শামান সাত্ত্বিকের কবিতা

যাবার সময়

সময় হয়ে যায়
আস্তে আস্তে কেমন করে যে সময় হয়ে যায়
কেউ বোঝে না
বিদায় নিতে গেলেই ফ্যাসাদ বাধে

রাতে রাতে অনেক আহার হয়ে গেছে
একেবারে পানাহার
স্বভাব দোষে আমি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠি
যাবার সময় আটকাতে নেই
যা যাবেই তাকে যেতে দিতে হয়।।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গুনতে শেখা

ধারালো সব কিছু ধার দিয়ে দেখে নিতে হয়
দাঁড়িপাল্লায় হিসাবও একদিন গুণতে হয়
নোটের হিসেব কষতে কষতে বুঝে ফেলি
ফেলে আসা দিনগুলো জটিল কিছু যন্ত্রণার
ধোঁয়া বুনে অহরহ নাগালহীন থেকে যেত
পথে নেমে হরিৎ বর্ণের অনুভূতিতে দুলতে
দুলতে আচমকা বিষাদে বিলীন প্রায়
উৎসমূলে জোয়ারের কলতান শুনি
নেকী হাসিলের পথ বাতিল হয়ে গেছে
এখন কড়ায় গন্ডায় হিসেবের খাতায় হুল ফুটাই।।

৩ মার্চ ২০২১

বাঁচতে জানা

মৃত্যু তোমাকে আজীবন পেছনে টেনে নেয়
তুমি বাঁচার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রামে অবতীর্ণ –
এটাই স্টেটম্যান।
আমিও ধরাছোঁয়ার বাইরে যেতে থাকি
মৃত্যুর সাথে খেলে যাই যতবারই সে চোখ রাঙায়

মৃত্যু বিচূর্ণ করুক আমাকে কোরোনার নীল বিষে
আমি ফিনিক্স নই ডানা নেইকো উড়িবার
ছুটে যাই যোজন দূরে হৃদি-ব্যথা নাশিবার

পথে পাই কাদা পানি গড়তে সুদৃশ্য এক নতুন ঘট
ক্রমশ বিনির্মিত অদৃশ্য সময়ের নিপুণ প্রেক্ষাপট

‘পরাজয়ে ডরে না বীর’ কথাটা আজব ঠিক
মরণ কামড়ে বাঁচার প্রয়োজন প্রদীপ্ত নির্ভীক।।

৩ মার্চ ২০২১

সুবিধার হাত

অনেক উচ্চারণই সুখ বুঝে সুবিধাবাদী হয়ে উঠে
সুবিধাবাদ আমাদের প্রতিনিয়ত জড়িয়ে থাকে
সুবিধা হাত ছাড়া হলে নতুন পথের দিশায় ফিরি

অনেকগুলো সুবিধার হাত কখনো এক সাথে জড় হয় না
সুবিধার আছে দু’টো হাত একে অপরকে জড়িয়ে ধরার

আমার এক হাত ছুটে গেলে আমি একা হয়ে যাই
সে থেকে দু’টো হাতের ভার বহন করে অতৃপ্তি পাই
দু’টো হাত বড় রহস্যময় সাথে থাকার কথা নয়
কারণ দু’ হাতের দুই দায় দুই দিকে সরতে চায়
তাই ভাবি এক হাতে লড়ি শক্তির পরীক্ষা করি ।।

৬ মার্চ ২০২১

রঙের আলাপ

রঙটাকে একটু বদলে নাও
দেখবে সব কিছু সৌন্দর্যের হাত ধরে চুপি চুপি ছুটছে
রঙ পাল্টাতে জানো হে,
শরীরের সব পোষাক খুলে সুইমিং কস্টিউম পড়বে
দেখবে সবকিছু জলবৎ তরলং
তুমি এক মীনকুমারীর কাছে পৌঁছে যাবে

আমিও রাতদিন ছুটবো ছুটবো করে রঙ পাল্টাতে চেয়েছি
পাল্টাতে এসে বুঝেছি
রঙয়ের মানুষের খোঁজ করে লাভ নেই
রঙ ভরে থাকা যে ডিব্বা তাতে ডুবুতে নেই আঙ্গুল
ডুবতে কিছুতে যদি হয় হৃদয়ে দিতে হয় ডুব
বারংবার প্রশ্ন করতে হয়
আমি কি ডুবে থাকি নেশায় বুঁদ।।

৭ মার্চ ২০২১

নূপুর নিক্বণ

কোথাও কিছু ভেঙ্গে গেলে খোঁজ থাকে না
খোঁজ থাকে চাক্ষুষ যা। অজানা কিছু চোখে পড়ে না
নৈমিত্তিক খেলে খেলে যা ওরে অজানা
ভেতরেরে হাড়-গোড় গুড়িয়ে ফেল উড়ে যা বেদনা

রহস্য মাতাল নয় পাতাল ফুঁড়ে তুই বেরিয়ে আয়
উদ্দীপ্ত জীবন ভূতুড়ে শপথের বাজনা বাজায়

আয়রে উর্বশী নর্তকী আয়না দিয়ে শরীরের গয়না দেখ
তোর নূপুর নিক্কণে নিরালায় নৃত্যের তালে অসুর গড়ায়।।

৭ মার্চ ২০২১

বিশ্ব কবিতা দিবসের নিবেদন
হাত বাড়িয়ে দেয়া

নামার পথে সবাইকে নেমে যেতে হয়
অনেক নামার প্রয়োজন আছে বৈ কি
নামতে নামতে একসময় থেমে যেতে হয়
মাথা তুলে চারপাশ স্বেচ্ছায় দেখে নিতে হয়

নামার গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত হলে পাঠক
আরো একবার উর্ধ্বমুখী তাকাবেন
উর্ধ্বে উঠার বাসনা মনে জাগাবেন
উর্ধ্বে উঠে এসে একবার নীচে তাকাবেন
দেখবেন কিলবিল করা অনেক প্রাণ
আপনার হাতটা দয়া করে বাড়িয়ে দেবেন
প্রাণের মর্যাদা ধীরেলয়ে ফিরতে দেখবেন।।

২১ মার্চ ২০২১

লেখক পরিচিতি

চলচ্চিত্র, কবিতা এবং গল্প এই তিনটি মাধ্যমে বিচরণ। মূলতঃ ২০০৯ থেকে ব্লগ করা থেকে লেখাকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। দু’টো স্বল্পদৈর্ঘ্যের ফিকশান চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। থাকেন টোরন্টো, ক্যানাডায়

Facebook Comments

4 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।