গ্রাম সিরিজ: কামরুল হাসান

১ আমার জন্ম গ্রামে, প্রাকৃতিক প্রসবের পর নান্দনিক বৃক্ষরাজি গ্রামশোভা প্রভূত বাড়াল, অনেক দূরের নদী পাড় ভেঙ্গে নিকটস্থ হল আলো-ছায়ার তীরে রাত্রিদিন জোয়ারের স্বর । পৃথিবীর যাত্রা প্রাগৈতিহাসিক গ্রামের সজল …

আহমেদ নকীবের একগুচ্ছ কবিতা

যারা ছিলো সব বেশরম চোখ  যখন লিখলাম মেয়েদের দেখতে আমার ভালো লাগে, ভাবীরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করলেন আর চোখ খুলে নিয়ে পেরেক মেরে লাগালেন একজন আরেকজনের কপালে

লুবনা ইয়াসমিনের একগুচ্ছ কবিতা

সূর্য উঠবেই আলোর শহর তেমনি সম্মোহক, শুধু উধাও জীবনের তাপ-উত্তাপ, অন্ধকার কোণাগুলো ঝুম নির্জন, আলো অন্ধকারের পরিক্রমায় রাত্রির বয়স বাড়ে, আমাদেরও, এবং ক্রমশ: আমরা দূরের হয়ে যাই, দূর হতে চায় …

ফারহানা রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

মোহকাল এ পথেই বসে থাকি অনন্ত ঋতুকাল মৃত পাথরের মতো তরঙ্গহীন অভিশপ্ত পাখির নিদ্রাহীন আয়তচোখে যেভাবে তীরকাঁটা বিঁধে আছে শূন্য করোটিতে ঝুলে আছে স্তব্ধতার ইতিহাস এমনই এক চিরচেনা দূরত্বের মাঝে …

খালেদ হামিদী: পঞ্চকাব্য

কথোপকথন পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম। -হুমায়ুন আজাদ গোমর ফাঁস হলে গোবর মারে মুখে, অমন তরুণীর সঙগ আর নয়। আমি তো নই স্বামী, সন্ততির দিকে তাকিয়ে …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব-৫ (শেষ)

  সারা দিনমান কাঠপিঁপড়েটা নিঃশব্দ একটা শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল, এবং অস্পষ্ট পত্রালির টুপটাপ আর গ্রীষ্ম-উপত্যকার গভীরে রাত্রির মর্মর ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। ফারগাছটা ঘড়ির খাঁজকাটা একটা কাঁটার মতো …

হামিদুল ইসলামের কবিতা

অশ্বশক্তি ভবঘুরে স্মৃতিগুলো ফেলে আসি দূরে রঙময় জীবন সারি সারি মেঘ নিঝুম রাত্রি বুজে আসে দুচোখের পাতায় শব্দরা এখন জবানবন্দি পোয়াতি স্বপ্নগুলো সেই থেকে বরাবর রোদ মাখে গায়ে অসাড় বিকেল …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব-৪

সকালবেলার পাখি গাড়িটাকে জাগিয়ে তুললাম যার উইন্ডশিল্ডটা ঢেকে আছে পরাগরেণুতে। সানগ্লাসটা চোখে দিলাম। পাখির কূজন অন্ধকার হয়ে এল। ঠিক তখনই আরেকটা লোক রেলস্টেশনে একটা বিশাল মালগাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটা খবরের …

মালেক মুস্তাকিমের প্রেমের কবিতা  

ফিরিয়ে নাও, গোলাপকাঁটা      সব উপেক্ষা ফিরিয়ে নাও ফিরিয়ে নাও পায়ে হাঁটা সব পথ, অনিদ্রারাত ফিরিয়ে নাও মুখের দিকে চেয়ে থাকা যাবতীয় বিস্ময়, অপেক্ষার সব নদী ও গাছ সেই কবে …

কেয়া ওয়াহিদের কবিতা

অখণ্ড প্রেম প্রহরে প্রহরে ঝরা পাতার নৃত্য গাছেরা সেজেছে রঙিন পার্লারে লাল, কমলা, হলুদ, মেরুন ঢঙে। নির্জন বনতলে আমরা দুজন আর পাখিদের কুহু কুহু কুঞ্জন, হেমন্তের প্রণয়ে বিলাসী বসন্ত সুরার …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব-৩

    নকটার্ন রাত্তিরে একটা গ্রামের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, আর বাড়িগুলো সব আমার হেডলাইটের তীব্র আলোয় উঠে আসছিল─ তারা এখন জাগ্রত, তারা এখন পান করতে চায়। ঘরবাড়ি, গোলাঘর, …

শামান সাত্ত্বিকের কবিতা

যাবার সময় সময় হয়ে যায় আস্তে আস্তে কেমন করে যে সময় হয়ে যায় কেউ বোঝে না বিদায় নিতে গেলেই ফ্যাসাদ বাধে রাতে রাতে অনেক আহার হয়ে গেছে একেবারে পানাহার স্বভাব …

আফরোজা সোমার একগুচ্ছ কবিতা

হিয়ার পরশ লাগি তোমার যৌনতা চাই না মরদ— আশ্বিনের এই তুমুল তপ্ত দুপুরে এমন কথা কী করে বলি! চাই— তোমার ঘোরলাগা চোখ উঠানের ওপার দেখে আমাকে দেখুক; ঘুঘুর ডাক পড়ে …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব- ২

    সমাপিকা সঙ্গীত ছোট্ট একটা নোঙরের মতো আমি ভূপৃষ্ঠ দিয়ে হিঁচড়ে যাচ্ছি। আমার যা প্রয়োজন নেই সে সবকিছুই আমার সঙ্গে আটকে যাচ্ছে। অবসন্ন ক্ষোভ, উজ্জ্বল ইস্তফা। জল্লাদেরা পাথর নিয়ে …

কচি রেজার একগুচ্ছ কবিতা

পুনর্জন্ম নিয়েছি নিজেরই বাঁকাহাড়ে আমাকে নাশ করতে দিও না, গির্জা এখনও কেঁপে ওঠে প্রশ্বাস, ঝুঁকি রয়ে গেছে পরাধীন দৌড়ের প্রত্যাদিষ্ট হলে একটুকরো পাথর কি শোনে নি কণ্ঠস্বর? অন্য বাসনায়, অথবা …

সহজিয়া প্রেমের কবিতা: শাহেদ কায়েস

ভেঙে গেলে সান্নিধ্যের সাঁকো ডানা ঝাঁপটায় অস্থির জল ঘুম আর জাগরণের মধ্যে— স্নান সারে নির্জনতা নাকফুলে নেমে এলে সন্ধ্যাতারা জাহাজ ডাকে দূরের বন্দরে প্রতি সন্ধ্যায় একটি খরগোশ ঢুকে পড়ে পাতাল …

নাজনীন খলিলের পাঁচটি কবিতা

অপরিচিত আবার দুইজন মুখোমুখি; তাদের মাঝখানে অপরিচয়ের প্রগাঢ় ছায়া ঝালরের মতো দুলে থাকে। আকস্মিক স্মৃতির ঝাপটায় তৈরি দৃশ্যপট সে কেবল একটা দেজাভ্যু। শুধু একটা কথাই সত্যি বলে মনে হয়; স্পর্শের …

ট্রান্সট্রোমারের কবিতা: পর্ব- ১

টোমাস ট্রান্সট্রোমারের কবিতা অনেকেই অনুবাদ করেছেন, সে-সবের অনেকগুলো তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ কবিতা অনুবাদ করতে গেলে তাতে এমনভাবে আকৃষ্ট হতে হয় তা যেন সেই কবিতার সাথে বসবাস  করার শামিল। তারপর …

শামসেত তাবরেজী: অ-কবিতা ও মধুপুরে সাহেব-বাংগালির মৌতাত দেখে

আমি এ ভিলায় থাকব না, ভূতে কিলাচ্ছে নব নব সৌকর্য দেখায়ে— পুনরায় টানছে প্রাচীনে। দরোজা নি-খিল, পর্দা গেছে উড়ে গতকাল, এসেছে গর্ভিণী বেরাল সে চায় না সন্তান আর, মনুষ্য-স্বভাব বর্তনের- …

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা: তাদের প্রিয় কোনও বর্তমান

১ ডলুং নদীর কথা ভেবে গেছি বরফ জমলে কেমন দেখাতো? আমাদের ফেব্রুয়ারি সামান্য একধরণের ঔজ্জ্বল্য আচমকা বিদ্যুৎ শুধু জঙ্গল অথচ তার অদূরেই ব্রিজ অপরিহার্য রাস্তা যেমন বজ্র ও দিগন্ত, যেমন …