চোর
জ্যাকেটভর্তি
তারার দিকে যে যাত্রা ছিল তাকে থামিয়ে দিচ্ছে পুলিশ
বুকের বোতাম ছিঁড়ে পড়ে যাচ্ছে-
কারা যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে বির-বির করে
পাথরের বাটির মতন সকাল ফুটে উঠলে
আলোর ঢেউ পেরিয়ে যায়
রাতভর তারাভর্তি আকাশ হাতিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরছে চোর।
স্তনে কোন দুধ নেই
আঁতুড়ঘরে পড়ে থাকি। এক বিড়াল ঘুর ঘুর করছে-
কখন যেন খেয়ে ফেলেছে দুধ। হাত দিয়ে দেখি স্তনে
কোন দুধ নেই।
বিড়াল তাড়াতে যাবো , চেয়ে দেখি তিনটা শেয়াল-
এদিকে তাকিয়ে আছে। লাঠি নিয়ে মারতে যাবো, গিয়ে
দেখি পেছনে বসে আছে বাঘ-
বাঘের মুখে বসে বসে মেপে নিচ্ছি গণতন্ত্র।
কমরেড বৃষ্টি
আমি কখনো ছাতা রাখিনা। লা পিওজ্জা…
ও যখন আকাশ থেকে পড়ে আমার মুখে
কয়েক ফোঁটা হয়ে পড়ে। আমাকে যে কতটা
ভালোবাসে কেউ তা বোঝেনা। আমার ঠোঁট
মুখ ভিজিয়ে দেয়। রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে
আমি দুহাত প্রসারিত করে বৃষ্টিকে কমরেড
ডাকি এবং বলি-
চলো আমরা অগণিত রাইফেল হই।
পূর্ববঙ্গ
দাদা গ্রাম মেখে আসতেন। শীতের নরম
রোদের সকালবেলা। সঙ্গে অনেককিছু।
মউয়া আলু আর ঝোলা গুড়ের কথা এখনও
মনে পড়ে। দুনিয়ার সুস্বাদু খাবার। দাদাকে
দেখে মনে হতো সিজদাহরত ধানের শীষ,পাশে
থেকে আমরা ঘ্রাণ নিতাম। পূর্ববঙ্গের ঘ্রাণ।
বাপ
জন্মদাতাই শুধু বাপ হয়না।
যাদের ট্যাক্সের পয়সায় তোমার ডিগ্রী,
তোমার চাকুরি, বেতন;
তারাও তোমার বাপ।
তাদের দিকে
চোখ নামিয়ে কথা বলো।
ভোট
যে রাষ্ট্রে গরিব মানুষের কোন মর্যাদা নেই।ভোট এলে
তাকে বসতে দেয়। চা দেয়। বিড়ি দেয় কিন্তু মৌলিক
পাওনাগুলো দেয় না। রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোকে লুকিয়ে
রাখে। ভোট হচ্ছে সেই সমগ্র অর্থনীতির রাজনীতি।
মানুষের মতো
কেউ কেউ আমাকে বলে আমি দেখতে
বাবার মতো-
কেউ কেউ বলে আমি দেখতে
মায়ের মতো-
কিন্তু কেউ বলেনা আমি দেখতে মানুষের মতো।
কাফকা
লাফিয়ে লাফিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। কাকে জানাবো? থানায়
গেলাম। আমার বউ বাচ্চাকে খুন করে চলে গেছে ।
খুব কান্নাকাটি করলাম। পুলিশ আমার কথা
বুঝলোনা। পোকার মতো নড়াচড়া করছে। কি বললো
আমিও বুঝলাম না। পোকাদের ভাষা বোধহয় এরকম
হয়। তবুও পর্দা ঠেলে ওসির রুমে গেলাম। আস্ত একটা
গুবরে পোকা বসে আছে। আমি লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের
কথা জানালাম। ওসি আমাকে কাফকা ধরিয়ে দিলো।
ভাত
খাদ্যবাহী ট্রাক আসতে দেরি আছে। আম্মা উনুনে
পানি চড়িয়েছেন। কেউ কেউ লাইনে এসে দাঁড়িয়েছে
সাতসকালে। কেউ কেউ ইট অথবা পাথর।
টিসিবির লাইনে ভাত ছাপা হচ্ছে।
চিনু কবির

কবি ও সম্পাদক। গাইবান্ধায় ৩০শে জুন, ১৯৫৮ সালে জন্ম, বেড়ে ওঠা।
লেখালেখির শুরু আশির দশকে। সর্বাধিক আনন্দ বাংলা কবিতার অন্তর্ভুবন
পরিভ্রমণে। সম্পাদিত ছোট কাগজ ক্যাথারসিস।
