দ্য অ্যাপল কার্ট (পর্ব-৪)


apple cart 4পর্ব-১।। পর্ব-২।।  পর্ব-৩।।

জর্জ বার্নার্ড শ

অনুবাদ : কামাল রাহমান

ম্যাগ: [ব্যালবাসের প্রতি] যদি পা নিচে না রাখি আমি, মি. ব্যালবাস, তাহলে প্রধানমন্ত্রী আপনার শ্যালককে পরিষদের বাইরে রাখতে অসমর্থ হবেন।
ব্যাল: [আক্রমণাত্মকভাবে] এবং কেন তাকে পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না?
এমান্ডা: মদে মাতাল, লালঝুটি এক কাকাতুয়া: পাঁড় মদখোর! উনি আবার কনুই ওঠাচ্ছেন!
ব্যাল: [ষাঁড়ের মত গর্জন করে] কে ওরকম কথা বলছে?
এমা: আমি বলছি, ডার্লিং!
ব্যাল: [থিতিয়ে পড়ে] ঠিক আছে, সম্ভবত এটা জেনে বিস্মিত হবেন আপনারা যে মাইক অতটা মদ খায় না যতটা খাই আমি।
এমা: ভালোভাবেই ওটা চালিয়ে যেতে পারেন আপনি, মহাশয়।
প্লি: কিন্তু মাইক কখনো বোঝে না যে কখন থামতে হবে।
ক্র্যা: যদি জিজ্ঞেস করেন তো বলি যে তখনই থামা উচিত মাইকের যখন ওর শুরু করার সময় হয়।
লী: [আবেগের সঙ্গে] কী ধরনের জীব আপনারা– মানুষ? গুরুত্বপূর্ণ একটা নীতির প্রশ্ন যখন রাজা মহোদয় আমাদের সামনে রেখেছেন তখন ঐ প্রসঙ্গে না যেয়ে শুরু করেছি একটা মদ্যপ দুরাত্মার বিষয় নিয়ে, যে-কিনা ব্যালবাসের মত হুইস্কি খায়, না মেথিলেটেড স্পিরিট খায়, না পেট্রোল, নাকি ছাই-ভস্ম খায়, যার উপরেই ওর হাত যায় তাই পান করে!
ব্যাল: এটার সঙ্গে একমত আমি। মাইক কি ধরনের মদ খায়– তাতে আমাদের কি আসে যায়? অথবা, আদৌ সে মদ খায় কি খায় না তাতেও বা আমাদের কি? আমাদের পরিষদকে শক্তিশালী করতে পারে মাইক, এ কারণে যে, দেশের সব চেয়ে বড় শিল্প উৎপাদক সংস্থা, ব্রেকেজেস লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করে সে।
লী: [যেতে উদ্যত হয়ে] ঠিক তাই! ব্রেকেজেস লিমিটেড! এটাই ঠিক! শুনুন তাহলে, স্যার; এবং বিচার করুন যে আমার অস্থি-মজ্জায় লাগে এমন সব কিছু যা আপনারা বলেছেন ওগুলো উপলব্ধি করার কোনো কারণ আমার আছে বা নেই কিনা। এই যে আমি, রাজকীয় শক্তি-বিদ্যুৎ মন্ত্রী। আমাকে সংগঠন করতে হয়, এবং দেশের ভালোর জন্য সকল মোটর-শক্তি চালু রাখতে হয়। বাতাস এবং ঢেউয়ের বুকে লাগাম বাধতে হয় আমাকে, তেল ও কয়লার যোগানের কাজ করতে হয়। আমাদের বিশাল সব শিল্প-প্রকল্পের ডায়নামোগুলোর বজ্রনিনাদ যেমন চালু রাখতে হয়, ঠিক তেমনি হেব্রিডের প্রতিটা ছোটখাটো সেলাইয়ের মেশিন, শেটল্যান্ডের দাঁতের ডাক্তারের ড্রীলমেশিন, মার্গেটের প্রতিটা গালিচা ঝাড়– দেয়ার মেশিন, এসব কিছুর জন্য তাদের দেয়ালের ছোট্ট সুইচটাতে সব সময় বিদ্যুতের প্রবাহ আছে কিনা তাও দেখতে হয়। এটা করি আমি; কিন্তু এটার জন্য যতটুকু দেয়া উচিত তার দ্বিগুণ মূল্য দিতে হয়। আমাকেই কেন? কারণ প্রতিটা নতুন আবিষ্কারই ব্রেকেজেস লিমিটেড কিনে নেয় এবং ওটাকে নিবারণ করে দেয়া হয়। প্রতিটা যান্ত্রিক গোলোযোগ, প্রতিটা দুর্ঘটনা, প্রতিটা ভাংচুর, তাদের জন্য এক একটা কাজ। কিন্তু ওদের জন্য আমাদের অভঙ্গুর কাচ, অভঙ্গুর ইস্পাত ও ক্ষয়প্রাপ্ত নয় এমন সব জিনিসপত্র থাকা উচিত। ওদের জন্য আমাদের মালগাড়িগুলো ব্যাটারি ছাড়া ও ওয়াগনের মূল যন্ত্রপাতি ভাঙ্গা ছাড়াই যাত্রা করতে পারে ও থামতে পারে। আর বছরে এক বারের পরিবর্তে সপ্তাহে এক বার ওদের ওয়ার্কশপে ওগুলোকে পাঠানো যেতে পারে। রাষ্ট্রের ‘মেরামতি বিল’ লক্ষ লক্ষ টাকার দিকে ধেয়ে চলেছে। আমার কার্যকালীন সময়ে ঘটেছে এমন ডজনখানেক আবিষ্কারের নাম করতে পারি যেগুলো ব্রেকেজেস-এর বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভূত প্রভাব রেখেছে। যদিও এই সব লোকেরা ঐ মেশিনগুলো অথবা প্রক্রিয়াগুলোর আবিষ্কারকদেরকে ওগুলোর চেয়ে বেশি মূল্য দেয়ার ক্ষমতা রাখে, যতটুকু প্রাপ্তি ওরা আশা করতে পারে ওগুলোর বৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে, তবুও যখনই ওরা ওগুলো কিনে ফেলে তখনই লুকিয়ে ফেলে। আর যদি আবিষ্কারক বেচারা হয় দরিদ্র ও নিজেকে ওদের হাত থেকে রক্ষা করার মত সবল না হয় তাহলে ওর মেশিনটাকে উল্টাপাল্টা পরীক্ষা করে বলে দেয় যে ওটার কোনো ব্যবহারই সম্ভব না। এ সকল কাজের ফলে উন্মত্ত আবিষ্কারকদের দ্বারা দু’বার অপদস্থ হয়েছি আমি: এ জন্য ওরা আমাকেই দোষারোপ করেছে– যেন এই সব দানবদের মোকাবিলা করতে পারতাম আমি, যাদের রয়েছে কোটি কোটি টাকা এবং সংবাদপত্রগুলোর আনুকূল্য, আর যাদের হাত প্রতিটা শস্যদানা পর্যন্ত প্রসারিত। এটা সত্যি হৃদয়বিদারক। আমি আমার দপ্তরকে ভালোবাসি: এটার কর্মক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো কিছুর স্বপ্নও দেখি না এমনকি। প্রতিটা ব্যক্তিগত বন্ধনের আগে এটা চলে আসে আমার কাছে। প্রতিটা সুখ প্রদায়ক ঘটনার মত এটা অনুভূত হয়, যার পেছনে সাধারণ মেয়ে মানুষেরা দৌড়ায়। সঠিকভাবে হস্তক্ষেপ করব আমি যাতে এ সকল লোকদের অর্ধেক ব্যবসা খুঁইয়ে দেউলিয়া আদালতে পাঠানো যায়, এবং বাকি অর্ধেক ব্যবসা করাব সরকারী  কর্মশালাগুলোতে, যেখানে সরকারী কোনো ক্ষতি বেসরকারী লোকদের জন্য আয়ের পথ তৈরি করে না। এটার জন্য উঠে দাঁড়ান আপনি, স্যার; শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আপনার সঙ্গে থেকে লড়ে যাব আমি, যদি সাহস দেয়া হয় আমাকে। কিন্তু কি করতে পারি আমি? এটার একটা শব্দও যদি জনগনের সামনে উচ্চারণ করি, তাহলে পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে একটা সপ্তাহও যাবে না যে সপ্তাহে অন্তত একটা প্রতিবেদন প্রকাশিত না হবে, যেখানে সরকারের দপ্তরগুলোর দূর্নীতি ও অযোগ্যতা সম্পর্কে লেখা প্রকাশিত না হবে, বিশেষ করে ঐ সকল দপ্তর নিয়ে, যেগুলো মহিলা দিয়ে প্রশাসিত। ওদের সমাধিস্থ মেশিনগুলোও খুঁড়ে বের করবে ওরা, এবং আমাকে দোষারোপ করবে এই বলে যে কখনো ব্যবহারেই আনা হয় নি ওগুলো। আমার ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে যে-কোনো ধরনের খুঁত বের করার উদ্দেশ্যে দিন-রাত টিকটিকি লাগিয়ে রাখবে আমার পেছনে। ওদের একজন পরিচালক তো আঙ্গুল উঁচিয়ে আমার মুখের উপরই বলে দিল যে জনতা লাগিয়ে আমার ঘরের জানালাগুলো ভাঙ্গিয়ে ফেলতে পারে সে; এবং ঐ ব্রেকেজেস, লিমিটেড, নতুন কাচ লাগানোর কাজটা পেতে পারে। এবং এটা সত্যি। এটা অত্যন্ত নিচ, এটা ভয়ানক, অথচ, যদি ওদের বিপক্ষে লড়ার উদ্যোগ নেই আমি, তাহলে আমার সরকারী জীবন হতে তাড়িয়ে দেয়া হবে আমাকে। মাইককে সাঁচে ফেলে ঘষে-মেজে মন্ত্রী পরিষদে ঢুকিয়ে দেবে ওরা, যেন ওদের স্বার্থে আমার দপ্তরটা চালাতে পারে সে: তার মানে, এটার এমন অকৃতকার্যতাকারিতা সৃষ্টি করবে যে ব্রেকেজেস, লিমিটেডÑ এর কাছে পুরানো লোহার দামে এটা বিক্রি করতে হবে  জো’র। আমিÑ আমিÑ আহ্, এটা সহ্য সীমার উর্ধে. . . [ভেঙ্গে পড়বে সে।]
(মুহূর্তের জন্য বিস্ময়কর নীরবতা বিরাজ করবে। তারপর প্রধানমন্ত্রীর গলা আকর্ষণীয়ভাবে এই নীরবতা ভঙ্গ করবে, রাজাকে উদ্দেশ্য করে বলবে)
প্রো: ওটা শুনুন আপনি, স্যার। আপনার একজন সমর্থক মন্ত্রী-পরিষদে স্বীকার করে নিল যে শিল্পের বর্তমান অবস্থা তার জন্যও খুব কঠিন একটা ব্যপার। আমি কখনো এমন ভাব করি না যে পরিষদের মহিলাদেরকে সামলাতে পুরোপুরি সমর্থ আমি। কিন্তু ওদের মধ্যে এমন একজনও নেই যে আপনাকে সমর্থন করতে সাহস করে।
এমান্ডা: [লাফিয়ে উঠে] কি ওটা? সাহস করে না! কেমন করে বাজি ধরেন আপনি যে মাইকের নির্বাচক-মণ্ডলীর মধ্যে চলে যাব না আমি এবং লিজি যা বলেছে তার চেয়েও বেশি কিছু বলব না, যদি তা পছন্দ করি আমি। আপনাকে বলছি, মি. প্রোটিয়াস, ব্রেকেজেস লিমিটেড, কখনো নাক গলায় নি আমার দপ্তরে। ওদেরকে এটার মধ্যে পাকড়াও করব আমি (একটা অঙ্গভঙ্গি)।
ম্যাগ: আমি ভয় পাচ্ছি একমাত্র এ কারণে যে, পোস্ট-অফিসের কর্মক্ষমতা সাধারণ জনগণের কাছে যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, ওদের কাছেও তাই।
এমা: এমন নির্বোধ উক্তি! পোস্ট-অফিস বন্ধ না করেই ওরা আমার কাছ থেকে রেহাই পেতে পারে। ওরা আমাকে ভয় করেÑ কেবল আমাকেই, এই এমান্ডা, পোস্ট-অফিসের দণ্ড-মুণ্ডু।
ম্যাগ: খোশামোদে তুষ্ট করে রাখ তুমি ওদের, ভয় হচ্ছে আমার।
এমা: খোশামোদে! কেমন করে ভাবছেন আপনি যে খোশামোদের জন্য পরোয়া করে ওরা? ওদের খোশামোদের জন্য অনেক তন্বী, সুন্দরী মহিলাদের পেতে পারে, যদি ওরা চায়। কি দিতে পারি আমি ওদের? ওদের মত মানুষদের খোশামোদের চেষ্টা করাও অর্থহীন। ভয় দেখান: ওদেরকে বাগে রাখার এই একটাই মাত্র পথ।
লী: [গলা এখনো ভাঙ্গা ওর] ইচ্ছা করলে, আমিও ভয় দেখাতে পারি ওদের।
ম্যাগ: এমান্ডা যা পারে আমরাও কি তা পারি না?
এমা: বলেছি আপনাকে, জনতাকে অনুকরণ করতে পারে না সে, হাসির গান গাইতে পারে না। ও-দুটোই পারি আমি; এবং এই যেÑ যথাযথ সম্মানের সঙ্গে, স্যার– ইংল্যান্ডের প্রকৃত রানি রূপে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করে।
বোনা: আহ্, আসুন! অসম্মানজনক! লজ্জাকর!
এমা: যদি রাগিয়ে তোলেন আমাকে, বিল, তাহলে দু’মাসের মধ্যেই আপনার নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দেব আপনাকে।
বোনা: শুনুন জো! ওহ্, আপনি পারবেন, পারবেন আপনি? কেমন করে?
এমা: ঠিক যেমন করে ব্রেকেজেস-এর চেয়ারম্যানকে হঠিয়েছি, আমার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা থেকে যখন আমার গদিটা নিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ম্যাগ: কখনোই ঠিক মত বুঝতে পারি নি আমি যে কেন লেজ গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কীভাবে এটা করেছিলে এমান্ডা?
এমা: বলেছি আপনাকে। জন লাভার্স হলে পাঁচ হাজার শ্রোতার সামনে আমার বিপক্ষে তার বিখ্যাত শনিবার-রাত্রির-বক্তৃতা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছিলেন তিনি। এর এক সপ্তাহ পরে একই হলে ঐ লোকগুলোর সামনে আমার বক্তৃতা দিতে দাঁড়াই, বিতর্কে যাই নি আমি। ওকে অনুকরণ করেছিলাম শুধু, ওর বক্তৃতা থেকে দাম্ভিক, ভনিতাসম্পন্ন সব উদ্ধৃতি নিয়ে নিয়েছিলাম, ওর সর্বোৎকৃষ্ট ভঙ্গি নকল করে আবার বলে যাচ্ছিলাম ওগুলো, যে পর্যন্ত না ঐ পাঁচ হাজার লোকের সকলে হাসিতে ফেটে পড়েছিল। তারপর ওদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আমার গান শুনতে চায় কিনা ওরা; ওদের হ্যাঁ বলার শব্দে হলের ছাদ উড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। দুটো গান গেয়েছিলাম আমি। দুটোতেই কোরাস গায় ওরা আমার সঙ্গে। ওদের একজন বলছিল ‘‘ও যে শনিবার রাতে আমায় ঘরের বাহির করিল রে, আমায় ঘরের বাহির করিল রে, আমায় . . . ’’ এ রকম। আরেকজন বলে যাচ্ছিল ‘‘হু! হু! এমান্ডার ভালুকছানাটার সঙ্গে আমি দু’দণ্ড খেলতে চাই হেÑ’’ পরেরবার যখন আসেন তিনি ওর হোটেলের নিচে দাঁড়িয়ে এসব গাইতে থাকে ওরা। সভা বাতিল করে চলে যান তিনি। এভাবেই ইংল্যান্ড ‘আপনাদের বিশ্বস্ত’ দ্বারা শাসিত হচ্ছে, স্যার। ইংল্যান্ডের জন্য সৌভাগ্য যে রানি এমান্ডা একজন সত্যিকার ভালো মাল, বাইরে কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও। [আত্মতৃপ্তিতে তুষ্ট হয়ে বসে পড়বে।]
ব্যাল: ইংল্যান্ডের জন্য সৌভাগ্য যে এরকম রত্ন এদেশে একটাই মাত্র আছে, এর বেশি আর কিছু বলার নেই আমার।
এমা: [একটা চুমোর ভঙ্গি ছুঁড়ে দেবে ওর দিকে]!
ম্যাগ: রানী কি রাজাকে সমর্থন করবেন না, মাননীয়?
এমা: দুঃখিত স্যার, আমার রাজ্যে দু’জন রাজার স্থান নেই। নীতিগতভাবে আমি আপনার বিপক্ষে কারণ অনুকরণপ্রবনতার মেধা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় না।
প্রো: না, আর কেউ আছেন? আমরা শুনেছি কেন আমাদের দুই জন মহিলা রাজাকে সমর্থন করতে পারেন না। আর কেউ আছেন যিনি পারেন?
(নীরবতা)
ম্যাগ: আমার আবেদনটা দেখি ব্যর্থই হল শেষ পর্যন্ত। আবার বলব না আপনাদের, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, বুঝতে পারছি যে কঠিন একটা অবস্থায় আছেন আপনারা। প্রশ্ন হল কীভাবে এটা পরিবর্তন করা সম্ভব?
নি: চরমপত্রটা স্বাক্ষর করুন: তাহলেই সম্ভব এটা।
ম্যাগ: ওটা সম্পর্কে ঠিক আস্থা স্থাপন করতে পারছি না এখনো। স্বরাষ্ট্র-সচীবের শ্যালক সুরা প্রভৃতি বর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল যদি পরিষদে ওকে গ্রহণ করতে চাইতাম। ঐ প্রস্তাবটা নেয়া হয় নি, কারণ, আমাদের কোনো সন্দেহ ছিল না যে সে চুক্তিটায় স্বাক্ষর করবে ঠিকই কিন্তু ওর চরিত্রগত কারণে এটা রক্ষা করতে পারবে কিনা সন্দেহ। আমার স্বভাবও অবশ্য দুর্বল। আপনি কি সন্তুষ্ট: মি. প্রোটিয়াস, যে যদি এই চরমপত্রটা স্বাক্ষর করি, তাহলে আমার স্বভাবের কারণে অনিবার্যভাবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব না আমি?
প্রো: [ধৈর্য থাকবে না তার] এভাবে চলার অর্থ কি? ফাঁসির মঞ্চে ওঠানো একজন মানুষের মত, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে একটাই প্রার্থনা করে যাতে অনিবার্য কাজটা যতক্ষণ সম্ভব দূরে রাখা যায়। এমন কিছুই বলতে পারবেন না আপনি যাতে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে। আপনি জানেন যে অবশ্যই এটাতে স্বাক্ষর করতে হবে আপনাকে। কাজটা সেরে ফেলছেন না কেন, স্যার?
নি: কথার মত একটা কথা বলেছেন বটে এবার আপনি, জো।
ব্যাল: ওরকম নির্বোধ উক্তি ছোঁড়া যায় ওর দিকে।
প্লি: গিলে ফেলুন ওটা, স্যার। রেখে দিলে আরো সুস্বাদু হবে না: তাই না?
লী: আহ্, ঈশ্বরের দোহাই, স্বাক্ষর করে ফেলুন, স্যার। আমার প্রতি একটা অত্যাচার এটা।
ম্যাগ: বুঝতে পারছি, ধৈর্যের শেষ সীমায় চলে এসেছেন আপনারা। এটাকে আর বাড়তে দেব না: খুব ধৈর্যশীল ছিলেন আপনারা; এজন্য ধন্যবাদ জানাই। আলোচনার মাধ্যমে আর কিছু বলব না। ঐ সময়ে, অন্য কোনো পথ যদি খোলা না পাই, একটা শব্দও আর উচ্চারণ না করে অবশ্যই স্বাক্ষর করে দেব। এই ফাঁকে, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গন, শুভ বিদায়!
(তিনি উঠবেন, সবাই উঠবেন। মার্চ করে বেরিয়ে যাবেন তিনি)

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *