তিন কানাডিয়ান কবির করোনা কবিতা

আলবার্ট ফ্রাঙ্ক মরিজ। টরন্টোর বর্তমান ষষ্ঠ পোয়েট লরিয়েট। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা বিশটিরও অধিক। তিনি ২০০৯ সালে গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ পেয়েছেন ‘দ্য সেন্টিনেল’ কাব্যগ্রন্থের জন্য। তাঁর এই গ্রন্থটি গভর্ণর জেনারেল লিটারারি এওয়ার্ড-এর জন্য চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছিল। তিনি আমেরিকান একাডেমি এন্ড ইনস্টিটিউট অফ আর্টস এন্ড লেটার্স থেকে গগেনহাম ফেলোশিপ এবং দ্য ইনগ্রাম মেরিল ফেলোশিপ অর্জন করেন।

মহামারি সময়ের উপলব্ধি

যখন যাত্রা শুরু হয়েছিল, আমরা জানতাম
পথে হারাবো অনেক সহযাত্রী।
তারপরও আমাদের ভ্রমণ ছিল আনন্দময়।
যখন ঘর তৈরি হলো, আমরা জানতাম
অনেক সমাধি হবে সেখানে।
তারপরও আমরা ভালবেসেছি আমাদের ঘর।
সবগুলো জানালা দিয়ে যা কিছু দৃশ্যমান ছিল
তাকে বলেছি, “সুন্দর”।
যখন আমরা পথে হেঁটেছিলাম,
প্রতিটি মাইলের দূরত্বে আলো ছিল ভিন্ন—
বন্ধ জানালা কিংবা উঁকি দেয়া একজোড়া চোখের
পেছনে কী রহস্য ছিল?
কী তৃপ্তি ছিল প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়া একটি বাগানে?
কারখানায় কোন কাজটি ছিল অজ্ঞাত?
গভীর অরণ্যে অচেনা ছিল কোন পাখিটি?
যখন ভোরের আলো প্রবেশ করত আমাদের
শোবার ঘরে কিংবা অনেক দেরিতে ঘুম ভেঙে যখন দেখতাম,
আমাদের পুরনো ভাঙাচোরা রান্নাঘরে
পরিত্যক্ত খাবার, খালি বোতল—
স্মৃতি কি গভীরভাবে জ্বলে উঠত না? –একই পুরনো ক্ষত,
নতুন করে জ্বলছে, স্থানান্তরিত ও স্থির;
এবং যখন আমরা আতঙ্কিত হয়েছিলাম আমাদের
প্রিয়জন, পরিজন— আরও অনেকের অসুস্থতায়— সেকি ভিন্ন কিছু ছিল?
পথের কোথাও তাদের শোয়াবার স্থান পাইনি,
কোনো ঘর পাইনি তাদের ভেতরে নিয়ে যাবার…
এবং যখন তাদের শ্বাসকষ্ট আমাদের দেখতে হয়েছে
কিংবা তাদের ছেড়ে যেতে হয়েছে কর্মস্থলে;
যখন তাদের সঙ্গহীন মৃত্যুর কথা আমাদের শুনতে হয়েছে–সেকি ভিন্ন কিছু?
না, কোনও পার্থক্য নেই।
ব্যতিক্রম শুধু এইটুকুই, যা আমরা জানতাম
অন্ধকারে আমরা তাই-ই দেখেছিলাম—
ব্যর্থতা নয়, সাফল্য দিয়েও শেষ নয়
শেষ হয় পরিচর্যায়।

♦♦♦

মিরিয়াম ডান।নোভা স্কোশিয়ার কবি ও লেখক মিরিয়াম ডান-এর লেখা প্রাকৃতিক জগৎ ও মানুষের সম্পর্ক দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত। শিক্ষাবিষয়ে ডিগ্রীপ্রাপ্ত মিরিয়াম একজন ওয়েব-রাইটার হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছেন এবং তাঁর প্রচুর পদ্য ও গদ্য প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংকলনে। ‘হু উইল লাভ দ্য ক্রো’, তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

ফ্ল্যাটেন দ্য কার্ভ

বক্ররেখাটি কর সমতল
চেপে দাও উত্থিত স্থান
পাহাড়টি চূর্ণ কর, ঢিবিটাকে চ্যাপ্টা কর
উঁচু নয় বরং একে লম্বা কর; টিলাটি ধসিয়ে দাও,
বলটিকে চিপসে দাও; পর্বত চুড়াটি মাটির সাথে মিশিয়ে দাও;
গোলাকৃতি নয় বরং সোজা কর। ফুলে ওঠা জায়গাটি ভেঙে দাও,
গুঁড়ো কর এবং আনুভূমিক কর, সমতল কর বক্ররেখা,
প্রতিহত কর সংক্রমণ
নিজ দায়িত্ব কর পালন:
এবং বাইরে যেও না।

♦♦♦

 

জেসন হ্যারো। অন্টারিও’র কিংস্টনের  তৃতীয় পোয়েট লরিয়েট। প্রকাশিত হয়েছে চারটি কাব্যগ্রন্থ ও তিনটি উপন্যাস। রেলিট পোয়েট্রি অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য তিনি ২০১৬ সালে চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হয়েছিলেন। ফরাসি, ইতালি ও আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে বিভিন্ন সঙ্কলনে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতা।

সব মানুষ

সকল মানুষ অবাক হয়ে দেখছে
এক যোগ এক যা হয়, সেই সংখ্যা
এখন একত্রিত হওয়া নিষেধ।
এ থেকে জেড অক্ষরগুলো কাজ করছে
ঘরে বসে; বর্ণমালা আজ অবরুদ্ধ।
সকালের সংবাদ ঘোষণা করছে আরও
অসুস্থতা, আরও মৃত্যু; তোমার কাছে তোমার হাত
আমার কাছে আমার এবং কোনো করতালি বা প্রার্থনায়
যোগ দিতে না পারা হয়ে উঠছে কষ্টের; নিজ নিজ পকেটের মধ্যে
একা থাকাটাও আমাদের জন্য যন্ত্রণার;
রাতের আলো ক্রমশ ম্লান—
যেন আগামীদিনের জন্য শক্তির সঞ্চয়ে প্রতিশ্রুত।
পথ জনশূন্য, তুমি কোথায় যাচ্ছ? কেন?
আমরা সবাই একসাথে আছি। তুমিও থাকো।

 

শিউলী জাহান

শিউলী জাহান। জন্ম: ১০ আগস্ট, ১৯৭০। পৈতৃক সূত্র: মানিকগঞ্জ জেলা, সিঙ্গাইর থানা, পারিল গ্রাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত হয়েছে দু’টি কাব্যগ্রন্থ— আশার বাগানে নীল প্রজাপতি; দ্রোহের সাত রঙ। কবিতাই তার আরাধনা। কবিতার নিগড়ে বেঁধে থাকতেই পছন্দ করেন। তবে সব ধরনের লেখা ও পড়ার প্রতি আগ্রহী যা কিছু মন ও হৃদয়কে আন্দোলিত করে, ভাবনার সাগরে ঢেউ তোলে। প্রকৃতি ও মানুষ তার লেখার মূল বিষয়। বর্তমান নিবাস কানাডার অন্টারিও প্রদেশের টরন্টো শহরে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।