হ্যাম্পস্টেড
রাস্তা আমাকে দেয়
ধুলোর ধারণা।
যে রাস্তায় ধুলো নেই
সেখানেও ধুলো আছে;
আজ এখানে পা চালিয়ে
মনের বনের বিছানায়
মাথা পেতে দিয়েছি তো
প্রাগৈতিহাসিক বালির বালিশে।
কে আমাকে ছেড়ে গেছে
এই আপেলের পথে,
অচিন পাতাদের ছায়াতে
যে রোদ থাকে,
তাতে ভিজতে ভালো লাগে।
প্রতিটি পথিকের কাছে
ঠিকভুল যাহোক একটা ঠিকানা আছে;
আমি জানি
এক একটা রাস্তা
এক একটা গন্তব্যের খুনি।
চলমান
ছবির মতো একটা দূরাভ দিনে ঢুকে গিয়ে বুঝলাম কতটা প্রিয় নিজস্ব দীন রাত। প্রাসাদ। বাগান। ফুল। ফল। রং। সুন্দরের ভারে রুদ্ধশ্বাস। জুত করে বসতে গেলে এত শোভা নিজের পায়ে দাঁড়াবার পরিসর দেয় না। যারা যাচ্ছে কোথাও, হাতে কাজুও ইশিগুরো; যারা আসছে, কানে হেডফোন; তাদের কাছাকাছি থেকে মহাকাশের মেট্রোতে অনায়াসে চলাচল করি। বাতাসে যত বৃংহতি, ঘোড়াযুগের বহু আগ থেকে আস্তাবল বহন করে তোমার মুখোমুখি সস্তা কোনও কফিশপে বসেছি। বেঁচে থাকা একমুখী। বেঁচে থাকা বিবিধ। ঠিক করতে হবে কোনটা বেছে নেব। দুর্গের দুয়ার পাহারা দিতে দিতে সমুদ্রকে সীমিত ভেবে আমার মতো কারও চোখের পানিকে ভাবতে পারো অনন্ত তরঙ্গবহুল।
প্রগাঢ়
পা না থাকলেও হাঁটা যায় ঘুমের হ্রদে,
হিটওয়েভে ভেজা ঘোড়াদের গা।
আমার চোখ চুরি করার পর,
চিত্রশালায় থাকে আর কোন বৈভব?
বন দেখলে বিশ্বাস হয়-
এখনও সবুজ আছে তোমার মন।
শেয়ালের একক সেতারসন্ধ্যায়
বিশিষ্ট অতিথিদের স্বাগত জানাই,
অশিষ্ট অন্তর কবিতাসহ সব শিল্পে
পূর্বাপর সন্ধানে থাকে।
চুমুর চরাচরে বৈঠা বেয়ে
আমাকে ছেড়ে যাচ্ছে আমি।
পিয়াস মজিদ

বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক। তিনি মূলত দুই হাজারের দশকের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলা একাডেমিতে কর্মরত আছেন।
