ক্যাফের শেষ টেবিলে আমি আর গগাঁ
ক্যাফের কোণার শেষ টেবিলে মাছিদের সঙ্গে বসে আছি আমি আর গগাঁ
তিরিশ মিনিটে তিনটে বাক্য আমি বলেছি
একটা সম্ভবত ও শুনেছে আর দুটো শোনেনি
মাছিদের শোনার নিয়ম নেই
ওদের মাথাগুলোকে গরম জলে সেদ্দ করে ভালো মাছিভর্তা পাওয়া যায়
কিন্তু এখন
এমুহূর্তে
ওর মাথায়
হ্যা গগাঁর মাথায় একটা বাক্যও নেই
ক্যাফের বাতিগুলোকে ও দেখছে আর লোকজনের আসাযাওয়া
ওর দিকে কারোরই নজর নেই
কেবলই ও উশখুশ করছে ওর বৌ গেছে পিকাসোর স্টুডিয়োয়
তো
পিকাসোর স্টুডিয়োয় যে কারো বৌ-ই যেতে পারে
এমন কি যে কারো প্রেমিকাও
যাক বাকি আবসাঁথটুকু আমি একাই তারিয়ে তারিয়ে খাবো
এখন
এমুহূর্তে আমার কোন বৌ নেই
কোন প্রেমিকাও নেই
কামরুল হাসানের মেয়েরা
কামরুল হাসানকে আমি পছন্দ করতাম উনি ছবি আঁকতেন
আটপৌরে জীবনের ছবি জীবনের অশ্রু উপত্যকা অবিমৃষ্যকারিতা
নিজেকে বলতেন পটুয়া
আর নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চা করতেন
হ্যা
ওনার স্বাস্থ্য বেশ আকর্ষণীয় ছিল বলা যায়
আর ওনার ছবির মেয়েদের স্বাস্থ্যও ভাল ছিল
যদিও তা বতেরো বা সুলতানের মেয়েদের মতো পেশিবহুল না
আর এরা কেউ স্বাস্থ্যচর্চা করতেন বলেও শোনা যায়নি
যা হোক
কামরুলের মেয়েদেরকে আমরা কতভাবেই না দেখেছি
নিরুদ্বেগ আর অনায়াশ ভঙ্গিতে সাজতে
জানালা সামান্য ফাঁক করে বাইরেটা উঁকি দিয়ে দেখতে
নাইওর যেতে
আর আপনারা জানেন কি না জানি না পার্টির কাজ হিসেবে
কলকাতায় থাকাকালীন
একসময় উনি কিছু পোস্টার এঁকেছিলেন
সেই পোস্টারগুলোতে কিছু মেয়ে ছিল
আকর্ষণীয় স্বাস্থ্যের
যদিও ওদের চোখগুলো ছিল আরও আকর্ষণীয়
কিন্তু পুলিশ ঐ চোখগুলোকেই চিহ্নিত করেছিল মারাত্মক অনিষ্টকর হিসেবে
আর প্রতিহিংসাপরায়ণ
আর রাষ্ট্রদ্রোহী
আচ্ছা ঐ মেয়েগুলো এখন কোথায় কেউ বলতে পারেন
পথ তাকেই নেয়
তুমি কি জানো তোমার ভেতর স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার আছে একটা
আর তুমি হেঁটে বেড়াও ওটার ভেতর
আসল ব্যাপারটা হয় তো নিজের অন্ধকার নিয়ে মানুষের জ্ঞানগম্যি
অথবা জিজ্ঞাসা অতি সামান্য
তোমার ভেতর একটা আকাশ আছে
অথচ তাকে তুমি দেখনি
অথচ সারারাত সে তোমার মাথার কাছেই বসে থাকে
তোমার ভেতর আছে একটা পাহাড়
অথচ তুমি টেরও পাওনি
অথচ সেই পাহাড় অভাবপীড়িত কুচি কুচি পাহাড় সারা দুপুর
তোমার চোখের পাতায় বসে ছিল
হ্যা সময় কম
আর সময় পেছন ফিরে তাকায় না
তাই তোমার ভীত হবার দরকার নেই
দ্বিধা রাখবার দরকার নেই
দশটা পথ দশ দিকে গেছে
তোমারটাও পথ
পথ তাকেই নেয় যে পথের আগুন অসঙ্কোচে গায়ে মেখে নেয়
ঘর একটা
আমাদের এই একটামাত্র ঘরে মানুষ দুজন
না কি তিনজন
না কি আরও কেউ কেউ
নিশ্চিত হতে পারিনি অথবা অস্বস্তি
আর ঘরে বই বিছানা আসবাবপত্রের কি অশান্তি কে জানে
যা হোক
একটা ঘরে দুজন মানুষই সমিচিন
আর এট দুজনেরই মনে রাখা দরকার
হ্যা উপত্যকায় সরলবর্গীয় গাছগুলোর কথা আমরা ভাবিনি
ওরা না পড়ে যায় কুয়াশাবিভ্রমে
আর যদি বাজপাখি ওদের ডাকে
তাহলে বরং জানালাটা খুলে দেওয়া যাক
পৃথিবীটা সামনে আসুক
একটা ঘরের চেয়ে একটা পৃথিবী অবশ্যই বড়
দুপুরে ঘুমাইয়া পড়ছো তাই আমি দেখতে পাইতেছি
আকাশে রোদ
পাঁচিলে কাক
ডালিমগাছে রোদ
একটু যেন
নড়ে উঠলো
শিশির আজম

জন্ম: ২৭ অক্টোবর ১৯৭৮, ঝিনাইদহ। বাংলা কবিতায় টি পোয়েট্রি মুভমেন্ট–এর ধারণা ও চর্চাকে তিনি সামনে নিয়ে এসেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পনেরো; উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ছাই, ইবলিস, টি পোয়েট্রি, সরকারি কবিতা এবং এশিয়ার ছাই। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ কবির কুয়াশা।
