চরু হকের কবিতা

দুধসাদা জগৎ

আয়নানগর আয়নানগর
আয়নানগর যায় যে ভেসে
চোখের জল যে ফুলগো তোমার
আয়ননগর পরবাসে।

 

আলোর ফুল

নামলো
রূপবতী বৃষ্টি
বিষণ্ণ রাত্রিরা খুলেছে তাদের ঝাঁপি
আহ
মিঠামন গ্রাম
বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া জ্যোৎস্নার ফুল।

 

বিলাপ

জানি এ তৃষ্ণা মিটবেনা
তনুমন ভেঙে পড়বে
জ্বোনাকপোকার সাঁঝবাতি জ্বলে জ্বলে নিভে যাবে
কার যেনো ফসল তুলতে গিয়েছিলে ঘাটে
এখন দেখি তোমারই গোলা বানে ভেসে যায়।
হাতের তালুতে রেখে অরণ্য মদিরা
চলে গেছো দূর দেশে কেটে রেখে জনমের ডোর
হায়,এসে আর পাবে কি কিছুই
ভাঙাচোরা হা হুতাশ ছাড়া?
এ তৃষ্ণা মিটবেনা
মিটবেনা
মিটবেনা জানি
শুধু, সব চাঁদ ডুবে যাবে।

 

সহসা

কত রঙের খেলা চলে তোমার হাতে
আমি কেবল দেখি কেবল দেখি
আশ্চর্য এক ময়ূর বুঝি উঠল জেগে
একটি পালক পড়লো খসে, ইস
কত রঙ যে যাচ্ছে ভেসে জাদুর ভেলায়
আমি তাতে ডুবি অহর্নিশ।

 

লীলা

বসে আছি মায়ের ছেঁড়া কাঁথা, কোলে নিয়ে
ঝুলছে তা থেকে কত রঙ বেরঙের গল্প
থোকায় থোকায়,
ডালে ডালে
সময়ের।

 

পরিচয়

আমিতো পাথর কিংবা গাছ।
গাছের কাছে সব ক্লান্তি জমা রাখা যায়, তাই না?
আর পাথর? আঘাত করলেও তার থেকে বইবেনা কখনো রক্তঅশ্রু।
শুধু বুক,শুধু বুক দিয়ে শুষে নেওয়া।
তাই পৃথিবীকে বললাম আঘাত কর, আরো, আরো, যত পার
কেবল আঘাতে ফোটাও রক্তচন্দন।
ভেঙ্গে পড়ুক পাথর, জ্বলে উঠুক আগুন
আগুনের আলোয়, মানুষ দেখতে পাক
ভেসে আসা জন্মের মতো নিজের মুখ। .

 

ছায়াসঙ্গী

সবাই আমার ছায়াসঙ্গী।
হতেই পারে, কী যায় আসে ?
কেবল তুমি কেবল সোনালি রোদ
উলটো পথে হাঁটো আমার সাথে সাথে
তুমি কেবল মেঘের ছায়া, আচমকা ক্রোধ
তুমি কেবল, কেবল তুমি
ভেতরটাকে চিরে ফেলার চিকন ব্যাথার দপদপানি।

 

চরু হক

শুন্য দশকের কবি চরু হকের জন্ম ৩ এপ্রিল, নেত্রকোনায়। পিতা ষাটের দশকের কবি নূরুল হক এবং মাতা ফেরদৌসি সুলতানা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করছেন।

২০১৪ সালে ‘দেশ পান্ডুলিপি পুরস্কার‘ বিজয়ী এই কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: পাতা ঝরার শব্দ পাই (২০০৯), ভুল বানানের চিঠি (২০১২), আমার ভেতর হাওয়ার বাসাবাড়ি (২০১৫), সুগন্ধিত দুঃখগুলো (২০১৫) ও শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০২৩)।

 

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top