ওভারটেকিং
দীর্ঘ শালবনে পাখির ছায়ার নিচে
মখমলের পাখি ওড়ে না;
পীথ—বর্ণ নদীটির পাশে
হাস্নাহেনা ঝরে গেলে— এ আমার ঘোর
ঘোর তো সুন্দরের জন্যেও নয়
জন্মমূলে পুঁতে রাখা বিষণ্ণ মধুপোক
কেমনে বুঝাই সখী—
হাওয়ার ঘরে গেলে
সে যে তোমার মতো হয়ে যায় নির্দয়
বনের ভেতর একটি শিশু বানরদের
পপকর্ণ খাওয়াচ্ছিল
লিখব এমন তো মনে ছিল না
তবু ইউ—টার্ন গড়িয়ে পড়ছে
পাহাড়ের ওই মুখ বেয়ে
৬১ হিজরির মহররম মাসের আশুরার দিনে
এ কার হৃদয় আজ মোমের মতন
যায় গলে, রক্তাক্ত কারবালায়
শূন্যতা ও হাহাকারে কান্না যাবে তুমি?
যে উদ্দেশ্য ছিল— মক্কা থেকে কুফায়
যেন বহুকাল আগে সঙ্গীর বেদনা নিয়ে
কাঁধে তোমার জাগে বিলাপের ঢেউ
হায় হোসেন, হায় হোসেন
কুফাবাসীর পাশে যে আত্মত্যাগের মহিমা
সেখানেই দেখা হবে
ও পাখি শোকবিহ্বল
যেন আলোতে ভর রেখে দাঁড়াতে পারে
একটি রাত্রিকাল
হায় হোসেন, হায় হোসেন
আজও দূরে দৃশ্যমান আদৃত হয়ে আছে
ঘোড়াদের ধুলার কেশর
যেন আশুরার দিন চোখ দেখে ফেলে
ক্ষাত্র—প্ররোচনার এই শহর
মেয়াদোর্ত্তীণ কবিতা
কতোদিন আলো ফুটে ওঠে
সন্ধ্যা নামার পরে— মনে হয়
যতো ভাষা
মায়ের পূজোর ঘরে
গুটিয়েছে ফণা
আমি তা মন ভরে লিখে যেতে চাই
যন্ত্রণার কথা যেভাবে মিলিত হয়
মানুষের বাস্তবতায়
স্পিরিচুয়ালের কাছে তা শুভ হয়ে লুটায়ে পড়ে
কভু মানুষই মানুষের খুনি
পৃথিবী অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে এই নির্মমতায়।
মেটামরফসিস
যদি ভালো না লাগে, তবে চলে এসো
যে রাস্তা ধরে পাকা থেঁতলানো জাম পড়ে থাকে
খুব সাধারণ আশপাশ
ঝাড়ফুল জাতীয় ল্যান্টানা ফুটবে
ফুলের দুপুরে— স্মৃতি পাখি হয়ে যাবে
বিরাগ ঝরে পড়বার শব্দের ভেতর
একটি দোয়েল শিস দিয়ে উড়ে যাবে
এইসব বিবর্ত প্রহরে
সূর্যের আড়ালে হাঁটবে প্রবর হরিণ
কাক
একটি কাক উড়ে গেলে
সন্ধ্যা কার না মনে থাকে?
ময়লার ভাগাড়ে ঘেউ করে ওঠে কুত্তা
সেখানে একটি কাক বীভৎস পা রেখে
হাওয়ার বেদনা নিয়ে উড়ে গেলে
একটি পাগল ছাড়া আর আমি
দেখিনা কাউকে
শুভ্র সরকার

জন্ম ০৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।
প্রকাশিত কবিতার বইসমূহ :
বিষণ্ণ স্নায়ুবন (২০২০) ; দূরে, হে হাওয়াগান (২০২১) বাবা ও দৃষ্টিঘোড়া (২০২২); সূর্যঘরের টারবাইনে (২০২৩) রামায়ণ থেকে “যাদুর সন্ধ্যা” (২০২৩); রোদের অলিভিয়া (২০২৪) ইহকাল (২০২৪); অরণ্যে এক কাঠের শতাব্দী (২০২৫) ফুলের ফসল (২০২৬)
ছোটকাগজ: মেরুদণ্ড
আগ্রহ: কবিতায়।
