মাজুল হাসান

সেপ্টে
07

মান্নান সৈয়দের গল্প: সাপ-ব্যাঙই মুখ্য নয়

মাজুল হাসান

কোনো এক জায়গায় আব্দুল মান্নান সৈয়দ বলেছিলেন: আধুনিকতা নয়; পশ্চিমবঙ্গের দাদাবাবুরা আমাদের এপারেরর গল্পে সাপ-ব্যাঙ-কুঁচে দেখতে চান। জানি না কোন খেদ থেকে এসব বলেছিলেন মান্নান সৈয়দ তবে একথা নিশ্চিত তার অনেক গল্পই পূর্ববঙ্গের সেই গদবাঁধা বুনো, আদিমতা ও লতা-পাতা ভরা (আনস্মার্ট! গেঁয়ো) বর্ণনার ধার ধারেনি। যদিও সেখানে হলুদ পাখি আছে, বউ-কথা কও আছে, ডোবার মতো পুকুর আছে; কিন্তু তার ভেতরের চালিকাশক্তি এক সচেতন ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতাবাদী সত্তা। যে মানুষকে পর্বতের মতো অহংকারী করে, জলের মতো আকার-আকৃতি নির্বিশেষ করে, নিজের জালে আটকাপড়া মাকড়শার মতো দুঃসময়ে কামড়ে খেতে বাধ্য করে নিজেরই পা। এই হলো আধুনিকতা–আরো পরিষ্কার বা গণ্ডিবদ্ধ সংজ্ঞায়নের হলে বলতে হয়–নাগরিকতা। মান্নান সৈয়দ আধুনিক ও নাগরিক, অন্তত গল্পে।

পশ্চিমবঙ্গের দাদাবাবুরা পূর্ববঙ্গকে দেখে স্মৃতি থেকে, সেই দেখা দেশ বিভাগের আগের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের আগের। এরমধ্যে পূর্ববঙ্গে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে যে একটি আধুনিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠেছে তা বলাই বাহুল্য। যে অর্থে ইলিয়াস বা হাসান আজিজুল হক ওপার বাংলায় গৃহীত, সেই অর্থে গল্পকার মান্নান সৈয়দের গল্প ওপারে প্রশংসিত নয়। কারণ, তাঁর নিজ জবানীতেই: বাবুরা পূর্ববঙ্গের গল্পে যে সাপ-ব্যাঙ দেখতে চায়, তার অনুপস্থিতি। তবে ঠিক অনুপস্থিতি নয়, মান্নানের গল্প অনেক বেশি নাগরিক, সেখানে নাগরিক মানসের টানাপোড়েন আছে, আছে অর্থহীনতা ও শ্লেষ মেশানো মধ্যবিত্ত ব্যবচ্ছেদ। আর এই কাজটি যদি পূর্ববঙ্গের কেউ সম্পূর্ণ…»

অগা
04

ধ্বস্ত উড়াল ও কতিপয় নাককাটা মানুষ

মাজুল হাসান

পৃথিবীর সব ওয়েটিং রুমের বাহ্যিক অবস্থায় যতোটা বৈসাদৃশ্য ও বৈচিত্র থাক না কেন, তাদের মধ্যে কিছু কমন অভিজ্ঞতা থাকে। তার একটি হলো এর ক্ষণিক প্রেম রচনার ইতিহাস। জানা নেই, শোনা নেই, হঠাৎ করেই হালকা বাতাস ধেয়ে আসে। যেন কোনো তাবিজ গাছে আগে থেকেই বাঁধা ছিল বশীকরণ তাবিজ। হাওয়ায় তাবিজ দোলে আর ওয়েটিং রুমে তৈরী হয় প্রেমাবহ। এমন চকিত চাহনি আর অসম্পূর্ণ প্রেম নিয়ে ঘুরপাক খায় ওয়েটিং রুম। গল্পের শুরু এমন একটি ওয়েটিং রুম থেকে।

জেলা শহরের এই বিমানবন্দরের দৈন্যদশা এর ওয়েটিং রুমেও চোখে পড়ে। আগের দিনের মানুষ বলতেন ছেলের জন্য বৌ দেখতে গেলে দেখতে হয় মেয়েপক্ষের রান্নাঘর। যে পরিবারের রান্নাঘর যতো ফিটফাট সে পরিবার ততো গোছানো। আর সেই পরিবারের মেয়েই নতুন সংসারে এসে আলোকিত করবে ঘরগেরস্ত। তা যা হোক। ওয়েটিং রুমে এক জোড়া চোখের চোরা চাহনি সবার চোখ এড়ালেও নাদের শাহর কাছে ঠিকই ধরা পড়েছে। এমন অনেক দেখেছে, ওয়েটিং রুমের শুভদৃষ্টি গড়িয়েছে বাসর পর্যন্ত। তবে তা পরিসংখ্যানের পাহাড়ে নস্যি মাত্র। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওয়েটিং রুমকে ঘিরে আবর্তিত হয় অসম্পূর্ণ প্রেমাখ্যান। কিন্তু আজকাল আর সহ্য হয় না নাদেরের। পোলাপাইন যেন কেমন ছোঁকছোঁক করে সব সময়। যুগের হাওয়া!  নাদের জানে পাশের অপরিচিত লোকটির সাথে কথা বলার এই এক সুযোগ। জুসি বিষয়।

- বুঝলেন অনেক দেখেছি। এতে কিচ্ছু হবে না–

নাদের শাহর কথায় মনোযোগ আপনা থেকেই কেন্দ্রে মিলিত হয়। প্রায় ঘন্টা খানেক এক রুমে থেকেও কথা হয়নি জমশেদ আলীর। নাদেরের কিউ পেয়ে আলাপচারিতা শুরু হয়। কে কোথায় থাকে, কি করে, রাজধানীতে ব্যবসা নাকি চাকরি, এখানে কোথায় আসা হয়েছিল সব জানা হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যে। এমন সময় যা হয় মানুষ নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করে, জানান দিতে চায় তিনি ভূ-ভারতে সব থেকে না হলেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। জমশেদও তেমন। এমন সময় সে নিজের পৈতৃক ব্যবসা আর ব্রিটিশ আমলে তাদের দেড় হাজার বিঘা জমির গল্প শোনায়, যদিও এর ছিটেফোঁটাও সে চোখে দেখে নি। তার দাদাজান দেখেছেন কি না সেটাও সন্দেহ।

সম্পূর্ণ…»

মে
18

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান

জলাতঙ্ক

নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না
নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি
অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে
দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি
জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর…
আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে
বেরুতে ভয় পাই। ভয় পাই শিমুল ফুলের পাশ ফিরে শোয়া
বিবেকের কথা যদি বলো—তবে বড়জোর—
রক্তের বোতল নিয়ে ওটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাটাকে
মনে হয় বায়েজিদ বোস্তামি
হে শহরশিশু, বলো—শেষ কবে বর্ষা নিয়ে দাঁড়িয়েছি শিওরে তোমার?
কবে বলেছি—ভোক্কাট্টা? কোথা থেকে—পুষ্পরাগ?
তবু রেণুসুর, কয়েলকাব্য ছিড়ে—গেল রবিবার—বৃষ্টির মুখে
চুমু খেতে গিয়ে আঁতকে উঠেছি…

সম্পূর্ণ…»