সুস্মিতা চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা


untitledএ বসন্তে দোলের বাতাসে

দোলপূর্ণিমার এই নির্মল ফাগুনে
আমি পরকীয়া করি বন্ধু বিহনে
এ কীয়া পাতার সাথে ঝলোমলো দিনে
এ কীয়া গন্ধের সাথে আমের মুকুলে
এ কীয়া গায়েতে মাখি দোলের বাতাসে
এ কীয়ায় ছুঁয়ে যাই পথপার্শ্ব চিনে
এ কীয়া ছড়িয়ে যায় শরীরে মননে
এ কীয়ায় অপেক্ষা নয়নে নয়নে
এ কীয়ায় মন মজে কোকিলের তানে
এ কীয়া ঘাসের সাথে প্রজাপতি গানে
এ কীয়া ভোলায় একা প্রকৃতির বনে
এ কীয়া সড়কে হাঁটা মানুষের পানে
এ কীয়া কাছের সাথে দূরের গহীনে
এ কীয়া আঁধারে আলো জোনাকির সনে।

পরকীয়া হেসে ওঠে দোলের আকাশে
স্বকীয়ার চাঁদ হাসে কামনার বশে
আবিরে রাঙিয়ে তারে নীল দীর্ঘশ্বাসে
উড়িয়ে ছড়িয়ে দিই প্রেম পরবাসে
কিছু তার জমা রাখি বাসকের নীলে
অার কিছু পরকীয়া ভাঁটফুলে জ্বলে
অারও জানে গাছে থাকা পলাশ-প্রদীপ
বাতাবী-ফুলের ডাকে দোলে দুলে প্রণয়ের গীত!

রাবি-ক্যাম্পাস: ৫ মার্চ।

বাতাস

পুরোনো বাতাস তবু নব্য
কাছে ডাকে পোড়া তোর কাব্য!
দূরে যাবো নাকি ফের স্নানে যাই,
দোটানায় দাঁড়ানো মুহূর্ত!

মনে পড়ে কত ঝড়-ঝঞ্ঝার
কত দিন রাত একা গুঞ্জার
শব হয়ে শুয়েছি বিবর্ণ!

অচেনা সময় বুঝি জানতো
কোনো দিন জেগে যাবে প্রাণ তো!
শীত-ঘুম থেকে সাপ বেরুবে।

পুরোনো বাতাস নির্লজ্জ
চুমুর চমক আনে চিবুকে,
পুরোনো বাতাস ঠোঁটে কম্পন!
তছনছ করা ঢেউ এ বুকে।

ক্ষয়েছে সকল সোনা যে বিষে–
খুন হয়ে যেতে যেতে প্রান্তে,
আজ সেই বিষ ঢেলে ঢোঁড়া সাপ;
পিঁপড়ের চেয়ে কত শান্ত!

শরতে আকাশ নীলে পূর্ণ
ঘনঘোর জলে তবু দীর্ণ!
জল ঝরে আয় তবে করি স্নান;
আকাশটা ঐ দেখ্ হাসছে!

পুরোনো বাতাস ভরা সাহসে
বয়ে যায় খুব বেশি গা ঘেঁষে,
প্রেম হয়ে এসেছে পাষণ্ড!

রাবি-ক্যাম্পাস: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪।

ঠাঠা এ বৈশাখ!

কৃষ্ণচূড়া লালে আগুনমুখো দিন
পাশেই জারুলের স্নিগ্ধতার বিণ
বাজিয়ে ডাকছে সে জলদ-বন্ধুরে
আহা রে বৈশাখ এ ঠাঠা রোদ্দুরে।

কলজে-পোড়া তাপে গুমোট চারপাশ
এ কোন তৃষ্ণায় ছাতারও হাঁসফাঁস
বাতাসে ভরা বুঝি বারুদে-বুদ্বুদ
ঝলসে যাওয়া ঘাসে মাঠেরা অদ্ভুত!

এমনও দিনে বুঝি শিশুরা স্কুলগামী
আহা এ বিদ্যা পোশাকে হলো দামী!

রাবি-ক্যাম্পাস: ২৮ এপ্রিল, ২০১৪।

সাইকেলে শীত

জমাট সময় চলছে শীতের ছুটি
কুয়াশার মিহি দানা দানা রাত্তির
মাফলার-টুপি-সাইকেলে জমে হিম!
মায়া বাড়ে রাত জেগে থাকা যাত্রীর।

এমন সফর কুহকের কারুকাজে
ভেসে যেতে থাকে রূপকথা-মিথ-মাঠ
সাইকেল চলে কুয়াশা ভেজানো জলে
কুয়াশাই বুঝি এ শীতের ঠাটবাট!

আমড়ার গাছ হলদে পাতায় সাজে
পাতা ঝরাবার অন্তিম কাঙ্ক্ষায়
সামনে সময় ঝরা-পাতা-রাস্তায়
উড়ে যাবে শীত সাইকেলে-পাঙ্খায়!

রাবি-ক্যাম্পাস: ৬ জানুয়ারি, ২০১৫।

এখন ঠিক আমি
এখন ঠিক আমি
তোমাতে যাবো মিশে
সহ্যাতীতকালে
জমাট ঠাণ্ডায়।

তোমার চোখে চোখে
মুহূর্তের দেনা
মাখবে আলগোছে
আমার বোজা চোখে।

এ কোন্ বিস্ময়!
এ কোন্ তোলপাড়!
এ কোন্ উষ্ণতা!
বাহিরে শীতকাল।

তোমার করপুটে
ভরা এ বুকভার
এ কোন্ রূপকথা!
সহসা ঝলকায়!

তোমার পথে পথে
ছড়ানো পথিকের
চিহ্ন খুঁটে খুঁটে
হাঁটছে মানুষেরা
আমিও সেই পথে
কুঁড়াবো কুয়াশার
পাতার জলছবি
ঘাসের ভেজা ভেজা!
পকেটে পুরে নেবো
একটি ফুলপাতা
বাকিটা রয়ে যাবে
তৃপ্ত বিশ্বাস
তোমার তরে সেই
আদর ভেজা ভেজা
কুয়াশাকান্নারা
ডাকবে দিনমান।

এ কোন্ বিস্ময়!
এ কোন্ তোলপাড়!
এ কোন্ উষ্ণতা!
তীব্র শীতকাল।

প্রতিটা শীতে দেখো
পাতারা ঝরে যায়
জীবন বদলায়
গাছের পাতাঝরা
আবার দুলে ওঠে
বসন্তের দিনে
জীবনে জুড়ে থাকে
পাতার সম্ভার।

এমনি সময়ের
হাওয়ার পালে তুমি
হাওয়ার গা ঘেঁষে
অামিও বয়ে যাই!

এ কোন্ বিস্ময়!
জীবন তোলপাড়!
তোমার চোখে নব
প্রণয় বলকায়!

এখানে উষ্ণতা!
শীতের শীৎকার!

রাবি-ক্যাম্পাস: ২১ জানুয়ারি, ২০১৫।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *