শামস আল মমীন
ওরা চিৎকার করে কিছু বলতে শেখেনি
প্রকৃত জ্ঞানীরা শেষমেশ যুক্তিবাদী হয়ে ওঠে, কারণ
কোনকিছু ওরা চিৎকার করে বলতে শেখেনি।
একটা কবিতা মিথ্যেবাদীর সাজানো গল্প হতে পারে
একটা কবিতা নিন্দুকের রটনাও হতে পারে;
হতে পারে শুধু এর শুরুটাই মিথ্যা।
মিথ্যুকেরা ভিতরে ভিতরে সত্যকে পরাস্ত করে।
টেলিফোন বাজে, বারবার টেলিফোন বাজে, কিন্তু
কেউ কথা বলে না। এই নীরবতা আমি ভাঙতে চেয়েছি।
বাড়িটা নীরব, তার মানে এই নয় ঘরে কেউ নেই।
এইসব ছলচাতুরি আমার জানা আছে
ওদের মহৎ কথা, কানে কানে কথা,
যতো যুক্তিতর্ক..
একদিন নিজেরাই নিজেদের অর্থ খুঁজে পাবে; কারণ
ওরা চিৎকার করে কিছু বলতে শেখেনি।
অসুখী প্রেমের গল্প
মেয়েটা ওবীস্।
ঘূর্ণিস্রোতের জলের মতো কোমরের ভাঁজ তার, ওঠে
নামে… অসুখী নারীরা যেমন, প্রেমের অ-সুখে, অমাবশ্যা
পেতে রাখে চোখে-মুখে, আসলে কে জানে তার যন্ত্রণা কোথায়।
ইচ্ছা হয় জেনে নেই কে প্রথম দেখেছিল জীবনের ভ্রূণ।
না-কি, আমিই জন্মমৃত্যুকে বুনে যাই…দূরে,
সমুদ্রের নিস্তব্ধতা… গোপনে কি যে বলে আমার পরাণে, আমার
চোখের পলক বোঝে শুধু সেই কথা। আমি কি সূর্যের কথা বলি,
না বৃষ্টির? আমি কি দেবতা কারও? তবু কেন ছুটে আসে লতাগুল্ম,
পিঁপড়ের দল, ছোট ছোট খড়কুটা? ওরা ভয়ে ভয়ে থাকে
এই বুঝি এলো বন্যা, আবার অকাল মৃত্যু…। আমি সমুদ্রের
নিস্তব্ধতা বুঝতে চেয়েছি, মাছধরা নৌকাগুলো বার বার কেন
পথ ভুলে আসে আমার গাঙেই। আবার নতুন পাখনা গজাবে
নাকি দেহের আড়ালে? আমি কি মানুষ না-কি দেবতার পূজা করি?
আমি জন্ম, আমি মৃত্যু… তবু বয়সের কাছে হাত পাতি।
ভাঙা সাঁকোটির নিচে কালো জল… পরিত্যক্ত পাহারাঘরটি
দেখে মনে পড়ে প্রথম ভালোবাসার কথা; প্রথম ছোঁওয়ার
থর থর কাঁপা সহজে কি ভোলা যায়। কখনো আকাশে মেঘ,
কখনো বরফ, কখনো নদীতে বহমান স্রোত হয়ে ওরা থেকে যায়…
অলস সকালে যখন কাঠবিড়ালি গুটিসুটি
হয়ে শোনে বৃষ্টি আর কুয়াশার গান; আমার বিষাদ মন
নেচে গেয়ে ওঠে।
ঘুমের ভেতর আমি কতবার মরে যাই… সকালে ওঠার আগে ক্লান্ত,
ক্লান্ত এবং বিষণ্ণ চোখ মেলে থাকি আদিম উৎসের দিকে। কিন্তু…
কতদিন আমি টলমান নপুংসক দেবতাকে
ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রাখবো?