নাহার তৃণার নভেলা: অদ্বৈত পারাবার-পর্ব-৭

মালী তালিব আলী কে অবাক করে দিয়ে বদিউর রহমান ঘোষণা দেন কালই যেন সে একটা কাঠগোলাপের চারা জোগাড় করে। বাড়ির সামনের খালি জায়গাতে সেটা লাগানো হবে। অপরিচিত মেয়েটা তাঁর বাড়িতে কাঠগোলাপের গাছ আছে কিনা জানতে চাওয়ার পর থেকে মনটা কেমন খচ খচ করছে। চেনা নেই শোনা নেই হুট করে কোত্থেকে যে মেয়েটা উপস্হিত হলো। অথচ অনাহুত বলে তাকে অবজ্ঞাও করা গেল না। মেয়েটার উপস্হিতির ভেতর তিনি কি তাঁর প্রিয়জনের ছায়া খুঁজছিলেন? নইলে বদিউর রহমান সাহেবের এতোটা আলোড়িত হওয়ার কারণই বা কী! মেয়েটা যখন বাড়ির নামের প্রশংসা করলো তখন তাঁর কেন মনে হলো তিনি যেন বহুদিন ধরে এমন কিছু শোনার অপেক্ষা করছেন। অথচ অভিমানের পর্দা সরিয়ে মুখ ফুটে বলাও হলো না তার প্রিয় কন্যার নামে এ বাড়ির নাম। যার উদ্দেশ্যে নামটা সে-ও অভিমান আঁকড়ে দূরে থেকে গেল।

ভারী লক্ষ্মীমন্ত মেয়েটা। কি যেন নাম বলেছিল! ওহ্ কিছুতেই নামটা মনে করতে পারলেন না। বয়স তো কম হয়নি। মনের আর দোষ কী! প্রায় এটা সেটা ভুলে বসে থাকেন। বড়ো মেয়েটা ফোন করলে ভুলে তাকে প্রায় শবনম নামে ডেকে বসেন। অভিমান করে বড়ো মেয়েটা। শবনম তাঁর বড়ো আদরের মেয়ে ছিল। ‘ছিল’ শব্দটা আর ভাবতে মন সায় দেয় না। মনে মনে আজও তাকে প্রিয়তম কন্যা মানেন বদিউর রহমান। বাবার মতোই মাথা পেয়েছিল শবনম, জেদটাও বাবারই মতো। আরে বাবার অভিমানটাই শুধু দেখলি! বুক জোড়া খা খা মাতম শুনলি না! এমন কী বড়োবোনটার সাথেও কোনো যোগাযোগ রাখলি না। বোনের মুখোমুখি যেন পড়তে না হয় তাই ওই স্টেট ছেড়েই কোথায় সরে গেলি! বদিউর রহমানের হার্ট এ্যাটাকের পরপর বড়ো মেয়ে ছোটোবোনের পুরোনো ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে জানতে পারে শবনম তাবাসসুম নামের কোনো ছাত্রী কিংবা শিক্ষক সেখানে নেই। বুঝে নিতে দেরি হয়নি জেদি মেয়েটা ওদের ধরাছোঁয়ার বাইরে কোথাও চলে গেছে। যে নিজে থেকে হারিয়ে যেতে চায় তাকে বৃথাই খুঁজে ফেরা। নইলে অবাধ ইন্টারনেটের যুগে কারো অবস্হান জেনে নেওয়া খুব কঠিন সাধ্য নয়। কৃতী হিসেবে শবনম তাবাসসুম নামটা গুগল হাতড়ে খুঁজে নেওয়া হয়ত তুড়ির ব্যাপার ছিল। কিন্তু তীব্র ক্ষোভ আর অভিমানে আহত আঙুল কখনও সার্চ অপশনের দ্বারস্হ হয়নি। জোর করে ঘষেও উঠতে না চাওয়া কোনো নাছোড় চিহ্নের মতো শবনম বদিউর রহমানের হৃদয় জুড়ে থেকে গেছে।

বিকেলে ওই মেয়েটাকে দেখার পর থেকে আজ শবনম তাকে বড় বেশি আচ্ছন্ন করে রেখেছে। মেয়েটা আমেরিকা থেকে এসেছে শুনে তার বুকের ভেতর কেমন একটা করে উঠেছিল। মেয়েটা যে স্হানীয় নয় কথা শুনে বোঝার উপয় নেই। কেমন সুন্দর বাংলা বলে! শুধু বলে না। পড়তেও পারে নিশ্চয়ই। নইলে বাড়ির বাংলায় লেখা নামটা বলতে পারা সম্ভব হতো না। সঙ্গে কেউ ছিলও না। ভাড়া গাড়ির ড্রাইভার দূরে গাড়ি পার্ক করে নিজের খেয়ালে বসে ছিল। তিনি নিশ্চিত মেয়েটা নিজেই পড়েছে। ধন্য মা বাবা। সন্তানকে শুধু মায়ের ভাষাই শেখায়নি। সহবত, বড়োদের সম্মান দেখিয়ে কথা বলা, সব শিখিয়েছে। তার বড়ো মেয়ের ছেলেমেয়ে দুটো বাংলায় কথা বলতে একদমই উৎসাহ পায় না। দু’একটা শব্দ বলেই ইংরেজিতে কথা শুরু করে। চারপাশে ওই বয়সি ছেলেমেয়ে তো আর কম দেখছেন না।

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে প্রচুর ছাত্রছাত্রী দেখার অভিজ্ঞতাও কম নেই। এক লাইন বাংলা কথার ভেতর দশটা ইংরেজি শব্দ গুঁজে না দিলে এদেশের তরুণ-তরুণীদের মুখের আড় ভাঙে না। বাংলাটা বলেও মুচড়ে মাচড়ে বিচ্ছিরি করে। শুনলে বিরক্ত লাগে। অথচ বিদেশে জন্ম নেওয়া মেয়েটা কেমন স্পষ্ট উচ্চারণে আড়ষ্টহীন ভাবে বাংলায় কথা বলে গেল। একটাও ইংরেজি শব্দ ছিল না তাতে। কেমন মায়া জড়ানো গলায় বললো,
-আপনার বাড়ির নামটা খুব সুন্দর! নামটার কারণেই চলে এলাম। এই বাড়িকে আমার নানা বাড়ি ধরে নিতে ইচ্ছে করছে। বদিউর রহমান সাহেবের মনে হলো বলেন, –
-বয়সে আমি কিন্তু তোমার নানার বয়সিই হবো। ধরেই নাও না কেন এটা তোমার এক নানার বাড়ি!

বদিউর রহমান চট করে মানুষের সাথে মিশতে পারেন না। অপরিচিতদের সাথে তো নয়ই। স্বভাবের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে মুখ ফুটে তিনি কথাগুলো বলতে পারলেন না।

বাড়ির দুপাশে নানা ধরনের ফুলের গাছগাছালিতে ভরা বাগানের দিকে সপ্রশংস দৃষ্টি রেখে মেয়েটা জিজ্ঞেস করে, এই বাড়িতে কাঠগোলাপের গাছ নেই? বদিউর রহমান হাসি মুখে জানতে চান কাঠগোলাপ বুঝি খুব প্রিয় তোমার? জি, খুউব! আমার মায়েরও খুব প্রিয়। অবাক ব্যাপার বদিউর রহমানের কেমন আফসোস হয় নিদির্ষ্ট ওই গাছটা না থাকায়। আগের বাড়িতে কাঠগোলাপের গাছ ছিল। প্রায় সারা বছরই গাছটায় ফুল থাকতো। গ্রীষ্ম, বর্ষায় ছেয়ে যেত ফুলে। শবনমের খুব পছন্দের ফুল ছিল ওটা। প্রায় কিছু ফুল তুলে নিজের আর বাবার পড়ার টেবিলে ছড়িয়ে রাখতো। ঘরময় ফুলের সুগন্ধে ম ম করতো। মেয়েটা এমন এক ঘটনা ঘটালো যা তিনি তৎক্ষণাৎ মেনে নিতে ব্যর্থ হলেন। স্বভাবতই বিষয়টা তাকে প্রচণ্ড আঘাত করেছিল। মেয়ের উপর রাগে অন্ধ হয়ে, হুট করে তিনি শত স্মৃতি জড়ানো বাড়িটা বিক্রি করে আট নম্বরের এই বাড়িতে চলে এলেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার মতো কেউ ছিলও না সংসারে। বাবার এমন হটকারী সিদ্ধান্তের বিপক্ষে বড়ো মেয়ে স্বভাবসুলভ ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ঠিকই। যে মেয়ের স্মৃতি ভুলতে দুম করে পুরোনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে এসে উঠলেন, সেই মেয়ের নামেই বাড়ির নাম রাখলেন। কখনও কখনও মানুষের কিছু কিছু আচরণ কেবল অযৌক্তিকই হয় না প্রচণ্ড রকমের স্ববিরোধিতায় পূর্ণ থাকে।

মেয়েটার হাতে ধরা বেলুনটার দিকে ঝুঁকে ঠিকানাটা দেখে নিয়ে বদিউর রহমান জানতে চাইলেন,
-ওই ঠিকানাটাই খুঁজছো তো? একেবারে ঠিক পথ ধরে এসেছো। ওই তো ওটা– আঙুল তুলে পাশের বাড়িটা দেখিয়ে দেন। শরীরে নরম হাসির একটা ঢেউ তুলে মেয়েটা উত্তর দেয়,
– জি ঠিকানাটা খুঁজে পেয়েছি আগেই। বললাম না, এ বাড়ির নামটা পছন্দ হওয়ায় ওদিকে না গিয়ে এখানে চলে এলাম। বিরক্তই করলাম হয়ত। এবার আসি। আপনার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন আপনি।
প্রবল বেগে মাথা নাড়িয়ে বদিউর রহমান জানান দিতে চেষ্টা করেন তিনি একটুও বিরক্ত হননি। মনে মনে বললেন,
– তুমি যেন অন্য আরেকজনের রূপ ধরে এসে আমার মন কিছুটা হলেও ভরিয়ে দিয়ে গেলে। তাঁর ভারী ইচ্ছে করে অচেনা অজানা মায়াকাড়া মেয়েটার মাথায় হাত রেখে আর্শীবাদ করেন। কিন্তু সংকোচে সেটাও হয়ে ওঠে না। ঘাড় নেড়ে শুধু এটুকু বলতে সক্ষম হন,
-আমারও খুব ভালো লাগলো কথা বলে। ভালো থেকো বোন।

মৃদু পায়ে পুষ্পিতা পাশের বাড়ির দিকে হেঁটে চলে যায়। পেছনে দাঁড়িয়ে বদিউর রহমান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের কত মিল! নাকি অন্য মানুষের ভেতর প্রিয় জনের ছায়া খুঁজে পেতে চায় দুর্বল মন! মেয়েটার হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গির ভেতর তিনি তাঁর অভিমানী মেয়ে শবনমের ছায়া দেখতে পান। মনকে অন্য খাতে বইয়ে দেবার ছুতোয় হাঁকডাক শুরু করেন মালীর উদ্দেশ্যে।

তালিব আলী সাহেবের কথায় বেশ অবাক হয়েছে। নিজের মুখে কাঠগোলাপের চারা জোগাড়ের কথা বললেন। এর আগে সামনে একটা ফুলের গাছ লাগানোর কথা বলে বকা খেয়ে চুপ মেরে গিয়েছিল। সাহেব তখন সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন সামনের ওই জায়গা খালিই থাকবে। কিছুই লাগানো হবে না। সেই মানুষ এখন নিজেই বলছেন ওখানে কাঠগোলাপের গাছ লাগাতে! বড়োলোকদের মেজাজ-মর্জি শরতের আকাশের মতো। এই মেঘ, এই বৃষ্টি, তো পরক্ষণেই ফিকফিক করে হেসে ওঠা রোদ। তালিব আলীর অবশ্য খুশি হওয়ারই কথা। তার অনেকদিনের শখ পূরণ হলো। সামনের ফাঁকা জায়গাটা তার একদমই পছন্দ ছিল না। ফুল-ফলের গাছগাছালি একটা বাড়ির শোভা। ভেতরে দুপাশের বাগানের গাছগুলোতে যখন থরেথরে ফুল ফোটে, ফলের গাছগুলো যখন ফলে ফলে ভরে ওঠে; দেখে ওর মন ভরে যায়। তার কষ্ট সার্থক মনে হয়।

তবে কাঠগোলাপ না হয়ে অন্য গাছ হলে তার কাজ কিছুটা সহজ হতো। এখন মাটি ফেলে সামনের জমিটা আগে উঁচু করা দরকার। কাঠগোলাপ উঁচু জায়গাতে লাগানো ভালো । সাহেবের তো আর অতশত জানা নেই, বললেন আর চারা এনে পুঁতে দিলাম। তাই বলে বীজের ঝামেলাতেও সে যাবে না। তার দীর্ঘ মালী জীবনের অভিজ্ঞতায় সে ভালোই জানে ওই পদ্ধতিতে সব বীজের ঠিকঠাক জার্মিনেশন হয়না। হয়ত দেখা যাবে অর্ধেক বীজের জার্মিনেশন হলো, অর্ধেকের হলোই না। সেই অর্ধেক থেকে চারা ফুটতে ফুটতে দুই-তিন সপ্তাহের ধাক্কা। তার পেছনে নজরদারী সঠিকভাবে না করলে অতি রোদ বা বৃষ্টিতে বীজের অক্কা পাওয়ার সম্ভাবনা। আর বুভুক্ষু পাখিদের পেটে চলে গেলে তো হয়েই গেল। তাছাড়া বীজের চারায় ফুল আসতে আসতে প্রায় দুই থেকে চারবছরের অপেক্ষা। কাজেই ডাল কাটিংয়েই কাঠগালাপ লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ঠিক মতো করা কাটিংয়ে কপাল ভালো হলে বছর দেড়েকের ভেতর ফুলের দেখা পাওয়া যাবে। তালিব আলী ঠিক করে সকালেই সে মালঞ্চ নার্সারিতে যাবে। কাটিংয়ে ক্ষেত্রে কিছু কিছু নার্সারি চুরিধারি করে। তার নিজের চোখেই দেখা। ফুলসহ ডাল কেটে টবে লাগিয়ে দিব্যি বিক্রি করে। যা কিনে ক্রেতা ধরা খায়। মালঞ্চ নার্সারির খসরু ভাই বহুদিনের চেনাজানা। বাগানের প্রয়োজনীও সরবরাহের অধিকাংশ সে ওখান থেকে সংগ্রহ করে।

ওই ফুটফুটে মেয়েটা আসার পর থেকে সাহেব কেমন যেন অন্য রকম ব্যবহার করছেন। একে আগে কখনও দেখেছে বলেও মনে হলো না। আত্মীয়স্বজন হলে ভেতরে গিয়ে বসতো। ফুপু আম্মার ডাক পড়তো। সেসব তো কিছুই হতে দেখলো না। হাতের কাজ থামিয়ে সে কিছুক্ষণ সাহেব আর সঙ্গের মেয়েটাকে লক্ষ করেছে। কথাবার্তা অবশ্য শুনতে পায়নি। তবে বুঝতে কষ্ট হয়নি বাগান দেখে খুশি হয়ে হাত নেড়ে নেড়ে কিছু একটা বলছিল মেয়েটা। একটু দূরে থাকায় কি বলছে শোনা যায়নি। খানিকটা দূরে পেয়ারা গাছের মাটি আলগা করছিল তালিব আলী। প্রতিবছর দু’দফায় গাছটায় ঝেপে পেয়ারা হয়। গত বছর বসন্তে ফোটা ফুল থেকে বর্ষায় ভালোই ফল হলো। কিন্তু বর্ষার ফুলে শীতে আর ফলের মুখ তেমন দেখা গেল না। প্রায় সবই ঝরে গেল। গাছের মাটি আলগা করে শিকড় বের করে দিলে ফলন ভালো হয়। দুপুরে খেয়েদেয়ে একটু গড়িয়ে নিয়ে, মাটি আলগা করে গাছের শিকড় বাকড়দের একটু আলো বাতাসে মেলে দিতে বসেছিল। কাজটা খুব সর্তক হয়ে করতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় মাটি কোপানোর সময় শিকড় যেন কেটেকুটে না যায়। ফলের গাছগুলো ফুল বাগান থেকে খানিকটা দূরে। এ বাড়ির চারপাশে আম, জাম, পেয়ারা, কাঁঠাল, কলা সব ফলবতী গাছগাছালিতে ভরপুর। অথচ খাওয়ার লোক নেই। সাহেব, তার বিধবা বোন আর বোনের ছেলে, পরিবারের এই তিনজনের কেউই আম আর কলা ছাড়া অন্য ফল ছুঁয়েও দেখে না। কাঁঠালের ভারে গাছ হেলে পড়ে প্রায়।

ফলপাকুরের একটা বড় হিস্যা তালিব আলীর ঘরে যায়। তিন ছেলেমেয়ে আর বউ নিয়ে তালিব আলী প্রায় সারা বছরই আশ মিটিয়ে ফল খায়। কিছু বিক্রি করে। বিক্রির টাকা ফুপু আম্মার হাতে তুলে দেয়। না দিলেও অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা খুব কম। সুযোগ জুটেছে বলে ফায়দা নেবে, তালিব আলী সে স্বভাবেরই নয়। ওর এই সততার কারণেই দীর্ঘদিন সে এই বাড়িতে নিযুক্ত আছে। যদিও এ বাড়ির লোকজন একেবারেই খবরদারীতে থাকে না। নিজেদের জগতেই তারা মগ্ন। ফুপু আম্মা মানুষটা খুবই সরল সিদা। সাহেবের দ্বিতীয়বার হার্ট এ্যাটাকের পর ভাগ্নে আর বোনকে তাদের ভাড়া বাড়ির ছোট্ট সংসার গুটিয়ে নিজের কাছে এনে রেখেছেন। দেখতে দেখতে সেও বছর দশেক হয়ে গেছে। ফুপু আম্মার একমাত্র ছেলে নিজের পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত। আরেকটা পাশ দিলেই আস্ত একজন ডাক্তার হবেন ভাইজান। সাহেব মানুষটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেবার পর একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন কাজ করেন। এখন পুরোপুরিই অবসরে আছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ। তবে রাশভারী নন মোটেও। প্রথম দেখায় অবশ্য রাশভারী ভেবে ভুল করেন অনেকে। আজ এতদিন এই বাড়িতে কাজ করছে তালিব আলী, কখনও তাঁকে রাগারাগি কিংবা গলা তুলে কথা বলতে শোনেনি। নিজের জগতে আত্মমগ্ন থাকেন। বড়ো মেয়েটা যখন ছেলে মেয়ে নিয়ে বছরান্তে একবার আসে তখন সাহেবকে খুব হাসিখুশি দেখায়। বাগান বিষয়ে ফুপু আম্মারই বেশি উৎসাহ। সাহেব অতটা নন। কোন গাছ লাগানো হবে। কোনটা লাগালে ভালো তার সব সিদ্ধান্তই ফুপু আম্মার সাথে কথা বলে ঠিক করে তালিব আলী। সাহেব মাঝে মধ্যে হয়ত দাঁড়িয়ে দেখে যান। কিন্তু কোন গাছ লাগানো হবে কি হবে না সে বিষয়ে তেমন উৎসাহ দেখান না। অথচ আজ বদিউর রহমান নিজ থেকেই বিশেষ একটা গাছের চারা লাগানোর কথা বললেন। গাছটা কোথায় লাগানো হবে হাত তুলে সেটাও দেখিয়ে দিলেন। সে মুহূর্তে তাকে খুব উৎফুল্ল মনে হচ্ছিল। ওই ফুটফুটে মেয়েটা আসার সাথে তার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তালিব আলী সেটা ঠিক ঠাহর করতে পারে না।

 

নাহার তৃণা

জন্ম ২ আগস্ট ঢাকায়। বর্তমানে আমেরিকার ইলিনয়ে বসবাস। ২০০৮ সালে লেখালেখির জগতে প্রবেশ। দুই বাংলার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকা এবং ওয়েবজিনে লিখছেন গল্প, প্রবন্ধ, গল্প, অনুবাদ, সাহিত্য সমালোচনা। একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এ পেন্সিল পাবলিকেশনস প্রতিভা অন্বেষণে তার ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট’ সেরা গল্পগ্রন্থ নির্বাচিত হয়। একইবছর অন্বয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘এক ডজন ভিনদেশী গল্প’। নাহার তৃণার প্রকাশিত বই দুটি এখন বইয়ের হাট প্রকাশনায় অ্যামাজন কিন্ডেলেও পাওয়া যাচ্ছে।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।