মারুফ রায়হান: স্মৃতির মুকুরে স্যার এবং তাঁর একটি চিঠি

জীবিকাপিষ্ট ও জীবনের টানাপড়েনে ধ্বস্ত কে নয়! তবু কবিতাকিরণ কখনো বা এসে লাগে সৌভাগ্যবান কোনো কোনো যশোরবাসীর হৃদয়ে। তাঁদের অনেকেই হয়তো গৌরব বোধ করেন একথা ভেবে যে যশোরের সঙ্গে কপোতাক্ষ নদ—এর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তর নাম অবিচ্ছিন্ন। শহরে তাঁর নামে গড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় কালের স্বাক্ষী হয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত। ছায়াসুশীতল ওই প্রশস্ত প্রাঙ্গণেই কবি আজীজুল হকের প্রথম দর্শন লাভ এ—নবাগত শিক্ষার্থীর। ১৯৭৮—এর শেষ কিংবা ১৯৭৯—এর শুরু হবে হয়তো। কিছুকাল আগে হাফপ্যান্ট ছাড়া সদ্য কৈশোর—উত্তীর্ণ আমার কতোই বা বয়েস, আর কবিতার কীই বা বুঝি! আমরা হয়ে যাই তাঁর প্রত্যক্ষ ছাত্র; কবিপরিচয় জানা হয় অবশ্য অনেক পরে। যখন তোড়জোড় শুরু হয় কলেজের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে তাঁর শুদ্ধ উচ্চারণ ও বাচনে অ—গৎবাঁধা কথামালায় সাজানো একেকটি পাঠদানে বিমুগ্ধ আমরা। ছোট করে ছাঁটা চুলের ক্ষীণস্বাস্থ্য কঠিন মুখের মানুষটির ঋজু বক্তব্যের গভীরতা অনুধাবনের সামর্থ্য হয়তো সেকালে আমাদের অনেকেরই ছিল না। তবু গহন উত্তম কিছু কানে পশছে, এমন অনুভূতি হতো। দু’বছর আগেই (১৯৭৬) প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের নামকবিতাটি আবৃত্তি প্রতিযোগিতার জন্যে নির্ধারিত হলে এ অর্বাচীন একজন প্রতিযোগী হিসেবে তাতে নাম লেখানোর ধৃষ্ঠতা দেখায়। নেপথ্যে ছিল স্যারের প্রতি সংগত শ্রদ্ধা, অপ্রকাশিত টান। কবিতায় পাওয়া এ নবীশ যে জীবনে প্রথম কোনো কবিকে চাক্ষুস করলো! এবং সুযোগ পেল সেই কবিরই সামনে তাঁর কবিতার বাচিক পরিবেশনের। ‘বিনষ্টের চিৎকার’ শিরোনামের গদ্য কবিতার সবটাই কি বুঝেছিলাম।
‘অবশ্যই আমি সেই ব্যবহৃতা রমণীর সজ্ঞান প্রেমিক।
জীবনকে সুনিপুণ আলিঙ্গনে বেঁধে
চিরকাল বেঁচে থাকে নির্বিঘ্নে যেমন
মৃত্যুটা, তারো চেয়ে অধিক নিকটে
আমি তার। নিমজ্জিত আমি তার সকল বিষয়ে।’…

বুঝি আর নাই বুঝি, প্রবহমান অক্ষরবৃত্তে লেখা পুরো কবিতাটিই তখন কণ্ঠস্থ। স্যারের অনুমোদন না পেলে কি আর পুরস্কার জুটতো আমার কপালে। তিনি যে কবিতা পরিবেশনায় শুদ্ধতার অনুরাগী ছিলেন, ভুল পারফর্ম্যান্স যে তাঁকে আহত করতো, সেটি বুঝেছিলাম অল্পকালের ভেতরেই। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমি থেকে একজন নামী ব্যক্তিত্ব এলেন আমাদের কলেজে। তাঁর সামনে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন এক ছাত্রী। স্যারের মুখ প্রথমে থমথমে হলো, এরপর কষ্ট ও ক্রোধের এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি হলো প্রকাশিত। শেষমেশ হেসে ফেলে ছাত্রীটিকে থামতে বললেন। ভুল আবৃত্তি যে কবিতাকে হাস্যকর ও অনর্থের উদাহরণ করে তুলতে পারে, সেই শিক্ষা প্রথম পেলাম।

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, স্যারের আর কোনো কবিতা সে—বছর আমি পড়িনি। শামসুর রাহমান ও আরও দুয়েকজন ছাড়া তখন আর কারও কবিতা পড়ার কি ফুরসৎ পেয়েছিলাম। শহরের একমাত্র সাহিত্যিক—নক্ষত্র আজীজুল হককে অনেকটাই বিস্মৃত হয়েছিলাম। আঠেরো হয়নি, তবু সুকান্তকথিত আঠেরো বছর বয়সের স্পর্ধা আমাকে ছঁুয়েছিল যেন। এক সহপাঠিনীর প্রতি অত্যাশ্চর্য অনুরাগও আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। শুনতে শুরু করেছিলাম রবীন্দ্রসংগীত, মান্না দে, আকাশবাণী কোলকাতা রেডিওর গান। ছবি অঁাকা শিখবো বলে যাওয়া শুরু করেছিলাম শহরের এক পোড়োবাড়িতে শিল্পী সুলতানের ডেরায়, সেখানেই, নিচতলায় জঙ্গলে ঘেরা শ্যাওলাশোভিত এক কক্ষে মিলেছিল অনুসন্ধানী বিজ্ঞান ক্লাবের কার্যালয়। তড়িঘড়ি যার সদস্য হয়েছিলাম। এতকিছুর মধ্যে নিজেকে ছড়িয়েও আমার সময় তখন অপার্থিব বিষাদে পরিকীর্ণ। নিমজ্জন অভূতপূর্ব বেদনায়। আমার অবস্থা এমন: পরিবারে থেকেও যে নেই পরিবারে; কলেজ—ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও সে নয় নিবিড় ছাত্র; আস্ত বর্ষাকাল এসে তাকে বিদীর্ণ করে যায়; বসন্ত এসে করে যায় সমাহিত। ওই অগাধ নৈঃসঙ্গের মনোটোনাস দিনরাত্রিতে কবিতাই এসে হাত ধরে। পাতে দেয়ার মতো নয় এমন সব ‘কবিতা’ ি¤্রয়মান জ্বলা—নেভা তারকার মতন ফুটে উঠতে থাকলো আমার গোপন খাতায়। একবার ঘটা করে ক্যাসেট প্লেয়ারে তার কয়েকটি রেকর্ডের কসরতও করেছিলাম। শহরের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদীকে ভালোবেসে ‘ভৈরব’ নামে একটি কবিতাকাগজও প্রকাশ করলাম। আমাদের পাড়াতেই দু’জন নবীন কবি ছিলেনÑ পিঠেপিঠি দুই ভাইবোন। সেখানে নয়, সেই প্রদোষকালে বরং কবিসন্দর্শনে যেতাম বাড়ি থেকে পাঁচ মাইল দূরে যশোর জংশনের কাছাকাছি একটা ওষুধের দোকানে। যিনি ওটা চালাতেন, তিনি মিষ্টি করে কবিদের নানা গল্প শোনাতেন। কবিতার বই পড়তে দিতেন। সে যাক। অল্প ক’বছরের পরিচয়ের যশোরকে বিদায় জানানো জরুরি হয়ে পড়েছিল অসহ জীবনভার কমানোর তাগিদেই। সেই সুযোগ এলো আইএসসি—র ফল বেরুনোর পরে।

১৯৮০ সালের নভেম্বরে যশোরের সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ ঘটে গেল। সাময়িক দূরযাপন নয়, সত্যি সত্যি যে বিচ্ছেদ এটি তখন বুঝিনি। এরপর পুরো এক যুগ কেটে গেল কীভাবে কীভাবে। শিল্পপথের পথিক পরিচয় অবশ্য ঘোচেনি। বেশ ক’বছর অভিনয় এবং সংগীতশিক্ষাÑ দুটোই হয়ে উঠেছিল ধ্যানজ্ঞান। জীবিকা গিলে ফেললো দিবসের বড় সময়। পিতাও হলাম। যশোরের কবি—নক্ষত্রের কথা লিখেছি, রাজধানীতে সে—কালে অনেক কবি—নক্ষত্র। তার ভেতরে প্রায় সূর্যের মতোই বিরাজমান কবি শামসুর রাহমান। অগ্রজ ও অনুজপ্রতিম এবং সহপাঠী বন্ধুদের মুখে শুনতাম স্যারের গল্প। বিশেষ করে যশোরের যাঁরা কবিতাযাত্রায় সতীর্থ, তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই তিনি যেন গুরুস্থানীয়, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার একজন। ভাবতাম, আহা আমিই একমাত্র হতভাগা যাকে চেনেন না স্যার, আর আমিও তাঁর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত। ইতিমধ্যে পাঠনপাঠন বাড়ছে, কবি আজীজুল হক নিঃশব্দে আমার অন্তরে পাকা আসন গেড়েছেন তাঁদেরই একজন হিসেবে, যাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশের ‘আদি’ আধুনিক কবি। এমন একজন তাৎপর্যপূর্ণ ও চমৎকার কবি কি উপেক্ষিত থাকছেন রাজধানী থেকে দূরে বসবাসের কারণে? এমন একটা জিজ্ঞাসায় আন্দোলিত হতাম। কোথাও কি কোনো কবিতারাজনীতির শিকার তিনি! সে যাহোক, একানব্বুই সালের একেবারে শেষ মাসটিতে আমার জীবনে একটা ভালো সুযোগ তৈরি হলো লেখকদের নিয়ে কাজ করার। সম্পাদনা শুরু করলাম সাহিত্য মাসিক ‘মাটি’—র। কবিতাই শুধু নয়, স্যারের কবিতা নিয়ে প্রবন্ধ ছাপানো যায়, আরও যায় প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের স্মৃতিচারণ (‘আমার প্রথম বই’ বিভাগে)। স্যারের কাছে কয়েকদফা চিঠি পাঠিয়েছি। একবার চিঠিতে ঠিক কী লিখেছিলাম, সার্বিক পরিকল্পনার বিষয়টি খোলাসা করেছিলাম কিনা, আজ আর মনে নেই। মনে আছে, আমার প্রথম কবিতার বইটিও (স্বপ্নভস্মের চারুকর্ম, ১৯৯২) স্যারকে পাঠিয়েছিলাম। তার দীর্ঘ জবাব পেয়ে সত্যিই আমি বিস্মিত হই।

কবিতাভুবনে পা রাখা এক নবীনকে একজন প্রতিষ্ঠিত প্রবীণ কবি, তার শিক্ষক বলছেন, ‘কবিতায় কথা বলার একটি সূক্ষ্মশীলিত আর্ট তোমার আয়ত্তে আছে।’ আমার প্রথম বই নিয়ে অগ্রজ লেখকদের মধ্যে দু—তিনজন সে—সময় লিখেছিলেন। কিন্তু এত আন্তরিক স্বরে অনুপ্রেরণাময় লেখা তো কারু কাছ থেকে আমি পাইনি। স্যার আমাকে ভোলেননি, এবং একজন নবীনের প্রথম কবিতার বইটি সম্পর্কে দায়সারা মন্তব্য না করে বিশদভাবে কথা বলেছেন। সেইসঙ্গে আরও কথা হবে ( তাঁর ভাষায় ঘণ্টাখানিক) এমন সাগ্রহ সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন চিঠিতে। এ যে পরম প্রাপ্তি। আমরা ভুলে যাই যে, একদা আমাদেরও প্রথম কবিতার বই আলোর মুখ দেখেছিল। অথচ নবাগত কবিকে হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশ থেকে অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানাতে অপারগ থাকি। বড় মনের পরিচয় রাখতে পারি না। এক্ষেত্রে কবি আজীজুল হকের ব্যতিক্রমী ও প্রকৃত কবিসুলভ, ভালো মানুষসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি ও সক্রিয়তা সত্যিই তুলনাহীন। তিনি কিভাবে কী লিখে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তার খানিকটা এখানে তুলে দিলে বোধ করি অপ্রাসঙ্গিক ও আত্মপ্রচার হবে না। চিঠিটি লেখার ৩৩ বছর পর আজ প্রচার—পরিসরে আসছে।

চিঠিতে তিনি লেখেন:
“তোমার ‘স্বপ্নভস্মের চারুকর্ম’ গ্রন্থের কবিতাগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি এবং পড়ে আনন্দিত হয়েছি। কেন আনন্দিত হয়েছি তুমি যশোরে এলে এবং ঘণ্টাখানেক সময় দিলে তা বিস্তারিত বলতে পারবো। ব্যাখ্যাহীন ত্বরিত বিক্ষিপ্ত মন্তব্য প্রকাশে আমি বরাবরই অক্ষম। আবার এটা তোমার প্রথম কবিতার বই, এ—রকম ধরে নিয়ে তারুণ্যে প্রচ্ছন্ন তোমার প্রবীণতাকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। লেখালেখির চাইতে আলাপ আলোচনা আড্ডাতেই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তোমাকে সামনে পেলে আমি খুলে বলতে পারতাম এই কাব্যে তুমি তোমার আত্ম ও কবিচিত্ত পরিচয়, সময়—সমাজ—পারিপার্শ্বিকতার শর্তে বিধৃত কবি ব্যক্তিটির অবস্থান এবং কবি হিসেবে তোমার দায়—অভিপ্সা—প্রতিশ্রম্নতির কথা কিভাবে শিল্প—শালীনতায় ব্যক্ত করেছো। কুয়াশাময় আচ্ছন্নতার ভেতর থেকে বোধ—উপলব্ধিগুলিকে ছেঁকে তুলে আনার এবং ভাষারূপায়নের ক্ষেত্রে সেগুলিতে সঙ্গতি স্বচ্ছতা পরিমিতি প্রতীকতা ও ইংগিতময়তা দানের প্রবণতা ও কুশলতা তোমার কবিতায় সুচিহ্নিত। চিত্রলতা ও গীতিলতা, উভয়ের প্রতিই তোমার রয়েছে স্বভাবসিদ্ধ অনুরাগ। প্রমাকে উৎসর্গিত কবিতাটিই বিবেচনা করে দেখো। আমি এর চিত্র ও শব্দসন্নিবেশ, প্রচ্ছন্ন অনুপ্রাসধ্বনিত আঠারো মাত্রার প্রবহমান পয়ারে ফল্গুধারায় নিয়ন্ত্রিত আবেগ সংযোজনা ইত্যাদির কথা এখানে বলবো না। শুধু বলবো, প্রমার চোখে ফুটে ওঠা স্বপ্নচিত্রগুলো কেবল প্রমার হৃদয়েই একশো দিন সুর তোলে না, পিতৃহৃদয়কেও কেমন এক স্তব্ধ প্রসন্ন সুরে আবিষ্ট করে ফেলে। আর একটি অনুভবের কথা বলি। ‘এই পৃথিবীর যুদ্ধস্বর ক্ষুব্ধস্বর/ প্রমার শ্রম্নতিতে তাই অভিঘাত তুলতে অক্ষম’/Ñ এই দুটি চরণ যেন নেপথ্য থেকে বিরুদ্ধতাবোধের এক তির্যক ছায়াসম্পাত ঘটিয়ে বহুবর্ণ কল্পচিত্রটিকে গূঢ়তর তাৎপর্য দান করেছে। যেন সাতরঙে রঞ্জিত পুঞ্জমেঘের বুকে ধূসর এক ছায়া—ইন্দ্রধনু আভাসিত।… তো এই কবিতাটি পাঠের মুগ্ধতা নিয়ে তোমার বইখানি পড়া শুরু করেছিলাম। শেষ কেরছি আর এক তৃপ্তি নিয়ে, ‘ক্রান্তিকাল’ কবিতাটি পড়ে। মাঝখানে রয়েছে সৌন্দর্যের সুরাপান, শ্রাবণের স্মৃতি, তোমাদের বাড়ী যাবো, মহুয়ামাতাল; বিনষ্ট ভ্রম্নণের প্রতি খোলা চিঠি, টেলিফোন, দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘবাদন—এর মত লঘু—গুরুস্বরের কবিতা। ভেতরে যাবো না, আজকের চিঠি এখানেই শেষ করবো, শুধু বলি, কবিতাগুলি অবশ্যই দিচ্ছে তোমাকে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুস্থির ভূমিতল। কবিতায় কথা বলার একটি সূক্ষ্মশীলিত আর্ট তোমার আয়ত্তে আছে। এই আর্টটি, স্টাইলটি, তুমি নিজেই লক্ষ্য করে দেখো, ‘ক্রান্তিকাল’ কবিতাটিতে অনুভবের তীক্ষèতা আর মাধুয্যের্র মধ্যে কী সুন্দর ভারসাম্য গড়ে তুলেছে। এ—কবিতায়, ঘাম রক্ত ও অশ্রম্নতে সিক্ত করতলভার আশ্বাস বিশ্বাস ও সান্ত¦নার এই পুষ্পনিবেদন।”

আমার সৌভাগ্য, কলেজে প্রথম পাঠের সাড়ে চার দশক পরে গত মার্চে কবি মাজেদ নেওয়াজের সৌজন্যে কবি আজীজুল হকের প্রিয়প্রাঙ্গণ যশোর সাহিত্য পরিষদে তাঁর ‘বিনষ্টের চিৎকার’ কবিতাটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। স্মরণে রাখছি, সিকি শতক গড়িয়েছে তিনি আমাদের মাঝে নেই। এই পঁচিশ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের একটি ছোট শহরের গুটিকতক অনুরাগী ছাড়িয়ে দেশের কবিতা—ঐতিহ্যসচেতন নবাগত ও প্রতিষ্ঠিত কবিদের কাছে তাঁর কাব্যকীর্তি উজ্জ্বলতর হয়েছে। অনেকটাই কবিতাবিমুখ ও কবিতাবিরোধী সমাজে, কবিদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হতে থাকা কালপর্বে একটি চ্যালেঞ্জই বটে অপকবিতা অকবিতার ভাগাড় সরিয়ে খাঁটি কবিতাকে পাঠকের সামনে নিয়ে আসা। একাজে আমরা নিবেদিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আজীজুল হকের ‘ঝিনুক মুহূর্ত সূর্যকে’ অলৌকিক কিরণ ছড়াতে প্রত্যক্ষ করা যাবে। আর মাত্র চার বছর পরেই কবি আজীজুল হকের জন্মশতবর্ষ। প্রত্যাশা করি, সে—মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের কবিতাঙ্গনে তাঁর পুনর্জন্ম ঘটবে।

২৪ আগস্ট ২০২৬
[email protected]

মারুফ রায়হান

মারুফ রায়হানের জন্ম ২৩ নভেম্বর ১৯৬২। পৈতৃক নিবাস খুলনায়। স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও অনার্স পড়েন ইংরেজি সাহিত্যে। আশির দশকের প্রথমার্ধে ছাত্রাবস্থায় প্রবলভাবে নাট্যান্দোলন, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে অভিনয় করেছেন মঞ্চনাটক, টিভিনাটক ও পথনাটকে। ১৯৮২ সালে সামরিক শাসনবিরোধী ভূমিকা রাখায় গ্রেফতার হন। প্রধানত কবিতাই লেখেন। প্রকাশিত হয়েছে আঠেরোটি কবিতাগ্রন্থ এবং নির্বাচিত কবিতার একটি সংগ্রহ। সাক্ষাৎকারমূলক গ্রন্থ আছে দুটি। প্রবন্ধের বই চারটি। দুটি উপন্যাস (রানী ও কেরানি, আর জে রাজহংসী) বেরিয়েছে, আরেকটি (সোহাগপুর) প্রকাশের অপেক্ষায়। পেশা সাংবাদিকতা। কাজ করেছেন প্রথম আলোসহ বেশ ক’টি জাতীয় দৈনিকে। বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠে কর্মরত। দেশের প্রথম অনলাইন সাহিত্য ম্যাগাজিন বাংলামাটি-র প্রতিষ্ঠাতা। সম্পাদনা করেছেন ‘মাটি’নব্বুই দশকের সাড়াজাগানো সাহিত্য মাসিক। বিগত দেড় দশক ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একুশের সংকলন সম্পাদনা করছেন যেটিতে থাকে চলতি বছরে প্রকাশিত ৫০ নির্বাচিত বই নিয়ে ক্রোড়পত্র। রেডিও-টিভিতে সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে এখন উপস্থাপনা করছেন বিশ্বসাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘নিসর্গ ও নক্ষত্র। ২০১২ সালে পেয়েছেন লন্ডনের ‘সংহতি বিশেষ সম্মাননা পদক’। [email protected]

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top