শাহীদ লোটাসের গুচ্ছ কবিতা

মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকি
আম্মার কাছে যাবো বলে…

 

তড়িঘড়ি

ধীরে ধীরে বেদনারা বাড়ি ফিরে
বাড়ি ফিরে মন
আর মানুষেরা তাড়া নিয়ে বলে-
দাফন দ্রুত করো ভাই দ্রুত করো,
লাশের কষ্ট হচ্ছে।
আর আমি দেখছি দেহ থেকে আমার বিচ্ছিন্নতা মানে
আমার নিশ্চুপ পৃথিবী,
তোমাদের ভয় ভয় তুচ্ছ ভালোবাসা।

 

রঙ কারিগর

দরজায় কোথায় কোন রং হবে
কী কী হবে সব আম্মা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছে
রঙ-কারিগরকে।
দেয়াল হবে টিয়া রং, জানালাগুলো হলুদ
আর দেয়ালে লম্বা করে থাকবে গোলাপির সরল রেখা
মেঝে থেকে নিচের সবটুকু কালো আর কালো,
কিন্তু দরজায় থাকবে ফুল আঁকা
লতানো ফুল ডগা আর পাতার মিশেলে অনেক রঙের বাহারি আঁক।

আম্মা মনের মতো করে সব রঙ-কারিগরকে দেখিয়ে দেখিয়ে দেয়
রঙ-কারিগর হাসে আর বলে, কোন চিন্তা করবেন না,
আপনার মনের মতই হবে সব।
উজ্জ্বল আর হাল্কা রঙে রং করা হয় আম্মার ঘর
আমাদের ঘর।

সেই ঘর সেই দেয়াল আর আগের মত নেই
রং হারিয়েছে তার জৌলুস
আমাদের ঘর হয়ে গেছে খুব পুরনো
দেয়ালের রং ফ্যাকাসে হয়ে গেছে
কোথাও কোথাও ফোসকা পড়ে বেরিয়ে এসেছে বালি ইট।
নতুন করে আবার রং না করালে এখানে আর থাকাই যাচ্ছে না।

রঙ-কারিগর রং করে,
আজ নতুন রঙে নতুন ভাবে অন্য রঙে সব সাজায়
ঘর নতুন সাজে সাজে
আম্মার ইচ্ছেগুলো রঙের তুলিতে বিলীন হয়ে যায়
মুছে যায় আমার মৃত আম্মা।

 

দেহের বিচ্ছিন্নতা

চারদিকে এত শত লোক অবাক বিস্ময় নিয়ে
তাকিয়ে দেখে আজ ফুসফুস থেকে নির্গত
আমার যুদ্ধশান্তি আর অবতরণ নক্ষত্র।
কেওবা চেয়ারের এককোণে মাথা রেখে দৃষ্টি রাখে
অনেক দিন পরে দেখা কারো কথা মালায়,
অথবা অন্য কাউকে,
কেওবা স্বজনের মুখে অবাক ভালোবাসায়
জেনে নেয় দিনকাল ছেলে মেয়ের টুকটাক খবর।

আমি নিশ্চুপ!

তোমাদের প্রতিটির কথার উত্তর আজ জানা আছে আমার,
উপবাস হুতোম পেঁচা ফাল্গুন চৈত্রমাসে মাটির ঘরে
যে প্রিয়তম চুম্বন এনেছিলো একা এক বিষণ্ণ সময়ে
তারও জবাব তোমার চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দিতে পারি আমি।
অথচ আমি নিশ্চুপ।

কোরআনের সুরে আগরের ঘ্রাণ বাতাসে ভাসে
কী এক ক্লোরোফিল ঘুম ঘুম যন্ত্রণা উল্লাসে।
আমি নিশ্চুপ।
তুমি তাকিয়ে আছ,
করুণায় ও ভালোবাসার অভিনয়ে আমার কাফনে আবৃত দেহে।
তুমি কি ভাবছ, আমি আজ সব বুঝি।
তুমি আকাশে তাকাও, পাখি দেখো
দেখো আমার শৈশব ও যৌবনকাল।
দেখো বৃদ্ধের যে শেষ ঋতু আমাকে কাঁদায়
তাও আজ খর-রোদ, দগ্ধ চৈত্রমাস।

 

লেখক পরিচিতি


শাহীদ লোটাস (Shaheed Lotus) বাংলা ভাষার লেখক,
তিঁনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প লেখেন ।
জন্ম ১৫ জ্যৈষ্ঠ সোমবার সকাল ৮টায় ।
প্রকাশিত গ্রন্থ :
উপন্যাস : বেদনার বাঁশি, কলকি সুন্দরী, আরশি, ঘৃণা ।
কাব্যগ্রন্থ : একুশ ও মুক্তির গান, ‘মুদ্দাফরাশের কবিতা।
আত্মজীবনি : ১৮ মার্চ ২০১৯,
মেইল : [email protected]

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।