আলতাফ হোসেন-এর চারটি কবিতা

imagesP0PCU8S3রিমোট

পোলার ভালুক দেখলাম
কীভাবে যে বাঁচতে চেয়েছিল
মেঘে ঢাকা তারার সুপ্রিয়াকে মনে পড়ল তো
আবার যখন পরে দৃশ্যপটে বাচ্চাকে নিয়ে মা হাতি যাচ্ছিল
অল্পবয়সী নিরুপায় সিংহগুলি চেষ্টা করছিল কেড়ে নিয়ে
কামড়ে-ছিঁড়ে খাবে
মা ঘুরে এসে রুখে দিচ্ছিল
আহা রে বাচ্চা তো—শূন্যে হাত ছুঁড়ছি, না, কিছুতে না শত্রুরা জিতে যায়
আবার যে
কিশোর সিংহদেরও না খেয়ে মরার দশা চোখেমুখে
ফাটছে প্রবল
কী করব কী করব
বাচ্চাটি কি মারা পড়বে, সিংহকিশোরেরা…, হাতে প্রাণপণ
রিমোট

 

দুনিয়াটা

দুনিয়াটা ঊষ্ণ হচ্ছে, ঊষ্ণ, ঊষ্ণতর
বারো ঘণ্টা ধরো
বলছে এগারোটি ঘণ্টা, তারপর বাকি উণষাট
সেকেন্ডও…
অর্থাৎ কি না বাকি শেষের সেকেন্ড
মানে ধরো চল্লিশ বছর
তারও মানে একটি পলক
তারপর গুড়ুম
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছত্রাকার
এখন কী করবে ভাবো, ভালো ছেলে হয়ে
সবুজ রাখবে কি না বলো
সাতশো কোটি প্রায় লোক—প্রত্যেকের মাথায় পৃথক
কারুকাজ
লড়ছেও এ ওর সঙ্গে—

বলতে গেলে ছবিই, প্রামাণ্য বটে, তবু যে এতটা ভাবলাম
থাকলে থাক না

 

শূন্যে

আজ সকালে যা লিখছি সব
কাল সকালে পাল্টে দেব
পরশু যদি বেঁচে থাকি বদলে দেব
ছাপা হতে চলে গেলে, ছাপা হলে, ল্যাপটপেতে
কিছু মুছব। কিছু জুড়ব।
তারপরেও বেঁচে থাকব। অন্ধ হব।
শূন্যে আঙুল ঘুরবে। খুঁজবে।

 

কফি জেগে থাকে

লক্ষকোটি নাম এসে পড়ার পর, শুধু নাম আসছে, নাম আসছে আরও
মাথা শূন্যগর্ভ, কিচ্ছু নেই মনে
দুনিয়া ওই তো দেখি আছে, তাই
একটা বিষয় খুঁজে, উপবিষয়দের লেজ ধরতে
ল্যাপটপে বসতেই হয়
তখন কী ঘটে তা কবিতাধরনে লিখে ফেলি—
কোত্থেকে সোফিয়া লরেন এসে পড়লে স্তন দেখেই কি না কান্না দেখে
সিনেমায় মন আচ্ছন্ন হয়

স্মৃতিভ্রংশ ঘর। কফি জেগে থাকে ধোঁয়ার তরঙ্গে

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।