আহমেদ নকীবের একগুচ্ছ কবিতা

যারা ছিলো সব বেশরম চোখ 

যখন লিখলাম মেয়েদের দেখতে আমার
ভালো লাগে, ভাবীরা পরস্পর মুখ দেখাদেখি
করলেন আর চোখ খুলে নিয়ে পেরেক মেরে
লাগালেন একজন আরেকজনের কপালে

সব বুঝি, সব বুঝি, চোখগুলি এমন বুঝদার,
এমন পক্ক যে, তারা সব কাটা আনারস, তারা
এ্যালোভেরার পিচ্ছিল পত্র, তারা সবজান্তা
মচুয়া বিড়াল, এতো এতো ভারে ভাবীদের
চোখ খুলে পড়ে গেলো মেঝেতে আর
লাফাতে লাগলো মার্বেলের মতো

একটা সিনিয়র ভাবী  তো লাফ দিয়ে আমার
চোখে ছিটকে এসে চক্ষুলজ্জা টেনে খুলতে
চাচ্ছেন আর দেখতে চাচ্ছেন মেয়েদের দিকে
তাকিয়ে থেকে কি কি জমিয়ে রেখেছি আড়ালে

এমন ঠাওরান যে, আমি কি কোন স্ফীতকায়
স্তনকে করেছি দর্শন, আমি কি কোনো কম্প্রমান
ঊরুর দিকে ঠায় তাকিয়ে ছিলাম? স্ক্যানিং চলছে :

তখন দেখতে পাচ্ছেন গোসল খানায় আমার
সাথে একটা বালতির ঝগড়া-বিবাদ,
আর যদি দরজার ছিদ্র দিয়ে দেখতে চান,
এই যা, আমি গোসল করি একদম ল্যাংটা হয়ে

তবুও চোখ খুবলে নিতে চাচ্ছেন, চাকু নিয়ে
টুকরা করে বের করতে চাচ্ছেন বেশরম
ছবিগুলি কর্নিয়াতে যারা আছে চুবানো
যেনো হাসির হেঁচকিতেই হয়ে যাবে অর্গাজম

তবে যেহেতু রসিয়া চোখগুলি ধরেছে
চ্যাংদোলা ক’রে আমাকে, তাই পেরে না উঠে
এতগুলি ড্যাবড্যাব চক্ষুদের সাথে, আমতা
আমতা করে উওর দি —

শুনেন, কপালে পেরেক বিদ্ধ চোখেরা, শুনেন,
অপোজিট সেক্সে’র উপর তো সিম্পল
একটা আকর্ষণ থাকে, এই জন্য বার বার
মেয়েদের দিকেই চোখ পড়ে ; আর কি?
খুব সিম্পল, খুব সিম্পল, বুঝলেন

তবে হৃদয় ছেদনকারী চোখদের এতো
সিম্পল কথা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নাই,
নাছোড়বান্দা চোখগুলি এবার আমার
জামার কোনা ধরে টান দেয়

তাই যাহা সত্য তাই ভড়ভড় করে বলি :
বলেন তো দেখি, আমি কি করে মুখ ফুটে বলি,
জামা পরা একটা মেয়ে আমাকে ডেকে বলে
তুমি কি আমার বাচ্চা হবা?

আমি তো অনেক বড়, কি করে আবার
টুকটুকে ছেলে হবো, আমি তো পারি না
একটা বাচ্চা হয়ে যেতে, আপনাদের চোখই
তো বল্লো আমার লোম অনেক বড়,
আমার মোচ অনেক মোটা, আমার চোখগুলি
চশমায় কীর্ণ, আমার চুল তো পরিপাটি

আমি তখন কি করে বলি, সেই কপালে
আটকানো চোখদের, মেয়েদের দেখলে মনে হয়
ওদের পেটে ঢুকে বসে থাকি, বসে থাকি
আর বড় হই, বড় হই।

আর যখন শীতের দিনে মেয়েরা আমাকে
পেটে নিয়ে ফুল তুলতে যাবে , গর্ভ থেকে চুপে
বেরিয়ে এসেই হাত থেকে ফুল নিয়ে দিবো
এক চম্পট আর চো চো দৌড়

আমি তো একটা ছেলে, একটা ছেলে, সত্যি
একটা ছেলে, বলেছি এসব ভাবীদের চকচক
করা চোখের দিকে তাকিয়ে

০৪/০৯/২০১৮

 

কাচের চোখে

তুমি কাচ, পার্থিব, সরল ও সটান
তুমি চৌকস এক ফ্লিন্ট
গনগনে ফার্নেস থেকে
নারীরূপী শিশি হয়ে বেরিয়ে এলে

তোমার এ্যাম্বার রঙের মিষ্টি
গাল ধরে টিপে দিবো আজ

যতদূর চোখ যায় ততদূর কাচ

তুমি ট্রান্সপারেন্ট,
তুমি ঝকঝকে,
তুমি নির্নিমেষ,
তুমি টুকরো টুকরো,
তুমি ছিটকে ওঠা,
তুমি ঝুরঝুর,
তুমি খানখান

কাচ, এবার ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে
আসো, বিদ্ধ হও বিষাক্ত শরীরে,
নষ্ট রক্ত সব বেরিয়ে যাক

স্লোমোশনে উঠে যাচ্ছে কাচ

কালো কাচ

আর আমাদের সন্দেহ বাড়ে,
কাচকে কেন্দ্র করে আমাদের
মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া চোখ
যেনো গাড়ির রহস্যঘন কাচ ভেঙে
ঢুকে যাবে আপামর চক্ষু

কাচের বোতল ভেঙে খুনোখুনি–

হায় কাচ, হায় গুলি

কাচের ছিদ্রের ভেতর দিয়ে
হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে
জনাকয়েক আলোক রশ্মি

ভোর এলো কাচের পৃথিবীতে এইবার

কাচ, তুমি একটা ফ্র‍্যাজাইল মেয়ে
তোমার চিড় ধরা বুক আর ঠিকরে
উঠেছে হাসি এই ভঙুর ঠোঁটে

কাচ তুমি প্রাচীন ছবির ফ্রেমে,
তুমি লাইফ সাইজ শার্সিতে,
যুদ্ধে চুরমার, তোমার ছড়িয়ে থাকা

ভাঙা জানালা দিয়ে
তাকিয়ে আছে এক দেশান্তরি মানুষ

আমার আর তোমার চোখগুলি
সেরকম ভাঙা

০৯/০৯/২০১৯

 

তালতাল মেঘ ভেঙে পড়ছে 

আমি আর ফেরদৌস হাসান আক্ষেপ
করছিলাম, কিভাবে বাড়িভাড়া না দিয়ে
চলে গেলো আমাদের ভাড়াটিয়া সব

ঠিক আছে, আমরা মালিক, ৫২ বছর
আগের বাড়িগুলির, এমন গর্তঅলা গলি’র
মধ্যে একবার বড় মামা পা হড়কে পড়ে
গেলেন, আর বলছিলাম আমাদের
ভাড়াটিয়ারা এখন আর টেলিফোন রিসিভ
করছে না আর হঠাৎ স্বপ্ন দেখছি চোখ থেকে
দরদর করে পানি পড়ছে জবুথবু বাড়িটা’র
তিনি বিড়বিড় করছেন আর বলছেন,
এবার তোমরা আমাকে চিরদিনের জন্য ছুটি
দিয়ে দাও কিন্তু আমাদের আপার অনেক
প্রিয় বাড়িকে কিভাবে কবর দিবো আমরা?

শুনেন, শুনেন, ওরা তো বলতেই পারতো
ওদের এখন বিপদ, নাকি ওরা টাকা’র পোটলা
বগলে চেপে ধরে ঢাকা থেকে কেউ সিরাজগঞ্জে
কেউ ঠাকুরগাঁও চলে গেছে, একেবারে চলে গেছে?

তখন টাকাগুলির দমবন্ধ হয়ে আসছিলো
টাকাগুলির মরণ হয়েছে আরো
বহুযুগ আগে আর যখন মৃত্যুকে ঠেকানো
যাচ্ছে না, টাকার উপর সব রাগ জমা হলো
আমাদের, আমরা পকেটের টাকা সব
ছিটিয়ে দিলাম রাস্তায় রাস্তায় আর
টাকাগুলি ভুতুড়ে হাতের নিষ্পেষণ
থেকে এবার মুক্তি পেলো, নির্ভার টাকারা
দলে দলে উড়ে গেলো অনেক দূরের আকাশে
তারা বালি হাঁস হয়ে এবার ফিরে আসবে
সাইবেরিয়া থেকে জাহাঙ্গীরনগরের লেকে

আমাদের সন্দেহের চোখ ঘুরঘুর করছে

সেলফোনে কথা বলতে বলতেই চোখগুলি
কোটর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গড়িয়ে যাচ্ছে
ফরিদ আর রুবেলকে গর্ত থেকে বের করে
আনবেই আনবে এবার যা থাকে কপালে

হায় আমাদের চোখগুলির পাওয়ার কমে
গেছে, কে দিবে একটা মোটা কাচের চশমা
এই যাত্রায় আমাদের, কে আছো ব্রাদার?

একটু আগে সরকার কনফার্ম করলো,
সব বানোয়াট আর মিথ্যা কথা, প্রধানমন্ত্রীর
দফতর দুই মাসের বাসা ভাড়া মওকুফ করার
জন্য কোনো নোটিশ দেয় নাই, আমার আর
হাসানের জানে পানি আসছে আর চকচক
করছে আমাদের চোখ আর আমরা প্ল্যান
করছি এবার ভেঙে ফেলবো আমানতের
সব বড়সড় টাকা, মাছের টুকরার মতো ডিপ
ফ্রিজে সাজিয়ে রাখবো সেইসব টাটকা নোট

মাথার উপর তালতাল মেঘ ভেঙে পড়ছে

আর এদিকে কল্লোল হাসপাতালের বেড থেকে
গা শিউরে ওঠা একটা কথা ছুঁড়ে দিলো:
বিডিআর-এর ঘটনার মতো ঘটনা ঘটতেও পারে,
বাসায় ঢুকে লুটপাট হতে পারে আর
কোটিপতিদের নিকুচি করছে কল্লোল
আর ইউকে’র অর্থনীতি চাঙা হতে ৬ মাস লাগবে
আর আমরা তো কোন তলানিতে আছি,
আমাদের দরজাগুলি খুলে নিয়ে যাবে ক্ষুধার্তরা আর আমরা কবেকার বেতঝাড়ের গর্ত থেকে ঝাঁকঝাঁক কাঁটাঅলা শজারুরা বেরিয়ে আসলাম

ফেরদৌসকে বলেছি, দেখে রাখিস তো
আম্মার বাড়িটা, দেখে রাখিস তো কাচগুলিকে
যেখানে তুই একদিন ঢিল ছুঁড়ে গর্ত করে
দিয়েছিলি, রোদের বুদবুদগুলিকে শার্শি’র
বুকের মধ্যে আলতো করে তুলে রাখিস
ওদেরকে ঘোর কুজ্ঝটিকার মধ্যে ছেড়ে দিবো
যেনো আব্বা আর খালু আজিমপুর থেকে
রাস্তা চিনে সহজেই বাসায় ফিরে আসতে পারে

২০/০৪/২০২০

 

৩৪ বছর পর 

আলমডাঙার একটা মেয়ে
ভেসে এলো ৩৪ বছর পর

এবার মুখোমুখি বসলাম মেয়েটার
আর বললাম আপনি বাবলার ডালে
হলুদ পুষ্প হয়ে ফুটেছিলেন আর
কেউ কি চেয়েছিলো কাঁটা হয়ে জন্ম
নিতে ঢেউ ঢেউ সেই আলমডাঙায়

আপনাদের বাজারে ইন্ডিয়ান
কেওকারপিন তেল উপুড় হয়ে বোতল
থেকে ঢকঢক ক’রে পড়ে গেলো
আর আপনি মনেই করতে
পারলেন না সেই ঘটনাটা

মেয়ে আমার দিকে খুব অবাক হয়ে
চোখ তুলে তাকালো, দেখলাম
চোখ তার পানির বুদবুদ হয়ে একবার
ভেসে উঠছে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে
আর তার চুলগুলি একঝটকায়
দমকা বাতাসে উড়ে গেলো

চাইলাম চুল ধরে আমিও তার সাথে
উড়তে থাকি যদি আবার
আলমডাঙায় অবতরণ করা যায়
আর যদি আম্মাকে লেখা চিঠিটা
গোলাকার বাংলোর ড্র‍য়ারে খুঁজে পাই

ছিলো নাকি কোনো এয়ারপোর্ট
স্বপ্নের সেই বাবলার বনে

তবে মেয়ে আজ আর পুষ্পরূপে নাই
এখন সে নিষিক্ত হয়েছে নূতন
এক থোকা ফল জন্ম দেয়ার জন্য

যতই বলি ঘোড়ার গাড়িগুলি কই?
সে এবার হা করে তাকিয়ে থাকে
আমি তো এরকম রাস্তা দেখি-ই নি
এই কথা বলতে বলতে মেয়েটা
হাওয়ায় উড়ে চলে যেতে থাকে

শুনেন, শুনেন, আপনাদের ওখানে
কাঠবিড়ালিগুলি দু-পেয়ে
মানুষ ছিলো আর একটা পুরানো
বাড়ির সিনেমা হলে আমি
আর আপনি সিনেমা দেখেছিলাম
ভাসমান কেদারায় বসে আর সেখানে
কোনো দর্শকই ছিলো না আর
একটা ঘোড়ার গাড়ি ভুল করে ঢুকে
পড়েছিলো সিনেমার পর্দা ভেদ করে

আলমডাঙার একটা মেয়ে
ভেসে এলো ৩৪ বছর পর

২১/০৭/২০২০

 

আত্মার আত্মাকে

আব্বা, আমার
আব্বা, তোমার মাথা
টিপে দিবো,
তোমার চুল
আস্তে আস্তে টেনে
দিবো, তোমাকে
চুমু দিবো,
জাপটে ধরবো,
তোমাকে ডলবো

তুমি একটা মাছ,
তুমি পাখির ছানা,
তুমি চড়ুই,
তুমি বুলবুলি,
তুমি কাঠবিড়ালি,
তুমি চিনু-বিড়াল,
তুমি খরগোশ,
তুমি টিয়া,
তুমি টুনটুনি,
তুমি কাছিম,
তুমি হাঁস,
তুমি বাছুর

আমার আব্বা,
তুমি তুলতুলে,
তুমি নরম,
তুমি কোমল,
তুমি সুগন্ধি
রাবার, তুমি ফুল

তুমি পিনোকীও

তুমি ময়দার কাই,
একবার গোল,
আবার হটডগের
বনের মতো লম্বা,
পরোটার মতো
পাতলা, তবে দিবো না
আগুনে, দিবো না
তাওয়ায় ছেড়ে
আমার আব্বাকে

তোমাকে
এয়ারকুলারের
ঠাণ্ডা বাতাস দিবো,
তোমাকে মেঝেতে
শোয়াবো, তোমাকে
কোলে তুলে
নিবো আর শূন্যে
পাঠিয়ে দিবো
ঘুরতে, বেশিদূর
যেয়ো না, বেশি
লাফ দিয়ো না,
যদি তোমার পিচ্চি
মাথা আকাশে
বাড়ি খায়, আমি
ব্যথা পাবো

বালিহাঁসের দল
তোমাকে পেয়ে
পিঠে করে যদি
নিয়ে যায় দূরদেশে,
কোথায় পাবো তখন
আত্মার আত্মাকে?

আমার ভয় ভয় লাগে
আব্বা, আমার আব্বা

২৮/০৮/২০১৯

 

আহমেদ নকীব

জন্ম: ২৭ শে জুন ১৯৬৫, ঢাকা। পেশা: এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, সাপ্লাই চেইন, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ঢাকা।

আহমেদ নকীব ৯০ দশকের কবি। তার কবিতা যতো না আবেগিক তারচেয়ে বেশি শারীরিক। একটা ইন্দ্রিয়-ঘন বলয় আবর্তিত হতে থাকে আহমেদ নকীবের কবিতায়। তবে শুধু আবেগকে চরিতার্থ করার জন্য তিনি কবিতা লিখেন না। তার কবিতা পড়তে পড়তে আমরা দেখতে পাই সাধারণ দৈনন্দিন ঘটনাগুলিও কবিতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে।

প্রকাশিত বই:
কাব্য-গ্রন্থ : শিশু ও হারানো বিড়ালের কথা (১৯৯৬, ধানসিঁড়ি ), মহাপুরুষের জোব্বা(১৯৯৯, ধানসিঁড়ি ), ওরা আমাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচে আর গুলি করে (২০০২, ধানসিঁড়ি ), আ মরি ক্ষুদ্রত্ব (২০০৫, গাণ্ডীব ), শুরু থেকে সম্প্রতি (কাব্য-সংগ্রহ: ২০০৯, উলুখড়), শব্দ-দ্বন্দ্ব-ভেদ (২০১১, শিরদাঁড়া ), নখের টুকরা (২০১১, প্রতিশিল্প), কালো কাচের বাইরে কিছু আর ঘটে না (২০১৬, উলুখড় ), তোমার নেচে নেচে চলা (২০১৬, শিরদাঁড়া ) মিসেস নিতিয়ার সাথে বৃষ্টি আসলো যেদিন (২০১৮, উড়কি), গান গাবো বিজয়নগরে (২০১৯, উড়কি), যে ব্রিজ দৃশ্যত নেই (২০২০, উড়কি) তাল তাল মেঘ ভেঙে পড়ছে (২০২১, উড়কি)

গদ্য-গ্রন্থ : ঘষা খাইতে খাইতে চলে নয়া চক্রের খেইল (২০০২, দুয়েন্দে)

গল্প-গ্রন্থ: ট্যাক্সট ম্যাসেজের মৃত্যু (২০১২, উলুখড় )

সম্পাদনা : স্বপ্নের সারসেরা, ছোটকাগজ বিষয়ক গ্রন্থ(যৌথ সম্পাদনা)। দীর্ঘদিন “শিরদাঁড়া” পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীতে যুক্ত ছিলেন

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।