‘ডেরেনকোস্কি’ নাম সংক্ষিপ্ত করে ‘ডেরেন’ পদবী গ্রহণ করলেন। ১৯২৮-এ আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। ইতোমধ্যে পরিবারে ভাঙন নেমে এসেছে, মা-বাবার মাঝে বিচ্ছেদ এসে দাঁড়াল। পরবর্তীতে কিশোরী মায়াকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় লিগ অব ন্যাশনের ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়তে পাঠানো হলো, সেখানে তিনি ১৯৩০-৩৩ পর্যন্ত অবস্থান করেন। সেসময় মা মারিয়া ডেরেন প্যারিসে ভাষা-সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনায় নিয়োজিত, বাবা সোলমোন ডেরেন নিউ ইয়র্কে মনঃচিকিৎসক হিসাবে প্রাকটিস করছেন, আর কন্যা মায়া ডেরেন জেনেভায় স্কুলে পড়া-লেখায় নিয়োজিত। বলতে গেলে কিয়েভ থেকে আসার কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো পরিবারটি একেবারে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

মায়া ডেরেন জেনেভা থেকে ফিরে এসে নিউ ইয়র্কের সাইরাকুস বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াকালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ানের তাত্ত্বিক নেতা ত্রত্‌স্কি’র ‘ইয়ং পিপলস সোশালিস্ট লিগ’-এর সক্রিয় কর্মী হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেখানেই পরিচয় হয় গ্রেগরি ব্রেডেকের সঙ্গে, আঠার বছর বয়সে গ্রেগরির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাইরাকুস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার নিয়ে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন, সেখানে আন্ডার গ্রাজুয়েশন করলেন। সেসময় মায়া ও তার স্বামী গ্রেগরি নিউইয়র্ক সিটিতেই বসবাস করতেন। সেখানে তারা দুজন নানা রকমের সোশালিস্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৩৯-এ ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্য ও প্রতীকী কবিতা বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওই বছরেই স্বামী গ্রেগরি ব্রেডেকের সঙ্গে মায়া’র বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজ থাকাকালীন সময় থেকেই ফটোগ্রাফি ও ফিল্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এছাড়া নিউইয়র্কের কবি, লেখক, শিল্পী, চিত্রকর, অভিনেতা, ভবঘুরে, বোহেমিয়ান সবার প্রিয় ও আপন স্থান গ্রিনিচ ভিলেজেও নিয়মিত যাওয়া আসা করতেন।

১৯৪১ সালে বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ও নৃতত্ত্ববিদ ক্যাথরিন ডানহ্যামের ব্যক্তিগত সচিব হয়ে যোগদান করেন। ডানহ্যাম আফ্রো-আমেরিকান নাচের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার সঙ্গে কাজ করায় মায়া ডেরেনের কেরিয়ারে সত্যিকারের নতুন মাত্রা যোগ হয়, যার অন্বেষণ করছিলেন তিনি। ক্যাথরিন ডানহ্যাম তাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেন। এই নাচের কোম্পানিতে কাজ করে মায়া অনুপ্রেরণা লাভ করলেন, ভ্রমণের উত্তেজনা ও আনন্দ পেলেন, পেলেন সৃষ্টিশীল কাজের প্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস। সেখানে থাকতেই তিনি লেখালিখি শুরু করেন। পত্র-পত্রিকায় আর্টিকেল, ছোটগল্প, কবিতা এবং নানা রকমের নিবন্ধ লিখে হাত পাকাতে থাকেন। কোরিওগ্রাফার ক্যাথরিন ডানহ্যামের নাচের কোম্পানি আমেরিকার নানা স্থানে প্রদর্শনী ভ্রমণ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য লস এঞ্জেলের হলিউডের এসে থিতু হলো। এখানেই পরিচয় হলো চেকোস্লোভাকিয়ান সেলিব্রেটি চলচ্চিত্র নির্মাতা, ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরাম্যান আলেকজান্ডার হ্যাকেনস্মিথের সঙ্গে। দ্বিতীয় মহা-যুদ্ধকালে হিটলারের আগ্রাসনের কারণে হ্যাকেনস্মিথ চেকোস্লোভাকিয়া থেকে আমেরিকায় পালিয়ে এসে হলিউডে কাজ শুরু করেছেন। আলেকজান্ডার হ্যাকেনস্মিথও মায়া ডেরেনের জীবনে বিশেষ প্রভাব রেখেছেন। ১৯৪২ তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। পরবর্তীতের মায়া’র অনুরোধে আলেকজান্ডার তার নাম ‘হ্যাকেনস্মিথ’ পরিবর্তন করে ‘হাম্মিদ’ গ্রহণ করলেন। মায়া মনে করতেন  ‘হ্যাকেনস্মিথ’ নামটি শুনতে বড়ো বেশি ইহুদি ইহুদি। ধারণা করা হয় সেসময়ই আলেকজান্ডার হাম্মিদের প্রস্তাবে মায়া ডেরেনও তার নামের প্রথম অংশ ‘এলিয়ানোরা’ বদলে প্রাচ্যের সংস্কৃত ভাষার শব্দ ‘মায়া’ রাখেন, যা কিনা ঐতিহাসিকভাবে বুদ্ধদেবের মায়ের নাম ও গ্রিক দেবতা হারমিসের মা— মায়া’র নাম অনুসারে রাখা। এছাড়া ভারতীয় শাস্ত্রে মায়া শব্দের অর্থ বাস্তবের রহস্যময় রূপ বা মোহের আকর্ষণ। সব মিলিয়ে এই নামটি তিনি সানন্দে গ্রহণ করলেন।

বাবা সোলমোন ডেরেনের মৃত্যুর পর সম্পত্তির কিছু প্রাপ্তি থেকে একটি ১৬ মিমি-এর বোলেক্স ক্যামেরা কিনলেন। তাই দিয়ে ১৯৪৩ সালে তৈরি করলেন তার প্রথম এবং সবচাইতে আলোচিত চলচ্চিত্র, চৌদ্দ মিনিটের সাদাকালো মিশেস অব দ্যা আফটারন্যুন । এতে তিনি ও আলেকজান্ডার হাম্মিদ একসঙ্গে কাজ করেন। আমেরিকার অ্যাভেন-গার্ড ফিল্মের ইতিহাসে এই ছবিকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিনিধিত্বমূলক চলচ্চিত্র হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। যার গল্প ও ফটোগ্রাফি প্রথাগত সকল ধারাকে যেভাবে ভেঙ্গে দিয়েছে, তাতে করে মায়া ডেরেনের ফিল্ম সংক্রান্ত অন্তর্গত শক্তি বেরিয়ে এসেছে প্রবল দাপটে। পাশাপাশি আলেকজান্ডার হাম্মিদের মেধাবী ফটোগ্রাফির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া ইউরোপিয়ান অনুভবের গভীরতা  ছবির বিন্যাসকে সুসংগঠিত করে তুলেছে। এই ছবির দুটি মূল চরিত্রে মায়া ও হাম্মিদ নিজেরাই অভিনয় করেছেন। মূলত এটি একটি নির্বাক চলচ্চিত্র, কোনো সংলাপ ব্যবহার করা হয়নি। তবে, ১৯৫৯ সালে এই ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করা হয়, যার পরিচালনা করেন মায়া ডেরেনের তৃতীয় স্বামী জাপানিজ মিউজিসিয়ান তেইজি ইতো। মিশেস অব দ্যা আফটারন্যুন  আমেরিকার এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমার ইতিহাসে ল্যান্ডমার্ক হয়ে আছে এর বুদ্ধিদীপ্ত ফর্ম, কনটেন্ট এবং টেকনিকের জন্য।

১৯৪৩-এ দাদাইজম ও স্যুরিয়ালিজম আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ফ্রেন্স-আমেরিকান ভাস্কর, চিত্রকর ও চলচ্চিত্রকার মার্সেল ডুক্যাম্পের সঙ্গে দ্য উইচেস ক্রেডেল নামে ছবির কাজ শুরু করেন, প্রায় তেরো মিনিটের মতো কাজও করেন তারা। কিন্তু ছবিটি কখনোই আর শেষ করা হলো না। সেসময় যারা মায়া ডেরেনের বন্ধু-স্থানীয় ছিলেন যারা তারা প্রত্যেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল। মার্সেল ডুক্যাম্প ছাড়াও ছিলেন এ্যান্ড্রি ব্রেটন, যিনি ছিলেন কবি, লেখক ও স্যুরিয়ালিস্ট তাত্ত্বিক। জন চেজ ছিলেন একাধারে মিউজিক কম্পোজার, দার্শনিক, কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর। অ্যানিস নিন ছিলেন বিখ্যাত লেখিকা। তাদের সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগ অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এদের প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র নির্মাতা মায়া ডেরেনের সৃষ্টিকে সমৃদ্ধ ও সমর্থন করেছে নানাভাবে।

তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র এ্যাট ল্যান্ড। যা তিনি নির্মাণ করেন ১৯৪৪-এ। পনেরো মিনিটের এই নির্বাক এবং সাদাকালো ছবিতে মায়া ডেরেন নিজেকে বিভিন্ন ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। সচেতনভাবে সমুদ্রের জোয়ারে ভেসেছেন, পাথরের পাহাড়ে ক্রলিং করেছেন, একাকী পথ হেঁটেছেন, কখনোবা কোনো পুরুষের সঙ্গে যে আবার প্রতিবার চেহারা বদল করে ফেলে। নারীর আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম ও কঠিনতাকে তুলে এনেছেন এই ছবিতে। এতে অভিনয় ও কারিগরি ব্যবস্থায় জড়িত ছিলেন মিউজিক কম্পোজার জন কেজ, কবি ও চিত্র-সমালোচক পার্কার টেলার, হিলা হেইমেন ও আলেকজান্ডার হাম্মিদসহ মায়া ডেরেন নিজেই।
১৯৪৫-এ তৈরি করেন তিন মিনিটের এ্য স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর সিনেমা । এতে সহপরিচালক হিসাবে মায়া’র সঙ্গে কাজ করেন আমেরিকার বিখ্যাত আফ্রো-আমেরিকান কোরিওগ্রাফার, কম্পোজার, নৃত্য-পরিচালক ও শিল্পী টালি বিটি। মাত্র তিন মিনিটের নির্বাক ও সাদাকালো এই চলচ্চিত্রে নৃত্যশিল্পী টালি বিটির অনিন্দ্য সুন্দর কোরিওগ্রাফি ও শৈল্পিক মুদ্রাগুলো প্রকৃতির সংস্পর্শে যে সুনিপুণ মোহময় ব্যঞ্জনা তৈরি করেছে তা অনবদ্য শিল্পরূপ থেকে চিরন্তন হয়ে বেঁচে আছে।

১৯৪৬—মায়া ডেরেনের ব্যস্ততম বছরের একটি। তিনি তার চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনী করার জন্য প্লে-হাউজ ভাড়া করলেন। তার তিনটে চলচ্চিত্র: ১। মিশেস অব দ্যা আফটারন্যুন, ২। এ্যাট ল্যান্ড  ও  ৩। এ্য স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর সিনেমা,  প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করলেন। প্রখ্যাত ফরাসি কবি গীয়ম এ্যাপোলিনারের কবিতার ছায়া অবলম্বনে এই প্রদর্শনীর নামকরণ করলেন ‘থ্রি এ্যাবান্‌ডেন্ড ফিল্মস’। সাড়া পড়ে গেল বিদগ্ধ মহলে। উৎসুক দর্শক ও সুধীজনে ভরে উঠলো প্রায় প্রতিসন্ধ্যা। প্রদর্শনী চললো বেশ অনেকদিন পর্যন্ত এবং দর্শকদের আগ্রহ ও আকর্ষণের নতুন মাত্রায় নতুন পথযাত্রায় পাড়ি জমাল অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র। এই বছরই প্রকাশিত হলো তার চলচ্চিত্র বিষয়ক বই ‘অ্যান অ্যানাগ্রাম অব আইডিয়াস অন আর্ট, ফর্ম এ্যান্ড ফিল্ম’। এই প্রকাশনার জন্য (মায়া ডেরেন) প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে ‘ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ক ইন দ্যা ফিল্ড অব মোশন পিকচার’ সম্মানে সম্মানিত ‘গুগেনহেইম’ ফেলোশিপ অর্জন করেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য হাইতিতে অবস্থান করে ব্যক্তিগত আগ্রহের বুদো রিচ্যুয়াল কালচার ও হাইতি নাচ নিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হলেন।

পনেরো মিনিটের সাদাকালো নির্বাক চলচ্চিত্র রিচ্যুয়াল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম তৈরি করেন ১৯৪৬ এ । তথাগত প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে বিবর্তনের নতুন ধারা, যাতে কিনা প্রকাশিত হয় বাতিলকৃত হবার ভয় ও একই সঙ্গে পরিত্যক্ত গতানুগতিকতার মাঝে বিপুল মুক্তির আস্বাদন। নারীর মনোজগৎ ও যৌনতার গভীর প্রকাশ এই ছবির অন্তর্গত চেতনা। এখানে চল্লিশ দশকের প্রসিদ্ধ হলিউড নৃত্যশিল্পী রিটা ক্রেস্টিনি ও লেখিকা অ্যানিস নিন অভিনয় করেছেন। ক্যামেরা চালিয়েছেন হিলা হেইম্যান। কোরিওগ্রাফির সাথে স্লো-মোশন ইফেক্ট মিশিয়ে দেয়া, নাচের ভঙ্গিতে অভিনয় করা ইত্যাদি স্থান পায়, পায় নতুন মাত্রা।
মায়া ডেরেন অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র নিয়ে একাধারে লিখেছেন, লেকচার স্ট্যাডি ডেমোনেস্ট্রেশন করেছেন। এক্সপেরিমেন্টাল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ছিলেন অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন সত্যিকারের সাহসী কণ্ঠস্বর। বিশেষ করে দ্বিতীয় মহা-যুদ্ধকালীন সময়ে তার উৎসাহব্যঞ্জক এই কর্মকাণ্ড অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বহুদূর। চলচ্চিত্রের মাঝে নতুন বিনির্মাণ এবং কৌশল প্রয়োগের অভিনবত্ব, নিরীক্ষামূলক নতুন চিন্তাভাবনা, কাঠামো, টেকনিক ও অভিপ্রকাশ দর্শকের চিন্তা জগৎকে ঝাঁকুনি দিয়েছে বার বার।

১৯৪৭ এ ক্যানস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মিশেস অব দ্যা আফটারন্যুন-এর জন্য তিনি প্রথম নারী পরিচালক ও এক্সপেরিমেন্টাল চলচ্চিত্র হিসাবে ‘গ্র্যান্ড প্রিক্স ইন্টারন্যাশনাল ফর এমেচার ফিল্ম’ পুরস্কার লাভ করেন। ওই বছরেই মায়া ও হাম্মিদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। ‘গুগেনহেইম’ ফেলোশিপ গ্রহণ করে তিনি হাইতি চলে গেলেন, যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী আট বছর চলচ্চিত্র থেকে তার মনোযোগ কিছুটা সরে গিয়ে হাইতির বুদো কালচার ও নাচের প্রতি নিবদ্ধ থাকে। যা কিনা তার ব্যক্তিজীবনেও ব্যাপক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
মেডিটেশন অব ভায়োলেন্স নির্মাণ করেন ১৯৪৮ সালে। চিনা-আমেরিকান অভিনেতা চিয়াও-লি চি’র অনবদ্য কোরিওগ্রাফি পারফরমেন্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় ভায়োলেন্স ও বিউটির মাঝে মূল পার্থক্যকে। দেখা যায় যে, ছবিটির মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে সমস্ত সিকোয়েন্সকে রি-উইন্ড করে আবারো প্রথম পর্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা কিনা অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র ধারায় একটি নতুন সংযোজন। বারো মিনিটের সাদাকালো এই চলচ্চিত্রে চাইনিজ বাঁশির সঙ্গে হাইতিয়ান ড্রামের মিশ্রণ করেছেন।

এরই মাঝে প্রেমে পড়লেন আমেরিকায় বসবাসরত ষোল বছর বয়সী জাপানিজ মিউজিসিয়ান তেইজি ইতো’র, তখন মায়া’র বয়স চৌত্রিশ। মায়া ডেরেন ক্রমশ তেইজির মেনটর ও প্রেম হয়ে উঠলেন। তারা নিউ ইয়র্কে একত্রে বসবাস শুরু করলেন এবং নিয়মিত হাইতিতে আসা-যাওয়া। পঞ্চাশ দশকের শেষাশেষি তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন,ক্রিয়েটিভ ফিল্ম ফাউন্ডেশন। ১৯৬০ সালে বিয়ে করলেন তরুণ মিউজিসিয়ান তেইজি ইতো-কে। তেইজি ইতোকে দিয়ে তিনি তার কয়েকটি চলচ্চিত্রের মিউজিক কম্পোজিশন করিয়েছেন সেসময়।

তিনি হাইতিতে গেছেন, থেকেছেন, সেখানকার মানুষকে নিয়ে কাজ করেছেন, আঠার হাজার ফুটেজেরও বেশি স্যুট করেছেন। কিন্তু তিনি তা এডিটিং করে যাননি। ধারণা করা হয় হাইতি নাচ এবং বুদো কালচার নিয়ে ব্যাপকভাবে নিবিষ্ট থাকার কারণেই হয়তো পরবর্তীতে ফুটেজগুলো নিয়ে সম্পাদনা করার সময় বা ইচ্ছে হয়ে ওঠেনি। তিনি হাইতিতে কেবল ফিল্ম নিয়েই থাকেননি, অজস্র সময় ব্যয় করেছেন সেখানকার মানুষের শিল্প, ধর্ম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে। এমনকি তার নিজস্ব এ্যাপার্টমেন্টেও নিয়মিত সম্পৃক্ত থেকেছেন হাইতির ধর্মীয় আচারমূলক নৃত্যচর্চ্চায়। সেই সব অভিজ্ঞতা থেকে রচনা করলেন হাইতি জীবন ভিত্তিক গ্রন্থ ‘ডিভাইন হর্সম্যান: দ্যা লিভিং গডস অব হাইতি’। ১৯৫৩তে বই আকারে প্রকাশিত হলো হাইতির উপরে লেখা এই গ্রন্থটি। যা কিনা এখন পর্যন্ত হাইতির সংস্কৃতি নিয়ে লেখা অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ গ্রন্থ হিসাবে পরিগণিত হয়।

মায়া ডেরেনের মৃত্যুর পর হাইতিতে স্যুট করা তার ফুটেজ সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কেউই কাজটি করতে সম্মত হননি। অবশেষে  ১৯৮১তে তার মৃত্যুর কুড়ি বছর পর আমৃত্যু সঙ্গী ও তৃতীয় স্বামী সঙ্গীতজ্ঞ তেইজি ইতো এবং ইতো’র পরবর্তী স্ত্রী শেরেল উইনেট হাইতিতে ধারণকৃত ফুটেজ থেকে ডিভাইন হর্সম্যান: দ্যা লিভিং গডস অব হাইতি নামেই সাউন্ড ট্রাকসহ ডকুমেন্টারিটি সম্পাদনা করলেন। প্রায় একঘণ্টা সময়ের সাদাকালো চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত মায়া ডেরেনের তোলা আঠারো হাজারেরও বেশি ফুটেজ নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কাজ করে ১৯৮৫তে সম্পাদনা সম্পূর্ণ করলেন তারা। উল্লেখ্য যে, এই চলচ্চিত্রের সম্পাদক ও মিউজিসিয়ান তেইজি ইতো অধিকাংশ ফুটেজ স্যুটের সময়ে হাইতিতে মায়া ডেরেনের সঙ্গে ছিলেন।

সে-বছরই আমেরিকান ফিল্ম ইনিস্টিটিউট ইন্ডিপেন্ডেট চলচ্চিত্র নির্মাতা  ক্যাটাগরিতে ‘মায়া ডেরেন’ এ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করে। এদিকে আমেরিকা তথা বিশ্ব-চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মায়া ডেরেনের কাজগুলো মাইল ফলক হয়ে আসন করে নিয়েছে। তার মূল কাজের বিষয়-আশয় যেমন, রেকর্ডিং, ফটোগ্রাফস, নোট, স্কেচ এবং তার অন্যান্য সংগ্রহ রয়েছে বোস্টন ইউনিভার্সিটির ‘হাওয়ার্ড গটলিব আরকাইভাল রিসার্চ সেন্টার’-এ। আর ফুটেজগুলো নিউ ইয়র্কের ‘অ্যানথলোজি ফিল্ম আর্কাইভ’-এ গচ্ছিত আছে।

তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র দ্যা ভেরি আই অব নাইট । ১৯৫৫তে নিউ ইয়র্কের ম্যনহাটনের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন অপেরা ব্যালেট স্কুল ও প্রখ্যাত ইংলিশ ব্যালেট কোরিওগ্রাফার অ্যান্টনি টুডোরের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেন। কিন্তু অর্থাভাবে মুক্তি দিতে দিতে ১৯৫৯। যেখানে মায়া ফটোগ্রাফিক পরিকল্পনা, পারফরমেন্স ও গাঁথুনি সবই নেগেটিভ মুডে ধারণ করেছেন। তিনি মনে করেছেন এই চলচ্চিত্রের মূল ভাব নেগেটিভ ইফেক্ট দাবি করে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে সৌর জগতের বিশলতার সঙ্গে প্রকৃতির নীরব পরিবর্তের ভারসাম্যগুলো নাচের বিভিন্ন মুদ্রায় প্রকাশিত করেছেন। পনেরো মিনিটের সাদাকালোর চলচ্চিত্রটির মিউজিক করেছেন তেইজি ইতো।

মায়া ডেরেন তার নিজের চলচ্চিত্রের ডিস্ট্রিবিউশন বা পরিবেশন নিজেই করেছেন। সারা আমেরিকা, কানাডা, কিউবায় ঘুরেছেন ফিল্ম নিয়ে, বক্তৃতা দিয়েছেন, দেখিয়েছেন। এভাবেই বিদগ্ধ দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তার সৃষ্টিগুলো। একহাতে লিখেছেন, পরিচালনা করেছেন, সম্পাদনা করেছেন, অভিনয় করেছেন, নিয়েছেন ব্যবসায়িক ঝুঁকি। তিনি একাধারে এক্সপেরিমেন্টাল চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তাত্ত্বিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পুরো চল্লিশ ও পঞ্চাশ দশক ধরে মায়া ডেরেন হলিউডকে আক্রমণ করেছেন আমেরিকার চলচ্চিত্রে শৈল্পিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য। হলিউডকে সরাসরি দোষারোপ করেছেন ক্রিয়েটিভ ফাইন-আর্ট চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্তরায় হিসাবে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, আমি আমার ছবি নির্মাণ করি সেই পরিমাণ বাজেটে, হলিউডে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয় একটি ছবির লিপস্টিক ক্রয়ের জন্য। আমেরিকার চলচ্চিত্রে হলিউডের মান ও প্রক্রিয়ার বিষয়ে সবসময় নিজেকে বিরোধী আসনে বসিয়েছেন। তথাগত চলচ্চিত্রের বাইরে দাঁড়িয়ে একজন স্বাধীন বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে সচেতন ভাবেই প্রাতিষ্ঠানিকতাকে এড়িয়ে চলেছেন। আগ্রহী দর্শকের জন্য তিনি তার চলচ্চিত্রগুলো নিজস্ব লিভিং রুমেও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন। মায়া ডেরেনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে উৎসাহিত করা এবং সেই সঙ্গে বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের সমর্থন ও আগ্রহ তৈরি করা। এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা ও পথিকৃৎ হিসাবে ছুটে বেড়িয়েছেন নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে।

১৯৬১ সালে মাত্র চৌচল্লিশ বছর বয়সে মারা যান মায়া ডেরেন। চূড়ান্ত ম্যাল-নিউট্রেশনের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত মৃত্যু বরণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে অচেতন ছিলেন, তারপর ১৩ অক্টোবর সব ছেড়ে চলে যান।

নিরীক্ষামূলক চেতনার আত্মপ্রকাশে উন্মুখ মায়া ডেরেনের মৃত্যুও তার সৃষ্টিশীল ও ব্যক্তিজীবনের মতোই বিচিত্র। ক্ষিপ্র আলোর মতো ছুটে চলা একজন মানুষ মাত্র চৌচল্লিশ বছরে সবকিছু চুকিয়ে দিয়ে সহসা চলে গেলেন,এ-মৃত্যুও যেন এক অ্যাভেন-গার্ড মৃত্যু, বিমূর্ত আলোছায়ার দোদুল্যমানতা দীর্ঘশ্বাস ছড়ায় মর্মমূলে। তার জীবন-মৃত্যু উভয়ই যেন সিনামাটিক গতিধারার কাব্যচিত্রায়ণ, যার আধখানা স্পষ্ট বোঝা যায়— বাকি আধখানা অনুভবের।

মৃত্যুর পর দাহকৃত দেহছাই নিয়ে জাপানের ফুজি পর্বতে ছড়িয়ে দেয়া হলো। মায়া ডেরেনের জীবনের শেষ সঙ্গী মিউজিসিয়ান তেইজি ইতো মনে করেছেন, তার মতো বহুমুখী প্রতিভায় সমুন্নত নারীর জন্য ফুজি পর্বতই হওয়া উচিত চির আশ্রয়স্থল। যে জীবনকে প্রবাহিত রেখেছিল নাচ, সঙ্গীত, কবিতা, লেখনী, অভিনয়, বুদো কালচার এবং অবশ্যই অ্যাভেন-গার্ড চলচ্চিত্রের জন্যে। যার সৃষ্টি ছিল একাধারে বিমূর্ত ও বাস্তবের যৌথ সংমিশ্রণ। একজন এক্সপেরিমেন্টাল চলচ্চিত্রকার হিসাবে সেখানেই তার অসাধারণত্ব, আর এমন অসাধারণের শেষ আশ্রয় হিসাবে ফুজি পর্বতই হতে পারে যথাযোগ্য ঠিকানা।

Facebook Comments

11 Comments:

  1. একেবারে নূতন কিছু পড়লাম।
    খুব ভাল লেগেছে।
    লেখককে অজস্র শুভেচ্ছা!

  2. ফেরদৌস নাহারকে কবি হিসাবেই জেনে এসেছি, জানতাম নাযে তিনি এমন নিরীক্ষাধর্মী গদ্যও লিখে থাকেন এবং তা শক্ত হাতে।
    এই গদ্যটি পড়ে চমকিত হলাম, অভিনন্দন তাকে। মায়া ডেরেনকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পরিচিত করিয়ে দেবার জন্য
    ধন্যবাদ জানাই। ভীষণ উৎসাহ বোধ করছি তার কাজগুলো দেখবার জন্য।

  3. ফেরদৌস নাহার, লেখার কেন্দ্র মায়া সম্পর্কে আমরা বাংলাদেশীরা খুব কম জানি। বড় নগর আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত গন্ডীতে সিনে ক্লাবগুলো কিছুটা জানে। তবে সেটাও ব্যাপক নয়। বড় মাপের যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন ৩০ এর পর আরম্ত হয়ে ৪০ দশকে তুমুল হয়, তাদের ভেতর আমি তারকভস্কি আর কিছু জাপানীর কথা জানি যারা রশোমন বানিয়েছিলেন। এটা ভূমিকম্পের মত এসে উলট পালট করে চলে যায়। পরে পুরানো ধাঁচেই লেখা চলে। সব চলে। বিকল্প পখ বড় ছোট কিন্তু অতি দরকারি। তোমার বর্ননার ভাষা বড় সুন্দর। এটা একান্ত তোমার। আমি অনেক উপকৃত হলাম।

  4. khub valo laglo…notun onek kichu janar sujog pelam.osonkho dhonnobad…

  5. নাজনীন খলিল

    সত্যিই একটি চমৎকার লেখা পড়লাম।
    অভিনন্দন কবি।

  6. Opurbo!!!

  7. অভিনন্দন কবি, নিরীক্ষাধর্মী সুন্দর একটি লেখার জন্য। বিনম্র সাধুবাদ।

  8. Sohel Rahman Rana

    কবি বলেই কী এমনি করে লিখতে পারেন কিংবা দেখতে পারেন চোখ বুঝে ভেতর টুকু !!!

  9. khub-i bhalo laglo…

  10. Dr. AKM Khairul Alam

    I enjoyed your writings. Its a simple but good to read.
    Thanks.
    Dr Alam

  11. I am inspired reading the life of Maya deren. Your writings is also uncommon. I am really glad having read this. Love.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *