দারা মাহমুদ-এর পাঁচটি কবিতা


imagesসাঁতার ও স্নান

সব নদী এক সময় ফুরিয়ে যাবে বন্ধু হে
সব নদী এক সময় ফুরিয়ে যায় এটাই নিয়ম
নদী ফুরুলে পারদের নদীতেই স্নান করতে হবে
নদী ফুরুলে পারদের নদীতেই সাঁতার কাটতে হবে
যে ভাবে দান্তে বিয়াত্রিস নদীতে সাঁতার কেটেছে
সেভাবেই না হয় কাটো
অথবা নদী ভাগ করো
তবুও তোমাকে সন্তরণ করতেই হবে, কারণ
সাঁতার ও স্নান ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা
প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার

 

ঝড় বৃষ্টির রাতে

গাছেরও জীবন আছে এই কথা
অনেকে মানতে চায় না, কারণ
গাছ ভালোবেসে অন্য গাছকে
জড়িয়ে ধরে না …..
তবে গভীর ঝড়-বৃষ্টির রাতে
দৃশ্যপট বদলে যায়
এখন এক গাছ ঠিকই অন্য গাছকে
জড়িয়ে ধরে
সে এক বিরাট হুটোপুটি লাগে চারদিকে
ঝড় বৃষ্টির রাতে
গাছের সাথে গাছের
বৃষ্টির ফোঁটার সথে বৃষ্টির ফোঁটার
কি গভীর ভালোবাসা
যখন এই কাণ্ড প্রকৃতিময়
তখন মানুষের কি হতে পারে?
সেটা না হয় নাই বলা হলো…
তবে একথাও সার্বজনিন নয়

 

ঘুম ও পাখা

আমাদের শৈশবে কলের পাকা ছিল না
ছিল, দিপুদের বাড়িতে
আমাদের ছিল হাতপাখা
তালের পাতায় তৈরি হাতপাখা
ঘুরাতে ঘুরাতে আমরা চলে যেতাম স্বর্গে
অর্থাৎ ঘুমের গভীর রাজ্যে
দিপুদের শাদা কলের পাখা
শাদা দেয়ালে ঘুরতে ঘুরতে এক রকম
অদৃশ্য হয়ে যেতো।
এ দৃশ্য আমরা দেখতাম স্বপ্নে
সেই গভীর ঘুমের রাজ্যে
এক দিন তাদের পাখাগুলো চুরি হয়ে গেল
ছোট ছেলের প্রচণ্ড মাদক ক্ষুধা
সব শেষ করে দিল
অন্য দিকে কিছু বকবকে নতুন পাখা
ঊঠে এল আমাদের বাড়িতে
কিন্তু খেয়াল এলো হাতপাখার তুলনায়
কলের পাখায় ঘুম কমে যায়
পাখার কাহিনী এখানেই শেষ নয়
বিবর্তনের পথ ধরে এল ঠাণ্ডা কল
অর্থাৎ আরও জটিল আরও সূক্ষ্ম পাখা
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো
ঘুম আরো কমে গেল
সবশেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাই
পাখা ঘুমের জন্য জরুরি কিছু নয়
দরকার জাটিল চারপাখাহীন সংক্ষিপ্ত ভুবন
চিন্তার কিছু নেই, সব মানুষই
সে রকম একটা ভুবনের দিকেই
এগিয়ে যায় …

 

অন্য রকম প্রেমের গল্প

রাজপথ উদ্যান আর বিপণী বিতান
সবই জন থিক থিক
ঢাকা শহরে প্রেমের জায়গা কই
অবশেষে তারা দু’জন ওঠে
ষোলতলার ছাদে
ঘনপ্রেম দু’জনের বুকেই ছলকে ছলকে ওঠে
জড়াজড়ি আর চুম্বনে চুম্বনে
নির্জন ছাদে জেগে ওঠে তীব্র সিম্ফনি
এক সময় ছেলেটি বলে
‘তুমি বললে, তুমি বললে ….
আমি এই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে পারি
মেয়েটা বলে, ‘আচ্ছা দাও তো ঝাপ’
মুহূর্তে ছেলেটা লাফিয়ে পড়ে ছাদ থেকে
মেয়েটা ভাবে এত বড় আহম্মোক
মরেছে ভালো হয়েছে এর সাথে
আর যাই হোক ঘর করা যায় না
তবে ভেতরে ভেতরে একটু খারাপ লাগা থেকে যায়
কিছু দিন পর এক চৌকস নির্বাহীর সাথে
মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়
দু’জনেই সমানে সমান
কেটে যায় কয়েক বছর
সব কিছু ঠিক ঠাক শুধু
দাম্পত্য কলহের একটা পর্যায়ে
মেয়েটা বলে, ‘ছাদে যাবো
ঝাঁপ দেরে শুয়োরের বাচ্চা
তোর অদৃশ্য দাঁতগুলো কতটা ধারালো’

 

উরু বেলা

ঢাকা শহরের শেষ প্রান্তে
এ রকম বাড়ি আরো আছে, তবে
যেহেতু এটির নাম ‘উরু বেলা’
তাই এর রঙ-প্রগাঢ় সবুজ
গৌতমের ঢাকা জন্মে এ বাড়িতেই
স্থিতি হলো নিরঞ্জনা নেই
তাই তেজষ্ক্রিয় বুড়িগঙ্গাতেই স্নান
আর জেত বন নেই, তাই
সাততলার ছাদে পূণ্য ধ্যান
সংলগ্ন সামান্য ঘরে লোটা কম্বল
ছড়ানো বিছানা থালা, পেস্ট ব্রাশ
বুদ্ধ দেব এই জন্মেও একজন
সুজাতা পেয়েছেন
ঋজু ক্ষিণাঙ্গনী উন্নত বক্ষা ডিভোর্সী
বাড়িঅলার মেয়েটি প্রতিদিনই
পায়েসান্ন আনে, বোধি প্রাপ্ত
হওয়ার আগেই সুজাতার
মহার্ঘ্য তাকে খেতে হয়
স্ত্রী পুত্রের কথা মনে পড়ে যায়
দুঃখময় সংসার মনে পড়ে
নির্বানের পথগুলো ফেটে ফেটে যায়
বুদ্ধ দেবের ঢাকা জন্ম এ রকমই
সংসার পালালেও কাম ও ভোগ
থেকে বুঝি মুক্তি নেই

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *