ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়: এক খণ্ড নজরবন্দী শীতকাল ও অন্যান্য কবিতা

এক খণ্ড নজরবন্দী শীতকাল

এক খণ্ড নজরবন্দী শীতকাল থাকুক আমাদের।
অবাস্তব কুয়াশায় নিখোঁজ হওয়ার কৈফিয়ত লাগে না।
উৎসবমুখর পৌষের রোদে যদি আমার বিদায়ঘণ্টা বাজে, ফিরে যাব তবে অলিখিত সিদ্ধান্তে।
খুব জানতে ইচ্ছে হয়—তোমার কোন বাহুতে কতটা শীত আজ? আগুনের বুক মেলে দিই হাহাকারের দ্রোহে।
এভাবেই তুমি ছুটে চলছ নীল ঘোড়ার মতো।
আর আমি থেমে যাওয়া পথের মধ্যে আজন্ম এক গোলকধাঁধা।

 

উন্মাদ

যাকে তুমি শরীর দিয়েছ ঢেলে, সে কখনো চায়নি তোমার টগবগে প্রেম।
তাকে তুমি উন্মাদ বলে ডাকোনি আগে; তবুও মরা চিলের মতো সে আজ শুয়ে আছে তোমার বুকে।
তার কোনো অপেক্ষা ছিল না, ক্লান্তি ছিল না।
ফিরে আসতে হলে চলে যেতে হয়; শোনোনি আগে?
যে কিনা তোমার আঙুল নিয়ে খেলতে জানে না শিশুদের মতো; দরিদ্র জীবনের মতো আঁকড়ে ধরতে পারে না প্রেম।
তবু সে আজ দেখে শুধু তোমার নগ্ন শরীর; পুরাতন জনপদ ভেবে।
তবু তুমি সুখে আছ নিশ্চিতহীন প্রতিবাদ জানিয়ে,
লিখে রাখছ রোজ—আমাকে হত্যার ডায়েরি।

 

লোভ

মাঝেমধ্যে সংসার করার খুব ইচ্ছে জাগে। নারীসঙ্গ পেতে ইচ্ছে করে, সেই নারীর উরুতে মাথা রেখে সারারাত হেলাল হাফিজের কবিতা পড়তে ইচ্ছে করে।

ইচ্ছে করে বাজারের ফর্দ নিয়ে একদিন তোমার সাথে মাছের বাজারে যেতে, সবজির দোকানে যেতে।
আমার কি ইচ্ছে হয় না, একদিন আচমকা ঘুমের মধ্যে আমার কপালে কেউ চুমু দিক? আমার কি ইচ্ছে হয় না, কেউ আমাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে বলুক?

আমারও তো ইচ্ছে করে কেউ আমার জন্য চিংড়ি মাছের তরকারি রান্না করুক, খাবার নিয়ে কেউ আমার ফেরার অপেক্ষা করুক।

মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে বিয়ে করি, একটা সংসার হবে। এই জীবনটা খুব অস্তিত্বহীন লাগে, জানো?
অনিরাপত্তার কথা বলছি না; তবু খুব ফাঁদ মনে হয় নিজেকে।

মরে যাওয়ার বড্ড ভয় হয়; যদিও আমার মরে যাওয়ার ইচ্ছেটা কিন্তু ছিল!

 

প্রতারক প্রেমিকা

তুমি কিন্তু আমাকে—আমার চিঠির কাগজের মতো পোড়াতে পারোনি।
ঠোঁটে ঠোঁট রেখেও জ্বালাতে পারোনি আমায় দগ্ধ চিতায়।
তোমার নিষ্ঠুরতার কারণে পৃথিবীতে হয়তো একদিন নেমে আসবে গজব।
কত প্রেমিকের আত্মহত্যার খবর শুনি রোজ,
অথচ দেখো, আমি দিব্যি বেঁচে আছি!
এতটা ব্যর্থ প্রেমের নায়িকা তুমি?
তোমাকে না পেয়ে যদি মৃত্যুই না হয়,
তাহলে তোমার প্রতারণাময় প্রেমের সফলতা কোথায়?

 

আগের মতো অন্য কিছু

আমাদের কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই।
বেওয়ারিশ বিকেলে আমাদের সব চিঠিগুলো আত্মহত্যার চেষ্টায় মগ্ন থাকে।
দীর্ঘ পাঁচটি বছর দাউদাউ করে জ্বলছে—
দুটি হৃদয়ে এখনো থকথকে পোড়া ক্ষত; দগ্ধ ঘ্রাণ।
যে প্রেমিকের জন্য তুমি জামদানি শাড়ি পরতে—
তাকে হয়তো আমি কখনো দূর থেকে দেখতে পাব।
আমি হয়তো আর কখনো শুনতে যাব না—
এখন কোন প্রেমিকের চিঠির অপেক্ষায় থাকো!
যদিও জানি, তোমাকে নিয়ে কবিতা লেখা এক প্রকার অপরাধ এবং অন্যায়! কী করব বলো?
কবিতায় তো ছিল আমাদের প্রেমের স্টেকহোল্ডার; ঋণ ও লাভের অন্যতম দুঃখের পুঁজি।

 

ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়

জন্ম: ২২ ডিসেম্বর ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ। বর্তমান পেশা: শিক্ষার্থী, নওগাঁ সরকারি কলেজ। জন্ম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পুন্ডুরিয় গ্রামে। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির শুরু। সেই থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় অনিয়মিতভাবে কলাম, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশিত হয়ে আসছে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top