বাবলী হকের রম্যগদ্য: সলিটারি থেকে মিলিটারি – ৩য় পর্ব

ভাবি-ক্লাবের সমুচা

এর মাঝে আমার ফৌজি-জীবনের বেশ কয়েক মাস কেটে গেল। কর্তার পোস্টিং হয়েছে ঢাকা থেকে যশোর। এই প্রথম ঢাকার বাইরে বসবাস করতে যাচ্ছি। বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে যেদিন ট্রেনে চাপলাম সেদিন, ঠিক সেই মুহূর্তে অনুভব করলাম, শুধু আপনজন নয়, আমার পাড়া, আমার চলার পথ-ঘাট, তার আশেপাশের দোকান-পাট, সদ্য ভাজা ডালপুরির সুগন্ধ, চেনা রিকশাওয়ালার ডাক, এমনকি রাস্তার কোণে ধুলা জর্জরিত নিম গাছটার জন্যও আমার খুব মায়া হচ্ছে! মন খারাপ লাগছে।

মফস্বলের সঙ্গে আমার কোনোকালেই তেমন পরিচয় ছিল না। মাঝে সাঝে গ্রামে গিয়েছি কিন্তু মফস্বলে আসা হয়নি। এবার প্রথম লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে মিটারগেজ, স্টিমার, ব্রডগেজ সফর করে যশোর স্টেশনে যখন ট্রেন থেকে নামলাম, মনে হল আমি অন্য কোনো এক জগতে চলে এসেছি। ব্রিটিশ আমলের লাল ইটের উঁচু সিলিং-এর ওয়েটিং রুমে বসে অপেক্ষা করছি ক্যান্টনমেন্ট থেকে গাড়ি আসবে। দেখছিলাম লাল জামা পরে কুলিদের ছোটাছুটি। এসব তো এতদিন ছবিতে দেখেছি! দুশো বছরের পুরানো সড়কের দুপাশে বড়ো বড়ো সেগুন, কৃষ্ণচূড়া গাছ। শহরের ভিতর ধুলার ইট বিছানো পথ। গোধূলির আলোয় ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করতে করতে মুগ্ধতায়, ভালোলাগায় ঢাকা ছেড়ে আসার দুঃখ ভুলে গেলাম। মেগাসিটিতে বেড়ে উঠলেও মফস্বলের উন্মুক্ত প্রান্তর, খোলামেলা পথেঘাটে ঘুরে বেড়াতে সত্যি বলতে কী, খুব একটা মন্দ লাগছিল না। কেমন এক অনুভব ‘ওরে কার পানে মন হাত বাড়িয়ে লুটিয়ে যায় ধুলায় রে… !’ খেয়াল করলাম মফস্বলীয় একটা আলাদা ধরন আছে। গাছপালা, পথ-ঘাটের সঙ্গে মানুষজন পরম নিবিড়তায় জড়িয়ে থাকে। শহরের পাগলপারা ছুটাছুটি নেই। ঢাকা শহর এবং আমার সিভিলিয়ান জীবনের হাওয়া বদলের সঙ্গে-সঙ্গে আমার চেনা শব্দগুলোরও স্বাদ-বর্ণ-গন্ধ কেমন বদলে যেতে থাকে।

যশোর ক্যান্টনমেন্টের জীবন শুরু হতেই একঝাঁক নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হলাম। অফিসার্স মেস, জিওসি, ক্লাব-নাইট, তাম্বুলা, লেডিস ক্লাব, ইউনিট, চেকপোস্ট। দু-একটা শব্দের অর্থ আকাশ-পাতাল হলেও আমার কাছে একইরকম মনে হত। কর্তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গোলমাল করে ফেলতাম। জিওসি আর টুআইসি, বড়ো গোলমেলে শব্দ। জিওসিকে টুআইসি আর টুআইসিকে জিওসি বলে ফেলতাম। কর্তা দাঁতে জিভ কেটে বলত,
– আর কারও সামনে এই গণ্ডগোলটা কোরো না যেন!
– কেন? দুটার মধ্যে এমন কী তফাত?
– শোনো জিওসি হচ্ছে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং আর টুআইসি হল একটা ইউনিটের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
– সে না-হয় বুঝলাম। কিন্তু শব্দদুটা তো খুব কাছাকাছি! গোলমাল তো হতেই পারে!
– পদমর্যাদায় দুজনের বিশাল তফাত! একজন মেজর জেনারেল আর একজন শুধু মেজর! মেজরের চেয়ে চার ধাপ উপরে মেজর জেনারেল!
সত্যি, বড্ড গোলমালে বিষয়! আমার ফৌজি-জীবন সবে কয়েকমাস, কী করে বুঝব মেজর থেকে মেজর জেনারেল হতে কত ধাপ উপরে উঠতে হয়!

এখন আর আগের মতো ফৌজি কাণ্ড-কারখানায় হতবুদ্ধি হয়ে পড়ি না। ইতোমধ্যে আমিও বয়স-ভেদে সবাইকে ভাবি-ডাক রপ্ত করে ফেলেছি। আমার নিজের কর্ণ যুগলও এই ডাকে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। কেউ ভাবি ডাকলে আমি আর চমকে উঠি না! মাঝেমধ্যে ছুটির দিনে খোশমেজাজে থাকলে কর্তাকে ভাবি ডেকে ঘুম ভাঙাই,
– এই যে ভাবি, আর কত ঘুমাবেন? এবার উঠুন। নাস্তা করে বাজারের থলি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
যদিও কর্তা খুব একটা বাজারে যায় না। আমিই বরং সিনিয়র-ভাবিদের সঙ্গে প্রায় বাজার করতে চলে যাই। বাজারের চেয়ে আড্ডা মূল আকর্ষণ।
মাঝেমধ্যে কর্তাও রসিকতা করে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে হাঁক দেয়,
– ভাবি, এক কাপ চা হবে?
ঘরে খাদ্য সরঞ্জাম বাড়ন্ত হলে কখনো মেস হাবিলদারের হাতে বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দেই। মেস হাবিলদার হচ্ছেন সিভিলিয়ান ভাষায় বাজার সরকার বা ম্যানেজারও বলতে পারেন। উনি মেসের যাবতীয় দায়িত্বে থাকেন। মেসের বাজার-সদাই, মেনু, কোনো সমস্যা হলে ওঁকেই ডাকা হয়। প্রয়োজনে অফিসার ফ্যামিলির জন্যও বাজার করে দেন। তাই বলে ভাববেন না যেন উনি সর্বক্ষণ বাজারের ব্যাগ হাতে ছোটাছুটি করেন। একজন সৈনিক যতখানি সশস্ত্র শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করেন, তিনিও করেছেন।

লক্ষ করলাম বাজারের লিস্টে যা লিখে দিব সেটা না পাওয়া পর্যন্ত উনি ফিরে আসেন না। একবার ইলিশ মাছ লিখে দিয়েছিলাম। বাজারে সেদিন ইলিশ ওঠেনি। উনি ইলিশ নিয়েই ফিরবেন। কোল্ড স্টোরেজ থেকে ইলিশের ব্যবস্থা করে বিকেল চারটায় বাজার থেকে ফিরলেন। তখনও নেটের দৌরাত্ম শুরু হয়নি। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ছিল না। কাজেই তাঁর অবস্থান জানার কোনো উপায় ছিল না। এরপর থেকে তাঁকে কখনো বাজার করতে পাঠালে অলটারনেটিভ মাল্টিপল চয়েজ দিয়ে দেয়া হত। ইলিশ না পেলে, রুই মাছ। না পেলে বোয়াল মাছ, না পেলে কই মাছ, না পেলে পাবদা….ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার কোনোদিন যদি লিখলাম রুই মাছ। নিয়ে এলেন নরম দুর্গন্ধময়, মাছি ভন ভন করছে চারপাশে, এমন এক রুই! বললাম, এমন পচা মাছ আনলেন কেন? আর কোনো মাছ ছিল না বাজারে ?

মেস হাবিলদার বললেন, ছিল ম্যাডাম। কিন্তু আপনি লিখে দিয়েছিলেন রুই মাছ আনতে। এর চেয়ে ভালো আর কোনো রুইমাছ ছিল না।

প্রতিবার তাকে বাজারে পাঠালে আমি অপেক্ষায় থাকি! আজ না জানি কোন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে!

ধীরে ধীরে আমার অভিজ্ঞতার শিকড় বিস্তার লাভ করছিল। এই অভিজ্ঞতা অর্জনে কত যে বোকামি করেছি! প্রথমদিকে ভাবিদের কাছেও অনেক বোকামি করে ফেলতাম! এক ভাবি জিজ্ঞেস করলেন,
– ভাই কোন কোরের?
আমি স্মার্টলি উত্তর দিলাম,
– মেজর।
ভাবি বেশ জোরে-শোরে মাথা নেড়ে বললেন,
– না না, আমি কোরের কথা জিজ্ঞেস করছি।
– কোর? সেটা কী? আমি তো জানি ও মেজর।
আরেকজন ভাবি আমার কর্তাকে খুব ভালো চেনেন। কারণ ওঁর কর্তাও একই কোরের। উনি বললেন,
– ভাবি, উনি তো সিগন্যালস কোরের!
আমি প্রায় লাফিয়ে উঠে বললাম,
– হ্যাঁ তো! সিগন্যালস! কাঁধের উপর শাপলার পাশে সিগন্যালস লেখা থাকে!
আমার কথা শুনে ভাবি হেসে প্রায় গড়াগড়ি! আমি বোকার মতো তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবলাম, এতো হাসির কী আছে! আমি তো খুব একটা ভুলভাল বলিনি। কর্তার পদমর্যাদা মেজর। মেজর তো ঠিকই বলতে পেরেছি। সিগন্যালস কোর না-হয় জানতাম না। এখন জেনে গেলাম। বাসায় ফিরে কর্তাকে বলতেই সে-ও দেখি হো-হো করে হাসছে!

ঢাকায় যে কদিন কর্তার পোস্টিং ছিল ক্লাব অভিজ্ঞতায় যেতে হয়নি।
যশোরে এক সপ্তাহ পেরুতেই কর্তা বলল,
– এখানে প্রতি বুধবার লেডিস ক্লাব হয়, তোমাকেও যেতে হবে।
শুরু থেকেই ফৌজি ফর্মাল বিষয়ে আমার খুব ভয়-ভীতি। বললাম,
– ফর্মাল কোনো কিছু ?
– তেমন ফর্মাল নয়। আবার কিছুটা ফর্মালও বলতে পার। মাঝে সাঝে অনুষ্ঠান হয় নানা উপলক্ষ করে, এই যেমন ঈদ রি-ইউনিয়ন,পহেলা বৈশাখ। আসলে লেডিরা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হয়ে এখানে ঘনিষ্ঠ হয়।
বুধবারের আগে আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। কর্তাকে বললাম,
– আরও ভালো করে বলো দেখি, ওখানে কী করতে হবে?
কর্তা মুচকি হেসে রসিকতা করল,
– কেমন করে জানব বলো! আমি তো কখনো লেডিস ক্লাবে যাইনি।
– এটা মোটেই রসিকতার বিষয় নয়। আমি লেডিস ক্লাবে গিয়ে যদি জিওসি, টুআইসি ধরনের ঘাপলা করি, তুমিই কিন্তু লজ্জা পাবে!
– আহা! অত ঘাবড়াচ্ছ কেন? সেজেগুজে যাবে, খাওয়া-দাওয়া করবে, তারপর চলে আসবে! বাস্!
– বাস্! আর কিছু না? না না ভালো করে ভেবে বলো, আমাকে কী করতে হবে। তুমি তো থাকবে না সেখানে।
আমার ভয়ভীতি দেখে কর্তা সিরিয়াস হল। নিজের মান-মর্যাদাও যে এর সঙ্গে জড়িত। বলল,
– সিনিয়র-ভাবিদের পিছনে বসবে। ওরা প্লেটে খাবার নেবার পর তুমি খাবার নেবে। আর সিনিয়র-ভাবি প্লেট নামিয়ে রাখলে তুমিও রেখে দেবে।
স্বল্পভাষী কর্তা আমার। এক কথায় যতটুকু বলল আমি তেমন কিছু বুঝতে পারলাম না। কে সিনিয়র কে জুনিয়ার সেটাই বা বুঝব কেমন করে! আমি তো দু-একজন ছাড়া এখানে কাউকেই চিনি না। তাছাড়া এও তো জানি না তারা আমার সিনিয়র না জুনিয়ার! যাই-হোক কর্তার পরামর্শ মতো সেজেগুজে তৈরি হলাম। সময় মতো লেডিস ক্লাবের মাইক্রোবাস এসে গেল।
গাড়িতে উঠে সবাইকে লম্বা একটা সালাম দিয়ে খালি সিটে বসে পড়লাম। মাথায় কেবল ঘুরছে কেমন করে বুঝব, কে জুনিয়ার, কে সিনিয়র!

বাস থেকে নামতেই বিপদমুক্তকারি নায়লা ভাবির হাসি মুখ দেখতে পেলাম। সেই যে আমাকে যিনি সিগন্যালস কোর চিনিয়েছিলেন। এখনও আমি নায়লা ভাবিকে কোরভাবি বলেই ডাকি।

লম্বা একটা হলঘরে, ক্লাসরুমে সবাই যেমন বসে থাকে, তেমনি অনেকে বসে আছেন। আমার আর কোনো চিন্তা নাই পেয়ে গেছি কোরভাবিকে! ওঁর সঙ্গে সঙ্গে হাঁটছি। একটু নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,
– আপনি আমার সিনিয়র না জুনিয়ার?
ভেবেছিলাম আমার এ ধরনের প্রশ্ন শুনে উনি হাসবেন। কিন্তু দেখলাম একটুও অবাক না হয়ে বললেন,
– সিনিয়র।
আস্তে আস্তে পুরো হলঘরের সব চেয়ারগুলো ভরে গেল। সবাইকে খুব চমৎকার দেখাচ্ছিল পরিপাটি শাড়ি পরা সাজগোজে। এখনকার মতো সালোয়ার-কামিজ পরার চল তখন ছিল না। সবাই শাড়ি পরত।

সামনের একসারি চেয়ার খালি পড়ে আছে। এবার বুঝে গিয়েছি, ওগুলো সিনিয়র-ভাবিদের জন্য রাখা আছে। সিনিয়র-ভাবিরা আসলেন ওনাদের নিজস্ব স্টাফ কার-এ। সব শেষে এলেন জিওসিভাবি। অর্থাৎ জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-এর সহধর্মিণী। ক্লাসরুমের মতো সবাই উঠে দাঁড়াল। একজন ভাবিকে ছোটাছুটি করতে দেখে নায়লাভাবিকে জিজ্ঞেস করলাম,
– উনি কে?
– উনি ফারুকভাবি, লেডিস ক্লাবের সেক্রেটারি।
– সিনিয়র?
– অবশ্যই!
অনুষ্ঠানের শুরুতে সেক্রেটারিভাবি ঘোষণা করলেন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। যারা আজ প্রথম এসেছে, তারা যেন উঠে দাঁড়ায়।

মনে হচ্ছিল আমি এখনো স্কুলেই আছি! আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম আরও একজন আমার সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছেন। স্বস্তি হল যাক আমার মতো আরেকজন নতুন এসেছেন, তখনও জানতাম না আমার মতো উনি আনাড়ি নন। পরিচয় পর্ব শেষ হবার পর জিওসিভাবি ফুল দিয়ে আমাদের স্বাগত জানালেন। এরপর শুরু হল লেডিস ক্লাবের মূল কার্যক্রম। নজরুল ভাবি আমাদের আজ শেখাবেন কী করে সুপার সফট চকলেট প্যানকেক বানানো যায়। ভয়ে ভয়ে নায়লাভাবিকে জিজ্ঞেস করলাম,
– সবাই রান্না শেখায়?
– না না, যারা ভালো রান্না জানে আর রান্না করতে পছন্দ করে তারাই শুধু শেখায়!
যাক বাঁচা গেল। আমি তেমন রান্না-বান্না জানি না আর রান্না শেখানো, তার চেয়ে আমাকে বরং বলা হোক একশো মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করব কিনা!

নজরুলভাবি সুপার সফট চকলেট প্যানকেক বানাতে গিয়ে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়লেন। দুবার চামচ পড়ে গেল।একবার হাত কেঁপে বাটি উলটে গেল। নায়লাভাবি বললেন,
– দেখছ, কেমন হাত কাঁপছে নজরুলভাবির!
আমি বললাম,
– কাঁপাকাঁপির আর দেখলেন কতটা! আমাকে ওখানে দাঁড় করালে রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ভূকম্পন দেখতে পেতেন!

রান্নাপর্ব শেষ হতে না হতেই মেস-ওয়েটার একপাশে টেবিলে নানা রকম সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা শুরু করল। কিছুটা দূর থেকেও আমি চটপটি-ফুচকার সুঘ্রাণ পাচ্ছিলাম। কর্তার পরামর্শ অনুযায়ী আমি অপেক্ষারত। মাথার ভিতর শিক্ষকের মতো কর্তা দাঁড়িয়ে আছে। একে একে সিনিয়র ভাবিগণ প্লেটে তুলে নিচ্ছেন চটপটি, সামুসা, রসগোল্লা! খালি প্লেট হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন আমার পালা আসবে? নতুন আরেকজন যিনি ছিলেন তাঁর প্লেটেও খাবার দেখতে পাচ্ছি। নায়লাভাবির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। কারণ উনি কোনো এক ভাবির সঙ্গে ভীষণ গল্পে জমে গেছেন। আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন ভাবি বললেন,
– ভাবি আপনি নিচ্ছেন না কেন?
ইশারাই কাফি! ভাবলাম এবার আমি নিতে পারি। এক চামচ চটপটি, একটা রসগোল্লা আর সমুচা প্লেটে তুলে নিয়ে একটা খালি চেয়ার খুঁজে বসে পড়লাম। ইতোমধ্যে সবার প্লেটে খাবার প্রায় শেষ। সবে আমি সমুচায় এক কামড় বসিয়েছি, দেখলাম সবাই টেবিলে প্লেট রেখে দিচ্ছে। ব্যাপারটা কী হল? দেখতে পেলাম, জিওসিভাবি তাঁর প্লেট টেবিলে রেখে চায়ের কাপ হাতে তুলে নিয়েছেন। চা-পর্ব শেষ হল।
সিনিয়রগণ চলে গেলেন। আমরাও যার যার বাসায় চলে এলাম। অফিস থেকে ফিরে কর্তা খেতে বসে জিজ্ঞেস করল,
– আজ তোমার লেডিস ক্লাব কেমন হল? কী কী খেলে?
শুকনো মুখে উত্তর দিলাম,
– এক কামড় সমুচা!

 

বাবলী হক

বাবলী হকের জন্ম  পঞ্চাশের দশকে ঢাকা শহরে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পুরোনো  ঢাকায়। কৈশোর থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন। ছোটোদের পাতায় ছড়া ও কবিতা দিয়ে শুরু। সত্তর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালী সাহিত্য পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বের হয় প্রথম উপন্যাস। তারপর চলে গিয়েছিলেন অন্তরালে।  দীর্ঘ তিরিশ বছর পর ২০১৫ তে স্মৃতির পটভূমিতে লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস ‘আম্বিয়াদাদি ও তার বিড়ালেরা’। আবার ফিরে এলেন লেখালেখির জগতে। ‘অষ্টপ্রহর আনাগোনা’ তাঁর তৃতীয় উপন্যাস। শুরুটা কবিতা দিয়ে হলেও  তিনি মূলত গদ্য লেখেন কিন্তু কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। প্রিয় কবির তালিকাও দীর্ঘ।  প্রিয় লেখক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা চৌধুরী ও কবিতা সিংহ। বৃষ রাশির জাতিকা এই লেখকের শখ—ভ্রমণ ও বাগান করা।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।