হামিদুল ইসলামের কবিতা

অশ্বশক্তি

ভবঘুরে স্মৃতিগুলো ফেলে আসি দূরে
রঙময় জীবন
সারি সারি মেঘ
নিঝুম রাত্রি বুজে আসে দুচোখের পাতায়
শব্দরা এখন জবানবন্দি

পোয়াতি স্বপ্নগুলো সেই থেকে বরাবর
রোদ মাখে গায়ে
অসাড় বিকেল
ছন্দহারা জীবন নিত‍্য ভাঙে নিরেট ক্লান্তিমুখ
দূরত্বে ব‍্যবধান পাল্টায়

হিসেবের জীবন তছনছ দুহাতের মুঠোয়
ঘুণপোকা খেয়ে যায়
নষ্ট চাঁদ
আহারে বিহারে বিভাজন ভাঙে কুটুম্বিতা
খেলাঘরে মৃত পুতুল

এক অজানা অশ্বশক্তি প্রতিদিন তবু চাঁদে হাত বাড়ায় ।

 

নদী ভালোবাসা

বসন্তের ঘুঙুর পায়ে এসেছিলো শব্দগুলো
নদী হয়ে খসে পড়ে
যাবতীয় সংসার
ভাবনার আকাশ ক্রমশ প্রসারিত হয়
আমার বিন্দু বিন্দু ঘাম নুন জলে

একতারার মতো জীবন নিত‍্য গালিচায় পাতা
মাটির ছোঁয়ায় গলে যায়
সমুদ্র পৃষ্ঠা
অবলীলায় স্বপ্নচোখ দেখে বিস্ময়
সময় বাঁধি নিষ্ঠুর দাবানলে

কনক নাভিমূলে এখনও দেখি শীতের বলয়
টেবিলে সযত্নে সাজানো
বিকেল ফুল
কখনো আবিরের স্পষ্ট উচ্চারণে
আমার বুকে বেড়ে ওঠে বিশ্বাসের গাছ

নৈতিকতার প্রশ্ন এখন দুহাতে ছুড়ে ফেলি
ঝরে পড়ুক শিমুল লালচূড়া
দেখা হবে নদী
কথায় ফিরে আসবে আমার দুচোখের নদী
আমার নদী ভালোবাসা।

 

যন্ত্রণা

পাতাগুলো ঝরে পড়ে
ঘামঝরা গরমে
শুভ্র বিন্যাসে সাজিয়ে রাখি
দুফোঁটা অশ্রু
ণিজন্ত মরমে

মানুষ হয়তো বোঝে নি
তবু বিশ্বাস করেছে পাখি গাছ
নদীমুখ হাহাকারে পোড়ে
পুড়ে যায়
শাশ্বত বিশ্বাস

স্মৃতির জলে নৌকো বাঁধা
অবাধ্য পৃথিবীর যতো স্বপ্নসুখ
গলিত শবের যন্ত্রণা
লাশকাটা ঘরে উন্মুখ।

 

প্রেম স্বপ্ন

মুদ্রাদোষ ধরে দিই
এর ওর
দুহাতে আড়াল করি স্বপ্ন
রাখি সব ওজর

রুক্ষ চুলে বিনুনি বিন্যাস আঁকি
শুকনো পাতাবাহার
তোমার জন্যে কষ্ট তুলে রাখি
তবু পুড়ুক সংসার

বর্ষার জলে কাদা মাখি
ব্যস্ত শ্রাবণ
খাটের বাজুতে প্রেম প্রেম স্বপ্ন
নাছোড় জীবন

এসো গভীর রাতে প্রেম করি দুজনায়।

 

কথকতা

সংশয় এখনো ঝুঁকে আছে শূন্য কাগজঘরে
বনবস্তি পেরিয়ে আসি
গভীর রাত
নির্জনে মুখ ঢাকে শ্রাবণ আকাশ

অরণ্যের উচ্চারণে একরাশ ঝড়

বিস্ময়ে চিলেকোঠার সিঁড়ি ভাঙি অতৃপ্ত হৃদয়
নদীর জলে কামনার বিষ
নগ্ন জানুদেশ
ঘামে সিক্ত অচলা পৃথিবীর নদীকূপ

ছাদের কার্নিশে গর্জন তেলের সুবাস

বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় চাঁদের নিষ্করুণ কলঙ্ক
নিকষ আঁধার জেগে থাকে
সারারাত
বিকেলের টেবিলে পারস্পারিক সম্পর্ক সাজাই

নখের ডগাতে ভালোবাসা নামে সুপ্ত বেদনায় ।

 

হামিদুল ইসলাম


জন্ম ১৯৫৫ সালের ৫ মার্চ, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত। বাবা প্রয়াত মীরহোসেন মণ্ডল। মা হালিমা মণ্ডল। শিক্ষা – বাংলা এবং ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর। শিক্ষকতায় চাকুরিরত। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন স্কুল ম‍্যাগাজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশ। কলেজ জীবনে বহু লেখা প্রকাশ হয়। এখন পর্যন্ত সাতটি একক কাব‍্যগ্রন্থ এবং তিনটি ই বুক ও বাইশটি যৌথ কাব‍্য সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাঙ্গণ সাহিত‍্য পত্রিকা থেকে সম্মাননা লাভ করেছেন।

Facebook Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।