আলমগীর ফরিদুল হকের একগুচ্ছ কবিতা

আলমগীর ফরিদুল হক

পশ্চিম ভান্ড

They can’t censor our memories, can they?
তোমার সংস্থাপনা বলে কথা
সেই পরিধির বলে লোকবল, প্রাতিষ্ঠানিকতার বল, রাষ্ট্রবল,
কতো না বলে তুমি খেলছো
আঁতাত তলে, ওতে কত না কিছু রোপিত হয়
তোমার বূহ্য ভেদ করতে পারে কোন লোক?
যেন জনগোষ্ঠির, ভোট শক্তির, বার্তা শক্তির প্রবেশ নিষেধ
তোমার সংস্থাপনা বলে কথা

নৈশব্দের সন্ত্রাস 

আপাতত তোমার শীরস্থান মাটিতে রাখো
না হয় চিরদিন মাটিতে পুতেই রেখো
সভ্যতার শিষ্যত্ব গ্রহণে যদি লজ্জায় মাথা যায়
তাহলে থাক, তোমার পশুত্ব থাক প্রাণময়
অবিমিশ্র আর্থ-জাতাকলে থাকুক না শিশুশ্রম
থাকুক না তোমার রাজনীতি দুঃস্থ খেলা
পুঁজির পিঞ্জরে সুখবিদারি তোমার শিক্ষিত মেধারা
লিঙ্গবন্ধক দিয়েছে পশ্চিমের কৌলীন্যে
থাকনা তোমার সকল পশুত্বের প্রস্রবন
সভ্যতার কিংবা আত্মান্বেষণ কিবা প্রয়োজন
এই ভরাডুবির কালে, থাকুক না নৈশব্দের সন্ত্রাস

দেখবে আসাঞ্জের মতন

তোমার চলিষ্ণু সঙ্গ ছাড়ো
তুমি দেখো, যা অন্যেরা দেখতে পায় না, বা দেখতে চায় না
তুমি তোমার তথ্য মাধ্যমগুলো ভাঙ্গো মোর্স কোডে
যেহেতু তোমার নেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
শুধু অনুবাদ করে যাও বহিঃরঙ্গের প্রচারিত সংবাদ
তুমি দেখবে আসাঞ্জের মতন
তুমি দেখবে কি করে মিথ্যেকে সত্যে পরিণত করে
সংস্থাপনার নীতি কি করে তোমার ঘরে ঢুকে পরে
বহিঃরঙ্গ কি করে চুক্তি করে আপন ঘরে অঘোষিত রূপরেখায়
কি করে ধর্ম অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষদের নিয়ে বেসাতি করে
শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত প্রেমিজে মিউটেইট করে
ঘরের শক্তি ওতে মাথা ঘামায় না
ঘরে ওরা কারা টাকা ছড়িয়ে যায় অবলীলায়
সিবিয়া, ইরাক, এমন কি বাংলায়
লোকালয়ের ক্রিড়ানক এঁরা কারা ?
বাইরের শক্তিবল চায় হে যুবক নিজেরা ব্যস্ত থাক
তোমার ঘরে অন্ধ ধর্মান্ধতা নিয়ে
কিন্তু প্রশ্ন করো না, কোথা থেকে কি হচ্ছে ?
তোমার চলিষ্ণু সঙ্গ ছাড়ো
গড়ে তোল নুতন শক্তিসত্ত্বা, জানবে ইডিওলজির মৃত্যু নেই
এই কঠিন অরাজক ভাটি অঞ্চল
তোমার চেয়ে বেশী দূরে নয়
মুক্ত করো এই অঘোষিত চুক্তি
বীজ বাষ্প! বন্ধ কর সকল দ্বার
বিকিকিনির রাস্তা বন্ধ কর
মুক্ত কর শাশ্বত বাংলা, তাঁর ভাটির অঞ্চল
(আগন্তুক)

নীতিবলয়ের মূঢ়তা

হিমালয়’দেশ তুমি পারলে না ,
নিজের স্বকীয় স্বত্বা রক্ষা করতে
ফিরে গেলে তোমার ভাষা, সংস্কৃতি,
লোটা কম্বল নিয়ে ধর্মালম্বিতে
লঙ্কার পাহাড় গাত্রে কে ঢুকলো তোমার টাঁকশালে
তোমার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কাঠামোয় ওকি প্রহেলিকা
দূর্বল চিত্তকূলে সেই কি নীতিবলয়ের মূঢ়তা
এখন থাকো পড়ে চিত্তশুদ্ধি, মনসংযম, চিত্তের প্রসন্নভাব ,
অক্রুরতা, মনের বাক্য বিষয়ক সংযম
– এই সকল মানস তপস্যায়
বাঙালি তুমি কি করছো তোমার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে,
কোথায় যাচ্ছো আনুষ্ঠানিকতার ঘোড়ায় চেপে নিরবে
ব্যবসা করতে লোটা হাতে, কাহার সাথে

যূথবদ্ধ

সূক্ষ্ম প্রভেদ জানো আড়ালে আবডালে
গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়াও
যূথবদ্ধ হতে শেখোনি পরম শক্তি বলে
চলতি হাওয়ায় পেখম তুলে নাচো

মাঠকর্মী

অস্বচ্ছ কালে মনন
সেতুবন্ধন বলি কেমনে
মাঠপাড়ে কেউ নেই
মনন লোক আজ
সমাহিত পুঁজির পিঞ্জরে
নেতৃত্ব কার স্খলণে
কথা কই অপন মনে
আমি কার ছলনে

কমরেড আইয়েন্দে

সাল্ভাদর আইয়েন্দে তোমার অনুষঙ্গ চিরহরিৎ জেনো
তাই তো আছি তোমার যাত্রাপথে অবিচল
আমাদের দেশে আসে তোমার খুনিরা ঘুরে ফিরে অবলীলায়
গণতন্ত্রের পরাকাষ্ঠায় লটবহর নিয়ে
আমার চক্ষু ক্রমে বিস্ফারিত হয় মগের মুল্লুকে
আমি চিৎকার করে উঠি ভিক্তর হারার কন্ঠে বিক্ষোভে
ফেটে পড়ি ভায়োলেটা পারা’র মিলিত নিনাদে
কমরেড আইয়েন্দে তোমার মৃত্যু আমরা মেনে নিইনি জেনো
আজ তোমার জন্মতিথিতে রক্তিম উজ্জ্বল উদ্ধার
হোক আমাদের সংকল্প, জ্বলে উঠি পরম সততায়

শাকপুরার মানচিত্র

সংকট নির্লিপ্ত খোঁজে মোটা তোষক
তেমনি খুঁজতে থাকি চড়ুই ভাতি খেলার সামগ্রী
তাঁর ছিল মাটির হাঁড়ি, উনুনের কেরোসিন
কিছু মালসা ভাঙ্গা টুকরো দিয়ে
সোনার সংসার ছিল
কোথায় যেন জমে ছিল প্রকারভেদ
সে পাবে না, ও পাবের চৈত্রসংক্রান্তি পেয়ে বসে
মনঃ মজ্জার তুলোধূনো কারিগর এলো বলে
আমরা স্কুল ফেরৎ তাকিতে ছিলাম ব্যাকুলতায়
উলঙ্গ ঋষি বলে যাও
কলার ছোকলা নাও খাও
পানা পুকুরে মনি কাকু লুকিয়ে থাকতে পারেনি
কি যে বিগ্রহ কাল; ভাড়াটে দালাল বলে দিল
এমনি অঝড়ে রাশি রাশি গুলি
সবুজ পানা পুকুর হায় রক্তাক্ত হলো
শাকপুরার মানচিত্র
বাবলা’দা যুদ্ধে, তীরধনূ নিয়ে ক্ষেপে উঠি
নিষ্পেষিত সময়ে আমরা একা
শুধু অদ্ভুত আঁধারে বেজে উঠে
ইথারের বাণী, এতো দীর্ঘ সময়ের পরও
সেই বাণী শ্রবণে জমে মরা অলীক
নিশ্চলা ডোবা পুকুর

বর্ষণের ইতিবৃত্ত

আতীব্র গগণ বিদারি আফ্রো ক্যারিবিয়ান চিৎকারে
কাঠের ছাদের তলায়
কি আর বিশ্বকাপে মন জড়ো হয়, শ্রাবণে।
সামির পরীক্ষায় কি উৎকর্ষতা,
কিরণের সকল উজ্জ্বল উদ্ধার এখন বেলজিয়ামে ।
ছাতি ফেটে যায়,
রাজকুমারীর মা যখন চলে যায় কত দ্রুত,
মাসিরা চলে যায় একে একে
জগতে তারা দিয়ে যায়, সকল কৃতি সমুজ্জ্বল বৃষ্টি!
অপর দিকে শাহীনের মহাকাব্য রচনার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়
এই রোদ্র তপ্তদাহে, জ্বলতে থাকে শিল্পপ্রভা
সুকন্যারা আছে কাছে, তাও যেন মহাকাল থেমে থাকে না
শিল্পীরা ভাড়াটে হয়ে যায় কি অবলীলায়, কালবেলায়
দালালের সাথে বিয়েতে বসে উড়োজাহাজে
সমীকরণে মেলাতে নেই
পূর্বাপর, অবিমিশ্র স্মৃতিশূন্য কথা
কেমনে বিলিয়ে যায় গভীর অরণ্যে
ভার্জিনিয়ার প্রশান্তি যেন চিরহরিৎ বলয়স্থাপনায়
নির্নিমেঘ ক্ষমা বর্ষণের ইতিবৃত্ত

কোন ভূমিকা নেই শাশ্বত রাত্রীর

এই কোন অবিনাশী রাত্রী
দিগন্তের কি মহিমা, জাগৃতি এইখানে থামে
আমরা যখন তীর ঘেঁষে এলাম
মানবিক উজ্জ্বল উদ্ধারে
চারিদিক প্রকম্পিত তখন, কি অন্তরসার
আলেখ্য যেন রচিত হতে শুরু করলো

ভয়শূন্য হৃদয় কাঁপে ধর থর
ওই স্থলে গগণ অগ্নি স্ফুলিঙ্গ হা হা রবে জ্বলে
পত্রালীযুক্ত গোটা গোটা অক্ষর গুলো
বাজে বাস্তবতার কানে কানে
গাজা! গাজা! শব্দে আকীর্ণ হয়
লাল দিগন্ত বাড়তে থাকে

বিক্ষুদ্ধ রাত্রী একা অন্ধকারে বসে
স্তদ্ধতার করুণ গান হায় !
এই কুলবাসীদের নিরস্ত্রের কথা বলে
মধ্যযুগের অস্ত্রে পারে না প্রতিরোধ গড়তে
ছ্য়’টা দশক কেটে গেল

পৃথিবী কত শিক্ষিত হলো
আহা! পশ্চিমের বিকশিত হেম
এক অমানবিক রাহু গ্রাসে
পিতৃ -মাতৃ ভূমি বিলুপ্ত হতে থাকে
সে কোন বর্ণবাদী ষড়যন্ত্রে সন্ত্রাসে
প্রজন্ম তার ধ্বংস হয়, শিশুদের
খুলি উড়ে যায় বেজন্মার সংহারে

মায়েদের আর্ত চিৎকার
ক্রন্দন থেমে যায়, ভয়ার্ত আকাশে
নেই শ্বাস প্রশ্বাস, দাবানল জ্বলে
সাহসী মানুষ জ্বলে না আর
মৃত মানুষের ভ্যাপ্সা গন্ধ বাতাসে !

বৈদেশিক নীতির কুলুপ আঁটা ছেনালেরা
গ্ল্যাডিয়েটারের খেলা দেখে টিভি’র পর্দায়
পার্শপ্রতিক্রিয়ায় যায় পুঁজিবাদীর
কি মোহ বিস্তার, স্বাদেশিকতার খেলায়

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।