বাবলী হকের কবিতা

ভালোবাসার ছদ্মনাম লেখা থাকে গভীরে

চিরকুট

তোমার রেখে যাওয়া চিরকুটের ভাঁজ খুলতেই
আমার ডাকনাম হয়ে যায়-মনখারাপ।

তোমাকেও ছদ্মনামে ডাকি,
খুব সন্তর্পণে।
‘মনখারাপ’ শব্দটি
বুকের ভেতর ঠোকরাতে থাকে।

এখন আর কোনো অজুহাত লাগে না,
তোমাকে ভুলে থাকার অভ্যাস হয়ে গেছে।

দীর্ঘশ্বাসে ভালোবাসা নিয়ে
তুমি হয়তো বলতে-
পরিস্হিতি সব কিছু আমার অনুকূলে থাকলে,
তোমাকে নিয়ে আমি কী করতাম?

একসঙ্গে ঘুরতাম,
রান্না করে খাওয়াতাম।
বিছানায় চা, নাস্তা নিয়ে আসতাম।
তুমি ঝকমকে পুঁটি মাছের দিকে তাকিয়ে থাকতে,
আর আমি
নিষ্পলক তোমাকেই দেখতাম।

 

হারিয়ে যাব

প্রতীক্ষার কাছে আমাকে আসতেই হলো,
পৃথিবীর গভীর নিঃশব্দতা নিয়ে।
বিদায়ী রোদের ছায়াসহ
চলতে চলতে
অদূরে থমকে যাওয়া
প্রেমের কাছে আসতেই হলো।

প্রথম মিলিত হয়েছিলাম
আকাশ যেখানে উঁকি দেয়
রাত্রি আর ভেজা জ্যোৎস্নায়।
এমন করে হাত ধরেছিলে,
যেন আর কোনদিন দেখা হবে না।

শেষবার-বিবিক্ত শয্যায়
অনুভবে শুধু ভালোবাসার ঘ্রাণ ছিল।
নিরাবরণ মুগ্ধতা নিয়ে
একা তরল অন্ধকারে
হারিয়ে গেলাম যখন ভিড়ে,
শাখা থেকে একটি পাতাও পড়েনি।

 

জলপ্রপাতে চন্দ্রবিন্দু

একটুকরো রোদ এসে বলল,
বর্ষামেঘের গল্প আছে।

মুহূর্তেই বদলে যায় চারপাশ,
ঝমঝম শব্দে নেমে আসে বৃষ্টি।

স্যাঁতসেঁতে সখ্যতায় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক,
ভেজা নারিকেল পাতার ফাঁকে
জানলা খুললেই অজস্র নক্ষত্র,
আর শুক্লতিথির চাঁদ।

বুড়িগঙ্গার বদলে যাওয়া বাতাসে
বুকে ঘনিয়ে ওঠে কষ্ট।
চীনের প্রাচীর টপকে
ভেসে আসে-
‘ভালবাসি, ভালবাসি’
শব্দের গুনগুন ।

শরীর গলে যায় আদরে।
ভেজা চুল কামের বৈভবে সিক্ত।
কালো রেশমে বাঁধা শরীর
চুঁইয়ে চুঁইয়ে নেশাগ্রস্ত হয়।

ঠোঁট থেকে চিবুক,
চিবুক থেকে বুকে-
নেমে আসে ধীরে
নতজানু প্রেম।

 

 

লেখক পরিচিতি

বাবলী হকের জন্ম পঞ্চাশের দশকে ঢাকা শহরে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পুরোনো ঢাকায়। ছোটদের পাতায় ছড়া ও কবিতা দিয়ে লেখালেখির হাতেখড়ি। সত্তর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সাহিত্য পত্রিকা ‘ললনা’য় ধারাবাহিকভাবে বের হয় তারঁ প্রথম উপন্যাস ‘নদীতে সুখ’। তারপর চলে গিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের অন্তরালে। ২০১৫ তে স্মৃতির পটভূমিতে লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস ‘আম্বিয়াদাদি ও তার বিড়ালেরা’ নিয়ে ফিরে এলেন। ‘অষ্টপ্রহর আনাগোনা’ তাঁর তৃতীয় উপন্যাস।২০২৪ সে বেরিয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘অ্যাভিনিউ পার হয়ে’। শুরুটা কবিতা দিয়ে হলেও তিনি মূলত গদ্য লেখেন কিন্তু কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। প্রিয় লেখকের তালিকা দীর্ঘ। আবুল হাসান, শঙ্খ ঘোষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন ও কবিতা সিংহ।

বিশেষ শিশুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি অটিস্টিক স্কুল পরিচালনায় ছিলেন বহুদিন। এই লেখকের শখ— বই পড়া, ভ্রমণ ও বাগান করা।

 

 

 

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top