ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৭


ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫ ।। ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬

 

তোমার বাস্তবতা তোমারই উদ্ভাবন

বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব

 

 

 

সাক্ষাৎকারগ্রাহক: সবসময়ই শুনে এসেছি সৃষ্টিতে মানবজাতির একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু তোমার গ্রন্থগুলি পড়ার পর থেকে ভাবছি সেটা আদৌ সত্য কিনা।

ইউ.জী: তুমিই ওই প্রশ্নের উত্তর দেবে। এ নিয়ে কে কী বলেছে  আমরা তার একবিন্দু পরোয়া করি না। তাদের কথা সত্য কি সত্য নয় তাতে কী এসে যায়? সেই আবিস্কারটা তোমার ওপরেই নির্ভর করে। আমি বলতে পারি কোনো উদ্দেশ্য নেই, এবং যদি কোনো উদ্দেশ্য থেকেই থাকে, সেটা আমাদের জানার কোনো উপায় নেই। আমাদের যা বলা হয়েছে আমরা শুধু সেটাই আওড়াতে থাকি। আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে যে একটা উদ্দেশ্য আছে, এবং ঐ বিশ্বাসটাই মানবজাতির আজকের দুর্গতির জন্যে দায়ী। আমাদের এও বিশ্বাস করানো হয়েছে যে এই গ্রহের অন্য সকল প্রজাতির থেকে মহত্তর, শ্রেষ্ঠতর উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের বলা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে সৃষ্ট: সেইজন্যেই আমরা এইসমস্ত সমস্যা─প্রতিবেশগত সমস্যা, দূষণের সমস্যা সৃষ্টি করেছি। এখন আমরা প্রায় এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমরা নিজেদেরকেই উড়িয়ে দিতে চলেছি। গ্রহ কোনো বিপদে নেই, বিপদে রয়েছি আমরা। তুমি এই গ্রহটাকে দূষিত করতে পারো, সবই করতে পারো; কিন্তু এই গ্রহ সবকিছুই শোষণ করে নিতে সক্ষম, এমনকি এইসমস্ত মনুষ্যদেহও। আমরা যদি ধ্বংস হয়ে যাই, এই মনুষ্যদেহ নিয়ে কী করতে হবে সেটা প্রকৃতি জানে। মহাবিশ্বের শক্তি সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে সে-সবই সে রিসাইকেল করে নেবে। সেখানেই তার একমাত্র আগ্রহ। কাজেই এই গ্রহের কোনো কিছুর থেকে বেশি উদ্দেশ্যপূর্ণ বা অর্থপূর্ণ আমরা নই। ঐ পিঁপড়াটা বা তোমার চারপাশে চক্কর-দেওয়া মাছিটা, বা যে মশাটা তোমার রক্ত শুষে নিচ্ছে, তার থেকে কোনো মহত্তর উদ্দেশ্যে আমরা সৃষ্ট হই নাই। আমি এইসব বলতেই পারি কিন্তু তোমার কী বলার আছে? আমি যা বলবো তার থেকে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলেই কিছু জানি না। আমাদের কোনো কিছুই জানার উপায় নেই। বিজ্ঞানীরাও তাঁদের যা-খুশি বলতে পারেন। তাতে আমাদের কী এসে যায়? কীভাবে এই সমগ্র মহাবিশ্বটা সৃষ্টি হয়েছিল─ঈশ্বরই এটা সৃষ্টি করেছিলেন, নাকি কোনো ধুলোবালি বা হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে সমস্ত জিনিসটা বেরিয়ে এলো সেটা সত্যিই কোনো ব্যাপার নয়। এইসমস্ত জিনিস নিয়ে কথা বলার দায়িত্বটা বিজ্ঞানীদের এবং তাঁরা হরদম নতুন নতুন সব তত্ত্ব দিতে থাকবেন। তাঁদেরকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত করা হবে, নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু তত্ত্বগুলি কোনো কিছুই বুঝতে আমাদের সহায়ক হবে না। তো আমি সত্যিই জানি না কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা। আমার মনে হয় না কোনো উদ্দেশ্য আছে। আমি জীবনের কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ দেখি না। একটা জীবন্ত জিনিস, একটা জীবন্ত প্রাণী, ‘‘জীবনের উদ্দেশ্য কী?’’ ‘‘জীবনের অর্থ কী?’’ এইসব প্রশ্ন করায় আগ্রহী নয়।

কেউ যদি নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয়?

আমাদের জীবনের নিত্যদিনের ঘানি টানায়, বারবার একই জিনিস করায় আমরা সুখী নই। আমরা তিতিবিরক্ত। ‘‘এর উদ্দেশ্য কী?’’ এই প্রশ্নটা করার জন্যে ওই একঘেয়েমিই দায়ী। মানুষ ভাবে এ-ই যদি সবকিছু হয়ে থাকে তাহলে তার আর কী কী করার আছে?

এইভাবেই সমস্যাটার সৃষ্টি হয়।

একটা সমস্যা সৃষ্টি করো, তারপর সেটা মীমাংসার চেষ্টা করো। আমরা সবাই সেটাই করছি। তোমার সমস্যা তুমি উপভোগ করো। অসুবিধা কী?

না।

উপভোগ করো ।

উপভোগ করবো?

তবে কোনো থেরাপিস্টের কাছে যেও না। কোনো মনোচিকিৎসকের কাছে যেও না…নাহ্!

তাহলে যাবটা কোথায়?

তিনি একশো ডলার নেবেন। এই দেশে চার্জ কত কে জানে! বোধহয় আরো বেশি। তাঁরা তোমাকে বলবেন কীভাবে নৈতিক মূল্যবোধে খাপ খাওয়াতে হয়, যে নৈতিক মূল্যবোধ আমাদের সংস্কৃতি বা সমাজের মাধ্যমেই সৃষ্ট। সেটাই আসলে মানুষের সমস্যা। প্রত্যেক বুদ্ধিমান নারীপুরুষের মৌলিক যে প্রশ্নটা নিজেকে করা উচিৎ, ‘‘এই গ্রহে আমি কী ধরনের মানুষ চাই?’’ দুর্ভাগ্যক্রমে, শত শত বৎসর ধরে মানুষের ধর্মভাবনা আমাদের সামনে নিখুঁত একটা মানুষের আদর্শ দাঁড় করিয়েছে। [আমাদের ভেতরের] সাংস্কৃতিক ইনপুটে প্রকৃতির কোনো আগ্রহ নেই। প্রত্যেককে এর নৈতিক মূল্যবোধে খাপ খাওয়ানোয় সমাজ বা সংস্কৃতির যে চাহিদা, যুদ্ধটা চলছে সেখানেই। সেটাই আসলে মানুষের দুর্ভোগের কারণ। এটা নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করা বা এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার প্রশ্ন নয়। এটা তোমার সংস্কৃতিসৃষ্ট ঐ কাঠামোর মধ্যে তোমার নিজেকে খাপ খাওয়ানোর অসম্ভবতা, যেটা আসলেই সমস্যা। আসল শত্রু  হলো চিন্তা। চিন্তা শুধু সমস্যার জন্ম দিতে পারে; সেসব মীমাংসা করতে পারে না।

লোকেরা বোরড…

তুমিও বোরড। বোরড না?

হ্যাঁ, আমিও বোরড।

…কারণ চিন্তা একটা পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া। বারবার এটা নিজেকে পুনরাবৃত্ত করে। এটা তোমাকে পরিশ্রান্ত করে দেয়।

তুমি বলছো একঘেয়ে বোধ করলেই আমরা এটা-সেটা উদ্ভাবন করি।

সবরকম জিনিস তুমি বানাতে থাকো।

জীবজন্তুরা কিন্তু একঘেয়ে বোধ করে না।

না, একটুও না।

মানুষ কেন একঘেয়ে বোধ করে?

কারণ মানুষ মনে করে সে যা করছে তার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়, বেশি অর্থপূর্ণ, বেশি উদ্দেশ্যপূর্ণ কিছু তার করার রয়েছে। মৌলিক চাহিদার বাইরে যেকোনো চাওয়াই মানুষের জন্যে এই একঘেয়েমির জন্ম দেবে। অথচ তোমার মনে হতেই থাকবে, ‘‘এই কি সব?’’

প্রকৃতি শুধু দুইটা ব্যাপারে আগ্রহী─টিকে থাকা এবং নিজের অনুরূপ বংশবিস্তার করা। যা-কিছু তুমি এর ওপরে বাড়তি চাপাও, সমস্ত সাংস্কৃতিক ইনপুট, সেটাই মানুষের একঘেয়েমির জন্যে দায়ী। সেইজন্যেই আমাদের নানারকম ধর্মীয় চর্চা। তুমি তোমার নিজের ধর্মীয় শিক্ষা বা খেলায় সন্তুষ্ট নও; তাই তুমি ভারত থেকে, এশিয়া বা চীন থেকে অন্যগুলো নিয়ে আসো। সেগুলো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যেহেতু সেগুলো নতুন কিছু। নতুন একটা ভাষা রপ্ত করে তুমি সেই ভাষায় কথা বলতে চাও এবং নিজেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে সেটা ব্যবহার করো। কিন্তু সেটা মূলত ওই একই জিনিস।

খ্রিষ্টধর্ম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের কথা বলে। কিন্তু বংশবিস্তারের জন্যে কোনো বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন নেই।

বংশবিস্তারের জন্যে কোনো বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন নেই। এই দেহটা, অসাধারণ এই জিনিসটা সৃষ্টি করে প্রকৃতি একটা বিস্ময়কর কাজ করেছে। সংস্কৃতি থেকে দেহ কিছুই শিখতে চাইছে না। আমাদের কাছ থেকে এটা কিছুই জানতে চাইছে না। সবসময়ই আমরা দেহকে কীভাবে ক্রিয়া করতে হবে সেটা বলতে আগ্রহী। আমাদের যত অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক বা যাই হোক, সেটাই আমাদের দুর্ভোগের মূল কারণ। দেহ তোমার স্বর্গ বা পরমানন্দে আগ্রহী নয়। এটা তোমার ভোগে আগ্রহী নয়। তোমার যাতে আগ্রহ তার কোনো কিছুতেই এর কোনো আগ্রহ নেই। এবং সেখানে সারাক্ষণ এই যুদ্ধটাই চলছে। কিন্তু কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না।

কিন্তু সবাই যদি আবার আদ্য দশায় ফিরে যেতে চায়…

আদ্য দশাটা কী?

আমি জানি না!

সেটা রয়েছেই। আদ্য দশায় ফিরে যেতে তোমাকে কিছুই করতে হবে না।

কীভাবে ওই মানসিক অবস্থায় যাওয়া যায়? আমরা বিশ্বাস করি ওই দশায় ফিরে যেতে আমাদের কিছু একটা করা দরকার।

তোমার ওই আদ্য দশায় ফিরে যেতে ‘কিছু একটা করা’ই তোমাকে সেটা থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। আদ্য দশাটা রয়েছেই এবং সেটা নিজেকে প্রকাশ করছে অসাধারণ ধীসম্পন্ন একটা উপায়ে। অর্জিত বুদ্ধি ওই ধীশক্তির সমকক্ষ নয়।

তবু কোনো কারণে আমরা সেটা বিশ্বাস করছি না…

তুমি বলছো, ‘‘কোনো কারণে,’’ সেটাই হলো সাংস্কৃতিক ইনপুট।

কোথাও আমরা আদ্য দশা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি।

…কারণ সংস্কৃতি বা সমাজ আমাদের সামনে একটা নিখুঁত মানুষের আদর্শ দাঁড় করিয়েছে। প্রকৃতি কোনো কিছু অনুকরণ করে না। কোনো কিছুই এটা মডেল হিসেবে ব্যবহার করে না।

তুমি তাহলে বলছো আদ্য দশায় পৌঁছুতে মানবজাতি যে পদ্ধতি বিকশিত করেছে সেটাই তাকে এর থেকে দূরে চালিত করেছে?

সেসবে কোনো কাজ হয় নাই, সেসব কোনো কিছু স্পর্শও করে নাই।

আমি তাতে একমত। কিন্তু তারপরও তুমি কি আমাদেরকে কোনো মডেল দিতে পারো না?

তোমার সামনে আরেকটা মডেল দাঁড় করিয়ে লাভ কী? সেটা ওই একই জিনিস হবে।

এইসব আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? [হাসি]

তুমি আসলে যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেইখানে, এবং সেইজন্যেই তুমি….

এইসমস্ত প্রশ্ন করাই কি আসলে ঠিক নয়?

এই কথা বোলো না। তোমার কোনো প্রশ্ন নেই, এবং আমার কোনো প্রশ্ন নেই। জরুরী প্রশ্নগুলো ছাড়া আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই। আমি এখানে রয়েছি এবং আমি এখানকার হালচালটা জানতে চাই। তাই আমি গিয়ে সেটা বুঝে নিই। জিজ্ঞেস করি, ‘‘এই স্টেশনটা কোথায়?’’ লণ্ডন যেতে চাইলে জিজ্ঞেস করি, ‘‘ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ অফিসটা কোথায়?’’ এই দুনিয়ায় সুস্থভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চলার জন্যে এইগুলিই হলো জরুরী প্রশ্ন। দুনিয়ার বাস্তবতা যেভাবে আমাদের ওপর আরোপিত সেভাবেই সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে। তা নইলে আমরা পাগল হয়ে যাবো। তোমার ওপর আরোপিত যেকোনো বাস্তবতা নিয়ে যদি তুমি প্রশ্ন তোলো তুমি বিপদে পড়বে, যেহেতু বাস্তবতা বলেই কিছু নেই, পরম বাস্তবতা তো দূরের কথা। তোমার কোনো কিছুরই বাস্তবতা বুঝার উপায় নেই।

বেশ, বাস্তবতা আমরাই উদ্ভাবন করেছি।

বাস্তবতা আমরাই উদ্ভাবন করেছি। এছাড়া তোমার কোনো কিছুর বাস্তবতা বুঝার উপায় নেই, যেমন ঐ যে লোকটা বসে আছে তার বাস্তবতা, বা এমনকি তোমার নিজের ভৌতদেহের বাস্তবতা। তোমার ভেতরে যে-জ্ঞান জমা রয়েছে তার সহায়তা ছাড়া তোমার সেটা বুঝার কোনো উপায় নেই। কাজেই বাস্তবতা বলেই হয়তো কিছু নেই, পরম বাস্তবতা তো দূরের কথা। তুমি যে একটা পুরুষ, সে যে একটা নারী, সেই সত্যিটা আমাদের মেনে নিতে হবে। এই হলো ব্যাপার। সেখানেই এর সমাপ্তি। কিন্তু তুমি কোন্ বাস্তবতার কথা বলছো?

অবশ্যই, সে যে একটা নারী তাতে আমরাই বাস্তবতা দিচ্ছি।

[হাসি] তুমি যদি তাতে প্রশ্ন তোলো, তুমি বিপদে পড়বে। তুমি তোমার নারীকে হারাবে এবং তোমার নারী হারাবে তোমাকে। [হাসি] তার জন্যে তুমি প্রস্তুত নও।

তাহলে জন্ম নেবার পর থেকে তোমাকে শিখতে হচ্ছে…

তুমি জন্মেছো তুমি নিশ্চিত তো? [হাসি] সেটা আসলে আমাদেরকে বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে; আর কিছুই না। [হাসি ] সেটা আমরা সত্যি বলে ধরে নিয়েছি।

সেটা আমরা সত্যি বলে ধরে নিয়েছি। একটা নির্দিষ্ট দিনে তোমার জন্ম হয়েছিলো এই সত্যটা আবিষ্কারের কোনো উপায় তোমার নেই। তুমি যা মানতে প্রস্তুত নও তা হলো─তুমি অবিকল কম্পিউটারের মতো একটা জিনিস। তুমি এতোটাই যান্ত্রিক। সবই সেখানে রাখা আছে। তোমার নিজস্ব বলতে পারো এমন কিছুই সেখানে নেই। নিজস্ব বলতে পারি এমন কোনো চিন্তা আমার নেই। যারা আমার সাথে দেখা করতে আসে তাদেরকে জোর দিয়ে আমি যেটা বলে থাকি, চিন্তা আদতে স্বতঃস্ফূর্ত নয়। স্বয়ম্ভু নয়। সবসময়ই সেটা আসে বাইরে থেকে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমাদের উপলব্ধি করা এবং বুঝা দরকার যে মস্তিষ্ক কোনো স্রষ্টা নয়। এটা নিজে থেকে কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। আমরা ধরেই নিয়েছি যে এটা একটা বিস্ময়কর কিছু, ─যা-কিছু নিয়ে আমরা খুব গর্বিত, সেরকম সব ধরনের জিনিস সেটা সৃষ্টি করে চলেছে। এটা আসলে একটা বিক্রিয়ক এবং ধারক। এই প্রাণীটির ক্ষেত্রে সেটা একটা খুবই গৌণ ভূমিকা পালন করে।

আমরা কিছুই সৃষ্টি করছি না….

তুমি কিছুই সৃষ্টি করছো না। মস্তিষ্ক শুধুই একটা কম্পিউটার। ট্রায়াল এ্যাণ্ড এরর প্রক্রিয়ায় তুমি কিছু সৃষ্টি করছো। কিন্তু সেখানে কোনো চিন্তা নেই। সেখানে কোনো চিন্তক নেই। চিন্তা কোথায়? তুমি কখনো শনাক্ত করার চেষ্টা করেছো? সেখানে যা রয়েছে সেটা শুধু চিন্তাবিষয়ক, কিন্তু চিন্তা নয়। কোনো চিন্তা থেকে নিজেকে পৃথক করে তুমি সেটার দিকে তাকাতে পারবে না। সেখানে যা আছে, তা হলো শুধু ওই চিন্তাবিষয়ক একটা চিন্তা, কিন্তু স্বয়ং চিন্তাকে তুমি দেখতে পাবে না। কিছু নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের জন্যে, কিছু নির্দিষ্ট জিনিস অর্জনের জন্যে, কিছু একটা হওয়ার জন্যে, তুমি প্রকৃতই যা, তা থেকে অন্যকিছু হওয়ার জন্যে─ তুমি ওইসব চিন্তা ব্যবহার করছো। আমি সবসময়ই একটা ওয়ার্ড-ফাইন্ডারের উদাহরণ দিই। তুমি একটা শব্দের অর্থ জানতে চেয়ে একটা বাটন টিপছো। ওয়ার্ড-ফাইন্ডার বলছে, ‘‘খুঁজছি।’’ সে এটা নিয়ে ভাবছে। সেখানে কোনো তথ্য জমা থাকলে, সে এটা দেবে। অবিকল এইভাবেই তুমি চিন্তা করছো। তুমি একটা প্রশ্ন করছো এবং সেখানে কোনো উত্তর থাকলে সেটা বেরিয়ে আসছে। সেখানে কোনো উত্তর না থাকলে, মস্তিষ্ক বলবে, ‘‘দুঃখিত।’’ একটা কম্পিউটারের সাথে এর কোনো পার্থক্য নেই।

তুমি বলছিলে শুধু আশপাশটা বুঝার জন্যে তুমি ঘুরতে বেরিয়েছিলে।

আমার চারপাশের হালচালটা বুঝতে, যাতে আমি এখানে হারিয়ে না যাই। একটা কুকুরও তাই করে। আমি একটা কুকুর থেকে ভিন্ন কিছু নই। একটা কুকুর তার বাড়ি ফেরার রাস্তাটা চেনে। সে তার প্রভুকে চেনে। তো আমি আসলে একটা জন্তুর মতোই।

আমি যখন একটা ছোট্ট শিশু ছিলাম আমার অভিভাবক আর আমার চারপাশের লোকজন আমাকে আমার সাংস্কৃতিক নিয়মকানুনের কথা বলেছে, সে-সব নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করতে আমাকে অভ্যস্ত করা হয়েছে।

তাঁরা চান না তুমি প্রশ্ন করো। তাঁরা যা বিশ্বাস করেন, এমনকি যেসবে তাঁদের নিজেদেরও কোনো বিশ্বাস নেই, যা তাঁদের জীবনে কোনো কাজ দেয় নাই, সেই সবকিছুই তাঁরা জোর করে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এখন আর তাঁদেরকে দায়ী করে লাভ নেই। আমরা এখন সাবালক। কাজেই আমরা তাঁদেরকে দায়ী করবো না। যা-কিছু হচ্ছে তার সবকিছুর জন্যে তোমার মা-ই দায়ী, বা তোমার বাবাই দায়ী, এটা একটা মূর্খ ধারণা, ফ্রয়েডীয় ধারণা। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। আমাদের বাবা-মাকে দায়ী করার কিছু নেই। আসলে এটা একমুখী কোনো রাস্তা নয়। এমনকি শিশুরাও আমাদের কাছে গৃহীত হতে চায়। আমরা তাদেরকে এই কাঠামোতে খাপ খাওয়াতে জবরদস্তি করি আর তারাও আমাদের কাছে গৃহীত হতে চায়। এটা একটা দ্বিমুখী ট্রাফিক।

অনেক বলেছি। নাইস মিটিং ইউ অল এবং গুডবাই। একই জিনিস আমি দশরকমভাবে বারবার বলি।

শুধুই দশরকমভাবে?

বা একশোরকমভাবে। [হাসি] ভালো একটা শব্দভাণ্ডার আমি আয়ত্ব করেছি। একই জিনিস তুমি ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেও বলতে পারো। এই হলো ব্যাপার। যথেষ্ট হয়েছে, তাই না? বাই-বাই।

তাহলে আমি যা দেখছি বলে ভাবছি সেটা আমার দেখার কোনো উপায়ই নেই।

তুমি কখনোই কিছু দেখ না। ভৌতচক্ষু কোনো কিছু দেখে না। তুমি যাতে তাকিয়ে আছো তার থেকে তোমার নিজেকে পৃথক করার কোনো উপায় নেই। আমাদের আছে শুধু সংবেদজ প্রত্যক্ষণ। সেটা ওই বস্তুটা নিয়ে কিছুই বলে না─যেমন, ওটা একটা ক্যামেরা। যে মুহূর্তে তুমি শনাক্ত করছো যে এটা একটা ক্যামেরা, এবং একটা সোনি ক্যামেরা, সেটা থেকে তুমি নিজেকে পৃথক করে ফেলেছো। সুতরাং আসলে তুমি যা করছো─ওই বিষয়ে তোমার যে-জ্ঞান রয়েছে, তার কাঠামোর মধ্যে তুমি সংবেদজ প্রত্যক্ষণের অনুবাদ করছো। আমরা কখনোই কোনো কিছুর দিকে তাকাই না। তাকানোটা হবে খুবই বিপজ্জনক, কারণ ওই ‘তাকানোটা’ চিন্তার ধারাবাহিকতা বিধ্বস্ত করে দেবে।

আমরা যাতেই তাকাই আসলে সেই-বিষয়ক জ্ঞানটাকেই অভিক্ষেপ করি। এমনকি কোনো নামকরণ [যেমন, ‘ক্যামেরা’] না করেও তুমি যদি শুধু বলো যে, ওইটা একটা বস্তু, ইতিমধ্যেই জ্ঞানটা চলে এসেছে। শব্দ থেকে বস্তুকে পৃথক করে, বা বস্তু থেকে শব্দকে পৃথক করে নিরন্তর এই নিয়ে বকবক করে যাওয়াটা দর্শনশাস্ত্রের কোনো ছাত্রের পক্ষে ভালই। কিন্তু আসলে, এটাকে শুধু একটা বস্তু বললেও তুমি ইতিমধ্যে এটা থেকে নিজেকে পৃথক করে ফেলেছো। যদি তুমি এটাকে নামকরণ নাও করো, অথবা এটাকে একটা ক্যামেরা বা ভিডিও ক্যামেরা নাম দাও, ইতিমধ্যেই তুমি এটা থেকে নিজেকে পৃথক করে ফেলেছো।

যা আছে তা কম্পিউটারের মধ্যে আগে-থেকেই আছে। আমাদের সমস্ত তথ্যই যে ওই কম্পিউটারে আবদ্ধ রয়েছে, আমরা সেই সত্যে সচেতন নই। আচমকা এটা বেরিয়ে আসে। আমরা মনে করি এটা একটা মৌলিক কিছু। তুমি মনে করছো এটা তোমার জীবনে তুমি প্রথম দেখছো। আসলে তা নয়। ধরা যাক, কেউ তোমাকে বললো যে এটা একটা নতুন কিছু, সে যেটাকে নতুন কিছু বলছে সেটা তুমি তোমার পুরোনো জ্ঞানকাঠামোর সাথে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করতে থাকবে।

তার মানে কম্পিউটারে না থাকলে তুমি এটা দেখতেই পাবে না।

দেখতেই পাবে না। ইতিমধ্যেই তথ্যটা কম্পিউটারে না থাকলে তোমার দেখতে পাবার কোনো উপায় নেই। [অন্যথায়] রেটিনার ওপর বস্তুটির শুধু একটা প্রতিচ্ছায়া। এমনকি এই বক্তব্যটাও আমরা পেয়েছি সেইসব বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে যাঁরা প্রচুর গবেষণা আর পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিজে থেকে তোমার ওই সত্যের অভিজ্ঞতা নেবার কোনো উপায় নেই, কারণ উদ্দীপক আর সাড়া একটা ঐকিক গতিময়তা। যখনই তুমি নিজেকে পৃথক করছো, একটা সমস্যা তৈরি করছো। জীবনের অখণ্ডতা, জীবনের এককতা বা এইসমস্ত আবোলতাবোল নিয়ে তুমি কথাবার্তা বলতে পারো। কিন্তু তোমার কোনো প্রচেষ্টার মাধ্যমে ওই ঐকিক গতিময়তা সৃষ্টির কোনো উপায় নেই। আসল ব্যাপারটা কী, সেইটা যারা উদ্ঘাটন করতে আগ্রহী, তাদের জন্যে, কীভাবে এই পৃথকীকরণটা ঘটছে, কীভাবে তুমি তোমার চারপাশের ঘটনা, তোমার ভেতরের ঘটনা থেকে নিজেকে পৃথক করে ফেলছো, সেটা লক্ষ করাটাই একমাত্র পথ। সত্যিকার অর্থে বাহির এবং ভেতরের মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই। চিন্তাই সীমানার জন্ম দিচ্ছে এবং আমাদেরকে বলছে এইটা ভেতরে এবং ওইটা বাইরে। যদি তুমি নিজেকে বলো যে তুমি সুখী, অসুখী কিংবা বিরক্ত, ইতিমধ্যেই তুমি তোমার ভেতরে-থাকা ওই নির্দিষ্ট সংবেদন থেকে নিজেকে পৃথক করে ফেলেছো।

তাহলে সংবেদনগুলো নামকরণ করার ফলে আমাদের শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো…

পৃথকতাটা আমরা রক্ষা করি আর একটা অস্তিত্বহীন পরিচিতি বজায় রাখি। এই কারণেই পরিচিতি রক্ষার্থে তোমাকে নিরন্তর তোমার স্মৃতি ব্যবহার করতে হয়, যে স্মৃতি আসলে স্নায়ুকোষ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এবং আমাদের চিন্তা আমাদের জীবকোষকে প্রভাবিত করে?

জীবকোষ অবসন্ন হয়ে যায়। সেইজন্যেই আমি বলি যে মানবজাতি যে দুর্গতির মুখোমুখি সেটা ক্যান্সার বা এইডস নয়, সেটা বরং আলঝাইমার্স ব্যাধি। আমাদের পরিচিতিটা ধরে রাখতে আমরা আমাদের স্নায়ুকোষ, আমাদের স্মৃতি, অবিরাম ব্যবহার করে চলেছি। শয়নে-স্বপনে-জাগরণে যে অবস্থাতেই তুমি থাকো না কেন, এই প্রক্রিয়াটা চলছেই। কিন্তু এটা তোমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তুমি যা জানো, তুমি সেটাই অনুভব করছো। জ্ঞান ছাড়া তোমার কোনো কিছুই অনুভব করার উপায় নেই। নতুন অভিজ্ঞতা বলে কিছু নেই। যখন তুমি নিজেকে বলছো এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা, অতীতই তোমাকে বলছে এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। এবং এভাবেই সেটা একে অতীতের অংশ করে নিচ্ছে।

শুধু অবিরাম জানতে চাওয়ার মাধ্যমেই এটা [অভিজ্ঞতাটা] তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যদি তুমি না জানো তুমি কীসে তাকিয়ে আছো, যে ‘তুমি’ হিসেবে তুমি নিজেকে জানো, যে ‘তুমি’ হিসেবে তুমি নিজেকে অনুভব করো, সেটা শেষ হয়ে যাবে। সেটাই হলো মৃত্যু। সেটাই হলো একমাত্র মৃত্যু, এবং আর কোনো মৃত্যু নেই।

সেটা খুবই ভীতিকর…

খুবই ভীতিকর─তুমি যা জানো সেটা হারাবার ভয়। সেইজন্যেই আসলে তুমি ভয় থেকে মুক্ত হতে চাও না। চাও না যে ভয়ের ইতি হোক। ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত করতে [কোনো কারণে তুমি হয়তো ভয় থেকে মুক্ত হতে চাও] তুমি যা যা করছো, যতরকম থেরাপি আর কায়দাকানুন করছো, সেই জিনিসটাই ভয়টাকে ধরে রাখছে আর তাকে নিরবচ্ছিন্নতা দিচ্ছে। কাজেই তুমি আসলে চাও না ভয়ের ইতি হোক। ভয় যদি শেষ হয়ে যায়, তুমি যে ভয়ের ব্যাপারটা জানো সেটাও শেষ হয়ে যাবে। শারীরিকভাবেই তোমার মৃত্যু হবে। একটা ক্লিনিক্যাল মৃত্যু ঘটবে।

শুধু কিছু চিন্তা না থাকলেই কীভাবে শারীরিকভাবে মৃত্যু হতে পারে?

একবার যখন ‘আমিটা’ বিদায় নিচ্ছে, তোমার আর নিজের দেহটা অনুভব করার কোনো উপায় নেই। তুমি মৃত না জীবিত সেটা জানার কোনো উপায় নেই। আর কখনো তুমি নিজেকে বলতে পারবে না, ‘‘এইটা আমার দেহ।’’ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো, ‘‘ওইটা তোমার দেহ না আমার দেহ?’’ আমি হয়তো বলবো, ‘‘এইটা আমার দেহ,’’ সেটা শুধু তোমার সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যাবার জন্যে, পার্থক্য নিরূপণের জন্যে এবং, এইটা তোমার দেহ নয় আমার দেহ, এই কথাটা বলার জন্যে। কিন্তু ‘‘এইটা আমার দেহ,’’ এই সত্যটা এমন একটা কিছু যা আদৌ অনুভব করার কোনো
উপায় নেই।

তুমি কী চিন্তা করছো, অনুভব করছো বা জানছো, সেটা নিয়ে এই দেহ উদ্বিগ্ন নয়। সমস্ত অনুভূতিই হলো চিন্তা। একটা নামকরণ না করে তোমার কোনো কিছুই অনুভব করার উপায় নেই।

তাহলে তুমি বলতে চাইছো এই নামকরণ প্রক্রিয়াটা একটা অপরিবর্তনীয় ব্যাপার?

যেখানে যা-ই ঘটুক─তুমি সেটা ছাড়তে পারো না। সেটার নামকরণ তোমাকে করতেই হবে।

যেহেতু এর সাথেই পরিচিতিটা জড়িয়ে আছে।

হ্যাঁ। তুমি তোমার পরিচিতিটা হারাতে পারো না। সেটা হবে খুবই বিপজ্জনক। যদি তুমি না জানো তুমি কীসে তাকিয়ে আছো, তুমি বিপদে পড়বে। তুমি মনে মনে বলতে পারো তুমি কীসে তাকিয়ে আছো তুমি জানো না, কিন্তু তোমার নারীটির দিকে তাকিয়ে যদি তুমি বলো যে তুমি তাকে চেনো না, সেখানেই সমস্ত কাহিনির ইতি। সেটা খুবই বিপজ্জনক। ওই জাতীয় জিনিস নিয়ে খেলা কোরো না। এখানে বসে বসে ক্যামেরাটার দিকে তাকিয়ে তুমি বলতে পারো, ‘‘আমি জানি না আমি কীসে তাকিয়ে আছি।’’ কিন্তু সেটা শুধুই একটা কৌশল মাত্র। তুমি একটা মানসিক অবস্থা সৃষ্টি করে বিশ্বাস করছো যে, তুমি জানো না তুমি কীসে তাকিয়ে আছো। কিন্তু আসলে, যেকোনো পরিস্থিতিতে, যদি তুমি না জানো তুমি কীসে তাকিয়ে আছো, সেটা একটা বিপদ। সুতরাং ওইরকম পরিস্থিতিতে তোমার নিজেকে ঠেলে দেওয়াটা উচিৎ হবে না। তুমি শুধু এইটা নিয়ে খেলা করতে পারো।

মায়া বলতে কি সেটাই বুঝায়?

না। এটা একটা মায়া, এই কথা বললেও তুমি এর একটা নামকরণ করছো।

হ্যাঁ।

ভারতে তারা দেখ ইল্যুশন শব্দটাকে বলে ‘মায়া’। ‘মায়া’র অর্থ ‘পরিমাপ করা’। কিন্তু একটা স্থান না থাকলে, একটা বিন্দু (সাপেক্ষ বিন্দু) না থাকলে তোমার কোনো কিছু মাপার উপায় নেই। যে-মুহূর্তে সেখানে চিন্তা জন্ম নিচ্ছে, সেটাই হলো ওই বিন্দু, এবং তুমি আরেকটা বিন্দু সৃষ্টি করে মাপনের চেষ্টা করছো। এইভাবেই চিন্তা একটা স্থান সৃষ্টি করছে। এবং ওই বিন্দু থেকে তুমি যা-ই অনুভব করছো সেটা একটা মায়া। যদি বলো যে অস্ত্র-হাতে তোমাকে গুলি করতে আসা লোকটা একটা মায়া, তুমি একটা আস্ত হাঁদা। নিজেকে তোমার রক্ষা করতেই হবে। এর অর্থ এই না যে জগৎ-সমগ্র একটা মায়া। আদৌ তা নয়। জগতের যা-ই তুমি অনুভব করছো, বা একটা সত্তা হিসেবে নিজেকে যে তুমি অনুভব করছো, সেটা একটা মায়া, যেহেতু ওই অভিজ্ঞতাটার জন্মই হচ্ছে জ্ঞান থেকে─ যা সেখানে জমা রয়েছে। এছাড়া তোমার কোনো কিছুর বাস্তবতার অভিজ্ঞতা নেবার কোনো উপায় নেই।

পটভূমি ভিন্ন হলে কি অভিজ্ঞতাও ভিন্ন হবে?

না। তার মানে আসলে এই নয় যে সেটা ভিন্ন হবে। এটা নির্ভর করে কীসে তোমার আগ্রহ তার ওপর। যেমন একটা কম্পিউটারে একজন বিজ্ঞানী জমা করছেন বৈজ্ঞানিক উপাত্ত, একজন ব্যবসায়ী জমা করছেন ব্যবসায়িক উপাত্ত এবং একজন শিল্পী জমা করছেন অন্যকিছু। কিন্তু কম্পিউটারের কার্যপদ্ধতি একই।

এবং সেটাই নির্ধারণ করছে…

সেখানে যা জমা আছে তার ফলাফলটা হলো প্রিন্ট-আউট। এটা নির্ভর করে তোমার নির্দিষ্ট আগ্রহের ওপর। তুমি হয়তো কোনো গণিতবিদ, কোনো বিজ্ঞানী বা কোনো লেখক।

তাহলে তুমি যদি ইনপুট বা বিষয়বস্তু পাল্টাও….?

না। বিষয়বস্তু পাল্টালেও তুমি আরেকটা বিষয়বস্তু দিয়ে সেটা প্রতিস্থাপন করবে। তুমি যাতে আগ্রহী তুমি সেটাই পাবে।

তাহলে এটা পুরোপুরি একটা বস্তুগত ব্যাপার। এটা পাল্টানো যায় কীভাবে?

কোনো কিছুরই পরিবর্তনে আমরা সফল হই নাই। পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষেত্রে তোমার সমস্ত প্রচেষ্টাই একটা সম্পূর্ণ নিষ্ফলতা, সেইটা তুমি অনুধাবন করো না। কী পরিমাণ এনার্জিই না তুমি এতে বিনিয়োগ করেছো!

সেটা আসলে ঠিক নয় কারণ….

তুমি ভালো বোধ করছো যেহেতু তুমি মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছো।

হ্যাঁ।

অবশ্যই, ভালো বোধ করো, সেটা উপভোগ করো। কিন্তু পার্থক্যটা কী? মাংস খাওয়া বাদ দিয়েছো বলে তোমার এত ভালো বোধ করতে হবে কেন?

এটা একটা শারীরিক অনুভূতি। আমি ভালো বোধ করছি।

কি জানি─সেটা মনস্তাত্ত্বিক হতে পারে স্যার, যদি আমি মনস্তাত্ত্বিক শব্দটা ব্যবহার করি। যদি তুমি আবার মাংস খাওয়ায় ফিরে যেতে চাও সেটা অন্য কাহিনি। কোনো বুভুক্ষা থাকলে সেটা একটা সমস্যার জন্ম দেবে। আর যদি কোনো বুভুক্ষাই না থাকে তাহলে তুমি মাংস খেলে না সবজি খেলে তাতে পার্থক্য কী? প্রাণের একরূপ অন্যরূপ খেয়ে বেঁচে থাকে। তোমার সমস্ত দেহটার ওপর এখন কয় লক্ষ ব্যাকটেরিয়া─উদ্ভিদকুল আর প্রাণিকুল─ হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছে? তাদেরকে বিবর্ধিত করা হলে তুমি বিস্মিত হয়ে যাবে। একেকটা তেলাপোকার মত বড় বড়। [হাসি]। তোমাকে খেয়েই তারা বেঁচে থাকে। যখন এটা একটা শবদেহ হয়ে যাবে, এই দেহের ওপর তাদের একটা মচ্ছব হবে।

এটা যদি শুধু শারীরিকই হয়ে থাকে….

সেখানে আর কী আছে?

আমি তাহলে ভালো ভালো খাবার খাবো যাতে তাদের ভালো একটা মচ্ছব হতে পারে।

সেটা তোমার ব্যক্তিগত একটা খেয়াল। তুমি ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার খেতে চাও, আরেকজন আরেকটা জিনিস খেতে চায়। পার্থক্যটা কোথায়? দেহ কাঠের গুঁড়ো আর শিরিসের আঠা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ওইসব পুষ্টিবিদদের দেখামাত্র গুলি করা উচিৎ। এইসমস্ত বিজ্ঞাপনই তোমার কাছে এই জাতীয় সবকিছু বিক্রি করে।

সেটাই তাদের রুটিরুজি।

তারা রুটিরুজি করে করুক, কিন্তু ভুক্তভোগী হলাম আমরা।

তারা বলে চৌদ্দ দিন না খেলেই তুমি মারা যাবে।

এই দেহের জন্যে কোনো মৃত্যু নেই। তিনদিনের পর থেকে তোমার আর ক্ষুধাবোধ করার কোনো উপায় থাকবে না। ক্ষুধা আসলে কী? গ্লুকোজের মাত্রা নিচে নেমে যাওয়া। দুই-তিনদিন পর থেকে তুমি আর ক্ষুধাবোধ করবে না। দেহ নিজেকে খেয়ে বাঁচা শুরু করবে।

যখন আবার জল বা খাদ্য নিতে শুরু করবে, তখন আবার পরিবর্তন ঘটবে।

জল তোমাকে নিতেই হবে। নইলে বাহাত্তর ঘণ্টা পরেই তুমি শেষ। ডিহাইড্রেশন হবে। যেহেতু দেহের শতকরা আশিভাগই জল। শুধু সেখানে নয়, সমস্ত উদ্ভিদ এবং সব ধরনের প্রাণেই। এমনকি এই গ্রহেরও সামগ্রিকভাবে আশিভাগই হলো জল।

দেহকে আমাদের খাওয়াতে হবে কেন?

হ্যাঁ, কেন খাওয়াতে হবে? দেহের তাতে কোনো আগ্রহ নেই। দেহের কিছু শক্তি চাই, এবং যেকোনো খাবার থেকেই তুমি সেই শক্তিটা পেতে পারো। হেলথ ফুড আর ভিটামিন সি, বা তোমার ঢেঁকিছাটা লাল চাল বা সমুদ্রশৈবাল বাদ দিয়ে শুধু কাঠের গুঁড়োই এর জন্যে যথেষ্ট।

আমার মনে হয় শরীরের নিশ্চয় দুর্ভোগ হবে।

একটুও না। সেটা তোমার মনে-হওয়া, তোমার ধারণা। দেহের কাছে এর এক কানাকড়িও মূল্য নেই। তুমি তোমার উদরে ধারণা ঢুকাও। প্রথমত তুমি ধারণা খাও… [হাসি]

অধিকাংশ লোকই খাবারের মেনু খায়….

ভালো ভালো ধারণা তুমি খেতে পারো। তোমার মঙ্গল হোক। ভিটামিন না খেয়েই আমি বেঁচে আছি। আমি শাকসবজি খাই না। ফলমূল খাই না। লাল চাল খাই না। আমি তিয়াত্তর বছর বেঁচে আছি। আমার সমস্যা কোথায়?

কিন্তু আমরা একটু বেশি মানুষ….

আমিও মানুষ, অধিকাংশ মানুষের থেকে একটু বেশিই মানুষ।

মানছি। [হাসি]

আমি ধারণা খাই না, নামাবলি গায়ে দিই না।

তুমি যদি একটা সিংহ হতে আর ক্ষুধার্থ হতে, তাহলে কি তুমি মাংস খেতে?

ওইরকম ক্ষুধার্থ হলে আমি হয়তো এখনই তোমাকে হত্যা করে খেয়ে ফেলবো, একটা রাক্ষসের মতো! [হাসি] এই দেহকে তুমি ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার খাওয়াচ্ছো। ভালোর থেকে এটা খারাপই করবে বেশি। দেহ জানে এর জন্যে কোনটা ভালো। কোনো খাদ্য পছন্দ না হলে সে সেটা বর্জন করে দেয়।

মদ কি শরীরের জন্যে ভালো?

মদ্যাসক্তি জিনগতভাবে প্রোগ্রামড, জানো তো?

এরকম একটা বিশ্বাস আছে যে, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্য মানুষের জন্যে এবং কিছু নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্য পশুদের জন্যে ভালো।

তোমার যা-খুশি তুমি বিশ্বাস করতে পারো। আরেকজন আরেকটা জিনিস বিশ্বাস করবে। লোকেদের কাছে বিশ্বাসটাই ব্যাপার। একটা বিশ্বাস দিয়ে তুমি আরেকটা বিশ্বাস প্রতিস্থাপন করছো। মাংস খেয়ে তুমি বেড়ে উঠেছো। তাহলে আজ কেন তোমাকে ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার খেতে হবে? একটা বিশ্বাস পাল্টে তুমি আরেকটা বিশ্বাস গ্রহণ করছো এবং ভালো বোধ করছো। ভালো বোধ করো, উপভোগ করো। লাল চাল খাও।

আরেকটা প্রশ্ন। তোমার কি মনে হয়না আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক চিন্তা করা উচিৎ?

চিন্তা হয় ইতিবাচক নয় নেতিবাচক। চিন্তা যতক্ষণ আছে, সেটা হয় ইতিবাচক নয় নেতিবাচক। যখনই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যর্থ হচ্ছে, যাকে বলে নেতিবাচক চিন্তা তুমি সেইটা উদ্ভাবন করছো; কিন্তু লক্ষ্যটা অবিকল একই।

কিন্তু তুমি বলছো, যদিও একটা মায়া হিসেবেই আমরা জগতটাকে অনুভব করি, কিন্তু সেটা আসলে মায়া নয়।

না। আমি বলছি না একটা মায়া হিসেবে তুমি জগতটাকে অনুভব করছো। আমি বলছি তোমার মধ্যে জমাকৃত জ্ঞানের মাধ্যমে যেভাবে তুমি জগতটাকে দেখছো সেইটা পন্থা নয়। আবার সেটা ছাড়াও তোমার কোনো কিছু বুঝার উপায় নেই।

কিন্তু একইসাথে এটা একটা বাস্তবতাও।

দেখ, দেহ উদ্দীপকে সাড়া দিচ্ছে। এটা একটা জীবন্ত জিনিস। কোনো কিছুকে ‘সুন্দর’ বলে তুমি সেটা ধ্বংস করে ফেলেছো। সুন্দর বলে তুমি সমস্ত জিনিসটা একটা কাঠামোতে জমা করছো। যদি তুমি এটাকে সুন্দর না বলো, এই দেহের ওপর তার একটা প্রভাব থাকবে। দেহ সেখানে উদ্দীপকে সাড়া দিচ্ছে। তুমি হয়তো গভীরভাবে একটা শ্বাস নিচ্ছো। এই।

তাহলে খাদ্যের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কেন একইরকম হবে না?

বহু বহু ধারণা তুমি ঢুকিয়ে ফেলেছো। সমস্ত ব্যাপারটাতে তুমি ধারণা বিনিয়োগ করেছো। যখনই তুমি প্রশ্ন করছো, ‘‘কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়’’ এবং, ‘‘কী খেতে হয়’’, তখনই তুমি একটা সমস্যা সৃষ্টি করছো।

আমার মনে হয় মানুষের খাদ্য বলে একটা জিনিস আছে। তবে সেক্ষেত্রে ধর্ম বা সংস্কৃতি বলে কিছু নেই।

না, না। সবকিছুই সাংস্কৃতিক। তোমার সমস্ত রুচিই অনুশীলিত রুচি। তুমি কী খাচ্ছো সেটা দেহ জানে না। দেহের দিক দিয়ে দেখলে লবণও লবণাক্ত নয়।

ভাত আর শাকসবজি না খেলে আজ আমরা যেভাবে মস্তিষ্ক বিকশিত করেছি সেরকম করতে পারতাম না।

তোমার আর আমার মস্তিষ্ক আলাদা নয়। প্রতিভাবান একটা লোকের মস্তিষ্ক তোমার থেকে আলাদা নয়। তারা আবিষ্কার করেছে কোনো নিম্নস্তরের নির্বোধের মস্তিষ্কের সাথে আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের কোনো পার্থক্য নেই। [হাসি] বোধহয় তাঁর মৃত্যুর পর তারা এটা পরীক্ষা করেছে। তারা এটা সংরক্ষণ করেছে। তুমি আশ্চর্য হয়ে যাবে, একটা হাবাগোবা লোকের মস্তিষ্কের সাথে আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের কোনো পার্থক্য নেই। [হাসি] তুমি তোমার ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার খাও আর উপভোগ করো স্যার। এইসমস্ত নিয়ে মাথা ঘামিও না।

ও আচ্ছা, আমার বেশ ভালোই লাগছে।

কতদিন তোমার ভালো লাগবে কে জানে! আমার এক বন্ধু একবার আমাকে নেমতন্ন করে ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার খাইয়েছিলো। এখনো আমি সেটা থেকে মুক্ত হই নাই। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা।

তাহলে তুমি ভাত খাও….

ভারতেও আমি ভাত খাই না।

আমি ভিডিওতে দেখেছি তুমি খাচ্ছো।

যারা আমাকে খেতে দেয় তারা জানে আমি ভাত খাই না। এটা কোনো ব্যাপার নয়।

আমার ধারণা আজ মানুষ যেরকম সেটা তার খাদ্যাভ্যাসের কারণেই।

আমার তা মনে হয় না। তোমার যদি তাই মনে হয় আমার কোনো অসুবিধা নেই। সমস্যাটা হলো দেহের প্রয়োজনের তুলনায় তুমি অতিরিক্ত খাও। অতিভোজনটাই হলো সমস্যা।

লাল চালের ব্যাপারটা কী?

লাল চাল! দেখলেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার ছেলেকে আমি মিলে-ছাঁটা চাল খাইয়ে বড় করেছি, ডাবল পলিশড, ট্রিপল পলিশড চাল। [হাসি] এখন সে যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে কাজ করে। সে একজন ইলেকট্রনিক্স টেকনিশিয়ান। অধিকাংশ ‘হেলথ ফুড-আসক্ত’ লোকজনের তুলনায় সে বেশি স্বাস্থ্যবান। এখন সে নিশ্চয় মাংসও খায়। সে মানুষের মাংসও খায়─যখন যা পায়।

তোমাকে উত্তর দিতেই হবে যে কেন….

আমার কাছে কোনো উত্তর নেই। তুমি নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছো, আমি কোনো উত্তর দিচ্ছি না। সম্প্রতি আমি এই শব্দটা ব্যবহার করছি─‘ভেন্ট্রিলোকুইস্ট’। এক স্বরে তুমি প্রশ্ন করছো, আরেক স্বরে ওই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছো। আগে-থেকেই থাকা উত্তর থেকে আমাদের সকল প্রশ্নের জন্ম। তা নাহলে কোনো প্রশ্নই থাকতো না।

তুমি বলছো আমাদের বিশ্বাস ত্যাগ করলেই আমাদের মৃত্যু হবে।

একটা বিশ্বাসের জায়গায় তুমি আরেকটা বিশ্বাস প্রতিস্থাপন করছো। কোনো বিশ্বাস ছাড়া তুমি থাকতে পারো না। যাকে তুমি ‘তুমি’ বলো সেটা একটা বিশ্বাস মাত্র। বিশ্বাস শেষ হয়ে গেলে, তুমিও তার সাথে সাথে শেষ হয়ে যাও। সেই জন্যেই, যে বিশ্বাসকাঠামোয় তুমি বেড়ে উঠেছো সেটায় সন্তুষ্ট না হলে, তুমি অন্যকিছু দিয়ে সেটা প্রতিস্থাপন করো।

তোমার মনে হয় জগতে কোনো সমস্যাই নেই?

এই জগতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না, যেহেতু জগত কোনোভাবে অন্যরকম হতে পারতো না। মৌলিকভাবে বা অন্য কোনোভাবে দুনিয়ার একটা পরিবর্তন দরকার─লোকজনকে এইসমস্ত কথা বলে বলে আমি জীবিকা নির্বাহ করায় আগ্রহী নই। তুমি যদি কোনো রাজনীতিবিদ বা কোনো জাতির প্রেসিডেন্ট হয়ে থাকো, সেটা আলাদা কথা। তা নাহলে এটা যা এটা তা-ই। আমরা যেরকম, তাতে করে দুনিয়াটা কোনোভাবে অন্যরকম হতে পারে না। আমি যা বলছি সেটা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। তোমার আমার যৌথ বসবাসই হলো দুনিয়া।

শেষ প্রশ্ন, স্যার। ‘‘তুমিই আমাকে সৃষ্টি করছো’’─এই কথা বলে তুমি কী বুঝাতে চাও?

তুমিই আমাকে সৃষ্টি করছো। আমি তোমাকে সৃষ্টি করছি না যেহেতু আমার নিজের কোনো প্রতিরূপ নেই।

তোমার নিজের একটা প্রতিরূপ রয়েছে এবং ওই প্রতিরূপের সাপেক্ষে তুমি তোমার চারপাশের অন্যদের প্রতিরূপ সৃষ্টি করছো। সেটাই অন্য লোকেদের সাথে তোমার সম্পর্ক। কিন্তু লোকজন নিরন্তর পাল্টে যাচ্ছে─ তুমি যেমন পাল্টে যাচ্ছো, অন্য লোকেরাও সেরকম পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু তুমি চাও প্রতিরূপটা সবসময় একইরকম থাকুক। সেটা আসলে সম্ভব নয়।

 

……………….
১. রিসাইকেল: recycle; পুনর্ব্যবহারোপযোগী।
২. ম্যাক্রোবায়োটিক খাবার: macrobiotic food; আয়ুবর্ধক নিরামিষ খাবার।
৩. ডিহাইড্রেশন: dehydration; নির্জলীভবন।
৪. ভেন্ট্রিলোকুইস্ট: ventriloquist; মায়াকণ্ঠী।

[Conversation with U.G. Krishnamurti: 7; এটি No Way Out গ্রন্থের You Invent Your Reality পর্বটির বাংলা অনুবাদ। অনুবাদের স্বত্ব সংরক্ষিত।]

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *