হারুকি মুরাকামির গল্প: যে রাজ্য ব্যর্থ হয়েছিল

অনুবাদ: জেসমিন আরা

[বর্তমান সময়ে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হারুকি মুরাকামির জন্ম ১২ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে জাপানের কিয়োটোতে। তাঁর সাবলীল ও সরল ভাষায় লেখা গদ্য অনায়াসেই টেনে নেয় যেকোনো স্তরের সাহিত্য পাঠককে। ভাষার এ সরলতা এতটাই জাদুকরি যে দুর্বোধ্য বিষয়কেও সরল অনুভূতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। আর হারুকি মুরাকামি লেখার যে বিষয়বস্তু নির্বাচন করেন বা বিষয়বস্তুকে যেভাবে উপস্থাপন করেন তা অনেকটা অদ্ভুত কিংবা বলা যায় সাধারণভাবে যা কেউ ভাবে না, দেখা পরিবেশটা যেভাবে কখনো কেউ দেখে না—ঠিক সেভাবেই তিনি ভাবেন এবং দেখেন। এ কারণে তাঁর লেখা পড়ার পর আমরা টের পাই চেনা পরিবেশের ভেতরেই অচেনা জগত উঠে আসছে সামনে।

অনূদিত এই গল্পটা গত ১৩ আগস্ট ‘দ্য নিউইয়র্কার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ গল্পেও মুরাকামি-সুলভ ধারাটি অক্ষণ্ন আছে। নাটকীয় কিছু কথোপকথনকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিফলিত হয় যে, আমরা সম্মান বা মর্যাদার উচ্চ আসনে যাদের ধারণ করি মুহূর্তের কোনো ঘটনায় তাদের প্রতি আমাদের উপলব্ধি কত দ্রুত কিংবা কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়! গল্পটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জেসমিন আরা।]

 

ব্যর্থ রাজ্যটির ঠিক পেছনে একটি সুন্দর ছোট নদী প্রবহমান। স্বচ্ছ ও অপূর্ব তার স্রোতধারা এবং সেখানে প্রচুর মাছের আবাস। সেখানে প্রচুর শৈবাল-আগাছা জন্মেছিল এবং মাছগুলো খাবার হিসেবে তা লুফে নিয়েছিল! অবশ্য রাজ্যটির ব্যর্থ হওয়া না-হওয়া নিয়ে মাছগুলোর কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। এটি রাজ্য হোক কিংবা প্রজাতন্ত্র—তাদের কাছে কোনো পার্থক্য বহন করে না। ভোট কিংবা কর—কোনোটাই তাদের দিতে হয় না। তারা বুঝে ফেলে যে, এটি তাদের জন্য কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না।

আমি স্রোতে পা ধুয়ে নিলাম। বরফ-ঠাণ্ডা জলে পা হালকা ভেজাতেই তা লাল হয়ে গেল। স্রোতধারা হয়ে বয়ে যাওয়া জলের ভেতরে দেখা যায় ব্যর্থ রাজ্যের দেয়াল ও দুর্গের কেল্লার প্রতিচ্ছবি। বাতাসের ঝাপটায় দ্বি-বর্ণের পতাকাটিকে এখনো উড়তে দেখা যায় কেল্লার চূড়ায়। নদীর পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই তা দেখতে পায় এবং বলে, ‘আরে, দেখ, ওটা ব্যর্থ রাজ্যের সেই পতাকা।’

কিউ এবং আমি বন্ধু—আসলে বলা উচিত, কলেজে আমরা বন্ধু ছিলাম। দশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে—আমরা দুজন এমন কিছু করেছি যা সাধারণত বন্ধুরা করে। এ কারণে অতীতকাল ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত। যাইহোক, আমরা একসময় বন্ধু ছিলাম।

যখনই কাউকে কিউ সম্পর্কে বলতে যাই—তাকে ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে আমি একেবারে অসহায় বোধ করি। যেকোনো কিছু ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে খুব একটা পারদর্শী নই আমি, তবু তা আমলে নিয়েও, কারো কাছে কিউ সম্পর্কে বলতে যাওয়া বিশেষ এক স্পর্ধার ব্যাপার। এবং যখন আমি তা চেষ্টা করি তখন হতাশার গভীর থেকে গভীরতর বোধ কাটিয়ে আসতে হয়।

যাইহোক, যতটা সম্ভব সহজ করে বলি।

কিউ এবং আমি একই বয়সি, কিন্তু সে পাঁচশত সত্তর গুণ বেশি সুদর্শন। তার ব্যক্তিত্বও তেমনই আকর্ষণীয়। সে কখনোই নিজের গুণ গায় না বা দাম্ভিকতা দেখায় না, এবং দুর্ঘটনাবসত যদি কেউ তার কোনো সমস্যা তৈরি করে তবুও সে কখনোই হুট করে রেগে যায় না। ‘ওহ, ঠিক আছে,’ সে বলে, ‘তোমার জায়গায় আমি হলে ঠিক এটাই করতাম।’ তবে বাস্তবে আমি কখনোই শুনি নি, সে কারো সাথে খারাপ কিছু করেছে।

বেশ স্বচ্ছলভাবেই বেড়ে উঠেছে সে। তার বাবা ছিলেন চিকিৎসক, শিকোকু দ্বীপে যার নিজস্ব ক্লিনিক ছিল, অর্থাৎ কিউকে তার হাতখরচ নিয়ে কখনো ভাবতে হয় নি। তার মানে এই না যে কিউ উড়নচণ্ডী ছিল। পোশাক-আশাকে সে ছিল খুব পরিপাটি এবং অসাধারণ খেলোয়াড় ছিল সে, হাইস্কুলে আন্তঃস্কুল টেনিস খেলতো। সে সাঁতার ভালোবাসত এবং সপ্তাহে অন্তত দুইবার সুইমিংপুলে যেত। রাজনৈতিকভাবে সে মধ্যপন্থী অসাম্প্রদায়িক ছিল। ক্লাসে সে উচ্চতর গ্রেডধারী না হলেও অন্তত ভালো ছিল। সে কখনো কোনো পরীক্ষার জন্য তেমন পড়ালেখা করে নি কিন্তু তবু সে কখনো কোনো পরীক্ষায় ফেল করে নি। সে ক্লাসগুলোতে খুব মনোযোগী থাকত।

সে পিয়ানো-বাদক হিসেবে অসাধারণ প্রতিভাবান ছিল এবং তার কাছে ছিল বিল ইভান্স ও মোজার্টের অসংখ্য রেকর্ড। ফরাসি লেখকদের লেখা তাকে খুব টানত, যেমন—বালজাক এবং মোপাসাঁ। কখনো কখনো কেনজাবুরো ওয়ে বা এইরকম কিছু লেখকের লেখাও সে পড়ত। যে কোনো বিষয়ে বা সাম্প্রতিক ঘটনায় তার সমালোচনা সবসময়ই সঠিক হতো।

স্বভাবতই নারীকুলের কাছে সে খুবই প্রিয় ছিল। কিন্তু সে এমন ধরনের ছেলেদের মধ্যে পড়ে না ‘যে ইচ্ছে করলেই যে কাউকে নিবিড়-সঙ্গী করে নিতে পারে’। তার একজন স্থিত সঙ্গী ছিল, যে কিনা মহিলাদের অন্যতম একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের সুন্দরী ছাত্রী। তারা প্রতি রোববার ঘুরতে বেরিয়ে পড়ত।

যাইহোক, কলেজে আমি যে কিউকে চিনতাম সে এরকমই ছিল। এক কথায়, সে ছিল এমন একজন যার চরিত্রে কোনো দাগ ছিল না।

সে সময়, কিউ আমার পাশের অ্যাপার্টমেন্টে থাকত। লবণ কিংবা সালাদের ড্রেসিং ধার নিতে গিয়েই আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়, এবং এরপর থেকেই আমরা একে অপরের ঘরে বিভিন্ন রেকর্ডিং শুনে এবং বিয়ার পান করে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাতে লাগলাম। আমি এবং আমার বান্ধবী একবার কিউ এবং তার বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে কামাকুরা উপকূলে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমরা একে অপরের সাথে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটিয়েছি। এরপর শেষ বর্ষের গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি সেখান থেকে চলে আসি এবং সেটাই আমাদের শেষ সাক্ষাৎ।

এরপর যখন আবার আমি কিউয়ের দেখা পেলাম, তখন প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। আকাসাকার এক অভিজাত হোটেলের পুলের পাশে বসে আমি বই পড়ছিলাম। কিউ আমার ঠিক পাশের ডেক চেয়ারে বসে ছিল এবং তার পাশে ছিল বিকিনি-পরা লম্বা পায়ের এক সুন্দরী মেয়ে।

আমি নিশ্চিতভাবেই চিনেছিলাম যে সে কিউ। সে আগের মতোই সুদর্শন ছিল, তবে এখন মাত্রই ত্রিশ পেরোনো কিউ এমন এক ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলছিল যা তার ভেতরে আগে ছিল না। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তরুণীরা একবার হলেও তার দিকে তাকাচ্ছিল।

তার এত কাছে বসে থাকা সত্ত্বেও সে আমাকে খেয়াল করছিল না। আমি নিতান্তই সাধারণ চেহারার একজন লোক এবং আমি তখন সানগ্লাস পরেছিলাম। তার সাথে আমার কথা বলা উচিত হবে কিনা বুঝতে পারছিলাম না, শেষ পর্যন্ত তাই কথা না বলাটাই ঠিক মনে করি। সে এবং মেয়েটি খুব গভীর আলোচনায় মত্ত ছিল, আমি তাই তাদের আলোচনায় বাধ সাধতে সংকোচবোধ করছিলাম। এছাড়া, আমাদের বলার মতো খুব বেশি কিছু ছিলও না।
‘আমি তোমাকে লবণ দিয়েছিলাম, মনে আছে?’
‘আরে, হ্যাঁ এবং আমি তোমাকে সালাদের ড্রেসিং ধার দিয়েছিলাম।’
এরপর খুব দ্রুতই হয়তো আমাদের কথা ফুরিয়ে যেত। আমি তাই মুখ বন্ধই রাখি এবং বইয়ের ভেতরে ডুব দিই।

তবুও, কিউ এবং তার সুন্দরী সঙ্গী এক অপরের সাথে কী আলোচনা করছিল তা না শুনে থাকতে পারছিলাম না। এটা অনেক জটিল একটা বিষয়। আমি বই পড়ার চেষ্টা ছেড়ে দিয়ে তাদের কথা শোনার চেষ্টায় লেগে গেলাম।

‘এটা হতে পারে না—’ মেয়েটি বলল, ‘তুমি নিশ্চয় মজা করছ আমার সাথে।’

‘জানি—’ কিউ বলল, ‘তুমি কী বলতে চাইছ আমি বুঝতে পারছি। তবে তোমাকে আমার দিক থেকেও বিষয়টা দেখতে হবে। আমি এটা করছি তার মানে এই নয় যে, আমিই এমনটা চাইছি। এটা করছি কারণ উপর থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আমি শুধু তাদের সিদ্ধান্ত তোমাকে বলছি। সুতরাং, আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ো না।’

‘হ্যাঁ, সেটাই।’ মেয়েটি বলল।

কিউ একবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

তাদের দীর্ঘ কথোপকথনের সার-সংক্ষেপ বলি—যদিও এটা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো। কিউ মনে হয় এখন কোনো টেলিভিশন বা এরকম কোথাও পরিচালক হিসেবে আছে এবং মেয়েটি মোটামুটি সুপরিচিত গায়িকা অথবা নায়িকা। যে কোনো প্রকার ঝামেলা বা কেলেঙ্কারির সাথে জড়িয়ে পড়া কিংবা কেবল তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার কারণে মেয়েটিকে কোনো এক প্রোজেক্ট থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখন তাকে এ বিষয়টি জানানোর দায়িত্ব উক্ত প্রোজেক্টের প্রাত্যহিক কাজকর্মের প্রত্যক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে কিউয়ের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিনোদন শিল্প বা মিডিয়া সম্পর্কে আমার তেমন একটা ধারণা নেই, তাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুরো বিষয়টা বোঝাতে পারব না, তবে আমার মনে হয় মূল বিষয়ের খুব একটা দূরে নেই আমি।

আমি যা শুনেছি তা বিবেচনা করলে দেখা যাবে—কিউ খুব আন্তরিকভাবে তার কর্তব্য সম্পাদন করছিল।

‘আমরা স্পন্সর ছাড়া চলতে পারব না।’ কিউ বলল, ‘আমার তোমাকে নতুন করে নিশ্চয় কিছু বোঝাতে হবে না—তুমি এ পেশা সম্পর্কে ভালো করেই জানো।’

‘সুতরাং, তুমি বলতে চাইছ যে এ বিষয়ে তোমার কোনো দায়বদ্ধতা বা বলার মতো কিছু নেই?’

‘না, আমি তোমাকে তা বলছি না। তবে আমি যা করতে পারব তা সত্যিই খুব সামান্য।’

তাদের কথোপকথনটি এবার আরেকটি দিকে মোড় নিল। মেয়েটি জানতে চাইছিল তার জন্য সে কতটা চেষ্টা করেছে। কিউ জোর দিয়ে জানিয়েছিল তার পক্ষে যতটা সম্ভব ছিল সবটাই সে করেছে কিন্তু প্রমাণ দেয়ার কোনো উপায় তার কাছে নেই, তবে মেয়েটি তাকে বিশ্বাস করল না। অবশ্য আমিও তার কথা বিশ্বাস করতে পারলাম না। সে যতই আন্তরিকতার সাথে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিল ততই সমস্ত কিছুর উপর কুটিলতার ধোঁয়াশা নেমে আসছিল। অবশ্য এতে কিউয়ের কোনো দোষ ছিল না। আসলে কারোও কোনো দোষ ছিল না। আর এ কারণেই এই কথোপকথনের ভেতর থেকে বের হওয়ারও কোনো উপায় ছিল না।

এটা স্পষ্ট যে মেয়েটি সবসময়ই কিউকে পছন্দ করত। আমি এটাও অনুভব করেছি, এ বিষয়টা তোলার আগে পর্যন্ত তাদের মধ্যে সব কিছু ভালোই চলছিল। এই বিষয়টা মেয়েটির মধ্যে রাগ ছাড়া আর কিছুই যোগ করতে পারে নি। যদিও শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকেই সবকিছু মেনে নিতে হয়েছে।

‘ঠিক আছে।’ মেয়েটি বলল, ‘এমনটাই হয়তো ছিল আমার কপালে। আমাকে একটা কোক এনে দাও, পারবে?’

কিউ এ কথা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এবং ড্রিংক স্ট্যান্ডের দিকে গেল। মেয়েটি তার সানগ্লাস পরে নিল এবং সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে থাকল। ইতিমধ্যে বই থেকে একটিই বাক্য আমি কয়েকশবার পড়ে ফেলেছি।

কিউ দ্রুতই দুটি বড় পেপার কাপ নিয়ে ফিরে এল। একটি কাপ মেয়েটির হাতে তুলে দিয়ে সে নিজের জায়গায় বসল।
কিউ বললো, ‘এটা নিয়ে খুব বেশি হতাশ হবে না। কোনো একদিন তুমিও—’

কিন্তু, কথা শেষ হওয়ার আগেই মেয়েটি তার কোক-ভর্তি কাপটি কিউয়ের দিকে ছুঁড়ে মারল। এতে তার পুরো মুখ ভিজে গেল এবং এক-তৃতীয়াংশ কোক আমার দিকে ছিটে এসে পড়ল। আর কিছু না বলেই মেয়েটি আচমকা সিট থেকে উঠে লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে গেল, একবারও পেছনে ফিরে তাকাল না। কিউ এবং আমি পনেরো সেকেন্ডের জন্য নিজ নিজ জায়গায় স্থির বসে ছিলাম। আশেপাশের লোকজন আমাদের দিকে হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।

কিউ সর্বপ্রথম ধাতস্থ হতে পেরেছিল। একটি তোয়ালে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, ‘দুঃখিত।’

‘ঠিক আছে।’ আমি বলেছিলাম, ‘আমি একেবারে গোসল সেরে নিবো।’

কিছুটা বিরক্তির ভাব নিয়ে তাকিয়ে সে তোয়ালেটা ফিরিয়ে নিয়েছিল এবং নিজের শরীর মুছতে তা ব্যবহার করেছিল।

‘কমপক্ষে বইটির জন্য আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে দিন।’ সে বলেছিল। এটা ঠিক যে আমার বইটা পুরোপুরি ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু এটা ছিল সস্তা মলাটের একটি বই এবং খুব একটা সুখপাঠ্যও ছিল না। বইটির উপর যে কোক ছুঁড়ে ফেলেছে সে আসলে আমাকে বইটি পড়া থেকে উদ্ধার করেছে। আমার কথা শুনে সে উৎফুল্ল হলো। বরাবরের মতোই প্রফুল্ল হাসি ফুটে উঠল তার মুখে।

কিউ আমার কাছে আরো একবার ক্ষমা চেয়ে সেখান থেকে চলে গেল। সে আমাকে চিনতেই পারল না।

আমি এই গল্পের শিরোনাম ‘যে রাজ্য ব্যর্থ হয়েছিল’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, কারণ সেদিন সন্ধ্যার কাগজে একটি আফ্রিকান রাজ্যের ব্যর্থ হওয়ার আর্টিকেল পড়েছিলাম। এতে বলা হয়েছিল, ‘একটি মহিমান্বিত রাজ্য বিলীন হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় স্তরের প্রজাতন্ত্রের পতন দেখার চেয়ে দুঃখজনক।’

 

জেসমিন আরা

তরুণ অনুবাদক জেসমিন আরা’র জন্ম ২০ নভেম্বর, ১৯৯৫। চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস। গল্পের বই পড়তে পড়তে লেখার প্রবল ইচ্ছে চেপে বসে। মৌলিক কথাসাহিত্যে হাত দেয়ার আগে বিশ্বসাহিত্যের কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের কথাসাহিত্য নিজের ভাষায় রূপান্তরের প্রয়াশেই অগ্রসর হচ্ছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু ভালো অনুবাদের স্বাক্ষর রেখেছেন। 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।