সাখাওয়াত টিপু

সেপ্টে
07

‘শামসুর রাহমানের কোনো বন্ধু ছিল না যারা ছিল তারা সবাই স্তাবক’

সাক্ষাৎকার:

আবদুল মান্নান সৈয়দ

_____________________

৫ সেপ্টম্বর ছিল আব্দুল মান্নান সৈয়দের মৃত্যুবার্ষিকী। একাধারে কবি-প্রাবন্ধিক ও গল্পকার তিনি। সকল শাখাতেই সমান পারদর্শী। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ প্রকাশের মধ্য দিয়েই পাঠকমহলে জানান দিয়ে রাখেন, এদেশের সাহিত্যে তিনি একটা পাকাপাকি আসন গড়তেই এসেছেন। এরপর তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শুদ্ধতম কবি’, দেশের সকল কবির পাঠতালিকায় অপরিহার্য গ্রন্থ হিসেবে ঠাঁই পেয়ে যায়। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা একশত ঊনিশ। তাঁর সামনাসামনি হয়েছিলেন ফরিদ কবির, মাতিয়ার রাফায়েল ও সাখাওয়াত টিপু। এটি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক কাগজের ৫ মার্চ ২০০৮ সংখ্যায়। পাঠকের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে মান্নান সৈয়দের বচন প্রকাশ করা হলো।

______________________

ফরিদ কবির: মান্নান ভাই, ফরমাল ইন্টারভিউ নয়, আমরা ইনফরমালিই শুরু করি, আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’-র আগে আপনার কিছু কবিতা ছিল যেগুলো আপনি গ্রন্থভুক্ত করেননি, কিন্তু পরবর্তীকালে সে সব কবিতার কিছু অন্যগ্রন্থে জায়গা দিয়েছেন, আমার প্রশ্ন, সে কবিতাগুলো জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছে জায়গা দিলেন না কেন?

সম্পূর্ণ…»

জুল
14

যেগুলো আকাশে ভাসে সেগুলো তাৎক্ষণিক সাহিত্য

সাক্ষাৎকার:

সমরেশ মজুমদার

________________

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। গল্প দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম ‘দৌড়’। কথা সাহিত্যের ট্রিওলজি নামে পরিচিত ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’, ‘উত্তরাধিকার’ তাঁকে দুই বাংলার পাঠকদের মাঝে এনে দিয়েছে খ্যাতির শীর্ষ চূড়া। ‘সাতকাহন’ তাঁর অনন্য উপন্যাস। লিখেছেন বিস্তর। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ঢাকা সফরে এসেছিলেন। সে সময় তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন নতুনধারার। তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন ফরিদ কবির ও সাখাওয়াত টিপু। এটি গ্রন্থনা করেছেন মেহেদী উল্লাহ। সাক্ষাৎকারটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাহিত্য ক্যাফেতে প্রকাশ করা হল।

________________

সাখাওয়াত টিপু: সাহিত্য করতে এসে আপনি কখন বুঝলেন সমরেশ মজুমদার একজন সমরেশ মজুমদার হয়ে উঠলেন?
সমরেশ মজুমদার: আমি এখনো বুঝতে পারছি না একজন সমরেশ মজুমদারের সাথে আরেকজন সমরেশ মজুমদারের পার্থক্য কি? আমি যেমন ছিলাম তেমনই আছি। পাঠক যদি আলাদা করে নেয় সেটা তাদের ব্যাপার।
ফরিদ কবির: আপনি কি কখনো টের পেলেন কিনা ব্যক্তি সমরেশ মজুমদার আর লেখক সমরেশ মজুমদারের মধ্যে কোন তফাৎ আছে?
সমরেশ: হাঁ, আমি বুঝেছি অনেক পরে। যখন দেখলাম, লেখা ছাপা হওয়ার পর পত্রিকাওয়ালারা মাস শেষে টাকা দিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশকরা বই বিক্রির টাকা দিয়ে যাচ্ছে। কোন অনুষ্ঠানে গেছি পাঠকরা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, তখন বুঝলাম আমার ভেতরে একটা সমরেশ মজুমদার ছিল। একটা সমরেশ মজুমদার তৈরি হয়েছিল, যার জন্য পাঠকের সাড়া পেয়েছিলাম। এই সাড়াটা আশির দশকের ৮৫ কি ৮৬ সালের দিকে।
সম্পূর্ণ…»

জানু
24

সাখাওয়াত টিপুর কবিতা

নন্দনতত্ত্ব

১ নম্বর

এহা এহা
নহে নাকি
এহা যাহা
তাহা এহা

তাহা যাহা
এহা উহা
যাহা উহা
উহা তাহা

যাহা ইহা
এহা তাহা
উহা এহা
নহে যাহা

তারে নারে
নারে তারে
তাড়া খায়
এহা ইহাই

এহা নড়ে
উহা ধরে
মনোরম
সুন্দরম্

১/১/২০১২

সম্পূর্ণ…»

ডিসে
18

আর্ট: বাংলাদেশ-ভারতের শিল্পীদের যৌথ কর্মশালা ও চিত্রপ্রদর্শনী ‘ক্রসওভার’

বাংলাদেশ-ভারতের নির্বাচিত শিল্পীদের নিয়ে ‘ক্রসওভার’ নামে যৌথ কর্মশালা ও চিত্রশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করছে ত্রৈমাসিক শিল্পকলার কাগজ ডেপার্ট । ধানমন্ডি আর্টসেন্টারে  ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ক্রসওভার-এর ৫ দিনের কর্মশালার উদ্বোধন করবেন শিল্পী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। বাংলাদেশের শিল্পী ও সমালোচক মোস্তফা জামান আর ভারতের কিউরেটর সুষ্মা কে বাল ও অর্চনা বি সাপ্রার তত্ত্বাবধানে চলবে এই কর্মশালা। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব, শিল্প সমালোচক মিজারুল কায়েস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থপতি শামসুল ওয়ারেস।

প্রদর্শনী চলবে ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত।

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ক্রসওভার দ্বিতীয় পর্ব । দিল্লিতে কর্মশালা চলবে ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত। দিল্লিতে ক্রসওভার প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হবে অভিজাত গ্যালারি আর্ট মলে।

সম্পূর্ণ…»

ডিসে
16

দুটি কবিতা

সাখাওয়াত টিপু

মায়াবি খোলস

কে কোন দিকে যাবেন
ঋতু বদলাতে বদলাতে
তুমি মরতে মরতে যেন
কচি কচি পাতা ফোটে

কে কে আসিবেন খেতে
লিঙ্গ দোলাতে দোলাতে
আর তুমি উরু ফাক করে
কাটিতেছ ফর্সা তরমুজ

যদি নাই আসো তবে
হবে অশেষ নাগাদ
কারণ দুনিয়ার সবাই
ভাগতে ভাগতে জাগে

সে খেলায় আমি খোলামন
আর আপনি তুমির দিকে যায়!

২৩. ০৬. ২০১১

সম্পূর্ণ…»

অক্টো
26

আর্ট: শ্রীচৈতন্যের ভক্তি ও বিভক্তি প্রেমে ‘পড়া’ আর প্রেমে ‘ধরা’

সাখাওয়াত টিপু

এই মোর দেহ হতে তুমি মোর বড়
তোমার যেই জাতি সেই মোর দৃঢ়

— শ্রী চৈতন্যভাগবত

উন আর বিংশ শতকের ভারতের প্রসিদ্ধ কলাবিৎ শ্রী নন্দলাল বসু। বাজারে চাউর, শ্রী বসু নব-ভারতীয় ঘরানার শিল্পী। তাঁহার অতি নামজাদা একখানা শিল্পকর্মের নাম ‘গরুড় স্তম্ভমূলে শ্রীচৈতন্য’। বসু মহাশয়ের শিল্পের বিচারসভায় ঢু মারিবার আগে আমরা মহাভারতের আদিপর্বের জ্ঞানকাণ্ড পাড়িব। আদি সওয়ালে ‘গরুড়’ কি পদার্থ?

মহাভারতের আদিপর্ব বলিতেছে, ঋষি কশ্যপ আর স্ত্রী বিনতার ছাওয়াল গরুড়। ইহা পক্ষীরাজ। দেবতা বিষ্ণুর বাহন। কশ্যপপত্নী বিনতা একদা দুই অণ্ড প্রসব করিলেন। তাঁহার একটি অকালে ভগ্ন হওয়ায় নিম্নাঙ্গহীন অরুণের জন্ম হয়। অপর ডিম্ব যথাকালে আরেক ছাওয়াল জন্ম দেয়। আদিকাণ্ড বলিতেছে তাঁহার নামই গরুড়। গরুড় গঠন অর্ধপক্ষী আর অর্ধমানব। শ্বেতবর্ণ মুখ। রক্তবর্ণ পক্ষ আর স্বর্ণাভ দেহ। পক্ষীর ন্যায় চোখ ও নখর। সেও এক এলাহি রটনা— অরুণ বিকলাঙ্গ হইয়া জন্ম লাভ করিয়া পূর্ব দেবের কাছে যান। আর গরুড় পক্ষীদের ইন্দ্রত্ব লভিলেন।

সম্পূর্ণ…»

অক্টো
10

লাল মিয়ার রাষ্ট্র

সাখাওয়াত টিপু

‘রাষ্ট্রের আকার সার্বজনীন আর আকারের আসল উপাদান চিন্তা।’

-ফ্রিডরিক হেগেল (১৭৭০-১৮৩১)

বাংলার চিত্রসাধক শেখ মুহাম্মদ সুলতানের আদি নাম লাল মিয়া (১৯২৩-৯৪)। লাল মিয়ার চিত্রকর্ম লইয়া যে কয়খানা লিখা প্রচারিত তাহার ভিতর মনীষী আহমদ ছফার রচনাখানি বেহতর। প্রশ্ন উঠিতে পারে— ছফার এহেন রচনা থাকিতে আমরা কেন মাতিলাম? তাহার কারণ দুই। পহিলা নম্বরে লাল মিয়ার মুক্তিযুদ্ধপূর্ব তিন দশকের (১৯৪০-৬০) সৃজনকর্ম খুঁটিয়া দেখা। দোসরা কথা যুদ্ধোত্তর (১৯৭০-৯০) আধুনিক চিত্রকলার সহিত তাঁহার চিত্রকর্ম সাক্ষাৎ দ্বন্দ্বে মাতিল কোন কারণে?

জাতশিল্পী লাল মিয়াকে লইয়া নানান কিংবদন্তী কাহিনী বাজারে চালু। সেই অপর কাহিনীর কথায় আজ বিরতি রাখিব। আজ আহমদ ছফার আলোচনায় অনুপস্থিত দুই কারণের রাহা সন্ধান করিব।

সম্পূর্ণ…»

জুল
19

গল্প: হৃদয় চুরির কাহিনী

সাখাওয়াত টিপু

ছোট প্রাণ বড় কথা, বড় দুঃখ ছোট কথা বলিয়া যে সংজ্ঞা আমি পাড়িয়াছি তাহাতে সাখাওয়াত টিপুর গল্পকে কি গল্প বলা যাইবে?

                                                                  - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/ ঠাকুরবাড়ি/কলিকাতা/ বসন্ত ১৪১৭

‘এই সমাজ খুব নিষ্ঠুর। একেক মানুষ একেক নিষ্ঠুরতার প্রতীক। কারণ নিষ্ঠুরতা সমাজের প্রথা। কেহ যদি নিষ্ঠুরতার বাইরে বাঁচে, সমাজে কোথাও তাহার জায়গা নাই। প্রথার বাইরের মানুষগুলা বাঁচিবে কি করিয়া’- তানিয়াকে আজ সকালে টিপু এমন কথা বলিয়াছে।

উত্তরে তানি, আমি আসলে…

টিপু বলিল, কি জানেন না?

লা জবাব হইয়া তানিয়া চোখের পানি ছাড়িয়া দিল। রোদের আলোকরশ্মি তাহার মুখে পড়িয়াছে। ঘামে মুখ চিকচিক করিতেছে। তানিয়ার মুখে টিপু অকাল সূর্যের অস্ত দেখিতে পাইল। এত আলো তথাপিও কায় অন্ধকার নামিল। তাহাতেও সে সুন্দর খুঁজিতেছিল। দেখিল, চোখের নিচ হইতে আলোকচ্ছটার মতো অমিয় সূর্যের গড়িয়ে নামার দৃশ্য। ভিনসেন্ট ভ্যান গগের লুনাটিক ঘোরের চিত্রকল্পের তদরূপ। সূর্য পশ্চিম পাঠে নামিবার কালে আকাশ আপনা হইতে লাল ঝক মারিয়া থাকে। লাল কালাতে পরিণত রঙের যে বদল হইয়া থাকে সেইরূপ হইয়া উঠিল সে। কিয়তপর কান্না থামিল তানিয়ার। টিপু চোখের পানির ভিতরও সুন্দরের কারণ খুঁজিতে লাগিল। ভাবিল, ঠিক কণ্ঠে আসিয়া সূর্য আসিয়া মিলাইয়া গেল। হয়ত সুন্দরের প্রার্থনা করিতে করিতে মানুষ সহজ হয়। সহজ সরল হইতেও সরল। সরলের দিকে তাকাইয়া সুন্দরকে হৃদয়বৎ করিবার আমলনামাই তো শিল্প।

টিপুকে একবার তানিয়া জিজ্ঞাসিল, আচ্ছা, আপনার চোখে সুন্দর কি?

- দেখিবার চোখ আর বিচার করিবার শক্তি।

তাহা হইলে তো সবার ভিতরে সুন্দর থাকিতে পারে, না?

- না! দেখিবার চোখ না জন্মাইলে বিচার করিবার পথ মিলিবে না।

কিন্তু কোনো কোনো চোখ খালি বস্তুই দেখিতে পায় না, তাহার অন্তরও পরখ করিতে পারে।

- তবে কি হৃদয় পরখ করিবার নামই সুন্দর? হৃদয় পড়িতে পারার মাঝে এতই আনন্দ, এতই অর্থ, এতই সংশয় জাগে তাহাই হয়ত বাঁচিয়া থাকিবার পথ।

তবে কি হৃদয়ের সহাত্মাই সুন্দর?

- প্রভু ছাড়া কাহার সহিত সহাত্মা হওয়া অসম্ভব। সহাত্মা ভক্তিরই সর্বনাম।

আপনার যুক্তিবোধ কেমন জানি লোপ পাইতেছে!

- দেখেন সামাজিক বন্ধনমাত্রই শর্তযুক্ত, আর হৃদয়ের বন্ধন নিঃশর্ত।

বন্ধন নিঃশর্ত হইলে তাহা আর বন্ধন থাকিল না। কি হইল বলেন তো?

সম্পূর্ণ…»