দারা মাহমুদ
ব্যাপারটা কি? তোরা সব এমন করছিস যেন বাড়িতে কেউ মরে গেছে! একটু চড়া গলায় কথাগুলো বললো আরিফ।
খুকু কোনো কথা বললো না।
আরিফ একটা লুচি মুখের মদ্যে ঢুকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চিবুলো। একটু পানি খেলো। হঠাৎ করেই খুকুর চোখের দিকে সন্দেহের চোখ ছুঁড়ে দিয়ে বললো, তুই বিকেলে পড়তে যাসনি কেনো?
এবার খুকু কথা বললো। বেশ নিস্পৃহ গলায় বললো, কিছুদিন হলো পড়তে যাচ্ছি না।
কেনো?
ভাইয়া, শহরের অবস্থা খুব খারাপ।
শহরের আবার কি হলো?
খুকু কথা ঘুরানোর ভঙ্গিতে বললো, ভাইয়া তুমি কি এখন বাইরে যাবে?
হ্যাঁ
এখন না বেরুলে হয় না? তা ছাড়া সারাদিন জার্নি করেছ, রেস্ট নাও।
একটু বেরুতে হবে। কাজ আছে।
আরিফ বাসায় ঢোকার পর থেকে সবাই কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বাবা সেই দুপুর থেকে ঘুমুচ্ছে তো ঘুমুচ্ছেই। মা রান্না ঘরে রানছে তো রানছেই। আর খুকু দু’ঘন্টায় কথা বলেছে আট-দশটা। ব্যাপারটা কি? আরিফ তো গত মাসেও টাকা পাঠিয়েছে! অন্যান্যবার এলে সবাই হামলে পড়ে। খুকু তো কিছু একটা না পাওয়া পর্যন্ত ঘুরঘুর করতেই থাকে।
বাড়ি থেকে বেরুলো আরিফ। ইকবাল সাহেব দশ হাজার টাকা দিয়েছেন, আজই ওদের বারান্দিপাড়ার বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। ইকবাল সাহেব আরিফদের অফিসের অ্যাসিসটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার। বলা যায়, ইকবাল সাহেবের জন্যই এতো বড় কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরিটা পেয়েছে আরিফ। খালাম্মার হাতে টাকাটা পৌঁছে দিতে হবে আগে। তারপর শর্মিদের বাসায় যেতে হবে। প্রায় পাঁচ মাস হলো শর্মির সাথে দেখা নেই। টেলিফোনে কথা হয় না দিন পনের হবে। শর্মির সাথে প্রেম-প্রীতির বিষয়টা নিয়ে এখন আর কোনো সংগ্রাম নেই। চাকরিটা পাওয়ার পর শর্মির বাবা মা তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছেন। বিয়েটা এখন সময়ের ব্যাপার। এনগেজমেন্টের জন্য এবার ঢাকা থেকে আংটি এনেছে আরিফ। বাড়িতে তো কেউ কথাই বললো না। ব্যাপারটা তোলাই হয়নি।
সম্পূর্ণ…»