ধূসর সন্ধ্যায়
শীত চলে যায় নীল ধূসর ডানায়
উত্তরের হিমবাহ মনে হয় কম
কীভাবে ক্ষুরের ক্রোধ ধীরে থেমে যায়
ও বাতাস অসম্ভব আলিঙ্গন দম।
ঠান্ডা অদ্ভুত বাতাস রোদের নীরব
দোলনচাঁপার গন্ধ কুয়াশার মতো
ভোরের রঙিন ঠোঁট যে মুখাবয়ব
হাত ইশারায় ডাকে ভালোবাসা যতো।
সন্ধ্যা তারা জ্বলে দূর নীল আসমান
কী সুন্দর ভালোলাগা আলো ঝিকিমিকি
পৃথিবীর শিল্পকলা পূর্ণিমার গান
মেঘের আড়ালে চাঁদ হঠাৎ ঠিকই
আনন্দ হাসিতে শুঁকে আলোকিত ঘ্রাণ
প্রেম মানেই অন্তর জ্বালা ধিকিধিকি।
অনাগত রোদ
শব্দ করে হাসে
গরম গুমট
সাগর সত্ত্বায়
শক্ত আখরোট
অদৃশ্য আলো কাঞ্চনজঙ্ঘায়
গুহামানব ।
রাতের আঁধার
স্বর্ণ ঈগল
ইপসের গল্প
ঝড়ো পিস্তল
ভয়ঙ্কর স্বপ্ন মেঘ চলে যায়
অদৃশ্য দানব।
সামান্য বাতাস
চাঁদের আস্কারা
ভোরের নিঃশ্বাস
রোদের পাহাড়া
গল্প গুজবে রাত জেগে থাকি
স্বপ্ন সনেট।
নীলাম্বরি শাড়ি
জ্যোৎস্না আলো
খুব তাড়াতাড়ি
কষ্ট ধারালো
মেঘমালা সমুদ্র নীল উন্মাদ
আস্ত গভেট।
সূচ হয়ে ফোটে
যন্ত্রনায় কাতর
রাত জেগে ওঠে
পাহাড়ি পাথর
একদা যুবতী নারীর দীর্ঘশ্বাস
নাভীমূল।
রোদের ইশারা
জল তরঙ্গ খেলে
মেঘ দিশেহারা
রোজ বিকেলে
ঝুলে পড়া ওলান ছায়া পথ
তৃনমুল।
ইশকের বাউল
অদৃশ্য হাত নীরব ক্ষমা, দিগ্বিদিক অসহিষ্ণু মেঘ
মেঘের ওপর নীল আকাশ, তার উপর বসবাস
আকীর্ণ নদীর জল, সবল বাহু দ্রাবিড় নারী
উন্মত্ত লোফালুফি ইশকের বাউল
অপার্থিব জিকির।
মেশকের সৌরভ জমা, ক্ষমার অদ্ভুত চাতুরী
ও নারী, দ্যাখো আকাশে ভেসে আসে যক্ষের কীট
ক্ষুধার্ত মানুষ, অভুক্তদের শহর
এর মধ্যে নগরের উলঙ্গ বাউল
প্রপঞ্চে বারংবার ধর্মগন্ডিকায় উদ্বাহু নৃত্য
খোঁপার বাঁধন খুলে এক কুমারী নারী
এতেই উত্তুরে বাতাস কাঁপন তোলে
ওঠে তোলপাড় – জলের জিকির
মধ্য উপত্যকা, স্রোতস্বিনী নদী
তিলোত্তমা, নালিশহীন ক্ষমা
আকাশের সৌন্দর্য মেঘের কুশল।
অর্থহীন উত্থান
বালখিল্য শিস, বেসুরো গান
মানুষের খেয়ে কাজ নেই
অহেতুক নাচে ধেই ধেই
এক সময় ফুরিয়ে যাবে অর্থহীন উদ্যম
শরীরের গরম।
সনেট
সবুজ সংকেতে মেঘ পারাপার বাতাসের বেগ
তৃষ্ণার্ত আকাশ ভেঙে কখন যে নেমে আসে ঝড়
নতজানু পৃথিবীর অন্ধকার নিমগ্ন আবেগ
শাড়ির আঁচলে শুধু নিরাপদ আমাদের ঘর।
অশনি সংকেত ডাকে,ফুঁসলায় বিদ্যুৎ চমক
পালক ঝরিয়ে নেমে আসে দূর আকাশের বাজ
ঘন কালো মেঘে উড়ে চকচক এক ঝাঁক বক
ভয়ার্ত পাখি আকাশ ভেঙে নামে শোনে না তোয়াজ।
মেঘের তোয়াজে সব কথা মানা যায়? আঁধিরাত
দিগ্বিজয়ী চোখজোড়া রক্তলাল ঝড়ের মাতম
মাঝে মাঝে বাতাসের আস্ফালন বিদ্যুৎ দৈবাত
কমে যায় আকাশের তামসিক, কিছু উপসম
মনে হয় সুপ্রভাত বাজিমাত বিজয়ীর হাত
পাহাড়ের কান্না থামে ভেঙে যায় চাঁদের ভরম।
আশ্বিনের ঝড়
বয়স কেবলি বাড়ে বৃষ্টির ফোঁটার মতো
জাগরণে কোলাহলে মৃত্তিকার সোঁদা ঘ্রাণ
সবুজে শ্যামলে প্রেম নিবেদন অবিরত
ভোরে কবুতর ডাকে যেনো মিলনের গান।
মেঘ নেমে আসে শেষ আশ্বিনের ক্রুদ্ধ ঝড়ে
বিকেলের রোদমাখা লাল নীল আসমান
আচমকা বাজ পড়ে যেনো আঁধার বিবরে
আকাশে কাজলমাখা সান্ধ্য মেঘের সাম্পান।
বেলাশেষে আশ্বিনের ঝড়ে বৃষ্টির চমক
পাখির ডাকে বিমূর্ত ঋতু বদলের গান
মাটিতে হেমন্ত গন্ধ ঝড়ো বৃষ্টির ঠমক
অপেক্ষায় বসে থাকা- আগাম সোনালি ধান।
আফসার খান

আফসার খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন কবি।
জন্ম: ১৩ নভেম্বর, ১৯৫৬
জন্মস্থান: বর্তমান হরিরামপুর উপজেলার সুতালড়ি গ্রাম, মানিকগঞ্জ ।
প্রকাশিত কবিতার বই: জ্যোৎস্না হুলুস্থুল ও অবরুদ্ধ নগরী
