নাইম আহমেদের তিনটি কবিতা

নিজের মরদেহের সাথে এভাবে আর কতদিন, প্রিয় পিনাট স্যালাড?

উৎসব আমার সবচেয়ে প্রিয় গার্লফ্রেন্ড ছিল। যাকে তীব্রতর ভালোবেসেও জানানো যায়নি কখনো। হয়নি প্রেম। জীবনভর কেবল, বিষণ্ণতার সাথেই অবৈধ সংসার করে গেলাম। কবিতা, আমাদের সে নিষিদ্ধ নির্বাসনের ফসল। যদিও স্থান, কাল ও পাত্রের কিছু জটিল সমীকরণে, গড়ে ওঠেনি ঘর কখনো, তোলা হয়নি সেই শস্য আমাদের ঘরে! তাই পঁচে গলে তা কেবলই ম্লান ও রক্তিম ব্লেন্ডেড স্কচ! সেই এখন একমাত্র উৎসব আমাদের। বিষণ্ণতার, পিনাট স্যালাড!

তবু। বেঁচে থাকা ক্লান্ত লাগে বড়। হৃদয়ের কাছে জিম্মি যেসব যন্ত্রণাদের আপন ভেবেছি এতদিন। তারাও চোখ রাঙায় আজকাল। বলে: নিজের মরদেহের সাথে এভাবে আর কতদিন? তাই। গম ও গ্লাসের পুঁজিবাদী প্রান্তর থেকে, রাষ্ট্র নামক জীবনের মহামারী বুকে প্রবঞ্চনার সিমেট্রি থেকে, নগ্ন ও নতজানু নিঃসঙ্গতার নখে ও নিদ্রাতে, ফিরে এসো – প্রিয়, মেলানকোলিয়া। নিজেদের লাশের পাশে শুয়ে থেকে। ঘরে ঘরে মরে গেলে মৃত্যুরা। আমরা সবাই। একধরনের নির্মম ঘুমের সামনে দাড়িয়ে আছি। ভালোবেসে নাম দিয়েছো – ইনসোমনিয়া। দেখতে চাইলে দেখা যায় না। হাতে নিলে, বিষণ্ণতা। রক্তিম ও উৎসব লাগে খুব।

২০ অক্টোবর ২০২৫
কক্সবাজার

 

আমার আর সুখকে খুঁজে পাওয়া হয় না কেবল

যতবার সুখকে পাবো ভেবে হেঁটেছি পথ, বেলা শেষে কেবলই দুঃখ নামক নরম ডেড-এন্ডে ঠোকর খেয়ে ফিরেছে ইস্পাত কঠিন হৃদয় আমার! ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেছে, দুঃখের মন। আচ্ছা, দুঃখকে কে বলেছে তোমার অভিমুখে ধাবমান পথ আটকে, গড়ে তুলতে এইসব ঠুনকো যতসব প্রতি-বিপ্লব?

অবহেলার সিগারেটে সেকা চামড়াটা ক্রমশ কালো ও ম্লান হয়ে গেল! তবুও গাড় হয়েছি বিষাদ ও বিমুগ্ধতা! ধন্যবাদ…

দুঃখের পাশে বসে থেকে বোঝার চেষ্টা করি, ওর দুঃখগুলো! ওকে রিক্সায় ঘুরাই আমি! উড়াই তুলতুলে চুলের মতো জমে থাকা আর যা কিছু অন্ধ ও দৃষ্টির মাঝামাঝি গাঢ় অবস্থান! সান্ত্বনা দেবার অজুহাতে ওর হাত ধরে বলি: দুঃখ করোনা! ও আমার ঘাড়ে মাথা রাখে। আমি পারদের মতো দেবে যায়, আমার ভিতরে। থতমত মুহূর্তে ঠিক বুঝতে পারিনা কি করব, কর্পূর হয়ে ঘুরতে থাকি আমাদের দুজনের চারপাশ জুড়ে। ওর, বরফতম উষ্ণ চুম্বন ও বিষণ্ণ ঠোঁট আমাকে দখল করলে, বেলাশেষে, আমার আর সুখকে খুঁজে পাওয়া হয় না কেবল।

৬ এপ্রিল, ২০২৬
কক্সবাজার

 

আ ডেড পার্সন ক্যাননট ডাই টুয়াইস

আমাদের সমুদ্র এক ছিলো শুধু তীরগুলো আলাদা আলাদা! তুমি বলেছিলে: আমার চোখ যেন কখনও দেখে না তোমাকে, শুধু আমি যেন দেখি। অথচ আমি বহু আগেই দৃশ্যত অর্ধেক উপকূল জুড়ে ফেলে এসেছিলাম সমগ্র মাছেদের দৃষ্টিহীনতা। আসিনি?

জিহ্বায় সাইনাইড রাখার পর মনে পড়ে: A dead person cannot die twice.

প্রতিটা বৃহস্পতিবার শেষে, রাস্তাও ফুরায়ে যায় একটা সময়। তোমার শহরের সামনে এসে শুধু আমার যাত্রায় শেষ হয়না কোনদিন। শুধু আমারই কোন ঘরে ফেরা হয়না আর!

যদিও এইসব টক্সিক পজিটিভিটির কগনিটিভ ডিসোন্যান্স আর বিষণ্ণ ব্রেড ক্রাম্বিং ছেড়ে ভেসে এসেছিলাম বহুদূর। তবু থেতলে যাওয়া প্রতিটা ভোর নতুন করে জড়ো হয়: আরও একটা অনর্থক দিনের শেষ ও আরও একটা অহেতুক রাতের শুরু – একই অ্যাবজার্টিজমের পিয়ানোতে ম্রিয়মান!

তোমার কাছে শুধু দুটো চোখই চেয়েছিলাম প্রিয় বিষণ্ণতা! তোমাকে নয়। শুধু দেখতে চেয়েছিলাম একবার: দুই পেগ অ্যাবসলিউটের মাঝখানে যদি নরম কাঁটাচামচে উপরে ছুড়ে ফেলি, পাথরের মতো শীতলতম তোমার চোখ ও দৃষ্টিদের! তাহলে আমাদের মৃত্যুর রং রেড লেভেলের মতো আচ্ছন্ন ও ম্লান হয়ে উঠবে কিনা। অথচ তুমি – ভয়ে তাকালেই না!

২৮ মে -৬ জুন, ২০২৬
কক্সবাজার

 

নাইম আহমেদ 
জন্মদিন : ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ ,
জন্মস্থান : কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ।
লেখাপড়া : স্নাতকোত্তর (সমাজবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোশ্যাল পলিসি, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়)
বর্তমানে উন্নয়ন কর্মী হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত। মোবাইল ও হোয়াটস-অ্যাপ : +৮৮০১৮৩২৫৯২৯৩৩, ই-মেইল : [email protected]
Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top