দারা মাহমুদ

জুল
16

দারা মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

দারা মাহমুদ

 

প্রেম

মানুষ নিজের থুতু নিজে খায়
পেটের ভেতর তা আবার
জারক রসের কাজ করে
তবে থুতু একবার মুখ থেকে
বেরিয়ে গেলেই তা আর
খাওয়া যায় না

 

পুরুষ পাথর

পুরুষ পাথর বালি দিয়ে তৈরি
নারীর টোকায় ভেঙে যায়
একথা অভিললনা মৌনি
যেমন জানে
বস্তির বিন্দুও সেরকম

 

সম্পূর্ণ…»

ডিসে
20

গল্প: ঘোর

দারা মাহমুদ

 

আমার বাবার একটা প্রিয় কুকুর ছিলো, নাম কালু। বাবা যখন কোর্টে যেতেন, কুকুরটা পেছন পেছন যেতো। বাবা আর মহুরি চাচা রিকশায় উঠলে, কালু ফিরে আসতো। লেজ নাড়াতে নাড়াতে। এই ভাবে প্রতিদিন কালু বাবাকে সি অফ করতো। একদিন কুকুরটা মারা গেলো। কুকুরটার মৃত্যুতে বাবা খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। একদিন না খেয়ে ছিলেন। এসব আমার শোনা কথা। কারণ তখন আমার জন্মই হয়নি। কালুর মৃত্যুর পনের দিন পর আমার জন্ম হয়। মায়ের চতুর্থ এবং শেষ সন্তান, আর বাবার অষ্টম এবং শেষ সন্তান হিসাবে। আমার বাবার ছিলো দু’টি পরিবার। আমার জন্ম দ্বিতীয় পক্ষে। আমার যখন জন্ম হয় তখন আমাদের বাড়ির লোকজন সন্তান দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমার জন্মটা আকাঙ্খিত ছিল না। বাবা তার কুকুরের নামে আমার নাম রাখলেন “কালু”।

কুকুরের নামে আপনার নাম রাখলো?

এতোক্ষণে কথা বললো মেয়েটা। সেই সন্ধে থেকে মুখোমুখি বসে আছে, অনেকটা নীরব শ্রোতার মতো। মুশফিকুর রহমান, ওরফে কালু ওরফে মুশফিক সন্ধ্যায় সংসদ ভবন এলাকা থেকে মেয়েটাকে এনেছে তিনশত টাকা রাত চুক্তিতে। মেয়েটা অবশ্য পাঁচশ হেঁকেছিলো, দরদাম শেষ পর্যন্ত তিনশতে ঠেকে। বাসায় আনার পর থেকে মুশফিক কেমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। পুরো দু’হাজার টাকা মেয়েটার হাতে ধরিয়ে বললো, এই সোফাটায় বসো, তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে।

সম্পূর্ণ…»

সেপ্টে
09

গল্প: অচেনা শহর

দারা মাহমুদ

ব্যাপারটা কি? তোরা সব এমন করছিস যেন বাড়িতে কেউ মরে গেছে! একটু চড়া গলায় কথাগুলো বললো আরিফ।

খুকু কোনো কথা বললো না।

আরিফ একটা লুচি মুখের মদ্যে ঢুকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চিবুলো। একটু পানি খেলো। হঠাৎ করেই খুকুর চোখের দিকে সন্দেহের চোখ ছুঁড়ে দিয়ে বললো, তুই বিকেলে পড়তে যাসনি কেনো?

এবার খুকু কথা বললো। বেশ নিস্পৃহ গলায় বললো, কিছুদিন হলো পড়তে যাচ্ছি না।

কেনো?

ভাইয়া, শহরের অবস্থা খুব খারাপ।

শহরের আবার কি হলো?

খুকু কথা ঘুরানোর ভঙ্গিতে বললো, ভাইয়া তুমি কি এখন বাইরে যাবে?

হ্যাঁ

এখন না বেরুলে হয় না? তা ছাড়া সারাদিন জার্নি করেছ, রেস্ট নাও।

একটু বেরুতে হবে। কাজ আছে।

আরিফ বাসায় ঢোকার পর থেকে সবাই কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বাবা সেই দুপুর থেকে ঘুমুচ্ছে তো ঘুমুচ্ছেই। মা রান্না ঘরে রানছে তো রানছেই। আর খুকু দু’ঘন্টায় কথা বলেছে আট-দশটা। ব্যাপারটা কি? আরিফ তো গত মাসেও টাকা পাঠিয়েছে! অন্যান্যবার এলে সবাই হামলে পড়ে। খুকু তো কিছু একটা না পাওয়া পর্যন্ত ঘুরঘুর করতেই থাকে।

বাড়ি থেকে বেরুলো আরিফ। ইকবাল সাহেব দশ হাজার টাকা দিয়েছেন, আজই ওদের বারান্দিপাড়ার বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। ইকবাল সাহেব আরিফদের অফিসের অ্যাসিসটেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার। বলা যায়, ইকবাল সাহেবের জন্যই এতো বড় কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরিটা পেয়েছে আরিফ। খালাম্মার হাতে টাকাটা পৌঁছে দিতে হবে আগে। তারপর শর্মিদের বাসায় যেতে হবে। প্রায় পাঁচ মাস হলো শর্মির সাথে দেখা নেই। টেলিফোনে কথা হয় না দিন পনের হবে। শর্মির সাথে প্রেম-প্রীতির বিষয়টা নিয়ে এখন আর কোনো সংগ্রাম নেই। চাকরিটা পাওয়ার পর শর্মির বাবা মা তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছেন। বিয়েটা এখন সময়ের ব্যাপার। এনগেজমেন্টের জন্য এবার ঢাকা থেকে আংটি এনেছে আরিফ। বাড়িতে তো কেউ কথাই বললো না। ব্যাপারটা তোলাই হয়নি।

সম্পূর্ণ…»

অগা
07

চারটি কবিতা

দারা মাহমুদ


স্মৃতিঘর

 

খোলস ছাড়তে ছাড়তে সে ছুটে যায়
দিন আর রাত্রির টানেল বরাবর
তার পিছনে ধাওয়া করে
তারই ছেড়ে আসা মুখোশগুলো
একদিন যাদেরকে নায়িকা ভেবে
প্রবল বিভোর ছিল
আজ তারা প্রেত হয়ে
মেলে ধরে দাঁতের করাত
পৃথিবীর এসব বীভৎস ইমেজ থেকে
দূরে— কোনো অচিনপুরে
যেখানে মধু ও মদের নদীতে স্নান হয়
সেখানে যাবে বলে তার এই গতি দৌড়
এটা কোনো খেলা নয়, প্রতিযোগী নেই,
তবু সে জীবনমরণ দৌড়ে যায়
মাঝে মাঝে ছেড়ে আসা
খোলসের জন্য মায়া হয়
স্মৃতিঘর বড়ই নির্মম

সম্পূর্ণ…»