মাসুদুল হকের সাম্প্রতিক কবিতা

মুখ

মুখের বিচিত্র ধরন; জিভ দিয়ে স্বাদ নেয়
ঠোঁট ভরে চুমু। দাঁত দিয়ে কামড়ে খায়
নাক দিয়ে ঘ্রাণ আর চোখ দিয়ে রঙ

এ মুখের বিচিত্র শখ; কণ্ঠের ধ্বনি
জিভ গলিয়ে ঠোঁট দিয়ে কথা বানায়
নাক দিয়ে শ্বাস টেনে চোখে চোখে
ইশারার ভাষা বোনে
কিছু তার ভীষণ সত্য; কিছু তার মিথ্যে ভরা

এ মুখ‌ই আবার প্রেমে কাতর
আবেগে থরো থরো ঠোঁট –দ্বিধায় অটল!

শিশু

শিশুদের স্বভাব নিয়ে নানা কথা আছে

শিশুরা বড়দের অনুসরণ করে
মনের মধ্যে বড়দের ছবি আঁকে

আমিও এ বিষয়টি লক্ষ্য করেছি

তবে তার চেয়েও শিশুরা প্রাণীদের ভালবাসে
প্রাণীদের কথা বুঝে;
কুকুর কিংবা গরু হলে আর কোনো কথা নেই

শিশুরা আসলে ছোটবেলায় প্রাণীই থাকে
আমরাই ওদের বুদ্ধি দিয়ে মানুষ করে তুলি!

বার্তা

ছেলেটা বিকেলঘেঁষা দুপুরবেলায়
একা একা ঘুড়ি ওড়ায়
.
আহা রে! একলা ছাদে ছেলেটা সুতো টেনে
ঘুড়িটাকে পাখি বানায়

পাখিটার ক্ষুধা নেই, শুধু উড়ে বেড়ায়

বন্ধুছাড়া ছেলেটা মেঘ ও নির্জনতায়
ভরা আকাশে সুতো দিয়ে বাতাস টেনে টেনে
প্রবাসী বাবাকে বার্তা পাঠায়!

জন্মউৎস ও অন্ধকার

চৈত্রের এক অমাবস্যায় আমি চিলেকোঠায়
হারিয়ে গিয়েছিলাম

পৃথিবীতে এ পর্যন্ত বেশিরভাগ মানুষ
আলোর মধ্যেই হারিয়ে গেছে
নিজের মধ্যে নিজে থেকেও হারিয়ে গেছে
অন্য মানুষদের কাছ থেকে;
পরিচিত ভূগোল, চেনাজানা ঘর থেকে…

কিন্তু আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম আমার কাছ থেকে
সেদিন সন্ধ্যায় ছিল না কোনো তারা
আমি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অন্ধকারে
হারিয়ে যাই;হারিয়ে ফেলি আমার ছায়া
হারিয়ে যায় আমার প্রতি অঙ্গ অন্ধকারে

সেই থেকে আমার অস্তিত্ব অন্ধকারে মজুদ হয়ে আছে

অন্ধকারের গভীর থেকে উঠে আসা আমি এক প্রাচীন খনিজ!
অন্ধকার মূলত খনিজের কারখানা!

রাশিয়ার চিঠি

সূর্যশাসিত বৃত্তে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল কেটে গেছে

ছোট্ট রবির‌ও শীতকাল ছিল
ঠাকুরবাড়ির শাসনে শীতপ্রতিরোধক সূতি চাদরে কেটেছে তার শৈশব…

বয়স সত্তর পেরিয়ে উত্তরায়ণের দিনে
কানঢাকা টুপি,পা অবধি ঝুল জ্যাকেট, গামবুট পরে ঘুরে আসেন শ্বেত রাশিয়ায়

এখনও ‘রাশিয়ার টিঠি’-তে পাতায় পাতায়
দেখতে পাই আমাদের প্রায়োগিক কৃষিভূমি
ঘুমিয়ে রয়েছে দীর্ঘ একটা শীতকাল জুড়ে…

 

মাসুদুল হক

ঢাকার জিন্দাবাহারে ৩রা জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা স্নাতকোত্তর (দর্শন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি করেছেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।বাংলা একাডেমির রিসার্স-ফেলো।
পেশায় সহযোগী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
কবিতা: ৫টি বাংলা ও ২টি ইংরেজি ভাষায়
ছোটগল্প: ৪টি, উপন্যাস: ১টি
প্রবন্ধ-গবেষণা: ৬টি, অনুবাদ: ৩টি
সম্পাদিত গ্রন্থ: ৩টি, সাক্ষাৎকার গ্রন্থ: ১টি
লিটল-ম্যাগ (সম্পা): শ্রাবণের আড্ডা (১৯৮৭-২০০০)
পুরস্কার: বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার (২০১১); চিহ্ন পুরস্কার (২০১৩);
দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি গুণীজন সম্মাননা (লোকসংস্কৃতি) ২০১৪।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।