পাচটি কবিতা


স্নেহাশিস পাল

গুপ্ত

 

মধুভ্রমরের তুলিতে পদ্মদিঘি কেঁপে-কেঁপে ওঠে।

কোনও এক আরব-নর্তকীর নেশাতুর মুদ্রার মতো –

কিঞ্চিত ঘাসে ঢাকা – ভাঙা পাড়ের সরু রাস্তাটা
রূপকথা-রঙা ভোরের পেটে ঢুকে গেছে …

তাল-বট-কৃষ্ণচূড়া-ছাতিম-শিরীষ-অর্জুন : মোহমুগ্ধ দর্শক;

থ হয়ে দাঁড়িয়ে,

চোখে রাত-জাগার অমৃতক্লান্তি

একটু দূরেই মীরার মন্দির, তার নিবিড় চূড়ায় পড়েছে

তোমার অভিমান মেশানো সোনা-ঝরা অশ্রুর মতো

               আলতো রোদ …

 

কবিতা

 

ছবি আর গানের মাঝে ছোট্ট হল্ট স্টেশন : কবিতা।
– ও বৈষ্ণবী, কোথায় তোমার কালো হরিণ

স্নান করে?

আমি, শুধু শালপিয়ালমহুয়াবীথিকা হয়ে –

পাগলা হাওয়ায় মাথা দোলাবো আর দেখবো –

সন্ধ্যার রঙ।

যখন জোনাকিদের গানে ভরে উঠবে এই অসুস্থ পৃথিবী

তখন আমি-সারাদিনের শেষে ক্লান্ত ভিক্ষু-বৈষ্ণব …

ঘাসফুল-জড়ানো – বাউণ্ডুলে মেঠো পথ হয়ে ছড়িয়ে পড়বো –

তোমার শত-সহস্র মন থেকে ভোরের বাহুতে

আর ছুঁয়ে যাবো – অজুত-নিযুত হা-ভাতে মানুষের

অজস্র স্বপ্ন …

 

অভিজ্ঞান

 

বিচ্ছেদের দূরত্ব, এবার হরিণ হয়ে এসেছে …

মন, দাবানলের আঁচড়ে অর্ধমৃত জঙ্গল।

সেই জঙ্গলের ভাঙা দরজায় শিশুর মতো হামাগুড়ি দেয়

উন্মাদ জ্যোৎস্না …

শরীর, মৃত সরোবরের জল হয়ে ছড়িয়েছে
দিবারাত্রির আত্মায় ফুরিয়েছে প্রলয়ক্ষণের ঋতু,

এসো – নির্লিপ্ততার মন্দির …

তোমার পূজারী, নিশ্চুপে – শুধু গাছেদের অশ্রু তোলে

ঈশ্বরকে দেয় – আমার অভিশপ্ত প্রেম কাহিনীর অভিজ্ঞান …

 

পরিচয়

 

প্রজ্জ্বলিত-অগ্নিশিখায় যে-ভাবে অন্ধকার পোড়ে তার বকুলতলায় গিয়ে
কবন্ধের চোখের মতো দাঁড়াও,

দেখবে: ভালোবাসার সংসার-বিজয়।

কাছে বা দূরে যে-সব সম্পর্কের ঘিলু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে –

সেটাই – তোমার-আমার-সব্বার পরিচয়

যাদের, অমাবস্যার তারাদের মতো – দু-একটা আদরের

ডাকনাম আছে …

এ-সবের অনতি স্মৃতি-দূরত্বে জেগে থাকে মগ্ন সন্ন্যাস-রঙের

ছোট-ছোট কুটিরের গ্রাম …

 

হারকিউলিস

 

মৃত্যুর জ্যোৎস্নার ভিতর ফুল মুখস্থ করছে
ঘাটে বাঁধা একলা – এক নৌকা

অনেকটা ঠিক আমার কবিতার মতো দেখতে

একটু পরে, মলিন শ্মশান – ভিক্ষার থলি হাতে

পথে পথে ঘোরে

দূরে, তখন অনাথ-আশ্রম থেকে ভেসে আসে
ভোরের প্রার্থনা-সংগীত …

– এই যে-পৃথিবী, তার একটু-আধটু দুঃখ আছে

কেউ জড়িয়ে ধরলে, চোখ থেকে জড়িয়ে যায় জল …

 

 

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *