সাজ্জাদ সাঈফের একগুচ্ছ কবিতা
হঠাৎ মৃত্যুযুগ হীরক-রোদের উত্তরে এসে মাটিমাখা ভাষার গোধূলি পাবো, সে আমি নিজেই ভাবিনি! ছায়া মেলে দুলছে পাতারা, গাছে- ধানী গন্ধের …
হঠাৎ মৃত্যুযুগ হীরক-রোদের উত্তরে এসে মাটিমাখা ভাষার গোধূলি পাবো, সে আমি নিজেই ভাবিনি! ছায়া মেলে দুলছে পাতারা, গাছে- ধানী গন্ধের …
সামনে সমুদ্র বটে কতো বর্ষা কেটে যায় কতো সন্ধ্যা হয়েছে আঁধার, আমার সময় নেই ঘরে বসে নিরালায় দুদণ্ড কাঁদার। বুকের …
ঈশ্বরজন্ম ১৬ স্বরের নিজস্ব এক দ্যুতি আছে যা আমিই জেনেছি বহু বিলম্বিত গেয়ে গেয়ে আলাপ বিস্তারে । কথা যদি বিন্যাসের …
দুনিয়া যখন কোয়ারেনটিনে রঙিন শপিংমল বন্ধ, রাস্তাগুলো নিজেরাই একা একা হেঁটে যাচ্ছে লৌকিক গলির দিকে— এই সঙ্গ নিরোধকালে কোনো ক্যাফে …
শ্রীচৈতন্য সমুদ্রে ছড়ালো জাল। উঠে এ’ল ইয়া লম্বা দেহ। আজানুলম্বিত হাত। ধপধপে সমূহ শরীর। কষ বেয়ে রক্ত নামে। গোঁ গোঁ …
রামধনু সমস্ত করমর্দনের মাঝখানে একটি অন্ধকার থাকে করমর্দন করতে গিয়ে তুমি আসলে একটি অন্ধকার ছুঁয়ে ফেলছ। বিনিময়ের আগে এবং পরেও …
বামপাশ এখনো বামদিকে কাত হয়ে শুই বামদিকে ঘণ্টা ধরে ধুকপুক শব্দের কৌটায় রাখি তোমার নাম। পাশ-ফিরে আলস্য ভেঙে উঠে যেতে …
এক. মানুষে মানুষের এতযে পূজা চান; বুঝেনি আগে আমি,তাইতো বিস্ময়। প্রেম ও ভালবাসা উড়ছে কর্পুরে। পুষ্প তরতাজা, তৈল শরিষায়- লোকেরা …
বৃত্তপথ ১ গল্পের অবাক পেটে বলি যাওয়া ভাষা পড়ে আছে। কী যে ফল, কী যে কর্ম, ইদানীং সমস্ত গোলায়। গোলায় …
কেমন আছো তুমি তোমাকে দেখেই বুঝে নিতে পারি তুমি আছো কেমন। আজন্ম দুঃখের নোলক পরে কার্তিকের আকালের মতো ঘুরে ফিরে …
গাছের কাছে নদীর কাছে এই কথাটাই জানাতে চাই , জেনে রাখা ভালো : অন্ধকারকে আড়াল করছে সাজানো সব আলো ! …
চাঁদ ফোড়ন সাগরে ছিপ ফেলে একদিন চাঁদ ধরেছিলাম, ছোঁ মেরে ঢেউ নিয়ে গেলো চাঁদ, খুব দূরে, যেখানে ডুবে গিয়েছিলো একটি …
মুখ মুখের বিচিত্র ধরন; জিভ দিয়ে স্বাদ নেয় ঠোঁট ভরে চুমু। দাঁত দিয়ে কামড়ে খায় নাক দিয়ে ঘ্রাণ আর চোখ …
শাহবাগ শেষমেশ কোথাও যাব না। রাক্ষসপুরীর এই দুর্ভেদ্য দেয়াল, প্রহরী, বন্দুক আমাকেও অসুখী করেছে পথের টহল কখনো থামিয়ে দিয়ে বলে, …
মেয়েটা মেয়েটা আসতো মাঝেমধ্যে ছেলেটার খোঁজে। –এমন বললো পুরনো বাড়িওয়ালা। আসতো চোখভরা এক আকাশ মেঘ সাথে করে আচমকা বৃষ্টিতে চৌকাঠ …
জীবন জীবন হলো বাসনা-মাখা সাবান স্নান করব বলে যেই নেমেছি জলে ফসকে গেল হাতের মুঠি গলে! ফিরে যাওয়া তুমি …
কামিনীর ফুলের ইশারা এই কান্না অত দূরে পৌঁছাবে কি, বলো? এই যে পাশের ঘরে যত দূরে কচি কষ্ট বুকে নিয়ে …
চিড়িয়াখানা চিড়িয়াখানায় প্রায়ই যাই বানরের খেলা দেখি, জিরাফের গলা দেখি গন্ডারের নিস্পৃহ দাঁড়িয়ে থাকা দেখি গাছ-গাছালির ভিড়ে সন্ধ্যাদেরও নামতে দেখি। …
একদিন বিকেল শেষ হলে চলে যাব মুক্তপুরুষ। বেদির উপর ফুল ও বেলপাতা পড়ে থাকবে। সিঁদুর রঙের মেঘে লুকিয়ে যাবে দিন। …
দিগন্তে শুকতারা মেঘলা দিনের দুঃখ মাথা ছাড়িয়ে একবারে আকাশ ধরে ফেলে আর তখনই চোখে পড়ে যায় মায়ের রেখে যাওয়া সবুজ …
সংসার গন্তব্য এক হয় না আমাদের, মতের অবস্থা চৌচির। নীরবতার আড়ি পরস্পর, কথার ভিতর থেকে কথা টেনে নিতে তৎপর। কোণঠাসা …
হন্টন কুড়িয়ে আনা পাথরের গা থেকে আলাদা করি রোদের ছায়া বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মায়া.. পাথরের ছায়াও পথ আগলে দাড়ায় নূপুর থেকে …
পিতার দৃশ্য জুড়ে রাস্তার দৃশ্য ক্রমশ দূরের দিকে যায় গৃহিপালিতের দিকে চেয়ে থাকার পরিণামগুলি বিকেলের অনভ্যাসে মানবিক হয়ে ওঠে দিন …
১. কেউই নও ছিলেওনা কখনো সময় সত্য ২. আমি ছিলেম? বর্তমানই সত্য কেউ থাকেনা ৩. কেঁদেছো মন? শান্তি পেতেও পারো …
প্রার্থনা নিজের সংগে একলা থাকার সঙ্গতি দাও গাছপালারা যেমন থাকে একলা একলা তাঁতিপুকুর ভরা শহর দাঁড়িয়ে থাকে অনতিদূর – সারাটি …
প্রতিভা একটা লম্বা চুল সারাদিন ঘুরেফিরে যুবকের মেরুন জামায়। আপাতত এইটুকু সুখ, আর ভাবনার দু’একটা হৈচৈ—মাথার ভেতর। বাইরে দীর্ঘ শীত। …
একজন জিজ্ঞেস করে কোথায় যাবেন কেউ গন্তব্য বলে না পাখিরা কোথায় যায় কেউ জানে নিষিদ্ধ পল্লীর পাশ ঘেষে যাত্রীদের কাছে …
লা দলচে ভিতা ভাসে; যার ভার নেই কোনও, ঘাটও নেই, মান্দাস যেমন, যেন এই দূর থেকে দেখাই আসল। কোথাও থাকার …