মধ্য শরৎ উৎসব: সুপ্রাচীন চন্দ্রদেবীর গল্প

চীনের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো মধ্য শরৎ উৎসব বা মিড অটাম ফেস্টিভাল। এটি শরৎকালীন বা হেমন্তকালীন প্রধান উৎসব। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুপ্রাচীন চন্দ্রদেবীর আরাধনা এবং ফসল তোলার রীতি রেওয়াজ। …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা  ফুল ভলিয়্যুমে রেডিও বাজার শব্দে একদিন ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমচোখে ঠাহর করতে পারি না, এমন ভোর ভোর অমন জোরে রেডিও বাজাচ্ছে কে? আমাদের বাসায় এরকম …

দিলারা হাফিজের মুক্তগদ্য: বাংলা ভাষার বানান নিয়ে বারোয়ারি

ভাষা মানুষের প্রাণের সেতু। মনের জানা-অজানা ভাব প্রকাশের অন্যতম বাহন হিসেবে ভাষার কোনো বিকল্প নেই। বলা যায়, ভাষা সৃষ্টির অপূর্ব সোপান টপকে তবেই পূর্ণতা এসেছে মানব সভ্যতায়। পৃথিবীর ১৪ হাজার …

ফেরদৌস নাহারের মুক্তগদ্য: কবিতাই ধর্ম

এই যেখানে পাখিরা উড়ে চলে যায়, যেখানে রাত্রির অভিযান আলোর অক্ষরে লেখা থাকে, সেখানে আমার নাম ঠিকানা লেখা আছে কবিতার রক্তে, বর্ষাধারার ভেজা গন্ধের আগে-ভাগে। আমাকে কি খুব চেনা মনে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

সৃজনী কচিকাঁচার মেলা  দৈনিক ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় ‘কচিকাঁচার আসর’ নামে শিশুকিশোরদের লেখা নিয়ে একটা পৃষ্ঠা প্রকাশিত হতো। ওই পাতায় নতুন সদস্যদের জন্য একটা নির্ধারিত ফরম ছাপানো হতো তখন। আমি একদিন …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ছোটকার জেলবাস একদিন ভোরবেলায় উঠে দেখি আম্মা অঝোরে কাঁদছে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে আমার অতিরিক্ত গৌরবর্ণা আম্মার নাকমুখ একেবারে রক্তজবা ফুলের মতো টুকটুকে লাল হয়ে উঠেছে। আব্বারও চোখ দুটো ফুলে ঢোল— …

সেলিম জাহানের গদ্য: তোমাকে দেখতে বড্ড ইচ্ছে করবে

দাপ্তরিক টেবিলের ওপরে ছোট্ট একটা চিরকুট। আমি আস্তে করে হাতে তুলে নিলাম। তা’তে গোটা গোটা অক্ষরে ইংরেজীতে সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা – বাংলা করলে যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘সম্প্রতি আমার বিদায় সম্বর্ধনা …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ধুসর গোধূলি চানাচুর-ফুকল-আইসক্রীম-সিংগারা-তেঁতুল-অড়বড়ই-আমলকী নিত্য কিনে খেয়ে, বন্ধুদের খাইয়েও আমার হাতে প্রতি হপ্তাতেই কিছু পয়সা উদ্বৃত্ত থেকে যেত। দুই-তিন-হপ্তা বাদেই দেখতাম হাতে পাঁচ-দশটাকা জমে গেছে! এত টাকা কই বা কীভাবে খরচ …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

অচ্ছুৎ অসুখের দিনরাত্রি ততদিনে আম্মার ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা প্রায় সবগুলি নিষিদ্ধ বই-ই আমি পড়ে ফেলেছি। ভালো করে বুঝি বা না বুঝি পড়তে ইচ্ছে করেছে, ব্যস পড়ে ফেলেছি। ওইসব আউট বইয়ের …

অরণ্য: বোধনের ডায়েরি– টিনের ট্রাঙ্ক

বড়-সড় কালো একটা টিনের ট্রাঙ্ক আমাদের বাড়িতে ছিলো, যা সারাবছরই বন্ধ পড়ে থাকত, আর নিয়ম করে খোলা হতো শীত আসার আগে। ট্রাঙ্কটির বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা, এবং শোবার ঘরের এককোণ …

সেলিম জাহান: কনে দেখা আলো

নদীর পাড় ধরে হেঁটে বাড়ী ফিরছিলাম। পড়ন্ত বিকেল, পূর্বী নদীতে মোলায়েম রোদের খেলা ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায়। হঠাৎ করে দৃষ্টি ছড়িয়ে গেল নদী ছাড়িয়ে ওপারে ম্যানহ্যাটনের হর্ম্যরাজির ওপরে। আহা, ভারী …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পাতারপাহাড় ও রক্তবর্ণ হীম  বিউটিআপাদের ওই বাংলোর যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালে বিস্তর সবুজের দেখা পাওয়া যায়। সেসব সবুজ বর্ণনা করার সাধ্য আমার নাই। যেদিকে তাকাই উঁচা উঁচা পাতারপাহাড়।  সেইসব পাহাড় …

শামীম আজাদের স্মৃতিগদ্য: নানীভাই

আমার নানীর বিয়ে হয় ন’বছর বয়সে! শুনেছি শাশুড়িকে পাননি তিনি। শ্বশুরই তাঁকে মাতৃস্নেহে বড় করেছেন, শাড়ি পরা শিখেছেন, পড়িয়েছেন। হয়ত সে কারণেই আমাদের সমাজের পুরুষদের মতই ছিল তার আত্ম নির্ভরতা …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

উষ্ণ বয়সী ব্ল্যাকবোর্ড  সুদীর্ঘ ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে দেখি ছিমছাম এক বাংলো। অত্যন্ত মনোরম আর্কিটেক্টচারে একতলা বিল্ডিং। বাংলোতে ঢোকার মুখে ফুলের বাগান । নানা প্রজাতির ফুলের সমারোহ। একটা ঝুমকোজবা …

ফেরদৌস নাহারের মুক্তগদ্য: আমার শহর ঢাকা আছে প্রাণে

আমার শহর নয়কো তেমন বুড়ো অতীতকালের অস্থি মুদ্রা চৈত্য বিহার কিছু পাবে না তার কোথাও মাটি খুঁড়ে, হঠাৎ কখন নদীর ধারে ব্যাপারীদের নায়ে আমার শহর নেমেছিল কাদামাখা পায়ে। এই তো …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

অরণ্যের পথে  সহসা এর মাঝে একদিন আমি জীবনের প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে গেলাম। রাজাকাক্কার প্রতি আব্বার ছিল অপরিসীম শ্রদ্ধা,ভালোবাসা আর নির্ভরতা। সেই নির্ভরতার সূত্র ধরে আব্বা আমাকে রাজাকাক্কার সংগে আম্মাকে …

সেলিম জাহানের স্মৃতিগদ্য: স্মৃতির আয়ু কত দীর্ঘ?

কড়া নাড়ব না বৈদ্যুতিক ঘণ্টিটি বাজাবো তা ভাবতেই মিনিট খানেক কেটে গেল। অকারণে নয়, সময়টার কথা ভেবেই আমার এ দ্বিধা। শীতের পড়ন্ত বিকেল– ইতিমধ্যেই সূর্য এলায়ে পড়েছে পশ্চিম গগনে। চারদিক …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ছোটফুপুর শুভবিবাহ আমরা আমাদের দাদীকে ডাকতাম দিদি। আমার দিদির কথা ‘মায়াপারাবারে’ বহুবার বহুভাবে আমি বলেছি। সে ছিল আমাদের জন্য অতি আহ্লাদের জায়গা। অত্যন্ত সহজসরল আর ভালোমানুষ ছিল আমার দিদি।শাশুড়ি হিসেবে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

আসা-যাওয়ার পথের পাশে যুদ্ধের চিন! মাত্র কিছুদিন আগেই যে আমরা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে গিয়েছি, সেই যুদ্ধের নানা চিহ্ন তখনও সিলেটের নানা জায়গায় বিদ্যমান ছিল। সরকারি অগ্রগামী উচ্চ বালিকা …

দিলারা হাফিজের মুক্তগদ্য: অগ্রজেরা নতুন কবিতা লিখিয়েদের যা বলতেন

যার নাড়িতেই কবিতা থাকে, দেহের তন্তুতে বাক্ ও ছন্দের প্রতি আকর্ষণ। তার অন্য পথে যাবার উপায় নেই যে! তাকে শেষ পর্যন্ত কবিতাই লিখতে হয়। কিন্তু তারও তো সামান্য প্রস্তুতি থাকতে …

Back to Top