অবনি অনার্যের একগুচ্ছ কবিতা

ইন্সটাগ্রামে কোন গাছ নাই

বলা হলো, বেশি বেশি গ্রামে ফিরে যাও।
তারা গেলো দ্রুতলয়ে ইন্সটাগ্রামে!
অথচ এ গ্রামে কোন গাছ নাই, মাছ নাই, নাই মেঠোপথ।
এমনকি নাই কোন ডাহুকের সচকিত চোখ।

বলা হলো, প্রিয় বুকে গুঁজে রেখো মুখ।
তারা মুখ গুঁজে আছে এহ ফেইসবুকে।
অথচ এখানে কোন ফেইস নাই, বুক নাই, সখা নাই— নিধিরাম সর্দার, ঢাল নাই, নাই তলোয়ার।
আছে শুধু সারি সারি ফ্রেন্ড-ফলোয়ার।

ফেইসবুকে পেইজ আছে, তথাপি এ বুকে কান পাতা কেন যায় না সরলা!

 

টোল প্লাজা

টোল আদায়ের শ্রেষ্ঠ উৎস বলেছি তোমার গাল,
হে পটোলচেরা। ইতি, তোমরার পীরিতেরই কাঙাল।

 

অপ্রস্তুত স্তুতিগুলো

মাত্রাতিরিক্ত স্তুতির প্রভাবে বহু প্রতিভা বিকশিত হয় না।
কিছু ঝরে যায় যথাযথ স্তুতির অভাবে,
বেশিরভাগই অঝোরধারায় ঝরে যায় বস্তুত প্রস্তুতির অভাবে।

 

ছিনিমিনিস্টার

অদ্ভুত, সিনেমা-ব্যবসা ইত্যাদি সেক্টরের মেগা-স্টাররাও একটা সময় কেন মিনি-স্টার হতে চায়? অথচ মিনিস্টারদের বেশীরভাগ দেশকে নিয়ে যা করে তাতে তাদেরকে বড়জোর ছিনিমিনিস্টার বলা যায়।

 

কেনাবাহিনী

সুলভে অঢেল ট্রোল বয়ে যায়
দাম বাড়ে শুধু পেট্রোলের।
তাস্কর্যের জয়জয়কার
কেনাবাহিনীও প্যাট্রোলে!

 

ক্যু-সংস্কার

অস্ত্র দিয়ে লেখা এ-গান, জেনো, ভুলে যেও না।

 

 

অবনি অনার্য

কবি ও অনুবাদক; পাশাপাশি গল্প, প্রবন্ধ ও কলাম লেখেন। বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজে গবেষণাকাজ শেষে বর্তমানে সেদেশেই গবেষণা ও অধ্যাপনায় নিয়োজিত।

প্রকাশিত বই:

কাব্য: লঘুচালে চোরাবালি খেলা (২০০৪), সরস সতী (২০০৮), WOMB TO-LET (দ্বিভাষিক, ২০০৯) ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (প্রা.) লি. (২০১০)।

প্রবন্ধ: কবিসঙ্গ অনুষঙ্গ (মুক্তগদ্য, ২০০৮)।

অনুবাদ: উন্মাদ (খালিল জিবরানের ‘দ্য ম্যাডম্যান’, ২০০৬), জেগে উঠছে ইরান (নোবেলজয়ী শিরিন এবাদির ‘ইরান অ্যাওয়াকনিং’, ২০০৭), চে স্মৃতিকথা (ফিদেল কাস্ত্রোর ‘চে: আ মেমোয়ার’, ২০০৮), আমার ক্ষোভ আমার অহংকার (ওরিয়ানা ফাল্লাচির ‘দ্য রেইজ অ্যান্ড দ্য প্রাইড’, ২০০৮) এবং আমাদের আর তাহাদের আমেরিকা (চে গেভারার ‘আওয়ার অ্যামেরিকা অ্যান্ড দেয়ারস’, ২০১০)।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top