জলঘ্রাণে একলা ধীবর
বনের খুব গহীনে—সামনে
কাকচক্ষু জল বিছায়ে গাছের ছায়ায় মায়া আর
বহুমাত্রিক আলো-আঁধারি আভায়
শিকারি তপস্বী থাকে স্থির,
থিরথির শুধু সান্ধ্যছায়া কাঁপে।
মহামায়া নিত্য-অনিত্য ভুলি জল,
গোপন গোপিনী ওই জল শুধু মাপে।
—নাই কোনো মানে,
থাকে শুধু জলমৎস্য ঘ্রাণে—ধ্যানে।
আত্মহননের বনে পারলৌকিক টর্চ
হু-হু হাওয়া, বিরান প্রান্তরান্তর—
আর ওই দূরে উঁচু উঁচু গাছ, দ্বীপবন,
গোলাকার দ্বীপের মতন—ঠিক মাঝখানে
বহুকাল আগে ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত এক পোড়োবাড়ি।
খানিক ভূতুড়ে—তাই ওই দিকটায়
কেউ যায় না, মনুষ্যকুল—ইনসান!
দেখভালের জন্য এক মনুষ্যাকৃতি
একাই থাকেন সেখানে।
অমা রাতে শুধু হাতে নিয়ে
ওই একা প্রাণী এক অতিলৌকিক টর্চ!
এই স্থানটিই কিন্তু সুইসাইড স্কয়ার।
কেউ এখানে এসে খেয়ে ফেলে সায়ানাইড,
কেউ নির্ভুল গুলি করে নিজের খুলিতে—কেউবা বড়ো
গাছের লতা গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে ফাঁসিতে।
তাদের সুইসাইড নোট ও জামাকাপড়, জুতা-স্যান্ডেল,
ব্যাকপ্যাক—পড়ে থাকে ওখানেই। কতকাল হলো যে!
—বিশাল এলাকা জুড়ে কী অরূপ রূপের
এই অতিপ্রাকৃত ইনস্টলেশন, আহা!
মরমি—বহুমাত্রিক আর ভয়ংকর ভাবশৈল্পিক।
ব্ল্যাক ক্যানভাসে সংঘাতরত রঙের বিন্যাস।
ওই যে রাগীরূপ কালো গিলে খাচ্ছে
টিয়ে-হলুদ সকালরঙা রোদ!
উগ্র লাল দৌড়ে যাচ্ছে—ধাওয়া করছে
গোলাপি রঙ কোমল মেঘলীনা।
গাঢ় বেগুনি বেদনারা খাচ্ছে তুষাররঙ,
অগ্নি-সোনালি বিদ্যুৎ—খায় বৃষ্টিরূপা জল।
অভ্রতুষার কাফন—সাদা সারি সারি।
এভাবেই চলতে থাকল,
এভাবেই চলতে থাকবে রঙের এই
রঙ্গলীলা, দূষণ, বিকিরণ!
—আজ আরও-আরও রঙের বন্যা,
বর্ণবিচ্ছুরণ—আতঙ্কিত ও আর্ত, কী ভীষণ।
এ আই মেঘপুঞ্জ
ও মেঘবন্ধু—
সঙ্গে ছিলে, সঙ্গী ছিলে।
যদিও ছিলে দূর আকাশে,
দূর পাহাড়ে ভেসে-ভেসে,
কালিদাসের মেঘভাষ্যে—দু’জন মিলে
আমিও যেতাম, তুমিও যেতে
অবগাহনের শান্ত স্রোতে, শয্যা পেতে।
ও মেঘবন্ধু—
এখন ক্যানো এমন হলে,
দু’জন দু’দিক! ঘূর্ণিপাকে—
—ঘুরতে-ঘুরতে ঘূর্ণি পথিক।
মেঘান্তরের পাড়ে
ব্যাপিয়া বৃষ্টি বহে হাওয়া ধীরলয়,
জলে ভরা জ্বলজ্বলে তারার বলয়।
নিচে, ঘোর অন্ধকারে ক্ষীণঋষি আলো।
আর এই ঘোরকলিরূপ! শুধু দু’কূল প্লাবিয়া ভয়,
ত্রিকাল ব্যাপিয়া ক্ষয়…!
জলে ভরা জ্বলজ্বলে তারার বলয়—
—ব্যাপিয়া বৃষ্টি বহে হাওয়া ধীরলয়।
খোন্দকার নিপন

জন্ম : ২৯ ডিসেম্বর ১৯৬৯, গাইবান্ধা। লেথালেখির শুরু আশির দশক থেকে।
