মে
18

একগুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান

জলাতঙ্ক

নগর সন্ত্রস্ত করতে একটা পাগলা কুকুরই যথেষ্ট—এই কথা জানে না
নগর-পুলিশের পুরোধা ব্যক্তি
অথচ কৃষ্ণচূড়ার লাল দেখে অনবরত হুইসেল বাজছে
দৌড়ে আসছে দমকলগাড়ি
জোড় ছাড়িয়ে সঙ্গমকে পোরা হচ্ছে ১৪ শিকের ভেতর…
আমি ভাই ঘরেলু মানুষ; ভাদ্রমাসে রাস্তায় মা-বোন নিয়ে
বেরুতে ভয় পাই। ভয় পাই শিমুল ফুলের পাশ ফিরে শোয়া
বিবেকের কথা যদি বলো—তবে বড়জোর—
রক্তের বোতল নিয়ে ওটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাটাকে
মনে হয় বায়েজিদ বোস্তামি
হে শহরশিশু, বলো—শেষ কবে বর্ষা নিয়ে দাঁড়িয়েছি শিওরে তোমার?
কবে বলেছি—ভোক্কাট্টা? কোথা থেকে—পুষ্পরাগ?
তবু রেণুসুর, কয়েলকাব্য ছিড়ে—গেল রবিবার—বৃষ্টির মুখে
চুমু খেতে গিয়ে আঁতকে উঠেছি…

সম্পূর্ণ…»

মে
18

কবিতার গ্রাফগদ্য

ফকির ইলিয়াস

নৃত্যবান্ধব নদী ও নামগুলোর এক্সিট

নৃত্যবান্ধব নদীর মুখ দেখে শুরু হয় আমার যাত্রা। এর আগে যারা চিনেছে দূরের পথ, তাদের ধূসর ছবি দেখে আমি থামিয়ে দিই প্লটযুদ্ধ। মাটির প্রয়োজন কমে যাবার পর আমারও মন ছুঁতে চেয়েছে কেবলই শূন্য আকাশের ভিত। আর খোপের জীবন ভালোবেসে নিজেকে বার বার সাজিয়েছি চিলেকোঠার সেপাই। পাই পাই করে জমানো পুঁজি দিয়ে কিনে নিয়েছি কৃত্রিম আঁধার। দিনের বেলায় ঝাড়বাতি জ্বালিয়ে মুখ দেখার গরল সংস্কৃতি! এভাবে হাঁটা যায় জানি, তবে পথ অতিক্রম করা যায় না। ‘সহজ’ নাকি ‘সঠিক’ এক্সিট চেয়ে নেবো– এমন প্রশ্নের মুখোমুখি সমর্পণ করেছি ভাঙা পাঁজর। কিভাবে জন্মজয়ন্তীর রাতে জমা রাখতে হয় অব্যাহত শপথ, তাও ভুলে গেছি খুব দ্রুত। মাঝে মাঝে অনেক কিছুই ভুলে যেতে হয়। ক্ষতের নিয়তি, ঝরা শ্রাবণের মন, আর পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার প্রস্থানদৃশ্য। এমনকি সেই শহরের নামও, যে শহরে প্রাক্তন স্মৃতিরা থাকে পেখম মেলে।

মাছির চোখ ও মানুষের স্কেচ

মাছগুলো তাকিয়ে থাকে মাছির চোখের দিকে। ভনভন আওয়াজে ঘুরতে থাকে রিকশার প্যাডেল। কে চালায় তা বুঝা যায় না। তবে নেপথ্যে কেউ নিয়ন্ত্রণ করে হাতের আঙুল, সে বিষয়ে আমরা সম্মত হই। এ পর্যন্ত আমরা আরো বেশ কিছু বিষয়ে পৌঁছে গেছি ঐক্যমতে। যত্রতত্র প্রয়োগ না করলেও আমরা সবাই মিথ্যা কথা বলতে জানি, কিংবা আষাঢ়ে নদীর চোখে রাখতে পারি নিজেদের চোখ– এমন বেশ কিছু সত্যকে মেনে নিয়েছি আমরা বেশ আগেই। আরো সম্মত হয়েছি, এখন থেকে বৃষ্টিতে নামতে গেলে বাদ দেবো ছাতার ব্যবহার। কারণ প্রকৃতির মাঝে ভিজে যাওয়ার যে আনন্দ তা পুকুর কিংবা বাথটাবে নেই।

সম্পূর্ণ…»

মে
12

ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৬

ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫

 

ধর্মভাবনাই মানুষের ট্রাজেডীর জন্যে দায়ী

বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব

 

১.

সাক্ষাৎকারগ্রাহক: আপনার এমন একটা নৈরাশ্যকর জগৎদৃষ্টি হলো কীভাবে?

ইউ.জী.: সব ধরনের ধর্মীয় লোকজন দিয়ে আমি পরিবেষ্টিত ছিলাম। মনে হতো তাঁদের আচরণে হাস্যকর কিছু আছে। তাঁদের বিশ্বাস আর তাঁদের জীবনযাপনে বিশাল ফারাক ছিলো। তাতে আমি সবসময়ই বিরক্ত হতাম। তবে তাঁরা সবাই-ই যে কপট ছিলেন সেকথা বলবো না। আমি মনে মনে ভাবলাম, ‘‘তাঁদের বিশ্বাসেই কোনো সমস্যা আছে। হতে পারে সেসবের উৎসেই ভ্রান্তি।’’ মানবজাতির সকল গুরু, বিশেষ করে ধর্মীয় গুরুরা, নিজেদেরকে প্রবঞ্চনা করেছেন আর প্রবঞ্চনা করেছেন সমগ্র মানবজাতিকে। সুতরাং আমার নিজেকেই সেটা খুঁজে বার করতে হবে আরযতক্ষণ পর্যন্ত আমি কারো ওপর নির্ভর করছি ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই আমার খুঁজে বার করার উপায় নেই।

দেখলাম যা-কিছু আমি চেয়েছি সেটা হলোআমার মাধ্যমে তাঁরা [ধর্মীয় লোকেরা] যা চেয়েছেন। যা-কিছু আমি ভেবেছি সেটা হলো তাঁরা আমাকে যা ভাবাতে চেয়েছেন। তো এর বাইরে বেরোবার পথ ছিল না। একপর্যায়ে কিছু একটা আমাকে ধাক্কা দিলো: ‘‘সেখানে রূপান্তরের কিছু নেই, সেখানে পরিবর্তনের কিছু নেই। অনুধাবন করার জন্যে সেখানে কোনো মন নেই, কোনো অহম্ও নেই। আমি কী ছাই করে যাচ্ছি?’’ এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আমাকে আঘাত করলো একটা বজ্রবিদ্যুতের মতো, একটা ভূমিকম্পের মতো। আমার চিন্তার সমগ্র কাঠামোটা বিধ্বস্ত হয়ে গেলো, যা-কিছু সেখানে ছিলো, সমস্ত সাংস্কৃতিক ইনপুটধ্বংস হয়ে গেলো। খুবই অদ্ভুতভাবে সেটা আমাকে ধাক্কা দিলো। আগের প্রত্যেকটি মানুষের যা-কিছু চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা আমার মনুষ্যদেহ থেকে দূরীভূত হয়ে গেলো। একদিক দিয়ে, সেটা আমার মনটাকেও পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিলো, যে মন আসলে মানুষের অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানের সমষ্টি ছাড়া আর কিছু নয়। সেটা আমার পরিচিতিটাও ধ্বংস করে দিলো। পরিচিতিটা দেখুন সেখানে [ইউ.জী.’র মধ্যে] সাংস্কৃতিক ইনপুট ছাড়া আর কিছু নয়।

সম্পূর্ণ…»

মে
07

দিবাগত

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

 

ভেসে যাই, পরিণামসিন্ধুজলে

আমার কেন যাচ্ছেতাই সব জিনিস অসময়ে মনে পড়ে সেটা কে বলবে?

ফেইসবুকে অন্যে লেখে মাশাল্লা হ্যাপি ফ্যামিলি, ছবিতে প্রজননক্লান্ত মা আর হাসির চকমকি ঠোকা বাপের কোলে নবজাতক, আমার কেন মাশাল্লা হ্যাপি ফ্যামিলি মনে হয় না, কেন মনে হয় ‘কেউ মরে বিল সেঁচে/ কেউ খায় কই’

যশুয়া আমাকে একটা রোমানেস্ক গীর্জা দেখাতে নিয়ে গেছে। আগের রাতে ওর সাথে বসে দেখেছি ‘ক্যাসাব্লাংকা’। গীর্জার ভিতর থমথম করছে বরফকলে জমানো নিস্তব্ধতা। সারি সারি উপাসক-উপাসিকা। রঙিন কাঁচের জানালা আর মোমবাতি। উপাসনাগীত শুরু হলো। আমি যশুয়াকে বল্লাম এই এই, এরা কি গাইছে? আমার কানে কেবল ক্যাসাব্লাংকার স্যামের ‘উই আর ইন ট্রাবল’ বাজছে…আমি কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে গেয়ে ফেলব…

যশুয়া বিপর্যস্ত মুখে আমাকে টেনে বের করে আনে, প্লিজ, উই উইল বি ইন রিয়াল ট্রাবল যদি এখন এই প্রার্থনাসংগীত ভেঙে তুমি গেয়ে ফেল এটা…

যশুয়া আমাকে পাড়ার লাইব্রেরিতে বাচ্চাদের রাইমটাইম দেখাতে নিয়ে গেছে। আমাদেরও যেন বাচ্চা আছে, আমরাও যেন অনেক সুখী হ্যাঁ এইরকম ভাব করে আমরা আর সব মা-বাবাদের পাশে পা গুটিয়ে মেঝেয় বসি। রাইমস শুরু হয়। একসময় ‘ও দ্য গ্রান্ড ওল্ড ডিউক অফ ইয়র্ক’ শুরু হয়…

সম্পূর্ণ…»

মে
06

পাঁচটি কবিতা

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

 

ছুটি ১

রোদে শুকানো পাজামা
গলে পড়ছে প্রজাপতি
গন্ধমুকুরের কাচ আরো পয়দা আরো এলাহী।
হলুদ গোলাপি মিলে আরো রঙধনু
তীর তীর
শিকারপাখি শীতব্রিজ করে কুয়াশা
কেয়াকাহিনী ঝুলছে বনের ভেতরে বনশা।

স্কুল থেকে গোগুলে শাদানীল বাদামি পায়রা
মেয়েরা গোপনে মঙ্গল রাখছে পালকের নিচে
তাই দেখে মা করার ছেলেরা
কুল ফেরানির মায়া মাখে এই নিম্নপলি বালিশায়
তরমুজ খুলছে লাল রঙের খাবারগুলি।

ঘন্টা পড়ছে কুলি করে কোলে তুলছে
শেষ মালবাহী ট্রেন।
গুলি ফোটাতে বাংকার থেকে বাংকারে
হাড় দিয়ে চিঠি লিখছে সৈনিক।
আর আমার কৈ তলার কৈ সাঁতরাতে সাঁতরাতে
স্টেশনে সকাল আটটা!
যেদিকে তাকাই সেদিকেই দালির মাননীয় ঘড়ি।

  সম্পূর্ণ…»

মে
06

দুটি কবিতা

মুগ্ধ চন্দ্রিকা

প্রহর

ভোরের দিকে তাকালে দেখি
তার উষ্ণ সুরে
আর, ধারালো কিরণে
নেচে ওঠে এক অজানা পাথর

দুপুরের মায়াবী মুখ থেকে
ঝরতে থাকে হলদে বৃষ্টি
ভেজা চাঞ্চল্যে অস্থির সে প্রহর, ক্লান্ত আমি

মনে দাগ নিয়ে বসে থাকা বিকেলের
আয়নাহীন চেহারায়
খুঁজে পাওয়া যায়
নীল গোলাপি স্মৃতি-
রৌদ্রের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার…

সাঁঝের ঘ্রাত অভিমানে, চিন্তিত আমি
একলা ঘুরে বেড়ায় সে মেঘের নৌকায়
তৃষ্ণার্ত তার দৃষ্টি
কেঁপে ওঠে তার নিরাকার উপস্থিতি

নেই রাতের সাথে কোনো কথা
পেলাম না তার চিঠির উত্তর
ওপরে তাকিয়ে দেখলাম–
কালো দেহ বেয়ে পড়ছে
রঙিন অশ্রু !

  সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
27

মলয় রায়চৌধুরীর কাব্যনাট্য

যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের

পাত্রপাত্রী:

১. কাশ্যপ ফিকির। বৃদ্ধ। শবের বাগানের কেয়ারটেকার।
২. বদ্যিনাথ। যুবক। কাশ্যপ ফিকিরের ছেলে।
৩. বিভূতিসুন্দর। প্রৌঢ়। ষষ্ঠ শতকের সম্রাট হর্ষবর্ধনের গুপ্তচর।
৪. দেবযানী। ১৮ শতকের যুবতী।
৫. চিনু হাঁসদা। প্রৌঢ়। নীলচাষী। ১৮৬০-এর বিদ্রোহে নিহত।
৬. হাঁদু লস্কর। যুবা। নীলচাষী। ১৮৬০-এর বিদ্রোহে নিহত।
৭. পাঁচটি শেয়াল। ২১ শতকের রাজনৈতিক দলচারী।
৯. তিনটি শুয়োর। ১২ শতকের রাজদরবারের কর্মী।
৮. খুনির দল। বর্তমান যুগের ভাড়াটে গুণ্ডা।

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
27

বিষামৃতে মাখাজোখা

রওশন আরা মুক্তা

পুতুলজন্ম

আমাকে পুতুল পেয়েছিলে, তাই না? ফর্সা গোলাপি মুখ আর ছাগ-শিশুর মতো দাঁত। কোনো কোনো দিন প্যান্ট থাকত না ফ্রকের নিচে। তোমার বুকে উঠে বসত পুতুল। জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলতে, আল্লাহ! নেংতু কেন? তোমার সামনের দু’দাঁতের মাঝে ফাঁক আছে, গালে টোল পড়ে। তোমার নির্লোম বুকের উষ্ণতায় পুতুল ঘুম দিয়েছে, পুতুল স্বপ্ন দেখেছে, পুতুল ভেবেছে এই বুকে নেই সমাজ, এই বুকে নেই রাষ্ট্র নেই ধর্ম, এই বুকে নেই আস্তিক নেই নাস্তিক, নেই বউ পিটানো পিশাচ। তোমার পুতুল ভেবেছে, এই বুকেই পরম শান্তি, ভেবেছে এই বুকের যোগাযোগ সরাসরি পুতুলের রক্তে।

তোমার পুতুল যায় খেলার মাঠে, সেই মাঠ যার শেষে আকাশ মিশে গেছে, দৌড় আর দৌড় শুধু ছুটে চলা– পুতুল ছুটে চলে, আকাশ ছুয়ে দিতে, আকাশ! মরীচিকা! মরীচিকা !  মুখ ফোলায় পুতুল, নদীর ঘাটে মড়া-পোড়ানো দেখে বাড়ি ফেরে পুতুল, তালের গন্ধ মেশা ভাদ্রের দিনে। তুমি সাইকেলে তুলে দিলে পুতুলকে, আজও পুতুলের সাইকেল চালানো শেখা হয়নি।

এই খেলার মাঝেই পুতুল চেপে যায় কিছু গল্প, শুরু হয় নতুন খেলা। খেলাচ্ছলে পুতুলকে তুমি যে খেলায় নামালে– জানো না, কত পঙ্গু সে– মাঠে। সে আকাশ ছুঁতে চায় না আর, ঘাসেদের নিচে লুকাতে চায় কাঁকরমাটি হয়ে। কেউ মাড়িয়ে গেলেও যাতে পুতুলের অভিমান না হয়। মাটির কোন অভিযোগ থাকে না। পাথর বালির কোনো স্থায়ী ঠিকানা হয় না সিমেন্টের মিশেল ছাড়া। এ খেলায় কখনো কখনো তুমিও প্রতিপক্ষ, তুমি চাল দাও না, শুধু এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকো বিশপ হয়ে, এক কোনাকুনি নিষেধাজ্ঞার রেখা এঁকে দিয়ে। অতিক্রমে পুতুল তোমাকে পায়, তুমি চাল দাও না, তুমি দাঁড়িয়ে  থাকো বিশপ। চাইলেই জীবন-শতরঞ্চি গুটিয়ে ফেলা যায় না; নইলে পুতুল অতিক্রম করে যেত মাটি পানির ভেদ…

 
সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
24

মরণ হ’তে জাগি(শেষ পর্ব)

মরণ হ’তে জাগি (১)   মরণ হ’তে জাগি (২) মরণ হ’তে জাগি (৩)

মূল: হেনরিক ইবসেন
অনুবাদ: কল্যাণী রমা

তৃতীয় অঙ্ক

এক বুনো, ভাঙ্গাচোরা পাহাড়ের চূড়া। পিছনে জলপ্রপাত নেমে গেছে। ডানে, বরফে ঢাকা চূড়াগুলো ভেসে থাকা কুয়াশার আড়ালে প্রায় অদৃশ্য। বামদিকে, স্তূপীকৃত পাথরের মাঝে এক পুরনো, জীর্ণ কুটির। ভোর হচ্ছে, সূর্য এখনো ওঠেনি।
মায়া রুবেক খুব উত্তেজিত হ’য়ে হাঁপাতে হাঁপাতে পাথরের স্তূপের উপর দিয়ে নেমে আসছে। আর উল্‌ফ্‌হাইম কিছুটা রেগে এবং একই সাথে হাসতে হাসতে মায়ার পোশাকের আস্তিন আঁকড়ে ধরে তার পিছন পিছন।

মায়া:(নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ক’রে) ছেড়ে দাও। আমায় ছেড়ে দাও, বলছি!

উল্‌ফ্‌হাইম: আরে দাঁড়াও দাঁড়াও, কামড়ে দেবে নাকি? মেজাজ দেখি একেবারে ষোল আনা।

মায়া: (হাতে আঘাত করে) বলছি ছেড়ে দাও! ভদ্র ব্যবহার করতে চেষ্টা কর।

উল্‌ফ্‌হাইম: তা করলে কি আর আমার চলে?

মায়া: তবে আর এক পা-ও তোমার সাথে যাব না। আর এক পা-ও নয়।

উল্‌ফ্‌হাইম: (জোরে হেসে ওঠে) বটে? এখানে এই পাহাড়ের মাথায় আমার কাছ থেকে পালাবে কি করে?

মায়া: (গভীর গিরিখাতের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে) দরকার হ’লে আমি দৌড়ে ওখানে নেমে যাব।উল্‌ফ্‌হাইম: আর নাকমুখ থেঁতলে নিজেকে একতাল মাংসপিণ্ড বানাবে, এই তো? এক চমৎ‌কার সুস্বাদু রক্তাক্ত পুডিং তৈরী হবে। (মায়া-কে ছেড়ে দিয়ে) বেশ, চাও তো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দৌড়ে নামো গিয়ে। তবে কিনা ওটা দেয়ালের মতই খাড়া। নীচে নামার জন্য কেবলমাত্র একটি সরু পথই আছে, আর তা থেকে নরকের দরজা খুব বেশি দূরে নয়।

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
21

ইউ.জী. কৃষ্ণমূর্তি (আত্মজীবনীপর্ব)

ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ১ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ২ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৩ ।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৪।। ইউ. জী. কৃষ্ণমূর্তির সাথে কথোপকথন: ৫

The Mystique Of Enlightenment (Part One)

বাংলা অনুবাদ: নান্নু মাহবুব

[১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬, ভারত ও সুইজারল্যাণ্ডে গৃহিত কথোপকথন থেকে সংকলিত]

লোকজন আমাকে ‘বোধিপ্রাপ্ত’ বলে─আমি ঘৃণা করি এই শব্দটা─ আমার ক্রিয়াশীলতার ধরন বর্ণনা করতে তারা এছাড়া আর কোনো শব্দ খুঁজে পায় না। সেই সঙ্গে আমি এও বলি যে বোধি বলে আদৌ কিছু নেই। সেটা বলি এইজন্যে যে, আমার সারাটা জীবনই আমি অন্বেষণ করেছি এবং চেয়েছি বোধিপ্রাপ্ত হতে, এবং আমি আবিষ্কার করেছি যে বোধি বলে আদৌ কিছু নেই, কাজেই একজন মানুষ বোধিপ্রাপ্ত কি বোধিপ্রাপ্ত নয় সে প্রশ্নই ওঠে না। আজ আমাদের মধ্যে যত দাবিদার রয়েছেন তাঁদের কথা বাদই দিলাম, ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের বুদ্ধকেও আমি একবিন্দু গ্রাহ্য করি না। তাঁরা হলেন একদল সুবিধাবাদী, জনতার সারল্যের ওপর তাঁদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। মানুষের বাইরে কোনো ক্ষমতা নেই। মানুষই ভয় থেকে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে। কাজেই ঈশ্বর নয়, ভয়টাই হলো সমস্যা।

… … … …

নিজের জন্যে নিজেই আমি আবিষ্কার করেছি অনুধাবন করার জন্যে কোনো অহম্ নেই─এই উপলব্ধির কথাই আমি বলছি। বিধ্বংসী একটা আঘাতের মতো এটা আসে। একটা বজ্রবিদ্যুতের মতো এটা আপনাকে ধাক্কা দেয়। আত্মোপলব্ধি নামের একটা ঝুড়িতে আপনি সবকিছু বিনিয়োগ করেছেন, এবং শেষমেশ হঠাৎ করেই আপনি আবিষ্কার করলেন যে আবিষ্কার করার জন্যে কোনো অহম্ নেই, উপলব্ধি করার জন্যে কোনো অহম্ নেই─এবং আপনি নিজেকে বললেন, “সারাটা জীবন ধরে আমি কী ছাই করে যাচ্ছি?!” এটাই আপনাকে বিস্ফোরিত করে দেয়।

… … … …

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
20

দীপক চাইবাসায় কবে এসেছিল মনে আছে

সমীর রায়চৌধুরী

বিটুর যখন প্যারাটাইফয়েড হয়েছিল ঠিক তার পরে,
সেদিন মধুটোলার বাড়িতে গরুটার কালো বাছুর হয়েছিল
প্রেসিডেন্সি কলেজের ড্রাগ খাওয়া ছেলেমেয়েগুলো
ফিরে যাবার পরের রবিবার–
কদিন পরেই ছিল রাসযাত্রা–

সন্দীপনদার বউ ভাইয়ার হাতে বাবার জন্য মাছ পাঠিয়েছিল
বাহাদুরনীর কাছে এক গ্লাস দুধ চেয়েছিল–
জানেন তো সকাল হলে ওর লাগে, তা না হলে
ফ্রেশ হয় না, গরমটা পেটে পড়লে তবে…
ফ্রেশ হলে ওর কথা শুনবেন,
দেখবেন, আপনাদের ভালো লাগবে
সন্দীপনদা হনি-টোটোনদের ছায়া নিয়ে গল্প বলেছিল

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
15

দীর্ঘ কবিতা: স্মৃতিলেখা

আর্যনীল মুখোপাধ্যায়

 

ছবি: ছায়াছবির স্থির চিত্র
ব্যক্তিগত অ্যালবাম– আর্যনীল মুখোপাধ্যায়

 

যেখানে এক অবলোকন ধরা পড়েছে আর এক দেখায়

 

 
কেউ দেখছিলো সেই অবলোকন      পেছন থেকে
ক্যামেরাবাস্তবের মনশ্চক্ষু  দিয়ে
আর সেইটেই আমি দেখছি               সেই দেখা
সেটাই আমি দেখাই                            আমার তিন নম্বর চেতনা দিয়ে

আপনতার অজর অকৃত্রিম ছায়া ফেলে
শিল্পবস্তু চেয়ে দেখে আহৃত শিল্প
এই পাশ্চাত্য তুলে পরিচালক এক জায়গায় পৌঁছতে চেয়েছিলো
অথচ আমি পৌছলাম আরো পেছনের ড্রেস সার্কলে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

যেখানে সবাই কৌপিনহীন
বনানীর তালিকাহীন গাছ      যাদের নামের প্রহসন নেই         বাকল নেই
সবার নাম ‘গাছ’          পদবী মনে নেই
সবার পিঠ                     সবার নিতম্ব খালি

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
07

গল্প:খালাস

গাজী তানজিয়া

পুলিশ ভ্যানের শক্ত পাতের বেঞ্চিতে বসে থানায় যেতে যেতে ভাবছিলাম, রিমান্ডে ঠিক কতটা টর্চার করা হয়!

ব্যাপারটা যতো সহজে সমাধান করতে পারব বলে ভাবছিলাম, ততটা সহজ বোধ হয় হলো না। সব কাজের মধ্যেই একটা কিছু ফাঁকফোকর থেকেই যাবে । আর সেই অনাকাঙ্খিত ছিদ্রগুলো থাকে বলেই ফোকর গলিয়ে ঢুকে পড়তে পারে পুলিশ। নইলে চেষ্টাতো কম করিনি। খবরটা পাওয়ামাত্র ট্যুর-ফ্যুর সব ফেলে ছুটে এসেছিলাম..।

তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই উৎকট তীব্র গন্ধে নাক ঝাঁঝিয়ে উঠল। সঙ্গে হৃৎপিণ্ডটাও এতো দাপটের সঙ্গে লাফাতে লাগল যেন ছুটে বেরিয়ে আসবে। গন্ধের উৎসটা মনে হয় পূব দিকেই। তাই আমি ঘরে ঢুকে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়েই সোজা ড্রইংরুম ধরে, ডাইনিং রুম এর বাঁক পেরিয়ে চলে গেলাম সর্ব পূবের ঘরে।

আমি বাড়িতে না থাকলেও রান্নাঘরের একটা জানালা খোলা থাকে। যে কোনো ধরনের গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে এই সতর্কব্যবস্থা সব সময়ই নেয়া হয়। আমি সব ব্যপারেই খুব বেশি সতর্ক। তাই ছোটো খাটো বা বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনাই এখনো আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। ঘরের বাইরে যাবার সময় আমি কম করে হলেও তিনবার চেক করি ঘরের চাবি নিয়েছি কিনা সাথে। দরজা-জানালা সব ঠিকঠাক মতো লক করেছি কি না ইত্যাদি। কিন্তু আমার মতো অতি সতর্ক মানুষও যে এমন বিপাকে ফেঁসে যেতে পারে, সেটা আমার নিজের বেলায় না ঘটলে অন্তত বিশ্বাস করতাম না। এমনকি আমি বাথরুমে ঢুকলেও সাবানমাখা অবস্থায় হঠাৎ করে ট্যাঙ্কের পানি শেষ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় এক বালতি পানি আগে থেকে ধরে রিজার্ভ করে রেখে দেই। সেই আমার বেলাতেই যে এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটবে ভাবাই যায় না! এ ব্যাপারে আমি নিজেকে খুব একটা দোষারোপ করতে পারি না। আবার সব চেয়ে বড় দোষটা আমাকেই দিতে হয়। আমি মাসখানিকের জন্যে বাড়ির বাইরে যাচ্ছিলাম। এই সময়ে বন্ধু গুল্লু এসে ধরে বসল।

সম্পূর্ণ…»

এপ্রি
03

দীর্ঘ কবিতা: ভেকপুরাণ অথবা জনগণতান্ত্রিক ইস্তেহার

শামসেত তাবরেজী

Since human nature is the true community of men, those who produce thereby affirm their nature, human community, and social being which, rather than an abstract, general power in opposition to the isolated individual, is the being each individual, his own activity, his own joy, his own richness. To say that a man is alienated from himself is to say that the society of this alienated man is the caricature of his real community.
-Karl Marx

Write your self. Your body must be heard. Only then will the immense resources of the unconscious spring forth. Our naphtha will spread, throughout the world; without dollars- black or gold- nonassessed values that will change the rules of the old game.
-Helen Cixous

Be of good cheer; thou livest; but my life hath long been given to death, that so I might serve the dead.
-Antigone, Sophocles

 

ভেক ডাকতেছে।

ওইখানে ময়দানে জমে আছে জল
দর্পণের দর্প হ’য়ে, টলমল কালো ও কপিশ
মেঘের সামান্য নীচে,
যেমত চুম্বনের আগে হতবিহ্বল নারী,
যেমত মাটির স্পর্শ পেতে ব্যগ্র লাঙল,
আকাশের দিকে মুখ ক’রে
এইমত জলের আয়না গাহিতেছে বিবাহের গান ।

সেইখানে জলবাহী মেঘের মূরতি কত
মাঠের ঘাসের সনে ফস্টিনস্টি করছে নিয়ত
ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে মেখে।

সম্পূর্ণ…»

মার্চ
31

দীর্ঘ কবিতা: বিনয়মঙ্গল

অংকুর সাহা

১১ ডিসেম্বর ২০০৬

প্রত্যূষে আমার ঘরে                অজস্র রাশিতে ঝরে
অঘ্রানের মেঘবৃষ্টিমালা–
কন্যারে ছাড়িয়া স্কুলে              পর্জন্য ধারায় দুলে
কর্মস্থলে গমনের পালা।

আপিসে চেয়ারে বসি                আন্তর্জালেতে পশি
আচম্বিতে দুঃসংবাদ আসে-
অকালে ডাকিল বান                  বিনয়ের তিরোধান
শিমুলপুরে নিজস্ব আবাসে।

এ দুঃখ কোথায় রাখি?                শোকগাথা গায় পাখি
চরাচরে বিষণ্ণতা ছায়–
কাব্যে ও গণিতশাস্ত্রে                   দিবসে এবং রাত্রে
ক্রমাগত অশ্রু ঝরে যায়।

সম্পূর্ণ…»

মার্চ
23

দীর্ঘ কবিতা: এ কার হৃদয়ের কাজল গলে যায়

কামরুজ্জামান কামু

আমাকে হত্যার তিমির আয়োজন চলছে। উন্মাদ
কাতেল তলোয়ার উঁচিয়ে হুঙ্কার দিচ্ছে। রক্তের
কণিকা-পানকারী পশুরা উল্লাসে চাটছে ব্যক্তিকে
ব্যক্তি-নির্যাস, ব্যক্তি-কল্পনা, ব্যক্তি-ছন্দের
প্রস্ফুটন। যেন ফুলের বিকাশের মুহূর্তকে আজ
শোণিতে ভরে দিতে সীমার প্রস্তুত। ধারালো তলোয়ারে
ঝিলিক-মারা রোদ ঠিকরে পড়ে ওই। এখানে এই নিচে
কণ্ঠনালীটার পাশে চুমার দাগ রয়েছে জননীর।
ছোরায় শান দেওয়ার শব্দে সচকিত বলগা হরিণেরা
ছুটছে। যেন এই ত্রস্ত বনতল ডাকাত-কবলিত
রাতের বুক থেকে আমাকে লুকাইতে চাইছে প্রাণপণে।
হত্যা-হাহাকার-হর্ষ-উৎসব! ঝালর-ঝাড়বাতি
শোভিত পৃথিবীতে সবুজ ধানক্ষেত, কবি ও কাকাতুয়া
এ বুকে দোল খায় ! হাত দে’ ধরে দেখি পিণ্ড কাঁপছে!
এ কার হৃদয়ের কাজল গলে যায় অন্ধ আর্তির
মতন। লাশকাটা ঘরের দরজায় আব্বা বসে আছে
আমার বয়সের চাইতে দীর্ঘ এ দুপুরে। শব্দের
ভিতরে শূন্যতা নীরব। নিরবধি নদীর কান্নার
শব্দ নাই যেন শঙ্খ বাজে নাই আযান শোনে নাই
মানুষ কোনোদিন আবেগে আপ্লুত হইতে পারে নাই
রক্ত খায় নাই নিজের শরীরের বীর্য অন্যকে
প্রদান করে নাই জাপটে ধরে। এই শাণিত তলোয়ার
আমাকে ফালি ফালি করবে কেটে কেটে এখানে এই নিচে
কণ্ঠনালীটার পাশে চুমার দাগ রয়েছে জননীর।
এই যে গোধূলির মোষের পাল যায় লালচে সূর্যের
সামনে দিয়ে আজ হত্যাকাণ্ডের প্রাগমুহূর্তের
যেনবা একবার একটু-জ্বলে-ওঠা ছোট্ট আর্তির
সম্পূর্ণ…»

মার্চ
15

ভালবাসার উৎসব

একটি হাইপার রিয়াল পদ্যনাটিকা

মলয় রায়চৌধুরী

 

পরিদৃশ্য:
পায়রোটেকনিকে তোলা রঙিন ঝড় ( গাঢ় লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনি এবং গোলাপি । রঙগুলো প্রতিটি নারীর ভাবকল্প। )
সাত রঙের ঝোড়ো আলো (যে-রসায়নে আলো গড়ে উঠেছে: লিথিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কপার সালফেট, কপার ক্লোরাইড, পটাশিয়াম সালফেট এবং পটাশিয়াম ক্লোরাইড)

পাত্রপাত্রী:
১.কুলসুম বানু (১৪ বছর, কালো, মোটা,  সলমা-সিতারার কাজ করা গাঢ় লাল সস্তা চুড়িদার) ২.নন্দিতা সিনহা (১৯ বছরের  তরুণী, ফর্সা, সুন্দরী, ঢ্যাঙা, অভিমানী, কমলা কটন শাড়ি)
৩.ভুবনমোহিনী রাণা (২১ বছরের নেপালি যুবতী, সুশিক্ষিতা, হলুদ কাঞ্জিভরম), ৪. চিত্রাঙ্গদা বসু (৩৫ বছরের বাঙালি যুবতী, যৌনকর্মী, সবুজ সিনথেটিক শাড়ি)
৫. ক্যারল নোভাক (২৬ বছরের মার্কিন যুবতী, মাদকাসক্ত, নীল টপ ও ফেডেড জিন্স), ৬.অবন্তিকা রায় (৩০ বছরের বাঙালি যুবতী, প্রেমে উন্মাদ, বেগুনি কল্কার জামদানি শাড়ি),
৭. শ্রীমন্তিনী সেনগুপ্ত (২৭ বছরের বাঙালি যুবতী, হলুদ টপ ও জিন্স পরা; পিঠে ছড়ানো কালো চুল।) ৮. চারজন বৃদ্ধের দল (ধুতি ও গেরুয়া পাঞ্জাবি পরা । পায়ে কথ্থক নাচের ঘুঙুর এবং প্রতি সংলাপে কথ্থকনাচের ভঙ্গীতে পাক খান ও গোড়ালি ঠোকেন  । দৃশ্যকেন্দ্রে তাঁরা শবের ডান দিকে সার বেঁধে দাঁড়ান।) ৯. চারজন বৃদ্ধার দল (লালপেড়ে সাদা শাড়ি ও ব্লাউজ। প্রতি সংলাপে ভারতনাট্যমের মুদ্রায় হাত নাচান ; সেসময়ে মৃদঙ্গ বাজে। দৃশ্যকেন্দ্রে তাঁরা শবের বাঁদিকে সার বেঁধে দাঁড়ান।)
১০. একজন টাকমাথা আউলবাবু (শার্ট-প্যান্ট পরা, কাঁধে ঝোলা, কথা বলার সময়ে হিপ-হপ নাচেন ; হিপ-হপ নাচের সময়ে নেপথ্যে বাজতে শোনা যায় গিটার, ভায়োলিন, পিয়ানো, বাস ও ড্রাম।)
১১.একজন যোদ্ধা

সম্পূর্ণ…»

মার্চ
15

আড়াল

নাহার মনিকা

মফস্বলের এই থানা শহরে সব দিন ইলেক্ট্রিসিটির মা বাপ থাকে না। সেদিনও ছিলনা। সূর্য ডোবার আগে আগে মুরগী-টুরগী খোপের মধ্যে ঢুকিয়ে বৌ-ঝিরা কুপি হাতে রান্নাঘর থেকে উঠান পার হয়ে বড়ঘরের মাটিতে পাটি বিছিয়ে স্কুলের পড়া মুখস্থ করা কিশোর বয়সী বাচ্চাকাচ্চাগুলোকে হ্যারিকেনের আলো উস্কে– ‘এই জোরে জোরে পড়, পাকের ঘর থেইকা য্যান শুনতে পাই’ –বলে আবার রান্না ঘরে ফিরে গিয়ে চুলায় খড়ি গুঁজে তুষের ছিটা দিয়ে বাড়ানো আগুনের তাতে লালচে মুখ নিয়ে কান খাড়া করলে সামান্য হৈ হট্টগোল তাদের কানে আসে, তখন তাদের কেউ কেউ কুপি হাতে কেউ বাতি ছাড়া উঠানে এসে জমা হয়ে ভেসে আসা কোলাহলের তেমন কোন সুরাহা করতে না পেরে বাড়ির পুরুষ মানুষদের ফিরে আসার অপেক্ষা করে। পুরুষেরা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরে ঝাল তরকারী দিয়ে ভাত মাখিয়ে মুখে তুলতে গিয়ে বৌদেরকে বলে– ‘আজকা তোজোর বড়ভাই মোজাম্মেল ফিরা আসলো, বার-তের বচ্ছর পরে।’
–‘তাই নাকি? বৌ পোলাপান সাথে আনছে?’
–‘নাহ, একলাই তো দেখলাম। ম্যালা পয়সা হইছে মনে হয়, স্যুট কোট পরনে, লগে দুই তিনটা স্যুটকেস, সবাই বলাবলি করতো না যে আর ফিরা আসবো না, মইরা টইরা গেছে।’
বৌরা তখন না দেখা তোজোর বড়ভাইয়ের টাকা পয়সা বানানোর খবরে ঈর্ষান্বিত হয়, আর একজন সফল মানুষের সঙ্গে নিজেদের তাস খেলোয়াড় স্বামীর তুলনা করে মনে মনে রুষ্ট হয়ে ওঠে এবং পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কোন ছুতায় তোজোদের বাড়ি গিয়ে তার ভাইকে দেখার বাসনা মনে পোষণ করে আধোয়া থালা-বাসন ঘরের কোনায় রাখা বড় প্লাষ্টিকের গামলায় স্তূপীকৃত করে।

সম্পূর্ণ…»

Older posts «