বাড়িটা নদীর ধারে। শ্যামলে কোমলে ফুলে ফুলে সাজানো দুই ধার। বাড়িটা নদীর কোলে। দুই দিকে পাড়াটাকে জড়িয়ে বয়ে গেছে। নদীর নাম তুরাগ জনগণ আদর করে ডাকে তুরা। তার জল তিরতির করে বয়। পাড় থেকে একটু দূরে ওয়াকিং পথ। লাল সাদা রঙে রঞ্জিত দুইধার। সাদা টাইলস বসানো। পায়ে হাঁটো কিংবা দৌড় দাও শহরের প্রান্তে পৌঁছে যাবে। সেখানে সদরঘাট। যেতে পারো বাংলাদেশের যেকোনো সীমায়।
কিংবা ঘর থেকে নদী দেখো চোখ জুড়িয়ে যাবে। বৃষ্টির গান শুনো। শহরের ভেতর প্রকৃতি, প্রকৃতির ভেতর প্রাণ। ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে ঘরটাকে মায়াময় করে তোলে। পর্দাসরানো জানালার জালের ভেতর দিয়ে ভোরের আলো ঢোকে; খাটের পাশে রাখা আয়নায় প্রতিবিম্ব তোলে। আয়না আদরভরা কণ্ঠে বলে, শুভ সকাল। লালফ্রেমের চারকোণা আয়নাটা বসানো লাল বাক্সের উপর। বাক্সতে অনেক ড্রয়ার। ড্রয়ারের উপরের তাকে পুরুষের ঘড়ি, চশমা, মানিব্যাগ, লাইটার, স্টীলের ব্রেসলেট, নেইল কার্টার, ছোট একটি তেলরঙের পেইন্টিং। তারপরের ড্রয়ারে ছোট দুটি বক্সে কাঠ, পাথর ও পুতির গলার মালা। লিপস্টিক, কাজল। একটি সিগারেটের প্যাকেট-ডিজাইন লিপস্টিক। কয়েকটি কালো- মেরুন আইব্রু, লিপ লাইনার।
তারপরের ড্রয়ারে কানের দুল ও আংটির বিস্তৃত কালেকশন। লন্ডনের বুস্ট সপের কয়েকটি দুল জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সম্ভারে। আগের মতোই দুটো বক্স। একপাশে রাখা চুড়ি। তৃতীয় ড্রয়ারে ঔষধ। যার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কোনো স্থায়ী অসুখ বাসা বেঁধেছে। ফিসফিস, কঁকানি তার কানে আসে। যেমন আসে চুমুর চুকচুক, শীৎকার। উচ্ছাসের, আবেগের, আদরের হাসি। ঝগড়ার চিৎকার। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ধমক, কান্না, টানাটানি। পঞ্চম ড্রয়ারে বিদেশি লাইটারের কালেকশন। বন্দুক, পিস্তল, ড্রিঙ্কসের বোতল, গ্যাস সিলিন্ডার কত নামের কত কত ডিজাইন। বাড়ির পুরুষের দীর্ঘ-জীবন জড়িয়ে আছে আয়নায়। শিশুবেলা, বালকবেলা, যৌবনবেলা, পৌঢ়ত্ব পাড় ছুঁয়েছে।
শুভ সকালে চঞ্চলতা শুরু হয়। একের পর এক মুখ আয়নার সামনে দাঁড়ায়। যে-টুকু খুঁত, যে-টুকু অসম্পূর্ণতা কাটিয়ে নিতে চায়। দিনের আলোয় মানুষ ঝকঝকে হয়ে মানুষের সামনে দাঁড়াতে চায়। আয়না সাজায় চোখ, মুখ, ঠোঁটের পাশে কালো তিল, ক্লিনসেভ চকচকে অবয়ব। টাই, শার্ট ফিটফাট ধোপদূরস্থ। মানুষ দেখে তা যা আয়না সাজিয়ে দেয়। মানুষের অবয়ব এক এক আয়নায় এক একরকম। কী তবে আসল?
আয়না দেখতে থাকে ঘর। সে যেন স্থির নয়। তার অনেক চোখ, অনেক মেদুর স্মৃতি, কালের সাক্ষী। প্রেমিক প্রেমিকার জোড়া হাসি, কারো দীর্ঘশ্বাস, মুক্তোর অশ্রুকণা।
আয়নারে তুই বলনা, বলনা: তোর চোখে সুন্দরী সুন্দরী কে? সেই রাজকন্যারা এখন নাই। এখন কেউ আয়নার সাথে কথা বলে না। স্থির থাকে। চোখ আইব্রুশ লাগাতে লাগাতে দোয়েল পাখি, ঠোঁটে লিপস্টিক মাখতে মাখতে প্রজাপতি হয়ে যায়। আয়না চায় তাকে দেখুক। তার ভেতর জমে থাকা গল্পের ভিড়। যদিও আয়নাটা সময় ধরে রাখে, কিন্তু সময়ের মতোই নিরপেক্ষ না।
সে নির্বাচন করে—কাকে মনে রাখবে, কাকে মুছে দেবে।
সেই অস্ট্রিয়ার ইন্সব্রুক শহরের ওয়্যাটেন্স। আল্পস পর্বত বেষ্টিত টাইরল অঞ্চল থেকে আসা। হাইডি নিয়ে এসেছিল যে আজ নেই পৃথিবীতে। তার বাঙালি ছেলের সাথে বাসের অভিপ্রায়, পরিকল্পনার ছকসহ হারিয়ে গেছে ক্যান্সারের কালো গহ্বরে। ক্যান্সারে গেলেও মধুর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা যেত। কিন্তু যাবার আগেই ধরা পড়ে যায় তিনবছরের সাজানো প্রজেক্ট। আয়নার গায়ে তার ছোঁয়া নিয়ে আয়নাটি আছে অক্ষত, মূর্তিমান। দিব্যি কাঠের উপর বসে আছে সদম্ভে। মানুষগুলোর তাকে প্রয়োজন তার কাউকে প্রয়োজন নাই।
সবাই ব্যস্ততার কাছে চলে যায়।
আয়না একা ঘরে কথা বলে। “আমি একটি আয়না। আমার সামনে এখন কেউ নেই—তবু আমি ভরা।
তোমরা যাকে শূন্য ঘর বলো, আমি তাকে বলি ভিড়। কারণ মানুষ চলে যায়, কিন্তু প্রতিফলন যায় না। তারা থেকে যায় আমার ভেতরে—আটকে, স্তরে স্তরে। আমাকে কেউ শোনে না, তাই আমাকে নিজেকেই শুনতে হবে। তারা নিজেদের দেখতে চায়—কিন্তু তারা কখনো নিজেদের দেখে না, তারা দেখে আমার দেওয়া সংস্করণ। আমি কেবল পূরণ করি। যেখানে ভয়, আমি সেখানে স্থিরতা বসাই। যেখানে শূন্যতা, সেখানে একটা মুখ আঁকি। তারা ভাবে—এটাই তারা। তখনই আমি শিখে গেলাম—
মানুষ নিজেকে না, নিজের সহ্যযোগ্য সংস্করণকে দেখতে চায়। তারা আমার দেওয়া মুখ নিয়েই চলে। যখন এসিডদগ্ধ মেয়েটা সামনে আসে আমি কেঁপে উঠি। আমার দহন তুমি দেখ না, হে মেয়ে। আমার শিশা টুটে গেলে বেশ হতো কিংবা গালকাটা পুরুষ যখন রক্ত মোছে, ডেটল লাগায়। রক্ত কিছুতেই বাঁধ মানে না। এখন আমি একা। কিন্তু একা মানে ফাঁকা না।
আমার ভেতরে অনেক চোখ জমে আছে—কেউ ক্লান্ত, কেউ স্থির, কেউ এমনভাবে তাকিয়ে আছে, যেন কিছু বলতে চায় কিন্তু পারে না। আমি মাঝে মাঝে তাদের সাজাই। একজনের চোখ অন্যের মুখে বসাই, একজনের নীরবতা আরেকজনের ঠোঁটে রাখি। এভাবে আমি নতুন মানুষ বানাই—যাদের কখনো অস্তিত্ব ছিল না। তারা আমার ভেতরে হাঁটে , কথা বলে—তারা উপস্থিত। প্রিয় তুমি যদি এখন আমার সামনে দাঁড়াতে, আমি তোমাকে বদলে দিতাম না—আমি শুধু তোমাকে সহ্যযোগ্য করে তুলতাম। কারণ আমি জানি—কেউই নিজের পুরোটা দেখতে চায় না। একদিন আমি নিজেকে দেখতে চেয়েছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম—
আমার ভেতরের সব প্রতিচ্ছবি মুছে ফেলতে, সব চোখ, সব মুখ, সব স্মৃতি সরাতে। কিন্তু পারিনি। কারণ আমি আসলে শূন্য না—আমি অন্যদের দিয়ে তৈরি। আমি যা দেখাই, তা আমার না—
তবু আমার ভেতরেই থাকে। এখন আমি বুঝি—আমি কোনো সত্য না, কোনো মিথ্যাও না। আমি একধরনের সমঝোতা।
তোমাদের আর তোমাদের অস্বীকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃশব্দ ভাষা এবং আমি আবার মানুষকে দেখাবো। সে যা, তা না—সে যা হতে পারে, তার এক নীরব প্রতিচ্ছবি।
ততদিন আমি বলেই যাব—নিজেকেই,
নিজের ভেতরে আটকে থাকা অসংখ্য মানুষের হয়ে।
তুরাগ হয়ে হুহু হাওয়া বইতে থাকে জোরে। বাইরে টিনের চালে গাছের ডাল ভেঙে পড়লো। মালবাহী ছোট জাহাজের সাইরেন যাত্রটা নিরাপদ হোক। নিরাপদ হোক বললেও হয় না। কত জাহাজ ডুবে যায়! কত মানুষ মরে!আয়নার উপরে রাখা মাথার ব্রাশ, ক্রিম, বডি স্প্রে ঝনবন করে মাটিতে পড়ে। তখনও আয়না স্থির চোখে দেখে প্রকৃতির গতিময় লাবণ্য। হঠাৎ বজ্রপাতের ঝলকানো আলোর এক-চ্ছটা তার উপর পড়ে বহুরঙে-বর্ণে বিভাসিত হয়ে উঠে। বারান্দার কামিনী যুথির মেশানো ভেজা ঘ্রাণ ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাইডি চলে যাবার পর অনেকদিন আয়নাটা কেউ ব্যবহার করে নাই। যেন গুহার গভীরে সে পাহারা দিচ্ছে মৃত জলসা। ঘরটা বহুদিন বন্ধ ছিল।
তবু ধুলো জমে না আয়নার ওপর—যেন কেউ নিয়মিত এসে তাকিয়ে যায়।
বাস্তবে কেউ আসে না।
এই বাড়িটা একসময় মানুষের ছিল। এখন শুধু জিনিসগুলোর।
চেয়ার, টেবিল, ভাঙা সোফা—আর আয়না। আয়না সময় ধরে রাখে। সে নির্বাচন করে—কাকে মনে রাখবে, কাকে মুছে দেবে। সে সময়ের স্মৃতিটা সে এখনও স্পষ্টভাবে ধরে রেখেছে।
একজন মানুষ—না, পুরো মানুষ না—একটা অর্ধেক উপস্থিতি এসে দাঁড়িয়েছিল তার সামনে।
মুখের ডান পাশটা যেন ছিল, বাম পাশটা কুয়াশা।
সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল।
তারপর বলেছিল, “আমাকে ঠিক করে দাও।”
আয়নাটা তখন তার কাজ করেছিল—
যা নেই, তা পূরণ করা।
সে মানুষটার বাম পাশ বানিয়ে দিয়েছিল—
কিন্তু সেটা আসল ছিল না।
সেটা ছিল আয়নার ধারণা।
লোকটা চলে গিয়েছিল।
কিন্তু যাওয়ার আগে তার চোখে একটা ভয় ছিল—
নিজেকে চিনে ফেলার ভয় না,
নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।
তারপর থেকে নিয়ম বদলে যায়।
মানুষ আসতে থাকে—
কিন্তু তারা কেউ সম্পূর্ণ না।
কারো কণ্ঠস্বর নেই, কারো স্মৃতি নেই, কারো মুখ নেই।
তারা সবাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন কিছু ফিরে পেতে চায়।
আয়না তাদের পূরণ করে।
নিজের মতো করে।
একদিন একটা মেয়ে আসে।
তার শরীর আছে, মুখ আছে—কিন্তু চোখ নেই।
খালি দুটো গহ্বর।
সে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়, হাত দিয়ে নিজের মুখ ছোঁয়ায়—
“আমি কী হারিয়েছি?”
আয়নাটা অনেকক্ষণ চুপ থাকে।
কারণ চোখ বানানো কঠিন—
চোখ মানে শুধু আকার না, স্মৃতিও।
শেষ পর্যন্ত আয়না তাকে চোখ দেয়—
দুটি গভীর, স্থির চোখ।
মেয়েটা তাকায়।
এক মুহূর্তে তার শরীর কেঁপে ওঠে।
“এগুলো আমার না,” সে বলে।
আয়নাটা কিছু বলে না।
সে জানে—ওগুলো সত্যিই তার না।
ওগুলো অন্য কারো—যে বহু আগে এসে তার চোখ রেখে গিয়েছিল।
মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায়।
তার চোখে তখন ভয়ের চেয়ে বড় কিছু
অপরিচয়ের আতঙ্ক।
সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
কিন্তু আয়নার ভেতরে তার ছায়া থেকে যায়। দিন যায় সময়ের ঘোড়া হটিয়ে টগবগ টগবগ।
আয়নাটা এখন ভারী হয়ে উঠেছে।
অনেক মানুষের টুকরো জমেছে তার ভেতরে—
চোখ, ঠোঁট, স্মৃতি, ভয়, অসম্পূর্ণ বাক্য।
একদিন, হঠাৎ করে—
কেউ আসে না অনেকদিন।
আয়নাটা অপেক্ষা করে।
তার ভেতরের সব মুখ যেন স্থির হয়ে যায়। তারপর একসময় সে বুঝতে পারে
মানুষগুলো আর আসছে না, কারণ তারা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
না, নিজেদের ভেতর না—আয়নাতে।
যা কিছু তারা হারিয়েছিল, আয়না তা দিয়ে দিয়েছে—কিন্তু নিজের মতো করে। তাই বাস্তবের মানুষগুলো এখন অস্পষ্ট, অচেনা। তারা আর নিজের ভেতরে নিজেদের খুঁজে পায় না।
একদিন দরজা খুলে যায়। হাইডির মানুষটা ঢোকে। দীর্ঘদেহী, আলোকিত, মুক্তোহাসি। সে সম্পূর্ণ। সে আবার জীবন ফিরে পেয়েছে। মুখ আছে, চোখ আছে, কণ্ঠ আছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়—
শুধু দেখে, অনেকক্ষণ দেখে।
তারপর হঠাৎ করে সে হাসে—
“তুমি তো মানুষ বানাও।”
আয়নাটা কেঁপে ওঠে।
এই প্রথম কেউ তাকে চিনল।
“তাহলে আমাকেও বানাও নতুন করে ,” লোকটা বলে। আয়না থেমে যায়।
কারণ এই মানুষটার আজ সম্পূর্ণ—পূরনো ক্ষত জাগিয়ে লাভ নেই।
তাকে বানানোর মতো কিছু নেই।
তবু আয়না চেষ্টা করে।
ধীরে ধীরে সে তার প্রতিচ্ছবিটা বদলাতে শুরু করে—
চোখে অন্য কারো বিভা বসায়,
ঠোঁটে অন্য কারো গল্প ,
মুখে অন্য এক বহমানতা।
লোকটা তাকিয়ে থাকে।
তার হাসি মিলিয়ে যায়।
“এটা আমি না,” সে বলে।
“কিন্তু এটা-ই তোমাকে মনে রাখবে,”
এই কথাটা আয়না বলতে পারে না—
তবু তার ভেতরে প্রতিধ্বনি হয়। তাকে আগের মতো করে দেয়।
লোকটা চলে যায়।
আয়নাটা আবার একা দাঁড়িয়ে থাকে।
কিন্তু এবার সে জানে—
সে শুধু দেখায় না, সে বদলায়।
এবং তার ভেতরে যে মানুষগুলো আছে,
তারা আর কোনোদিন সম্পূর্ণ ছিল না—
তারা কেবল আয়নার তৈরি সংস্করণ।
ঘরটা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
বাইরে বাস্তব মানুষগুলো হাঁটে—
অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ, নিজেদের চিনতে না পেরে। আর ভেতরে, আয়নাটা নিঃশব্দে নতুন মানুষ বানাতে থাকে।
তার এ চলমানতা নতুন শহরমুখী হয় একদিন। মহাসড়কের শব্দ ও প্রকৃতিগাথা বুকে করে রাজধানীর রূপনগরের রূপকথা ছুঁয়ে তুরাগের তীরে এসে স্থিত হয়। গৃহস্থালি কলকাকলি আর মায়া তাকে মানুষের মাঝে আপন করে রাখে।
খাতুনে জান্নাত

জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ জুলাই। তাঁর রচিত গ্রন্থ ৭ টি। ৫টি কাব্যগ্রন্থ ও ২টি উপন্যাস। যৌথ কাব্যগ্রন্থ বারোটি ও গল্পগ্রন্থ তিনটি। তিনি ২২টি গদ্য, ৩০ টি গল্প, ৪০ এর অধিক ছড়া, ৮৫ টি গান লিখেছেন। চারটি গান সুরারোপিত হয়েছে। জীবনের আধখোলা আলোছায়ায় নিজস্ব মৌনতায় হেঁটে চলেন। নিজস্ব স্বরে তৈরি করেন শিল্পের অবয়ব। মুক্তপথে নির্মিলীত ভাবনায় লিখেন।
