চরু হকের এক গুচ্ছ কবিতা

সবুজ পাতা জানে সবই

আম গাছে খুব মুকুল আসছে এবার
গাছে গাছে সবুজ পাতার উঁকি
তোমার জন্য সবচে’ নরম পঙক্তিগুলো সাজাবো আজ
চোখের সামনে ছবির ভেতর বন্দী খাঁচার পাখিটিকে
উড়িয়ে দেবো দিকচেতনায়।

রঙের তুলি লেপ্টালেপ্টি
কিছু রঙ তো যাবেই মেখে
রাজপথের ওই মিছিল প্রান্তে।
আমি তো আর দান্তে নই যে
অনায়াসে সৃষ্টি করবো মহাকাব্য।
তবুও কেমন যেনো লোভীর মতো
তাকিয়ে থাকি আকাশ পথে
যদি কোথাও থেকে গানেরা নামে
তাদের সাথে আলতো করে হাত ছোঁয়াবো।
সবুজ পাতা জানে সবই?
সবুজ পাতায় মুখ লুকাবো।।

ভিন্ন তারায় খচিত

এ কেমন প্রেম তোমার
আমাকে ভেঙ্গে চুরে শেষ করে দাও
তারপর আবার জাগাও।
বাঁচায় তৃষ্ণায় আমি ছুটে বেড়াই
তুমি এই খুলে দাও নরকের দরজা
আবার এই খুলে দিচ্ছ স্বর্গের।
যখন আমি বেকুবের মতো লাফাচ্ছি আর
দৌড়াদৌড়ি করছি,কোনটাতে ঢুকি
তখন দেখি দু’টো দরজাই আবার এক হয়ে গেছে।

একমাত্র নাদানই জানে সর্বনাশ কি জিনিস।

সোয়েটার

নীশিথের অন্ধকারে সবচেয়ে বেশী আলো ফোটে
তাই আমি স্বপনেতে মায়ের লাল সোয়েটার মনে এনে
সময়ের কাটা হাতে একা একা সোয়েটার বুনি।
সেই সোয়েটার জুড়ে সারাক্ষণ আকাশ খেলা করে
খেলা করে রামধনু,লাল নীল, সবুজ বেগুনি
আমার মায়ের হাত যেনো এক অদৃশ্য ইশারা
যুগে যুগে নেমে আসা সময়ের আঙুর লতারা
এইখানে জাগায় নৈ:শব্দ।
অন্ধকার গাঢ় হলে আমার মায়ের হাত পূর্ণ করে শেষ টানটুকু
ভোরের ইশারা নিয়ে জেগে ওঠে অপূর্ব সোয়েটার।

খেয়াপার

বনপথে যেতে যেতে
আচমকা চেয়ে দ্রখি
কাকচক্ষুজল এক নদী
তাকিয়ে রয়েছে সে যে পথিকের দিকে
তার শান্ত আর গভীর চোখ দিয়ে
জলজ শ্যাওলায় ঢেকে রেখেছে তার স্পর্শাতুর হৃদয়।
আমি থেমে যাই, অজান্তেই
তার স্নিগ্ধ জলে পা ডুবাই
মনে হলো বুঝি অনন্তের পানে ডাক দিয়েছে
আমি থমকে দাঁড়াই।
বাসুদেব,তোমার নৌকা থামাও
আমাকেও সাথে নাও, পারাপারে।

ভ্রমণ

চলুন ঘুরে আসি
তুরাগ পার হয়ে
দেখে আসি অবাক সূর্যোদয়
খেয়ে আসি চা
আর লাল মাটির রাস্তায় বুনোফুল দেখতে দেখতে
হঠাৎ চমকে দেখে ফেলি জীবন।
যে জীবন আপনার আমার ও শালিকের।
হায়
জীবন উড়িয়ে দিলে আমরা কি কেবলি ধূলি?

 

চরু হক

শুন্য দশকের কবি চরু হকের জন্ম এপ্রিল, নেত্রকোনায়। পিতা ষাটের দশকের কবি নূরুল হক এবং মাতা ফেরদৌসি সুলতানা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করছেন।

২০১৪ সালেদেশ পান্ডুলিপি পুরস্কারবিজয়ী এই কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: পাতা ঝরার শব্দ পাই (২০০৯), ভুল বানানের চিঠি (২০১২), আমার ভেতর হাওয়ার বাসাবাড়ি (২০১৫), সুগন্ধিত দুঃখগুলো (২০১৫) শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০২৩)

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top