মাজুল হাসান
কোনো এক জায়গায় আব্দুল মান্নান সৈয়দ বলেছিলেন: আধুনিকতা নয়; পশ্চিমবঙ্গের দাদাবাবুরা আমাদের এপারেরর গল্পে সাপ-ব্যাঙ-কুঁচে দেখতে চান। জানি না কোন খেদ থেকে এসব বলেছিলেন মান্নান সৈয়দ তবে একথা নিশ্চিত তার অনেক গল্পই পূর্ববঙ্গের সেই গদবাঁধা বুনো, আদিমতা ও লতা-পাতা ভরা (আনস্মার্ট! গেঁয়ো) বর্ণনার ধার ধারেনি। যদিও সেখানে হলুদ পাখি আছে, বউ-কথা কও আছে, ডোবার মতো পুকুর আছে; কিন্তু তার ভেতরের চালিকাশক্তি এক সচেতন ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতাবাদী সত্তা। যে মানুষকে পর্বতের মতো অহংকারী করে, জলের মতো আকার-আকৃতি নির্বিশেষ করে, নিজের জালে আটকাপড়া মাকড়শার মতো দুঃসময়ে কামড়ে খেতে বাধ্য করে নিজেরই পা। এই হলো আধুনিকতা–আরো পরিষ্কার বা গণ্ডিবদ্ধ সংজ্ঞায়নের হলে বলতে হয়–নাগরিকতা। মান্নান সৈয়দ আধুনিক ও নাগরিক, অন্তত গল্পে।
পশ্চিমবঙ্গের দাদাবাবুরা পূর্ববঙ্গকে দেখে স্মৃতি থেকে, সেই দেখা দেশ বিভাগের আগের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের আগের। এরমধ্যে পূর্ববঙ্গে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে যে একটি আধুনিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠেছে তা বলাই বাহুল্য। যে অর্থে ইলিয়াস বা হাসান আজিজুল হক ওপার বাংলায় গৃহীত, সেই অর্থে গল্পকার মান্নান সৈয়দের গল্প ওপারে প্রশংসিত নয়। কারণ, তাঁর নিজ জবানীতেই: বাবুরা পূর্ববঙ্গের গল্পে যে সাপ-ব্যাঙ দেখতে চায়, তার অনুপস্থিতি। তবে ঠিক অনুপস্থিতি নয়, মান্নানের গল্প অনেক বেশি নাগরিক, সেখানে নাগরিক মানসের টানাপোড়েন আছে, আছে অর্থহীনতা ও শ্লেষ মেশানো মধ্যবিত্ত ব্যবচ্ছেদ। আর এই কাজটি যদি পূর্ববঙ্গের কেউ

