নাজনীন খলিলের পাঁচটি কবিতা

যাত্রা কেন এমন ঝাপসা হয়ে আসে চোখ? হয়তো চশমার কাঁচে কিছু জমেছে কুয়াশা। ঠাসবুনটে র‍্যাকস্যাক ভরা জিনিসপত্র। অসাবধানে কোথাও কিছু কি পড়ে রইলো? যাত্রা তো নিশ্চিত ছিল। প্রস্তুতিও।   ক্রস …

অমৃতা প্রীতমের কবিতা

যখনই তার সাথে দেখা হয় প্রায়শই এক অলিখিত কবিতা বলে মনে হয় এই অলেখা কবিতাকে আমি কয়েকবার লিখে ফেলেছি কিন্তু সে অলিখিতই রয়ে যায় অমৃতা প্রীতম— এক নিবিড় প্রেমের কবি, …

জুয়েল মাজহারের একগুচ্ছ কবিতা

ইস্তেহার: নতুন প্রেমের ১. বলেছি এসো না; শোনো, এতো কম শীতে ততোখানি জমবে না প্রেম; যদি না কঠোর হিমে হৃদয়ের ত্রসরেণু বরফে কঠিন হয়ে ওঠে। তাহলে অপেক্ষা করি চলো পথ …

বিজয়ের দিবসের কবিতা

শামীম আজাদ ব্যাখ্যা নিতম্ব চেয়ারে গাড়া বুকে বহুমাত্রিক স্মৃতির স্পন্দন কুচকুচে কালো ক্যালকুলেটরের নিচের পঞ্চাশ বছর বয়সী কাঠের টেবিল থেকে আসছে পুরানো গন্ধ। সব মিলে কী একটা আবদ্ধ পরিবেশ! দেশ …

ফুয়াদ হাসানের ৫টি কবিতা

অনির্বাণ মাটির নিচের সরাইখানায় বসেছে সকলে মাতাল জুয়ারি যত বেইমান জাতে বেজন্মা বজ্জাত কালা লুলা খোঁড়া খোজা নির্লজ্জের সাথে অসভ্য ইতর বেহায়া হারামির দল পাশার টেবিলে কেউ দান চুরি করে, …

আবদুর রবের একগুচ্ছ কবিতা

স্বপ্নধরা যে সিদ্ধান্তগুলি তুমি নিয়েছিলে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তারাই তোমাকে মহান করেছে অথবা কোনো নিষ্ঠুর ভিলেন দোষী কিংবা নির্দোষ প্রেমিক অথবা খুনি তবু তারাই তোমাকে পৌঁছে দিয়েছে এখানে। এগিয়ে যাওয়ার …

ফেরদৌস নাহারের কবিতা: নদী, অখণ্ড রক্ত-স্রোতধারা

নদীবন্দনা আমি পুবদেশের, দুহাতে বাজাই নদীদের করতালি যেতে যেতে চিরদিন গড়িয়ে পড়ি তাহাদের বুকে পদ্মা একটা তল্লাট উড়ানো ঝড়, প্রকৃতির নামে ভাড়াটে কেউ এখানেই লুকিয়েছে, তার গন্ধ এখন পদ্মার জোয়ার …

কাজী গিয়াস আহমেদের পরাবাস্তব কবিতাগুচ্ছ

যা দেখছেন মুখোশ ভেতরে আমি নেই! ৫. ধূধূ মরুভূমি, দূরে পাহাড়ের সারি একটি বর্ধিত হাতের তালু দৃশ্যপটে ঢুকে গেছে তালুর উপর একটি তরতাজা গাছ নিশ্বাস নিচ্ছে উপরে খণ্ডিত ঘন মেঘ …

কামরুল হাসানের মৃত্যুবিষয়ক দশটি কবিতা

বিলীয়মানতার গান আমি থাকবো না, চামেলীও চলে যাবে বাতাসে কর্পুর, গন্ধ ছিল কি না, এ প্রশ্নে লোকেরা মাতুক সে মাতমও থাকবে না কিছুকাল পর লোকেরা সমস্ত ভোলে, সত্য থাকে প্রত্যেহের …

ধূসর মননের কবি: সিলভিয়া প্লাথ  লেখা ও অনুবাদ: দিলশাদ চৌধুরী 

[“আমি যখন চোখ বন্ধ করি, সমস্ত পৃথিবীর যেন অকালমৃত্যু ঘটে। আবার যখন চোখ তুলে তাকাই, সবাই আবার বেঁচে ওঠে…” কথাগুলো মায়াময় বিষাদের কবি সিলভিয়া প্লাথের। এবছর ২৭ অক্টোবর পালিত হল …

লুৎফুল হোসেনের তিনটি কবিতা

মন-তৈজসে তখন পাপড়িগুলো খুলতে খুলতে শূন্য গোলাপ একের পর এক নরম তুলোর মেঘের শরীর তুলে এনে বিছিয়ে দিই জেট ব্ল্যাক মার্বেল ডিসেকশন টেবিলে ধারালো ছুরির নিচে ভ্যানিলা ক্রিম কেকের মতন …

তৌহীদা ইয়াকুবের একগুচ্ছ কবিতা

দুপুর গড়িয়ে নিখোঁজ স্তব্ধতার মাঠ ঠোঁটে নিয়ে তখনও বাতাস বাজে সবুজের ডানায় কোথাও কাঠ গোলাপ ফোটা মিহি শব্দের ভেতর দুপুর গড়িয়ে যায়। আর এইসব দেখে নেয়া পরিধির আলোছায়ায় স্নানশেষে গৃহলক্ষ্মীর …

কেয়া ওয়াহিদ অনুদিত লুইজ গ্লিকের তিনটি কবিতা

প্রথম স্মৃতি বহুকাল আগে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করেছিলাম বাবার উপর প্রতিশোধ-পরায়ণ হয়ে। বাবার কারণে নয়, আমার নিজের কারণেই— শৈশবের শুরু থেকে আমি ভাবতাম বেদনা মানে আমায় কেউ ভালোবাসেনি আমিই শুধু ভালোবেসেছি। …

শামীম হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

নৌকাতলী ডাকিনীর ছায়াস্মৃতি চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায় জোনাক-আলো জাগিয়ে রাখে ভ্রমণদৃশ্যের পথ কালিদহে গড়িয়ে যেতে যেতে আঙুলবন্দি নুড়ি দেখিয়েছে জাফরি-কাটায় ঝোলা জ্যাকেটের ভয়। ঢেউ বিগড়ানো নদীতে ফিরিয়ে দিলে মৎস্যের …

মঈনুস সুলতানের কয়েকটি কবিতা

মাটোপাস পাহাড়ের বোল্ডারে মাটোপাসের বোল্ডারে বিকীর্ণ বনানীতে পড়ে আছে মরচে রঙের নুড়ি সুপ্রচুর, তুলে নিয়ে ঘষে ঘষে বের করে আনি দ্যুতির ছন্দসুর, ঝলসে ওঠে ফিরোজা নীল, পাথর ফাটিয়ে নেমে আসা …

তিন কানাডিয়ান কবির করোনা কবিতা

আলবার্ট ফ্রাঙ্ক মরিজ। টরন্টোর বর্তমান ষষ্ঠ পোয়েট লরিয়েট। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা বিশটিরও অধিক। তিনি ২০০৯ সালে গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ পেয়েছেন ‘দ্য সেন্টিনেল’ কাব্যগ্রন্থের জন্য। তাঁর এই গ্রন্থটি গভর্ণর জেনারেল লিটারারি …

নজরুল মোহাম্মদের কবিতা

কালোজাদুর রুমাল ক্রুশবিদ্ধ সময়ে ছদ্মবেশে গোপন করেছো ছোরা, ছোরার গায়ে মাখো বিষ! অহেতুক দাও উসকানি। সিটি বাজাও আর মেকাপে ঝলকানি। আমাকে প্রার্থনার অনুমতি দাও, মলিন জনারণ্যান্ধ ফুল— কাঠের দেরাজে খোদাই …

নাজনীন খলিলের একগুচ্ছ কবিতা

ইনকগনিটো সবাই সতর্ক খেলছে। চেস, ট্র্যাাম্পকার্ড, হাউজির খেলা। ছায়ার অন্তর্গত ভিন্ন ছায়াবাজির খেল; ইন্দ্রজাল আর ছদ্মবেশের চৌকাঠে পা আটকে যাচ্ছে বারবার। হয়তো— তোমার পিংক বাথটাবের কানাভর্তি স্বচ্ছতার আড়ালে আছে কোন …

নান্নু মাহবুবের একগুচ্ছ কবিতা

দুপুরের ঘনরোদে তোমায় আর পাব না আমি জলাধার, জলটুকু তুমি। লাল জেলিমাছের মতো ভাসছে প্রহর, পেতলের সূর্য থেকে ছড়িয়ে পড়ছে আলো, এ গ্রহের প্রত্যেকটি পাতায়, প্রত্যেকটি টুকরোয় আমি দেখতে পাচ্ছি …

রথো রাফির গুচ্ছ কবিতা

শিশু তবু তোমার স্তন থেকে ছেড়ে দাও নিরুপম এই যমুনা নদী ছেড়ে দাও শিশুবিকাশের দিকে যারা সূর্যের নিচে আবারো হাততালি দেয় তোমাকে স্মরণ করে মনে হয় কত স্বার্থপর ওরা তুমি …

Back to Top