সেলিম জাহানের মুক্তগদ্য: সুতো

আমাদের আবাসিক ভবনের ফটক থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরুলেই মাঝারি মাপের একটি উদ্যান। বেশ বড় বড় বার্চ গাছ দু’সারিতে। মাঝে মাঝে অনেকগুলো ম্যাপল গাছ। বার্চ আর ম্যাপল মিলে ঢেকে দিয়েছে পুরো …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

শিমুল ফুলের দুনিয়া—১৩ ইচিংবিচিং খেলায় সময় অন্যদের হাত-পা দিয়ে বানানো পিরামিডের তিনফুট উচ্চতা হাইজাম্প করে সহজেই পেরোতে পারি আমি। বা খেলতে পারি ছি-কুতকুত। কিন্তু ইশকুলে বউচি খেলায় দৌড়ে স্লো বলে …

লুৎফুল হোসেনের মুক্তগদ্য: নির্বোধের কড়চা

ছ’তলার বারান্দায় দাঁড়ালে এই পাশটাই খোলা পাই। সাথে লাগোয়া গলিটার অন্য পাড়ে একটা চারতলা বাড়ি। সম্ভবত বছর পঁচিশেক আগে তৈরি করা। হয়ত তিরিশ বছরও হতে পারে। সামনের গেটের সাথেই একটা …

খালেদ হামিদীর মুক্তগদ্য: প্রকৃত কবিতা কি আসলেই দুর্বোধ্য কিংবা ছন্দহীন হতে পারে?

কবিতায় দুর্বোধ্যতা আসলে কি? তা কি সৃষ্টি হয় জনজীবনে অপ্রচলিত শব্দ কিংবা উপমা-উৎপ্রেক্ষা-মেটাফর জাতীয় অলংকার কাব্যে ব্যবহারের ফলে? নাকি অন্য কোনো কারণে? গেলো শতকের সত্তরের দশকের একজন অগ্রজ কবি ও …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

পাঁচিলের ফোকর গলে—১২ অগ্রগামী ইশকুল থেকে কোনো ছাত্রীরই ক্লাস-চলাকালীন অবস্থায় বের হওয়ার সুযোগ একদম ছিল না। এমনকি টিফিন-পিরিয়ডেও না! গেটের বুড়ো-দারোয়ানটা ছিল হাড়বজ্জাত। ফুকলওয়ালা, তুক্তুকিওয়ালা, আঁচারওয়ালা, তেঁতুলওয়ালারা বসতো ছোট-গেটের বাইরে। …

মধ্য শরৎ উৎসব: সুপ্রাচীন চন্দ্রদেবীর গল্প

চীনের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো মধ্য শরৎ উৎসব বা মিড অটাম ফেস্টিভাল। এটি শরৎকালীন বা হেমন্তকালীন প্রধান উৎসব। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুপ্রাচীন চন্দ্রদেবীর আরাধনা এবং ফসল তোলার রীতি রেওয়াজ। …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা  ফুল ভলিয়্যুমে রেডিও বাজার শব্দে একদিন ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমচোখে ঠাহর করতে পারি না, এমন ভোর ভোর অমন জোরে রেডিও বাজাচ্ছে কে? আমাদের বাসায় এরকম …

দিলারা হাফিজের মুক্তগদ্য: বাংলা ভাষার বানান নিয়ে বারোয়ারি

ভাষা মানুষের প্রাণের সেতু। মনের জানা-অজানা ভাব প্রকাশের অন্যতম বাহন হিসেবে ভাষার কোনো বিকল্প নেই। বলা যায়, ভাষা সৃষ্টির অপূর্ব সোপান টপকে তবেই পূর্ণতা এসেছে মানব সভ্যতায়। পৃথিবীর ১৪ হাজার …

ফেরদৌস নাহারের মুক্তগদ্য: কবিতাই ধর্ম

এই যেখানে পাখিরা উড়ে চলে যায়, যেখানে রাত্রির অভিযান আলোর অক্ষরে লেখা থাকে, সেখানে আমার নাম ঠিকানা লেখা আছে কবিতার রক্তে, বর্ষাধারার ভেজা গন্ধের আগে-ভাগে। আমাকে কি খুব চেনা মনে …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

সৃজনী কচিকাঁচার মেলা  দৈনিক ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় ‘কচিকাঁচার আসর’ নামে শিশুকিশোরদের লেখা নিয়ে একটা পৃষ্ঠা প্রকাশিত হতো। ওই পাতায় নতুন সদস্যদের জন্য একটা নির্ধারিত ফরম ছাপানো হতো তখন। আমি একদিন …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ছোটকার জেলবাস একদিন ভোরবেলায় উঠে দেখি আম্মা অঝোরে কাঁদছে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে আমার অতিরিক্ত গৌরবর্ণা আম্মার নাকমুখ একেবারে রক্তজবা ফুলের মতো টুকটুকে লাল হয়ে উঠেছে। আব্বারও চোখ দুটো ফুলে ঢোল— …

সেলিম জাহানের গদ্য: তোমাকে দেখতে বড্ড ইচ্ছে করবে

দাপ্তরিক টেবিলের ওপরে ছোট্ট একটা চিরকুট। আমি আস্তে করে হাতে তুলে নিলাম। তা’তে গোটা গোটা অক্ষরে ইংরেজীতে সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা – বাংলা করলে যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘সম্প্রতি আমার বিদায় সম্বর্ধনা …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

ধুসর গোধূলি চানাচুর-ফুকল-আইসক্রীম-সিংগারা-তেঁতুল-অড়বড়ই-আমলকী নিত্য কিনে খেয়ে, বন্ধুদের খাইয়েও আমার হাতে প্রতি হপ্তাতেই কিছু পয়সা উদ্বৃত্ত থেকে যেত। দুই-তিন-হপ্তা বাদেই দেখতাম হাতে পাঁচ-দশটাকা জমে গেছে! এত টাকা কই বা কীভাবে খরচ …

পাপড়ি রহমানের স্মৃতিগদ্য: সুরমাসায়র

অচ্ছুৎ অসুখের দিনরাত্রি ততদিনে আম্মার ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা প্রায় সবগুলি নিষিদ্ধ বই-ই আমি পড়ে ফেলেছি। ভালো করে বুঝি বা না বুঝি পড়তে ইচ্ছে করেছে, ব্যস পড়ে ফেলেছি। ওইসব আউট বইয়ের …

অরণ্য: বোধনের ডায়েরি– টিনের ট্রাঙ্ক

বড়-সড় কালো একটা টিনের ট্রাঙ্ক আমাদের বাড়িতে ছিলো, যা সারাবছরই বন্ধ পড়ে থাকত, আর নিয়ম করে খোলা হতো শীত আসার আগে। ট্রাঙ্কটির বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা, এবং শোবার ঘরের এককোণ …

সেলিম জাহান: কনে দেখা আলো

নদীর পাড় ধরে হেঁটে বাড়ী ফিরছিলাম। পড়ন্ত বিকেল, পূর্বী নদীতে মোলায়েম রোদের খেলা ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায়। হঠাৎ করে দৃষ্টি ছড়িয়ে গেল নদী ছাড়িয়ে ওপারে ম্যানহ্যাটনের হর্ম্যরাজির ওপরে। আহা, ভারী …