সুর-অসুর
কে অন্ধ কে চোখে দেখে বেশি
এ নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষি
খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু তুমি ঢুকো না ঐ ঘরপোড়া গরুর গল্পে
সবকিছুর রূপ দেয়া যায় না শিল্পে।
কিছুটা থাকেই উচ্ছিষ্ট
ঠাঁই যার ভাগাড়ে।
নইলে সুরের জায়গা কেন দখল করবে অসুর?
আর তোমার আত্মা হবে মরুর!
বিউটি পাল
বৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টি
আর বন ময়ূরীর মতো নাচছে বিউটি পাল
ভাঙতে বিভেদের দেয়াল।
প্লিজ, দিয়ো না নগ্ন দৃষ্টি।
পড়ার সঙ্গে নাচগান
জীবন যেন অপূর্ব এক বাগান
আর সেই বাগানের মালিনি
একজন বিউটি।
প্লিজ, দিয়ো না কূ—দৃষ্টি।
দিয়ো না প্রশ্রয় মনে উগ্রবাদ
লজ্জায় মলিন হবে চাঁদ।
নীল শাড়িতে বিষে নীল এই বাংলায়
তাকেই বুঝি মানায় আকাশ গঙ্গায়।
নাচে তার আকাশ মাটি সমান উতল
তোমার মনে কেন বাজে কৌতূহল?
এটা কি পচনকাল?
কেন হতে চাও এত ভাইরাল?
সেলুনে
অবাধ্য চুলের বিদ্রোহ থামাতে
সেলুনে যাই।
কিন্তু কদমছাঁট আরও ভয়ঙ্কর
ভূমিকা তার ভীষণ বর্বর।
আর পাথর সেতো পাথর
ঢুকলে ঐ গল্পর ভেতর
দেখবে শুধু শূন্য এক চরাচর
আর তার বুকে উড়িতেছে
কয়েকটি অচেনা শালিক।
তাদের ভাবলে পাললিক
নিজেকেই মনে হয় আগন্তুক।
ইস্তফা
আমাকে আগুনের পাশে চায় পতঙ্গ
আর পাখির আনন্দ হাওয়ার তরঙ্গ।
তার বাইরে কার বুকে বাজে মৃদঙ্গ
আমার জানা নেই।
জানা নেই
ঘুমের ভেতর কে তোলে হাই।
জাগরণ যখন মধুর মিথ্যা
তখন ওসব নিয়ে কেন হৈ চৈ করে কবিতা?
কবিতার কি পছন্দ বাজার সভ্যতা?বাণীশান্তা?
রাজনৈতিক পাখির মুখ না হয় বৃষ্টির ফোয়ারা!
কিন্তু আমি তো চাই মৌনতার ভেতর ফুটে উঠুক তোমার চেহারা।
নইলে কেন লিখব কবিতা?
তুমি যদি মনে করো বাস্তবতার বর্ণনা গরুর রচনা
তাহলে আমি মৌন হয়ে যাবো
তবু একটা লাইনও লিখব না।
লেখার কি দরকার আছে?
যদি তা আচ্ছন্ন পূতিগন্ধে।
বরং বলব দিনে দিনে সময় চলে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তের দখলে
দুঃখিনী তোমাকে ভাসতেই হবে চোখের জলে।
তখন তুমি বলবে কি?স্বৈরাচার স্বৈরাচার
সময় এসেছে এই শব্দটা ইস্তফা দেয়ার।
হয়তো বলবে
যেহেতু আমাদের কোনো স্বপ্ন নেই।
মাশুল
ঘর ছেড়ে গেছে ভালোবাসা।
কোন ভরসায় অঁাকড়ে থাকব বাসা?
খেলা শুরু হয়ে গেছে সর্বনাশা
পুরনো গানই গাইতে হবে নতুন করে
শুধু বদলাতে হবে ভঙ্গি।
নইলে জঙ্গি কেন হবে সময়সঙ্গী?
কেন বাতাসের দোতারা
ঝরাবে শুধু চোখের তারা।
বাগিচার ফুল
যদি পাখি চিনতে করে ভুল
তবে সে ভুলের হাহাকারে
তাকে তো টেনে ছিঁড়তেই হবে মাথার চুল।
আর ভুলের মাসুল
সবাই জানে একটু বেশি চড়া।
পুলক হাসান

জন্ম ২৪ জানুয়ারি ১৯৬১ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড জালকুড়ি গ্রামে। পিতা : আবদুল বারেক ও মাতা : নূরুন্নাহার বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং-এ সম্মানসহ ¯œাতকোত্তর। পেশা : সাংবাদিকতা। বিবাহিত। স্ত্রী রীনা ইসলাম ও কন্যা আরিয়ানা ইফফাত নূর রুসামাকে নিয়ে যাপন।
প্রকাশিত গ্রন্থাবলি: চক খড়ি মেয়ে (কবিতা) ১৯৯১; ও জল ও তৃষ্ণা (লিরিক) ১৯৯৭; সব দাগ ওঠে না (কবিতা) ২০০৮; পরকীয়া ওমে (কবিতা) ২০১১; রোদ ও ছায়ার রচিত (কবিতা) ২০১২; কবিতার গদ্যরূপ (প্রবন্ধ) ২০১৩; কবিতা : সহজ করে বলা (প্রবন্ধ) ২০১৭; বাছাই কবিতা (কবিতা) ২০১৮; আরো কিছু বুদবুদ (কবিতা) ২০২০;মুহূর্তের কবিতা (কবিতা) ২০২০; প্রতিবেশি ও বেলুন সভ্যতা (কবিতা) ২০২১ এবং আমার কবিতা (কবিতা) ২০২১
