জেনিস মাহমুনের গুচ্ছকবিতা

অর্গানিক মোরগ

মুখোমুখি এসে বসেছিল সে—বুকে রেখে দুটি পিকাসো-কিউব,
আমোদেও মুখগুলো তিন দিকে এলোমেলো খুব: এসেছি স্থির
করে নিতে জীবনের সুখ, ঈশ্বর নাই, বল কে আমাদের থামায়!
আমরা আটকে আছি পরিস্থিতি ও যুগের জামায়। দম আর দামে
অর্থনীতির ফুসফুস কামারের হাপরের মত ফুলে থাকে, কয়লার মত
ধিকি ধিকি জ্বলে গ্লাসের আইস-কিউব: আমাদের মুখগুলো তিনদিকে
এলোমেলো খুব! প্রেম ভঙ্গিমা তাড়া নিয়ে আমাদের অপভ্রংশ জীবন
সম্পর্কেও মহড়া দিয়ে যায়! চল উঠি, ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের মত আমাদের
ভ্রুকুটি। তৃপ্তি: মুদ্রায় কিনেছি দেশী মোরগের স্বাদ। রসনায়
ফুটিতেছে তার সততার রূপ! আমোদেও মুখগুলো তিন দিকে
এলোমেলো খুব।

২৪.১২.২০২০

 

কসর

নিত্যনৈমিত্তিক ভূগোল ছেড়ে চারিদিকে অপরিচিত মুখ, অশ্রুত ভাষা, ভক্তির কৃষ্টি যেন আমাদের তামাসা! মনে গার্হস্থ্য অসুখ, তসবি দানার মত ঘাম দিয়ে মিটিয়েছ পরিব্রাজনের দাম এখন শূন্য দুই হাত: তুমি পাবে কসরের রেয়াত। তুমি অন্ধ বন্ধ ঘরে শুধু কসরই পড়ে যাও!

নিত্যনৈমিত্তিক ভূগোল ছেড়ে এসেছি এই অন্ধকারে চারিদিকে স্বজনের অপরিচিত মুখ, অশ্রুত ভাষা তাদের আনন্দ যেন আমার তামাশা, মনে গার্হস্থ্য অসুখ, তসবি দানার মত ঘাম দিয়ে মেটালাম পরিব্রাজনের দাম, এখন শূন্য দুই হাত- আমিই তো পাই কসরের রেয়াত!

২৫.১২.২০২০

 

নব্বুইয়ের কবিরা

পাথরের কাতর বর্শার ঠোট থেকে সেলাইয়ের সুচের
ঠোঁটে যখন শতাব্দী চুম্বন করে নিলো— আমাদের
কোটি কোটি সুচ ছিল উদ্যত, মুহূর্তে তারা গেঁথে
নিলো মুদ্রার বুক: একই তো শিকার! মেধা ও প্রযুক্তির
ধার! হঠাৎ কাঁথা শুকানোর রশি আমাদের অর্থনীতির
গ্রাফ হয়ে ঊর্ধ্বমুখী!

অক্ষরের বরশী দিয়ে একই তো শিকার আমাদের কবিতায়!
শিকার সেরে কীভাবে নেচে ছিলে কোন মুদ্রায়, ফলাফল
ঘোষণার আগে অর্থনীতি জেনে নিতে চায়। আমরাও শিকার
করে রেখেছি নির্ভার আমিষ শিল্পের প্রকোষ্ঠে। শতাব্দী শুধু
চুম্বন করে পরিবর্তিত অস্ত্রের ঠোঁটে।

২৮.১২.২০২০

 

কে

আকাঙ্ক্ষা লিখে রাখে মেঘ: বর্ষণ হোক।
শস্যরা পরাগ ও পর্বান্তরে যেতে চেয়ে
স্থির হয়ে আছে, তৃষ্ণায়। দরুদ ও দরদে
মানুষেরা তাড়ায় ভাতের ভূতুড়ে উদ্বেগ।
মেঘ পৌছুতে চায় বলক তোলা ভাতের
ফেনায়, যখন সন্ধ্যায় উনুনের দুঃখের
পাশে ক্ষুধার আকার হয়ে কৃষকেরা এক
পরিবার! তবু বর্ষণহীন কত মন্বন্তর ঘটে
অতি প্রয়োজন থেকে মেঘেদের তাড়ায়
কে?

২৯.১২.২০২০

 

গোলাপ জমন: হোটেল হায়াত প্লেস

গোলাপজমনটি বুকে নরম স্তনের মত ধারণ করার আগে
তৈজসপত্রটিকে পৌঢ় ও গৌড় পাচকের হাতে কতবার
অনুশীলন সম্পন্ন করে নিতে হয়েছিল! গোলাপজমন!
তার সফেদ জাম রঙের আধিপত্যের ভিতর যে অতনু
আকৃতির নৈবেদ্য তার গা থেকে উৎক্ষিপ্ত জাফরানের
ঘ্রাণ অজগরের মত পেঁচিয়ে ধরেছে বাতাসের শরীর।

০৮.১১.২০২০

 

জেনিস মাহমুন

জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬৯; ঢাকা। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত বই : ১২টি কাব্যগ্রন্থ। গত বছর ‘অসমগ্র’ নামে ৭টি কাব্যগ্রন্থ একসাথে প্রকাশিত হয়েছে।
ই-মেইল : [email protected]

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top