আলতাফ হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা


কবিতা ১

ওদের মহলে যেতে চাই
নিজেরা নিজেরা বেশ মশগুল, চলছে গুলতানি
আয়নায় মুখ দেখে দেখে ক্লান্ত আমি
একজন লিখছে কিছু ফেসবুকে বিশজন ঝাঁপিয়ে নামছে
প্রকাশ্যে এমন
আড়ালে আড়ালে আরও কত কত বার্তা বিনিময়, কত খুনশুটি চলেছে
আমি সব দেখতে পাই, শুনতে পাচ্ছি আমি
আমার কথাই বলছে, আমাকে যে নেবে না ওরা, সে কথা বলছে

কবিতা ২

করিম ফোন করে হোমাইপুর থেকে:
বাড়িতে আসবা না?
আশরাফ বলে: নিশ্চয়, নিশ্চয়। বর্ষাটা যাক। এখন তে খুব পানি।
বর্ষাটা যায়। করিম ফোন করে।
আশরাফ: শীতটা একটু কমুক।
চোখের সামনে দ্যাখে লঞ্চ। ভৈরবের চায়ের ধোঁয়া। গ্রীন অ্যারো ট্রেন দ্যাখে।
চলি আয়সি যাহা হ্যায় দিল। উড়তে শুরু করে। বন্দর পায় না খুঁজে।
করিম: আসবা না? কত রকমের মাছ, কাঁঠাল, আম…
আশরাফ দেখে কোষা। নদীপারের নিভৃতি। তার নগ্ন বসে থাকা। দীর্ঘ ঘুম।
বলে, আর কয়েকটা দিন, গরমটা…
করিম আবার করে ফোন। রিং টোনে বাজে তিলক কামোদ
তানোম তা নে নে

কবিতা ৩

যখন শরীর চায় শরীর জানান দেয় নিজে
শরীরেরই ঊর্ধ্বমণি মুখ এসে মুখের কথা বলে
মেলে কিংবা না মিলতেও পারে
মাথা-মুখ জোট বেঁধে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে চায়

পারে না তো। বৈজ্ঞানিক অনেকই তো পারে
অনেকই পারে না। দূর, ক-তো দূর পথ…

কবিতা ৪

মুশকিল হয়েছে, সসঙ্কোচেই বলি, উত্তরগুলো জানা
এই এদের প্রশ্নগুলোর
প্রশ্নগুলো জানা
ওই ওদের উত্তরগুলোর
অনেক আগে থেকে
মাঝখানে জেনে জেনে ভুলে গিয়ে
না জেনে না জেনে
পরে আর ভুলিনি
ওদের কথা শুরু করার আগেই–বলতে খুব লজ্জা–ধরে ফেলি
এদের মুখ খোলার আগেই–বলতে গিয়ে মরতে ইচ্ছা যায়–ফর্সা হয়
কোনদিকে ওদের যাত্রা
কখন শবানুগমন

কবিতা ৫

এই তো সেদিনই এক লিখেছে কলাম
তিন বছরেরও পর ছাপায় ওকেই দেখলাম
যা বিষয়
ও-ই যে বোঝা গেছে, আর কেউ নয়
ওই তো ওকে দেখা যাচ্ছে গল্পরতা, অফিসে বসে আছে

বাঁদরটি জানালায়, গাছে

পৃথিবীটা এর মধ্যে ঘুরে এল কতবার শেষ আবিষ্কৃত গ্রহ থেকে
আগুনে, ঠান্ডায় কোমর গেছে বেঁকে
অনেকেই ফিরতে চায়নি, লুপ্ত হয়ে যেতে চায়নি শ্বাস আটকে গিয়ে
ক্রোধে অন্ধ লালচক্ষু দৈত্যটি মাথা তুলেছে আট ঘণ্টা ডুব দিয়ে

আমরাও চলে গেছি। চিহ্ন আর আমাদের কীভাবে বা থাকে
মুখোমুখি ওই ওরা, পাকেচক্রে, পাকে…

কবিতা ৬

কথা তো নিজেরই লিখছি। স্বতঃস্ফূর্ত, সোজা।
তবে ব্যক্তিগত তুমি বলতে পারবে না।
চারপাশে তোমরা সবাই।
একটাও কথা না-বলে বিড়বিড় করেই চলেছি। তারও ভাষা বোঝো।
শুধু হয়তো ভালবাসতেই চাই। জানি না কীভাবে সম্ভব।
ঘৃণা, শুধু ঘৃণা। জানি না তা সম্ভব কী প্রকারে।
আমাদের সাধ্য হায় নির্ণয় ন জানি।
কেউ এসে বলতে পারো। কান নেবে না তা। কেন
তা বলতে পারব না। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অভ্যাস
অঙ্গপ্রত্যঙ্গরা বলতে পারে।
একটা কথাও নয়। বিড়বিড় করেই চলেছি।
খুব মোটা চামড়ার প্রাণীটার ভাষায় বলছি। যা বলছি তা
উফশটনভ বলতে পারো। ইমোতমোটুরু বলতে পারো। অর্ধস্ফুট কিছু…

সে ভাষাও তোমাদের সকলেরই চেনা

Facebook Comments

3 Comments:

  1. সাখাওয়াত টিপু

    আলতাফ হোসেনের কবিতা তুলতুলে আর মিস্টি। তবে অনেক দিন ধরিয়া তিনি একই রকম কবিতা লিখিতেছেন। মাশাল্লাহ।

  2. Opurbo!!!

  3. একজন লিখছে কিছু ফেসবুকে বিশজন ঝাঁপিয়ে নামছে
    প্রকাশ্যে এমন
    আড়ালে আড়ালে আরও কত কত বার্তা বিনিময়, কত খুনশুটি চলেছে
    আমি সব দেখতে পাই, শুনতে পাচ্ছি আমি
    আমার কথাই বলছে, আমাকে যে নেবে না ওরা, সে কথা বলছে

    পড়ি আর অবাক হই।কি যে অদ্ভুত বাক্য।কি যে মন খারাপ, এই খানে এসে, আমার কথাই বলছে, আমাকে যে নেবে না ওরা, সে কথা বলছে

    কবিতা ২ টিও খুব অদ্ভুত, কি বিষয়ে, কি বলায়…আমি আরও বেশি অবাক হতে ছেয়ে আলতাফ ভাই এর কবিতার অপেক্ষায় রইলাম।।পড়তে পড়তে…

    করিম ফোন করে হোমাইপুর থেকে:
    বাড়িতে আসবা না?
    আশরাফ বলে: নিশ্চয়, নিশ্চয়। বর্ষাটা যাক। এখন তে খুব পানি।
    বর্ষাটা যায়। করিম ফোন করে।
    আশরাফ: শীতটা একটু কমুক।
    চোখের সামনে দ্যাখে লঞ্চ। ভৈরবের চায়ের ধোঁয়া। গ্রীন অ্যারো ট্রেন দ্যাখে।
    চলি আয়সি যাহা হ্যায় দিল। উড়তে শুরু করে। বন্দর পায় না খুঁজে।
    করিম: আসবা না? কত রকমের মাছ, কাঁঠাল, আম…
    আশরাফ দেখে কোষা। নদীপারের নিভৃতি। তার নগ্ন বসে থাকা। দীর্ঘ ঘুম।
    বলে, আর কয়েকটা দিন, গরমটা…
    করিম আবার করে ফোন। রিং টোনে বাজে তিলক কামোদ
    তানোম তা নে নে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *