স্মৃতিলেখা


আর্যনীল মুখোপাধ্যায়

 

কথা বলতে শিখে সে ক্রমশ পারলো
বুঝতে পারলো
প্রতিনিয়তের এই ভাষা
তার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে তীব্র নিদারুণ বহতা অভিজ্ঞতা জমা হচ্ছে প্রতিদিন
তার কথা বলতে পারেনা
সেসব কথা বলার মতো
লিঙ্গ শেকড় মোচড় বা রেনল্ডস নাম্বার
কথার ভাষায় নেই

যেখানে রাতের সকল তারা দিনের আলোর গভীরে  চিক্ চিক্ ভাসছে
দেখা গেলো সেই পালতোলা একা অভিপ্রায়
সমবেত দিকদর্শন ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে
মাছ ধরতে না বিনোদনে
সেকি কাউকে খোঁজে?

এতদূর থেকে আমরা এতটা বলতে পারিনা
আমাদের মধ্যেও দূরত্ব এসেছে
ও ছোট হয়ে গেছে ফেরিবোটের চেয়েও
আর একটু আগে যে আসল সময়ের কথা হচ্ছিলো
তার বালিঘড়ি ভেঙ্গে
ভূগোলের কতটা ভরিয়ে ফেলেছে বালি
আর আমরা খালি
পিঠ দেখি একে অন্যের             খালিপিঠ

চ্যালেঞ্জ এনে দেয় চুরমার
তাদের হাত তো দেখা যায় না        কখন পুঁতে দেয় বীজ বিপর্যয়
হাওয়ায় তুমুল আসে যাবজ্জীবনে ধুল আসে
তোর ওড়না ধরার আগেই মিনিবাস থেকে নেমে
ট্যাক্সিতে                ট্যাক্সি থেকে ট্রামে উঠেও আমাদের কমলকুমারী বাক্য
কোনো যতি নেই রে
উপন্যাস শেষ হয়ে গেলো          তবুও পূর্ণচ্ছেদ      পড়লোনা
তবুও কারো গায়ে বসলো না প্রজাপতি
উড়ে গেলো ননীগোপালের পাশ দিয়ে           সে তখন বক্তৃতে করছে     বলছে
একদিন চিনে নেবে তারে–
এসব নিছক অনুভূতির কথা নয়         তিব্বত সম্বন্ধে রবি ঠাকুরের এই যে
ভবিষ্যতবাণী
একদিন চিনে নেবে তারে
এই যে                             এই সব…

আর শুনে যে তুই হাসছিস          চোখ তবু ছলছল করছে
কেননা সেখানে যে কেউ কোনোদিন
ছল ক’রে জল আনতে যায়না
তোর রচনার শেষ দু-লাইন আমিই লিখেছিলাম
আবার ফিরে আসবি বলে
আবার চোখের উপর একফালি চুল
বুকের উপর একটা বিনুনি
মুখ ছিঁড়ে নিয়ে চলে যাওয়া জানলার বাস
তার নিজের শর্তে আমাকে গড়েছে
আমার অ্যামিগডালা

…. সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ঘ্রাণস্মৃতি দীর্ঘ সহনশীল আর প্রাথমিক ঘ্রাণ সম্পর্কগুলো অনেক সময় দীর্ঘায়ু হয়…. যদিও শব্দ ও দৃশ্য-ইঙ্গিত কৈশোর ও প্রথম যৌবনের নানা ঘটমানতার সাথে সম্পর্ক জোড়ে, ঘ্রাণের ইঙ্গিত কিন্তু প্রথম বাল্যের মধ্যেই তার লগি ফেলে সাধারণত, এমনকি তুলনামূলক দূরত্ব বেশি হলেও দশ বছর বয়সের আগের ঘটনাকেও জাগিয়ে তোলে

শুধুমাত্র গোদাস্মৃতি দিয়েই কিন্তু বাস্তব জীবনের ভাস্কর্য গড়া হয়না, তার জন্য কাহিনীর মতো এক স্পষ্ট গড়নের প্রয়োজন। ধরা যাক কোনো বিয়ের স্মৃতি। বিয়েবাড়ির অনুপুঙ্খ মনে করতে গিয়ে মনে-পড়া তথ্যে কিছুটা আতিশয্য হয়তো এসে যেতে পারে। যেমন ধরা যাক কেউ প্রশ্ন করলো তোর মনে আছে ফিশ-ফ্রাইয়ের সাথে কাসুন্দি দিয়েছিলো না ইন্দোর মাস্টার্ড সস? এমন অবস্থায় ঐকিক স্মৃতির ওপর নির্ভর না ক’রে যদি সমষ্টিক স্মৃতির ওপর নির্ভর করা হয়– সেই বিয়েবাড়িতে উপস্থিত ছিলো এমন আরো ৫-৬ জনকে জিজ্ঞেস করা যায়, সত্যের সূক্ষ্নতা হয়তো বজায় থাকতে পারে– হয়তো একজন মনে করিয়ে দেবেন, ‘কেন তোর মনে নেই মিতালিদি কেটারারদের একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন– আপনাদের কাসুন্দি নেই?

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *