২০২১ এর বই মেলার পাঁচটি কবিতার বই

বেইলি রোডে বাল্মীকি/জুনান নাশিত সেলাই করা ঠৌঁট/জাহানারা পারভীন মারী ও মাধুর্য/সাবেরা তাবাসসুম আমি ও জহির/জহির হাসান বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়/ আবদুর রব বেইলি রোডে বাল্মীকি থেকে নির্বাচিত পাঁচটি কবিতা জুনান নাশিত …

মালেক মুস্তাকিমের কয়েকটি কবিতা

প্রার্থনা: ক্ষয় কতোটা শিশির মাড়িয়ে একটি সূর্যের বেড়ে ওঠা, কতোটা অন্ধকার শুষে নিয়ে একটি চাঁদের জন্ম, কতোটা গাঢ় হলে একটি রাত স্বার্থক হয়ে ওঠে! ঝরে যাওয়া সমস্ত শিশিরের যত্নে ল্যাপটানো …

হারানো ডায়েরির কবিতা: নান্নু মাহবুব

[বিশ-পঁচিশ বছর আগের একটা ডায়েরি। ভুলেই গেছি সেটার কথা। সিঁড়িঘরে ছিল। বৃষ্টির ছাটে ভিজে গেছে। কয়েকটি পাতা ত্যানা ত্যানা। স্বপ্না শুকাতে দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে সেটা সে শুকালো। তারপর সেটা নেড়েচেড়ে …

ওশেন ভংয়ের একগুচ্ছ কবিতা

অনুবাদ: ফারহানা রহমান [ওশেন ভংয় ভিয়েতনামী-অ্যামেরিকান কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক ও অধ্যাপক ওশেন ভং ১৯৮৮ সালের ১৪ অক্টোবর ভিয়েতনামের স্যায়গন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানিকটিকাট রাজ্যের রাজধানী হার্টফোর্ডে বেড়ে …

একগুচ্ছ কবিতা: অভ্র আরিফ

মানুষ বড় কম মানুষ মেহেরজান, পাহাড়ের মেমব্রেম খুলে দেখো শিয়রে নিয়ে ঘুমাচ্ছে বিরল ধারাপাত দেহের বাহনে পৌঁছেছো বলে ওরা তোমাকে দেখতে পায় না কভু। তাই, সমুদ্রের ঝাঁপটানো আর বুকে না …

ফারহানা রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

জাদুবাস্তবতা ‘চাঁদের উপর জোনাকির জ্বালে জ্বালে সেদ্ধ হচ্ছে আউশের রাঙা চাল’ অস্বচ্ছ পুরনো ক্যানভাসে আঁকা নানা রঙের মায়াবী স্নানে সাদা মৃত্তিকার ভেতর ঘুমিয়ে থাকা পুণ্যবতী মায়াগাছগুলো কৃষ্ণপক্ষের জ্যোৎস্নায় গান গায়… …

একগুচ্ছ কবিতা: অভ্র ঘোষাল

রোজ  ঠান্ডা মাথায় শরীর হেলিয়ে টেবিলে তুলে রাখি পা, অবহেলায় হাতের আঙুলে ধ’রে থাকি সিগারেট। অথচ কেউ জানে না, মাথার ভেতর ধিকিধিকি আগুন জ্বলে – সে আগুন পোড়াতে পারে না …

লুনা রাহনুমার কবিতা

একটা পাপ আছে জমা (১) পাংশু নদীর লহু জলে— ডলন, ডলান, গহীন তলে— লুকিয়ে রাখা সিন্দুকেতে— আমার একটা পাপ আছে জমা। রঙিন মেঘে ডানার ছায়ায় পরীর আনাগোনা; গাছের কাছে, দীঘির …

হামিদুল ইসলামের কবিতা

চট জলদি সেরে নিই অবসর জীবন শব্দবন্দি বাড়ি প্রতিদিন মন থেকে মন ছুঁয়ে দেখি ঊষরভূমিতে ঈশ্বর ঘুমোয় ।। রামচন্দ্ররা এখনো বনবাসে যায় ত্র‍্যহকাল পোড়ে সংস্কারে বদ্ধভূমিতে হনন যজ্ঞ নদী ও …

একগুচ্ছ কবিতা: নাজনীন খলিল

মিউট একটা ঝাপসা রাতের ভেতর জুড়ে বসে আছে আরেকটা কুয়াশা মোড়া রাত। মর্মরের ঘুঙুর বাজার অপেক্ষায় খোলা ছিল একটি জানালা। তখন। যখন আমরা শিখে নিয়েছিলাম অন্ধকারের স্যাঁতসেঁতে আলোয়ানের ভেতর থেকে …

আরিফুল হাসানের চারটি কবিতা

নিজেতে আবির্ভাবের সময় আমি আমার দুচোখকে প্রচণ্ড রকম বন্ধ রাখি। নিজের চোখে সেঁটে দেই ধারাপাত। আমি আমার অহংকারকে স্থাপন করছি নিয়ত লজ্জায়। আর আমি আমার প্রার্থণাগুলো সযত্নে রেখেছি, একান্ত শয্যায়। …

মঈনুস সুলতানের তিনটি কবিতা

শিশিরের ষোড়শী সময় সুরম্য স্থাপত্যরাজি ধ্বসে যাবে — ধ্বসে যাবে একদিন আমি তার শব্দ শুনি ….. মগজে চুন, সুরকি, কড়িকাঠের মাতম নিয়ে যখনই তুলোটে তোমার নক্সা আঁকি, যুগল কুচের মতো …

সাবেরা তাবাসসুমের কবিতা

উৎসর্গ: ঋতুপর্ণ ঘোষ মহিমার্ণব এ কেমন পাখি তুমি ফেলে যাও রোজ রোজ দুটো মাত্র পালকের ভার ভেবে নিচ্ছি এ তোমার নাচের মুহূর্ত ভেবে নিচ্ছি মিলনের আগে পাওয়া আনন্দ সামান্য জলাধার …

রিতা পেত্রৌ’র কবিতা

হিন্দি থেকে ভাষান্তর: অজিত দাশ [রিতা পেত্রৌ আধুনিক আলবেনিয়ান কবিতায় এক সুপরিচিত নাম। তাঁর জন্ম আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় ১৩ মার্চ ১৯৬২ সালে। আশি দশকে তিনি তিরানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলবেনিয় ভাষা …

গ্রাম সিরিজ: কামরুল হাসান

১ আমার জন্ম গ্রামে, প্রাকৃতিক প্রসবের পর নান্দনিক বৃক্ষরাজি গ্রামশোভা প্রভূত বাড়াল, অনেক দূরের নদী পাড় ভেঙ্গে নিকটস্থ হল আলো-ছায়ার তীরে রাত্রিদিন জোয়ারের স্বর । পৃথিবীর যাত্রা প্রাগৈতিহাসিক গ্রামের সজল …

আহমেদ নকীবের একগুচ্ছ কবিতা

যারা ছিলো সব বেশরম চোখ  যখন লিখলাম মেয়েদের দেখতে আমার ভালো লাগে, ভাবীরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করলেন আর চোখ খুলে নিয়ে পেরেক মেরে লাগালেন একজন আরেকজনের কপালে

লুবনা ইয়াসমিনের একগুচ্ছ কবিতা

সূর্য উঠবেই আলোর শহর তেমনি সম্মোহক, শুধু উধাও জীবনের তাপ-উত্তাপ, অন্ধকার কোণাগুলো ঝুম নির্জন, আলো অন্ধকারের পরিক্রমায় রাত্রির বয়স বাড়ে, আমাদেরও, এবং ক্রমশ: আমরা দূরের হয়ে যাই, দূর হতে চায় …

ফারহানা রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

মোহকাল এ পথেই বসে থাকি অনন্ত ঋতুকাল মৃত পাথরের মতো তরঙ্গহীন অভিশপ্ত পাখির নিদ্রাহীন আয়তচোখে যেভাবে তীরকাঁটা বিঁধে আছে শূন্য করোটিতে ঝুলে আছে স্তব্ধতার ইতিহাস এমনই এক চিরচেনা দূরত্বের মাঝে …

খালেদ হামিদী: পঞ্চকাব্য

কথোপকথন পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম। -হুমায়ুন আজাদ গোমর ফাঁস হলে গোবর মারে মুখে, অমন তরুণীর সঙগ আর নয়। আমি তো নই স্বামী, সন্ততির দিকে তাকিয়ে …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব-৫ (শেষ)

সারা দিনমান কাঠপিঁপড়েটা নিঃশব্দ একটা শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল, এবং অস্পষ্ট পত্রালির টুপটাপ আর গ্রীষ্ম-উপত্যকার গভীরের রাত্রিমর্মর ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। ফারগাছটা ঘড়ির খাঁজকাটা একটা কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। …

Back to Top