মুম রহমান

ডিসে
31

iগল্প

মুম রহমান

মৃত্যু

মৃত্যুর চারদিন আগে থেকেই মা কথা বলতে পারতেন না। আমি দেখেছি তার নির্বাক চোখের চাহনি। মৃত্যু পথযাত্রী সব রুগীদের চোখে আমি সেই চাউনি দেখতে পাই। তবু আমি রুগীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখি। এরপরও অনেক রুগী সুস্থ হয়ে দেখা করতে আসে। রুগীর আত্মীয়স্বজনের সাথেও দেখা হয়ে যায় প্রায়ই।
কিন্তু এই কবরস্থানেও দেখা হবে এক রুগীর বাবার সঙ্গে তা ভাবিনি।

দুদিন আগে সে এসেছিলো। তার সঙ্গে ফুটফুটে একটি মেয়ে। তিন-চার বছর বয়স। লোকটি খুব কাঁদছিলো, ডাক্তার সাহেব আমার একটিই মেয়ে। অসহায় লোকটি পারলে আমার পা জড়িয়ে ধরে। আপনি আমার মেয়েকে বাঁচান।

আমি তাকে ধমক দিয়ে ওয়ার্ড থেকে বের করে দিয়েছিলাম। মেয়েটি কিন্তু একটাও কথা বলেনি। আমি জানি, তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আমার মায়ের সেই চাউনির মতো।
আমি মেয়েটিকে ফেরত পাঠিয়ে ছিলাম, খামাখা হাসপাতালে রেখে কী লাভ, একটা বেডের অপচয়।
এখন এখানে তাকে দেখে বুঝতে পারি, মেয়েটি মারা গেছে। আমি লোকটির কাছে যাই। হাত রাখি তার পিঠে। আপনার মেয়েটি মারা গেছে, তাই না?
সে নিরুত্তর।
আমার মাও মারা গেছে, তিন বছর আগে। আমার ডাক্তার হওয়ার একমাস আগেই।
সে নিরুত্তর।
আচ্ছা মানুষ মরে কেন?
এইবার সে চোখ তুলে তাকায়, নির্বাক চোখ। আমি আঁতকে উঠি। লোকটার চোখে, সেই চাহনি যা তার মেয়ের চোখে ছিলো, যা আমার মা’র চোখে ছিলো।

সম্পূর্ণ…»

অক্টো
28

গল্প ও গল্পভাবনা: আমি ও আমার ভালবাসার গল্পেরা

মুম রহমান
গল্প : ০১. আমার এক লক্ষ প্রেমিকা

তার নাম যদি আমি এক লক্ষবার লিখতে চাই তবে আমার আয়ু লাগবে ২৭৩.৯৭২৬০২৭৩ বছর। সে ভাবে, শুধু নামই লিখবো না, আমি ওকে যেদিন যে নামে ডাকবো, সেদিন সে রকমও দেখবো।

এভাবে সে একেকদিন প্রেমিকাকে পেয়ে যাবে গান, পাথর, নদী, আগুন, জলপাই,সন্দেশ, পৃথিবী… রূপে।

ডাকতে ডাকতে সে পেয়ে যাবে সমুদ্র, পাহাড়, বই, পাখি, ফুল, পুতুল, ছবি, মা… আরো কত কী।

তাছাড়া ফুল নামে ডাকা হয়ে গেলে তাকে ডাকবে বেলি, গোলাপ, হাসনাহেনা, কামিনী, মাধবী নামে…।

নদী নামে ডাকা হয়ে গেলে তাকে ডাকবে মেঘনা, পদ্মা, যমুনা, শীতলা, ধানসিঁড়ি, রূপসা নামে…।

পাখি নামে ডাকা হয়ে গেলে তাকে ডাকবে বুলবুল, টুনটুনি, চড়ুই, টিয়া, দোয়েল, কোকিল, শ্যামা… নামে।

আর যেদিন যে নামে ডাকবে সে রূপে পেয়ে যাবে বলেই, বেলি নামে ডাকলেই তার প্রেমিকার রঙ হবে সাদা, গন্ধ হবে তেমন শান্ত মধুর। আর বলবে আজ আমাকে নাও ফুলদানিতে।

এভাবে যেদিন প্রেমিকাকে সে ধানসিঁড়ি নামে ডাকবে সেদিন তার বাড়ি হবে বরিশাল। মনে পড়বে জীবনান্দকে আর বলবে, আবার আসিবো ফিরে।

এভাবে যেদিন তাকে টুনটুনি নামে ডাকবে সেদিন তার প্রেমিকা হবে বড্ড ছটফটে। এই ডাল থেকে ছুটে যাবে সেই ডালে। আর বলবে, তেল আনো নুন আনো, পিঠা বানাই আজ।

এভাবে সে তার একলক্ষ প্রেমিকাকে পেয়ে যাবে একজনের মধ্যেই। এ জন্য সে শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে ২৭৩.৯৭২৬০২৭৩ বছরের আয়ু।

সম্পূর্ণ…»